আজঃ শুক্রবার ১২ জুন, ২০২৬

বোয়ালখালীতে আইন শৃঙ্খলা চরম অবনতি, এক মাসে অর্ধ-শতাধিক চুরি,ডাকাতি।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে চুরির প্রকোপ আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু গত ১ মাসে পুরো উপজেলা ও পৌর এলাকায় অন্তত: অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরি বলে কেউ কেউ দাবী করলেও অনেকেই বলছেন কয়েকটি চুরিতে দূর্ধষতা দেখে মনে হচ্ছে এগুলো ডাকাতিকেও হার মানিয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ও এলাকাবাসী আতংকিত, শংকিত এবং হতাশায় দিনাতিপাত করে চললেও ২২ অক্টোবর বোয়ালখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জনপ্রতিনিধি-সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এসব নিয়ে চরম অসন্তোষ ও কিছুটা বাকবিতন্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা-পৌরসভার একাধিক এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও চোর আক্রান্ত পরিবারের সাথে সরাসরি কথা বলে জানা যায়- গত ১মাসে বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিকেরও বেশী ছোট-মাঝারী বড় আকারের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকা দালান গ্রীল দরজা ও আলমারী ভেঙ্গে কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার জিনিস লুটে নিয়েছে এবং ভাংচুর করে এ মূল্যবান জিনিস পত্র নষ্ট করেছে চোরের দল।

শুধু উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দনগর গ্রামে গত মাস খানেকের মধ্যে অন্তত ২০টিরো বেশী বাড়িতে চুরি হয়েছে। এ এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা যায় -এ এলাকার আব্দুল শুক্কুর ড্রাইভারের অটোরিকশা থেকে ২টি ব্যাটারি, মনোয়ারা বেগম মানুর বাড়ি থেকে একটি ভ্যানগাড়ী, সোলাইমান কমান্ডারের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ২ টন লোহা ও স্টিল শাটার, শাহাদাত হোসেন সুমনের কাঁচারি ঘর থেকে ৪০০ কেজি লোহা ও ২০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ, কাজী ওবাইদুল হক হক্কানীর ভবনের ছাদে রাখা ১৮ পিলারের রড, মো. রোকনের একটি গাজী মোটর, ইলিয়াস সওদাগরের ২০০ কেজি লোহা, করিম বক্স বলি ও মো. রিটনের বাড়ি থেকে ২টি টিউবওয়েল, শামসুল আলমের বাড়ি থেকে একটি কম্পেসার চুরি করেছে চোরের দল।

এলাকাবাসী জানান-সর্বশেষ ঘটনায় স্থানীয় বাচা মিস্ত্রির সুপারি বাগানে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন ‘কাদের ডেকোরেশন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। তাঁর সঙ্গে আলমগীর নামে আরও একজন ছিলেন।

এলাকাবাসীর দাবি এসব চুরির সঙ্গে স্থানীয় ৪ তরুণ জড়িত। এলাকাবাসীরা আরো জানান-উল্লেখিত এসব তরুণ মাদকাসক্ত। মাদকের খরচ জোগাতে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। ক্ষতিগ্রস্তরা সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলে তা পুলিশে জানানোর পরও পুলিশের অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাকপুরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের লালচাঁদ বাড়ী ঢুকার মুখে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী জয়া বড়ুয়ার পাকা ঘরের দরজার লক, আলমিরা ভেঙে কৌশলে লুটে নেয় চোরের দল, এ ঘটনায় থানা পুলিশে ফোন করলেও একটি বারের জন্য পরিদর্শনে আসেনি। ফলে ক্ষতি গ্রস্থসহ এলাকাবাসীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ১৬ অক্টোবর দিবাগত পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রবাসী নুরুল হুদার নতুন বাড়ীর বেগম নজুমিয়া মঞ্জিলের ঘরের দরজার তালাক -আলমিরার হুক ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস পত্র লুটে নেয় এবং নষ্ট করে চোরের দল। গত ৯ অক্টোবর রাতে শাকপুরা ইউনিয়নের ঘোষখীল গ্রামে ইসহাক মাস্টারের বাড়ীর আবদুল কাশেমের ঘরে দূর্ধষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়।

৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাসান চৌধুরী বলেন গত ১ মাসে জ্যৈষ্টপুরা-শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ স্কুল মন্দির-বাজার ও বসতবাড়ীর প্রায় ৩৫টি টিউবওয়েল চুরি হয়েছে।

এছাড়াও খরণদ্বীপ ৩নং ওয়ার্ড, কমলা বাপের বাড়ীতে চুরি, ১৬ অক্টোবর রাতে ৫ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ী দৌলত সওদাগর বাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরি ঘটনা ঘটেছে। এ জনপ্রতিনিধি আরো জানান- এ ধরনের চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষেও উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর দিন দুপুরে জ্যৈষ্ঠপুরা শাক্যমুনি বিহারের উত্তর-পূর্ব পাশে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ খোকন বড়ুয়ার পাকা ঘরের গ্রীল-একাধিক দরজা ও ৩টি আলমিয়ার হুক ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ফিল্মি স্টাইলে লুটে নেয় চোরের দল। এঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। খোকন বড়ুয়ার ঘরে এহেন দূর্ধষ চুরির ঘটনা স্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান ও বৌদ্ধদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিকট এলাকাবাসী অভিযোগ করেন চুরি কবলিত এ ঘরটির পশ্চিম পাশের সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের অদুরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নেশাখোর, উশৃংখল যুবকরা সন্ধ্যা পরবর্তী মহড়া বসিয়ে চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এসবে এলাকায় চুরি-ডাকাতির প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে।

চুরি কবলিত পরিবার কর্তা খোকন বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন- ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে পাশ্ববর্তী শ্রীপুর গ্রামে আমরা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যায়, এরপর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ফিরে দেখি ঘরের গ্রীল কেটে ও ঘরের তালা ভেঙে এ দূর্ধষ চুরি হয়। এ ঘটনায় একই দিন রাতে বোয়ালখালী থানায় আমি বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।

পোপাদিয়ার নুরুল হুদার বাড়ী, ঘোষখীল ইসহাক মাষ্টার বাড়ী, জ্যৈষ্ঠপুরা খোকন বড়ুয়ার ঘরে যেভাবে তান্ডব, ভাংচুর করে মুল্যবান সম্পদ লুটে নিয়েছে তা নিয়ে কেউ কেউ চুরির ঘটনা বলে চালিয়ে দিলেও অনেকেই বলছে এ ৩টি ঘটনা দূর্ধষ ডাকাতিকে হার মানিয়েছে।

এদিকে ২২ অক্টোবর বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন( স্বাধীনতা)’য় অনুষ্ঠিত এ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় পুরো উপজেলার গত মাস খানেকের চুরিসহ এসব উশৃংখল ঘটনা নিয়ে আলোকপাত করায় কেউ কেউ খুশি আবার কেউ কেউ নিরবে অবস্থান করলেও স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি-সাংবাদিক প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর মধ্যে এ সব নিয়ে অসন্তোষ ও বাকবিতন্ড হওয়ার খবরও প্রকাশ পেয়েছে। এ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, থানার ওসি মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানসহ আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল, বরপা বাসস্ট্যান্ড, চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র ও কায়েতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৬মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল ১০জুন বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮৫ বোতল বিদেশী মদ, পাঁচশত গ্রাম গাঁজা, ৫৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ ফায়ারড্রিল, ৪১ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে গোলাকান্দাইল এলাকার মকবুল হোসেন (২৯), বাবু লাল (২০), বরপা এলাকার আকাশ মিয়া(২৪), চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের ফরহাদ হোসেন (২২), রনি মিয়া (২৬) ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার দিল মোহাস্মদ দিলু (৩০)।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রূপগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে : ডিসি চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে।মঙ্গলবার নগরীর পিটিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি ও করণীয়’ শীর্ষক জেলা পর্যায়ের অর্ধবার্ষিক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, জনগণ যেন সহজে, দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে সেবা পায়, তা নিশ্চিত করা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে।

তিনি বলেন,আমরা বছরের পর বছর সভা-সেমিনারে অংশ নিই, নানা পরিকল্পনা ও পরিসংখ্যান উপস্থাপন করি। কিন্তু নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে— বাস্তবে আমরা কতটুকু পরিবর্তন আনতে পেরেছি? জনগণ কি আমাদের কাছ থেকে কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে? এ সময় তিনি সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সরকারি সেবার মানোন্নয়ন এবং জন-প্রত্যাশা পূরণে কাজ করার আহ্বান জানান। স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বাস্তবায়নাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (তৃতীয় পর্যায়)’ প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন এ সভার আয়োজন করে।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাষ্ট্রের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি সমাজ ও দেশের প্রতি গভীর দায়িত্ববোধ থাকতে হবে। প্রতিটি সরকারি কর্মকর্তাকে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমরা প্রায়ই অন্যের ভুল খুঁজি, কিন্তু নিজের দায়িত্ব কতটুকু পালন করছি, তা নিয়ে আত্মসমালোচনার সংস্কৃতি কমে গেছে। অথচ দেশ ও সমাজ পরিবর্তনের দায়িত্ব আমাদেরই ওপর ন্যস্ত।

সাপ্তাহিক গণশুনানির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ডিসি বলেন, প্রতি বুধবার গণশুনানিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে আসেন। এর মধ্য দিয়ে স্পষ্ট হয়, অনেক সমস্যাই স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান করা সম্ভব ছিল। আমরা যদি নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও আন্তরিক হতাম, তবে মানুষের ভোগান্তি অনেকটাই কমে যেত।
দেশের বিচার ব্যবস্থার ওপর চাপ কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক বলেন, বর্তমানে উচ্চ ও নিম্ন আদালত মিলিয়ে দেশে প্রায় ৫০ লাখ মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অনেক মামলা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তি করা গেলে আদালতের ওপর চাপ কমবে এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে। এ ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত একটি কার্যকর উদ্যোগ।তিনি বলেন, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বল্প ব্যয়ে ও দ্রুত বিচারসেবা দিতে গ্রাম আদালত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে এ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, জনবল বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক অংশগ্রহণ প্রয়োজন।কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনার কর্মস্থলকে সেবার সুবাসে ও মানবিকতার সৌরভে ভরিয়ে তুলুন, যেন মানুষ আপনাকে আস্থার প্রতীক হিসেবে মনে রাখে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মোহাম্মদ মইনুদ্দিন গ্রাম আদালত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সেবামুখী মানসিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়ে এ সেবা সম্পর্কে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।

সভায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। যেসব ইউনিয়নে মামলার সংখ্যা শূন্য বা তুলনামূলক কম, বিশেষ করে মিরসরাই উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের উদাহরণ তুলে ধরে সেখানে জনসচেতনতা ও আস্থা বৃদ্ধির জন্য বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মামলার নথি, রেজিস্টার ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সঠিকভাবে সংরক্ষণের তাগিদ দেওয়া হয়। তৃণমূল পর্যায়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প বাস্তবায়ন সহযোগী সংস্থা ‘ইপসা’র পরিচালক (সামাজিক উন্নয়ন) নাছিম বানু শ্যামলী। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম আনোয়ার ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) এবং ১৯১টি ইউনিয়নের ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ