আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি ভিডিও সংবাদ নিয়ে বিতর্ক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

যাচাইহীন প্রতিবেদনে রেলওয়ে জিএম-এর মানহানি, সংশোধনের দাবি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গণমাধ্যমের অন্যতম বড় শক্তি হলো সত্য ও নিরপেক্ষ তথ্য উপস্থাপন। কিন্তু সম্প্রতি একটি দৈনিকের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত একটি ভিডিও সংবাদ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। ভিডিওটির মূল বিষয়বস্তু ছিল একজন নারী অভিযোগকারী এবং রেলওয়ের আইন কর্মকর্তাকে ঘিরে। অথচ আশ্চর্যজনকভাবে ভিডিওটির কভার ফটো এবং ভেতরের ভিজ্যুয়ালে ব্যবহার করা হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) মো. সুবক্তকীন-এর ছবি—যার সঙ্গে উক্ত ঘটনার কোনো প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পর্ক নেই।

বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. সুবক্তকীন বর্তমানে দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক (পিডি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সততা, দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে সরকারি দায়িত্ব পালন করে আসছেন। রেল খাতের বড় অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো তার নেতৃত্বে সফলতার দিকে এগোচ্ছে। অথচ কোনো সম্পৃক্ততা ছাড়াই তার ছবি ভিডিও সংবাদে ব্যবহার করায় তার ব্যক্তিগত সুনাম ও মর্যাদা যেমন ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তেমনি প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাবমূর্তিও।

ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে মো. সুবক্তকীন বলেন—
“আমি উক্ত ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নই। অথচ আমার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। এটি আমার ব্যক্তিগত মানহানি এবং প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের শামিল। আমি অবিলম্বে এ বিষয়ে সংশোধনী প্রচার ও প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, সংবাদ পরিবেশনে যথার্থতা ও সততা রক্ষা করা সাংবাদিকতার মৌলিক নীতি। অথচ এ ঘটনায় তা রক্ষা করা হয়নি, যা গণমাধ্যমের প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ণ করতে পারে।

এ বিষয়ে চট্টগ্রামের সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে—
“রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের জিএম মো. সুবক্তকীন একজন সৎ, পরিশ্রমী ও দক্ষ কর্মকর্তা। দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ভূমিকা প্রশংসনীয়। অথচ অহেতুক তার ছবি ব্যবহার করে সংবাদ প্রচার করায় তার সুনাম ক্ষুণ্ণ হয়েছে। এমন ভুল দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিপন্থী।”

সুশীল সমাজের আরেকজন প্রতিনিধি বলেন—

“গণমাধ্যম হলো রাষ্ট্র ও সমাজের দায়বদ্ধতার প্রধান বাহক। তাই সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই এবং দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। অসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ছবি ব্যবহার শুধু ব্যক্তি নয়, একটি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিকেও আঘাত করে। এই ঘটনায় দ্রুত সংশোধনী দেয়া উচিত।”

ঘটনাটি শুধু একটি ভিডিও সংবাদে ছবি ব্যবহারের ভুল নয়, বরং এটি গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা ও পেশাগত সততার প্রশ্ন তুলছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকতা যেমন জরুরি, তেমনি নির্ভুলতা ও প্রাসঙ্গিকতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ছবি ব্যবহারের মতো ঘটনাগুলো দর্শকের মনে বিভ্রান্তি তৈরি করে এবং ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতি নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।

বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হওয়ার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে সাংবাদিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ