আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

বোয়ালখালীতে আইন শৃঙ্খলা চরম অবনতি, এক মাসে অর্ধ-শতাধিক চুরি,ডাকাতি।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে চুরির প্রকোপ আশংকাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। শুধু গত ১ মাসে পুরো উপজেলা ও পৌর এলাকায় অন্তত: অর্ধশতাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। এসব চুরি বলে কেউ কেউ দাবী করলেও অনেকেই বলছেন কয়েকটি চুরিতে দূর্ধষতা দেখে মনে হচ্ছে এগুলো ডাকাতিকেও হার মানিয়েছে।

এ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্থ ও এলাকাবাসী আতংকিত, শংকিত এবং হতাশায় দিনাতিপাত করে চললেও ২২ অক্টোবর বোয়ালখালী উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় জনপ্রতিনিধি-সাংবাদিক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে এসব নিয়ে চরম অসন্তোষ ও কিছুটা বাকবিতন্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।

উপজেলা-পৌরসভার একাধিক এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করে ও চোর আক্রান্ত পরিবারের সাথে সরাসরি কথা বলে জানা যায়- গত ১মাসে বোয়ালখালীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় অর্ধশতাধিকেরও বেশী ছোট-মাঝারী বড় আকারের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এতে পাকা দালান গ্রীল দরজা ও আলমারী ভেঙ্গে কেটে লক্ষ লক্ষ টাকার জিনিস লুটে নিয়েছে এবং ভাংচুর করে এ মূল্যবান জিনিস পত্র নষ্ট করেছে চোরের দল।

শুধু উপজেলার চরণদ্বীপ ইউনিয়নের পশ্চিম সৈয়দনগর গ্রামে গত মাস খানেকের মধ্যে অন্তত ২০টিরো বেশী বাড়িতে চুরি হয়েছে। এ এলাকার ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে কথা বলে জানা যায় -এ এলাকার আব্দুল শুক্কুর ড্রাইভারের অটোরিকশা থেকে ২টি ব্যাটারি, মনোয়ারা বেগম মানুর বাড়ি থেকে একটি ভ্যানগাড়ী, সোলাইমান কমান্ডারের নির্মাণাধীন ভবন থেকে ২ টন লোহা ও স্টিল শাটার, শাহাদাত হোসেন সুমনের কাঁচারি ঘর থেকে ৪০০ কেজি লোহা ও ২০ ফুট প্লাস্টিক পাইপ, কাজী ওবাইদুল হক হক্কানীর ভবনের ছাদে রাখা ১৮ পিলারের রড, মো. রোকনের একটি গাজী মোটর, ইলিয়াস সওদাগরের ২০০ কেজি লোহা, করিম বক্স বলি ও মো. রিটনের বাড়ি থেকে ২টি টিউবওয়েল, শামসুল আলমের বাড়ি থেকে একটি কম্পেসার চুরি করেছে চোরের দল।

এলাকাবাসী জানান-সর্বশেষ ঘটনায় স্থানীয় বাচা মিস্ত্রির সুপারি বাগানে চুরি করতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন ‘কাদের ডেকোরেশন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তি। তাঁর সঙ্গে আলমগীর নামে আরও একজন ছিলেন।

এলাকাবাসীর দাবি এসব চুরির সঙ্গে স্থানীয় ৪ তরুণ জড়িত। এলাকাবাসীরা আরো জানান-উল্লেখিত এসব তরুণ মাদকাসক্ত। মাদকের খরচ জোগাতে চুরি-ডাকাতিসহ নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে তারা। ক্ষতিগ্রস্তরা সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেন, একের পর এক চুরির ঘটনা ঘটলে তা পুলিশে জানানোর পরও পুলিশের অনেকটা নিরব ভূমিকা পালন করাকে নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শাকপুরা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের লালচাঁদ বাড়ী ঢুকার মুখে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতার শিল্পী জয়া বড়ুয়ার পাকা ঘরের দরজার লক, আলমিরা ভেঙে কৌশলে লুটে নেয় চোরের দল, এ ঘটনায় থানা পুলিশে ফোন করলেও একটি বারের জন্য পরিদর্শনে আসেনি। ফলে ক্ষতি গ্রস্থসহ এলাকাবাসীদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। ১৬ অক্টোবর দিবাগত পোপাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের প্রবাসী নুরুল হুদার নতুন বাড়ীর বেগম নজুমিয়া মঞ্জিলের ঘরের দরজার তালাক -আলমিরার হুক ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান জিনিস পত্র লুটে নেয় এবং নষ্ট করে চোরের দল। গত ৯ অক্টোবর রাতে শাকপুরা ইউনিয়নের ঘোষখীল গ্রামে ইসহাক মাস্টারের বাড়ীর আবদুল কাশেমের ঘরে দূর্ধষ চুরির ঘটনা সংগঠিত হয়।

৮নং শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মোঃ হাসান চৌধুরী বলেন গত ১ মাসে জ্যৈষ্টপুরা-শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মসজিদ স্কুল মন্দির-বাজার ও বসতবাড়ীর প্রায় ৩৫টি টিউবওয়েল চুরি হয়েছে।

এছাড়াও খরণদ্বীপ ৩নং ওয়ার্ড, কমলা বাপের বাড়ীতে চুরি, ১৬ অক্টোবর রাতে ৫ নং ওয়ার্ডের চৌধুরী বাড়ী দৌলত সওদাগর বাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক চুরি ঘটনা ঘটেছে। এ জনপ্রতিনিধি আরো জানান- এ ধরনের চুরির ঘটনায় এলাকাবাসী অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষেও উপজেলা প্রশাসন বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গত ১৭ অক্টোবর দিন দুপুরে জ্যৈষ্ঠপুরা শাক্যমুনি বিহারের উত্তর-পূর্ব পাশে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ খোকন বড়ুয়ার পাকা ঘরের গ্রীল-একাধিক দরজা ও ৩টি আলমিয়ার হুক ভেঙে স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল ফিল্মি স্টাইলে লুটে নেয় চোরের দল। এঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। খোকন বড়ুয়ার ঘরে এহেন দূর্ধষ চুরির ঘটনা স্থল পরিদর্শনে গেলে স্থানীয় প্যানেল চেয়ারম্যান ও বৌদ্ধদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দদের নিকট এলাকাবাসী অভিযোগ করেন চুরি কবলিত এ ঘরটির পশ্চিম পাশের সুধীর রঞ্জন বড়ুয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের অদুরে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নেশাখোর, উশৃংখল যুবকরা সন্ধ্যা পরবর্তী মহড়া বসিয়ে চলছে দীর্ঘদিন ধরে। এসবে এলাকায় চুরি-ডাকাতির প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে।

চুরি কবলিত পরিবার কর্তা খোকন বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন- ঘটনার দিন দুপুর ১টার দিকে পাশ্ববর্তী শ্রীপুর গ্রামে আমরা একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যায়, এরপর সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ ফিরে দেখি ঘরের গ্রীল কেটে ও ঘরের তালা ভেঙে এ দূর্ধষ চুরি হয়। এ ঘটনায় একই দিন রাতে বোয়ালখালী থানায় আমি বাদী হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ করেছি।

পোপাদিয়ার নুরুল হুদার বাড়ী, ঘোষখীল ইসহাক মাষ্টার বাড়ী, জ্যৈষ্ঠপুরা খোকন বড়ুয়ার ঘরে যেভাবে তান্ডব, ভাংচুর করে মুল্যবান সম্পদ লুটে নিয়েছে তা নিয়ে কেউ কেউ চুরির ঘটনা বলে চালিয়ে দিলেও অনেকেই বলছে এ ৩টি ঘটনা দূর্ধষ ডাকাতিকে হার মানিয়েছে।

এদিকে ২২ অক্টোবর বোয়ালখালী উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা কমিটির এক সভা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা পরিষদ মিলনায়তন( স্বাধীনতা)’য় অনুষ্ঠিত এ আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় পুরো উপজেলার গত মাস খানেকের চুরিসহ এসব উশৃংখল ঘটনা নিয়ে আলোকপাত করায় কেউ কেউ খুশি আবার কেউ কেউ নিরবে অবস্থান করলেও স্থানীয় কয়েকজন জনপ্রতিনিধি-সাংবাদিক প্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীর মধ্যে এ সব নিয়ে অসন্তোষ ও বাকবিতন্ড হওয়ার খবরও প্রকাশ পেয়েছে। এ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, থানার ওসি মুহাম্মদ লুৎফুর রহমানসহ আইন শৃঙ্খলা কমিটির সদস্য বৃন্দ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শাহ আমানত বিমানবন্দরে আরও ৭ ফ্লাইট বাতিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও ৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে শনিবার ফ্লাইট বাতিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল।

বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডে কার্যক্রম সীমিত বা বন্ধ থাকায় এসব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দুবাই, আবুধাবি ও শারজাহর এয়ারফিল্ড সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে এবং দোহা এয়ারফিল্ড পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে রয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দুবাই থেকে আসা একটি আগমন (এরাইভাল) ও দুবাইগামী একটি প্রস্থান (ডিপার্চার) ফ্লাইট। এছাড়া ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আসা একটি আগমন এবং দুটি প্রস্থান ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। অন্যদিকে সালাম এয়ারের মাস্কাট থেকে আসা একটি আগমন এবং মাস্কাটগামী একটি প্রস্থান ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।তবে সব ফ্লাইট বন্ধ না থাকায় কিছু আন্তর্জাতিক ফ্লাইট স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। বিভিন্ন এয়ারলাইনসের মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত ৬টি আগমন ফ্লাইট এবং ৪টি প্রস্থান ফ্লাইট চলাচল করেছে।শা

টররসহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, এয়ার আরাবিয়া ও ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের শারজাহ ও দুবাই থেকে চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটগুলো ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে দোহা এয়ারফিল্ড এখনো পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ধীরে ধীরে আরও কিছু রুটের ফ্লাইট স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।’তিনি আরও জানান, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে বৃহস্পতিবারের ৭টি বাতিল ফ্লাইটসহ এখন পর্যন্ত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের মোট ১১৬টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।’

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ