আজঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে বিএসএএ নির্বাচন ৯ অক্টোবর, লড়ছেন ৩৩ প্রার্থী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে প্রায় দুই কোটি টাকা সদস্য ফি ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস এসোসিয়েশনের (বিএসএএ) ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের জমজমাট প্রচারণা চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হবে ভোটগ্রহণ।দুই গ্রুপ, ঐক্য পরিষদ ও সম্মিলিত পরিষদ, এবং একক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সরগরম ভোটের মাঠ। তবে নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। সম্মিলিত পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে সংগঠনের প্রায় দুই কোটি টাকা সদস্য ফি ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারের নির্বাচনে ১৬১ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এরমধ্যে জেনারেল ক্যাটাগরিতে আছেন ৯২ জন এবং এসোসিয়েট ক্যাটাগরিতে আছেন ৬৯ জন ভোটার। নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে ২৪টি পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩৩ জন প্রার্থী। এবার চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিন প্রার্থী। তারা হলেন- ঐক্য পরিষদ থেকে ক্যাপ্টেন এমডি সালাহ উদ্দিন চৌধুরী, সম্মিলিত পরিষদ থেকে আহসান ইকবাল চৌধুরী (আবির) এবং একমাত্র একক প্রার্থী হিসেবে রয়েছে আহসানুল হক চৌধুরী। এছাড়া সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন আজিম রহিম চৌধুরী, এমডি আলী আকবর (ঐক্য পরিষদ), মোহাম্মদ আব্দুল মালেক ও জহুর আহমেদ (সম্মিলিত পরিষদ)। ভাইস চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোহাম্মদ মশিউল আলম, ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলাউদ্দিন আল আজাদ (ঐক্য পরিষদ) ও আক্তার কামাল চৌধুরী (সম্মিলিত পরিষদ)। জেনারেল পরিচালক পদে ঐক্য পরিষদ থেকে রয়েছেন-ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ আলী, অঞ্জন মজুমদার, কাজী মনসুর উদ্দীন, শরফরাজ কাদের, মোহাম্মদ দিদারুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন খান (হাসান), মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, নূর উন নবী, এস এম এনামুল করিম, আকিব হাসনাত, মোহাম্মদ শফিউল আলম, এ টি এম জহিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ আনোয়ারুল কবির কামরুল। অপরদিকে সম্মিলিত পরিষদ থেকে আছেন-মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, আহমেদ তাসিন আসাদুল্লাহ ও মোহাম্মদ শহীদ উল্লাহ চৌধুরী।

অন্যদিকে এসোসিয়েট পরিচালক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুয়াম্মার আহমেদ, মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পাটোয়ারী, মোহাম্মদ শাহীন, ফরহাদুল আলম চৌধুরী, মোহাম্মদ মনসুর আলী ও মাসুদ আহমেদ (ঐক্য পরিষদ) এবং জুনাইদ আহমেদ রাহাত (একক প্রার্থী)। ঐক্য পরিষদ এবার পূর্ণ প্যানেল ঘোষণা করেছে। অপরদিকে সম্মিলিত পরিষদ প্রার্থী সংকটে পড়ায় ভোটের লড়াইয়ে নতুন কৌশল নিয়েছে দুই পক্ষই। প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণায় বন্দরের কার্যক্রম উন্নয়ন, নীতি-পরিকল্পনা প্রণয়ন, সেবা সম্প্রসারণ এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে গতি বৃদ্ধির নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান পদকে ঘিরে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

এদিকে নির্বাচন ঘিরে বিতর্কও রয়েছে। সম্মিলিত পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী আহসান ইকবাল চৌধুরী (আবির)-এর বিরুদ্ধে সংগঠনের প্রায় দুই কোটি টাকা সদস্য ফি ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বর্তমান চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আরিফের সহযোগিতায় এই অর্থ পরিশোধ এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান। পূর্ণ প্যানেল গঠন করতে না পারা এবং ফি ফাঁকির অভিযোগের কারণে শোনা যাচ্ছে আহসান ইকবাল চৌধুরী (আবির) ভোটের মাঠ থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে নিজের গলায় ছুরি চালিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের আত্মহত্যা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবকের আত্মহনন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাসাত্মক গল্প ভাইরাল হয়েছে। ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে, স্ত্রীকে দামি জুতা কিনে দিতে না পারার হতাশা থেকে ওই যুবক গলায় ছুরি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে তার স্বজন এবং পুলিশের সঙ্গে কথা জানা গেছে ভিন্ন কথা।

শুক্রবার দুপুরে কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ১টার দিকে কামাল উদ্দিন (৪০) নামের এক যুবক নিউমার্কেটের সামনে আনারসের দোকান থেকে ছুরি নিয়ে নিজে গলায় চালিয়ে দেয়।রক্তাক্ত অবস্থায় আমাদের টহলটিম স্থানীদের সহযোগিতা চমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচারে রক্ত প্রয়োজন হলে আমাদের সহকারী পুলিশ সুপার নুরে আলম মাহমুদ স্যার রক্ত প্রদান করেন। কিন্তু রাতেই কামাল মারা যান।নিহত কামাল উদ্দিনের বাড়ি ময়মনসিংহে, তিনি চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

তিনি বলেন, ওই যুবকের স্ত্রী ইপিজেডে চাকরি করেন। ঘটনার সময় স্ত্রী কামালের সঙ্গেই ছিলেন না। এস এম রিদুয়ান নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাতে আনারসের দোকান থেকে কামাল যখন ছুরি নিয়ে নিজের গলায় চালান তখন তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পুলিশকে জানানো থেকে শুরু করে কামালের চিকিৎসা পর্যন্ত তিনি সঙ্গে ছিলেন।কামালের সঙ্গে কোনো নারী ছিল না। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া গল্পটি মিথ্যা।

কামালের স্ত্রী তসলিমা আক্তার জানান, রাত ৮টার দিকে কামাল তার ভাগিনার কাছ থেকে হাত খরচের কিছু টাকা চায়। ভাগিনা তার মামাকে টাকা দিলে টাকা নিয়ে কামাল উধাও হয়ে যান। তাকে পতেঙ্গা এলাকায় আর দেখা যায়নি।ভোরে ফোন পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে কামালকে মৃত দেখতে পান।
কামালের ভাগিনা সামাদ বলেন, আমার মামা পেশায় রাজমিস্ত্রির হেল্পার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। মামা যখন আমার থেকে টাকা নিয়ে আসেন তখন মামি কারখানায় চাকরিতে ছিলেন। ঘটনার সঙ্গে মামির কোনো সম্পর্ক নেই। মামার চিকিৎসার জন্য আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিছুদিন ভালো থাকেন, তারপর আবার সমস্যা শুরু হয়।

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ