আজঃ রবিবার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করলেন বিএনপি নেতা ফরহাদ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র দীর্ঘদিনের রাজনীতিক ও রামগড় উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (ফরহাদ) তাঁর বিরুদ্ধে জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়ার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ করেছেন। শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ তোলেন।

লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম ফরহাদ বলেন,
“আমি দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ২০১১ সালে রামগড় পৌরসভার মেয়র পদে, ২০১৪ সালে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে এবং ২০১৮ সালে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। প্রহসনের সেই নির্বাচনে আমি ৫১,২৮১টি ভোট পাই।”

তিনি বলেন, তাঁর পিতা মরহুম সাহাব উদ্দিন ভূঁইয়া ব্যবসায়ী হয়েও বৃদ্ধ বয়সে জেল খেটেছেন, মা হয়েছেন আওয়ামী লীগ ও পুলিশের নির্যাতনের শিকার। ১৯৯৯ সালে তাঁদের পৈতৃক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ১৭ বছরে তিনি ৩০টিরও বেশি মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন। ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত এলাকায় থাকতে পারেননি। উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে তাঁর বাড়িতে একাধিকবার হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। “আওয়ামী সন্ত্রাসের কারণে জাতীয় দিবসে পর্যন্ত আমি পতাকা উত্তোলন করতে পারিনি,” বলেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ অভিযোগ করেন,
“২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর ওয়াদুদ ভূঁইয়া আমাকে তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করে অসাংগঠনিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা শুরু করেন। ২০১৯ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে রামগড় উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর আমার নাম বাদ দিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে অন্যের নাম বসিয়ে হুবহু আরেকটি কমিটি প্রকাশ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও মহাসচিব বরাবর অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার একক সিদ্ধান্তে তাঁকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক-১ পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়ার একটি রেজুলেশন ছড়ানো হয়।

ফরহাদ বলেন, ওয়াদুদ ভূঁইয়া তাঁর আপন চাচা। ২০২৩ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পারিবারিক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী ভাড়া করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। সেই ঘটনার সাক্ষাৎকারের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জেলা বিএনপির সহ-দপ্তর সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ নিপু তাঁর বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে চট্টগ্রাম সাইবার ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

তিনি দাবি করেন, সেই মামলার তথ্য রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে সংগ্রহ করে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালানো হয়। “২০২৩ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাতে বিশেষ গোয়েন্দা বাহিনীর কর্মকর্তা ও ওয়াদুদ ভূঁইয়ার লোকজন আমার চট্টগ্রামের বাসা, শ্বশুরবাড়ি ও দুই শ্যালিকার বাড়িতে একযোগে অভিযান চালায়। আমাকে না পেয়ে আমার স্কুলপড়ুয়া দুই ছেলেকে অপহরণের পরিকল্পনা করে। স্ত্রীর সঙ্গেও অসদাচরণ করা হয়,” বলেন ফরহাদ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ওয়াদুদ ভূঁইয়া আমাকে বিএনপি থেকে সরাতে ২০২৪ সালের অবৈধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করানোর জন্য তৃণমূল বিএনপি বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানোর প্রলোভন দেন। আমাকে না পেয়ে আমার স্ত্রীর ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়, ফলে তিনি সন্তান নিয়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।”

সংবাদ সম্মেলনে ফরহাদ জানান,
“৫ আগস্ট রাতে ওয়াদুদ ভূঁইয়ার নির্দেশে তাঁর সন্ত্রাসীরা আমার রামগড়ের বাড়ি ও বাবার বাড়ি ভাঙচুর করে। ওইদিন আমার সমর্থকদের বিজয় মিছিলে হামলা চালিয়ে পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোতাহের হোসেন মিলনসহ কয়েকজনকে আহত করা হয়।”

তিনি বলেন, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মামলায় তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়। এমনকি আশুলিয়ার একটি বৈষম্যবিরোধী মামলায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তাঁর নামও জুড়ে দেওয়া হয়। এসব মামলা থেকে অব্যাহতির জন্য তিনি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে আবেদন করেন। দলের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের ১৫ জুলাই জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর সালাউদ্দিন খান পিপিএমের স্বাক্ষরিত দুটি চিঠি পাঠানো হলেও এখনো কোনো প্রতিকার পাননি বলে জানান তিনি।

ফরহাদ বলেন,
“চৌদ্দ মাস ধরে আমি মিথ্যা মামলার হয়রানিতে আছি। আমাকে চাপে রেখে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা হচ্ছে এবং আগামী নির্বাচনে মনোনয়ন না পাওয়ার জন্যই এই কর্মকাণ্ড।

তিনি দাবি করেন, বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকারের জন্য দল ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করছে, কিন্তু তাঁর সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করেনি। “আমি একজন মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে বক্তব্য রাখার সুযোগ চাই,” বলেন ফরহাদ।

শেষে তিনি মাননীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, মহাসচিব ও স্থায়ী কমিটির সদস্যদের উদ্দেশে বলেন,
“আমাকে দলের সিনিয়র নেতাদের সামনে আমার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিন।”

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে জামানত ফেরত পাবেন না ৭১ প্রার্থী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে জামানত হারিয়েছেন চট্টগ্রামের ৭১ প্রার্থী। চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে ১১৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এরমধ্যে চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক আংশিক) আসনে ফলাফল বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। এ আসনে ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এদের মধ্যে ৭১ জন জামানত খুইয়েছেন। অর্থাৎ প্রার্থীদের ৬৭ শতাংশ জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. বশির আহমেদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন মতে, প্রদত্ত ভোটের (কাস্টিং ভোট) ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। মনোনয়নপত্রের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকার জামানত ফেরত পাবেন না তারা।
জানা গেছে,

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জামানত হারিয়েছেন। তিনি ছিলেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের চট্টগ্রামের একক প্রার্থী। তবে ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাছেরও মাঠে ছিলেন। জোটের এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে ছিল নানা টানাপোড়েন। শেষতক জোটের দুই প্রার্থীই মাঠে ছিলেন।শুধু জোবাইরুল আরিফ নন, এ জোটের প্রার্থীদের মধ্যে পটিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ও এলডিপির এম এয়াকুব আলীও জামানত হারিয়েছেন। সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারিয়েছেন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চট্টগ্রামের ১৫টি আসনের প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী, চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আলোচিত প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ জামানত হারিয়েছেন। তিনি ছিলেন জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের চট্টগ্রামের একক প্রার্থী। তবে ওই আসনে জামায়াত প্রার্থী ডা. আবু নাছেরও মাঠে ছিলেন। জোটের এই দুই প্রার্থীকে ঘিরে ছিল নানা টানাপোড়েন। শেষতক জোটের দুই প্রার্থীই মাঠে ছিলেন।শুধু জোবাইরুল আরিফ নন, এ জোটের প্রার্থীদের মধ্যে পটিয়া আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদুল আলম ও এলডিপির এম এয়াকুব আলীও জামানত হারিয়েছেন। সুপ্রিম পার্টির চেয়ারম্যান শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারিয়েছেন গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়া চট্টগ্রামের ১৫টি আসনের প্রার্থীদের ভোটের ফলাফল বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া যায়। জামানত হারালেন যারা:
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) সংসদীয় আসনে ভোট পড়েছে দুই লাখ ২৪ হাজার ১২০ ভোট। বিধিমতে, জামানত রক্ষা করার জন্য প্রার্থীকে ২৮ হাজার ভোট পেতে হবে। সেই হিসাবে এই আসনের ৫ জন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, জেএসডির এ কে এম আবু ইউছুপ, ইসলামী আন্দোলনের ফেরদৌস আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের রেজাউল করিম, মুসলিম লীগের শেখ জুলফিখার বুলবুল চৌধুরী, জাপার সৈয়দ শাহাদাৎ হোসেন। আর জামানত রক্ষা করেছেন বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরী ও জামায়াতের মোহাম্মদ ছাইফুর রহমান।

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে পড়েছে দুই লাখ ২৩ হাজার ৫১৩ ভোট। ৭ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির সরোয়ার আলমগীর ও জামায়াতের নুরুল আমিন ছাড়া জামানত হারিয়েছেন ৫ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী আহমদ কবির, জিন্নাত আকতার, জনতার দলের মোহাম্মদ গোলাম নওশের আলী, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ জুলফিকার আলী মান্নান, গণঅধিকার পরিষদের রবিউল হাসান ও সুপ্রিম পার্টির শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে পড়েছে এক লাখ ২০ হাজার ৯৫০ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা ও বিজিত প্রার্থী জামায়াতের মুহাম্মদ আলা উদ্দিন ছাড়া অন্য দুই প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। ইসলাম আন্দোলনের আমজাদ হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা জামানত হারিয়েছেন।

চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী ও চসিক আংশিক) আসনে পড়েছে দুই লাখ ১৮ হাজার ৬১৬ ভোট। ৬ প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও খেলাফত মজলিমের মো. নাছির উদ্দিন ছাড়া চার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের মতিউল্লাহ নূরী, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদ, লেবার পার্টির মো. আলা উদ্দিন।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে পড়েছে এক লাখ ৬৪ হাজার ১০৫ ভোট। চার প্রার্থীর মধ্যে শুধু জামানত হারিয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের নাছির উদ্দিন তালুকদার। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী ছাড়া জামানত রক্ষা করেছেন জামায়াতের মো. শাহাজাহান মঞ্জু ও ইসলামী ফ্রন্টের মোহাম্মদ ইলিয়াস নূরী।

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে পড়েছে এক লাখ ৫৩ হাজার ৩৭৬ ভোট। আট প্রার্থীর মধ্যে ৫ জন জামানত খুইয়েছেন। তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের আবদুল্লাহ আল হারুন, কমিউনিস্ট পার্টির প্রমোদ বরণ বড়ুয়া, এবি পার্টির মো. আবদুর রহমান, গণঅধিকার পরিষদের মো. বেলাল উদ্দিন, জাপার মো. মেহেদী রাসেদ। জামানত রক্ষা করেছেন বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির হুমাম কাদের চৌধুরী, বিজিত প্রার্থী জামায়াতের ডা. এ টি এম রেজাউল করিম ও ইসলামী ফ্রন্টের মুহাম্মদ ইকবাল হাসান।

চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও, পাঁচলাইশ বায়েজিদ আংশিক) আসনে পড়েছে দুই লাখ ৬০ হাজার ৯৫৮ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির এরশাদ উল্লাহ, জামায়াতের ডা. মো. আবু নাছের ও ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়্যদ মুহাম্মদ হাসান ছাড়া অন্য তিন প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, এনসিপির মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ এমদাদুল হক, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ নুরুল আলম।

চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনে পড়েছে এক লাখ ৭৪ হাজার ৯৪৪ ভোট। পরাজিত প্রার্থী জামায়াতের ডা. এ কে এম ফজলুল হক ছাড়া আট প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, জেএসডির আবদুল মোমেন চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলনের আবদুস শুক্কুর, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ ওয়াহেদ মুরাদ, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ নঈদ উদ্দিন, নাগরিক ঐক্যের মো. নুরুল আবছার মজুমদার, সমাজতান্ত্রিক দলের মো. শফি উদ্দিন কবির, জনতার দলের মো. হায়দার আলী চৌধুরী ও গণসংহতি আন্দোলনের সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারূপ।

চট্টগ্রাম-১০ (খুলশী-পাহাড়তলী- হালিশহর) আসনে পড়েছে দুই লাখ ১৪ হাজার ১৫৪ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির সাঈদ আল নোমান ও জামায়াতের সামশুজ্জামান হেলালী ছাড়া ৭ প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) আসমা আকতার, ইসলামিক ফ্রন্টের মো. লিয়াকত আলী, ইসলামী আন্দোলনের মুহাম্মদ জান্নাতুল ইসলাম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের সাবিনা খাতুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আরমান আলী, জাতীয় পার্টির মুহাম্মদ এমদাদ হোসাইন চৌধুরী ও লেবার পার্টির মো. ওসমান গণি।

চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-ডবলমুরিং) আসনে পড়েছে দুই লাখ ২ হাজার ৫৩৬ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিজিত প্রার্থী জামায়াতের শফিউল আলম ছাড়া অন্য নয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) দীপা মজুমদার, গণফোরামের উজ্জ্বল ভৌমিক, ইসলামিক ফ্রন্টের মুহাম্মদ আবু তাহের, সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. নিজামুল হক আল কাদেরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. আজিজ মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মো. নুর উদ্দিন, গণঅধিকার পরিষদের মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর ভূঁইয়া।

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে পড়েছে এক লাখ ৯৪ হাজার ৪৯৩ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী বিএনপির এনামুল হক ও বিজিত প্রাথী ইসলামী ফ্রন্টের সৈয়দ এয়ার মুহাম্মদ পেয়ারু ছাড়া অন্যরা জামানত হারিয়েছেন। এ আসনে জামায়াতের মোহাম্মদ ফরিদুল আলম জামানত হারিয়েছেন। অন্যরা হলেন, ইসলামী আন্দোলনের এসএম বেলাল নূর, জাতীয় পার্টির ফরিদ আহমদ চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোহাম্মদ আবু তালেব হেলালী, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন, এলডিপির এম এয়াকুব আলী।

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে পড়েছে দুই লাখ ২১ হাজার ৩৫ ভোট। বিজয়ী বিএনপির সরওয়ার জামাল নিজাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মাহমুদুল হাসান, ইসলামী ফ্রন্টের এসএম শাহজাহান জামানত রক্ষা করেছেন। অন্য চার প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) মোহাম্মদ এমরান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মু. রেজাউল মোস্তফা, জাতীয় পার্টির আবদুর রব চৌধুরী, গণধিকার পরিষদের মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে পড়েছে এক লাখ ৮৬ হাজার ২৯০ ভোট। বিজয়ী প্রার্থী জসীম উদ্দিন আহমেদ ও এলডিপির ওমর ফারুক ছাড়া অন্য ছয় প্রার্থী জামানত হারিয়েছেন। তারা হলেন, ইসলামী ফ্রন্টের মৌ. মো. সোলাইমান, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ বাদশা মিয়া, ইসলামী আন্দোলনের মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, স্বতন্ত্র শফিকুল ইসলাম রাহী, মোহাম্মদ মিজানুল হক চৌধুরী, ইনসানিয়াত বিপ্লবের এইচএম ইলিয়াছ।

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে বিজয়ী তিন প্রার্থীদের মধ্যে বিজয়ী জামায়াত ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী, বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমীন ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের শরীফুল আলম চৌধুরী জামানত হারিয়েছেন।

বাউফলে বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর, আহত ৩০জন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার পর বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত ১২ ঘণ্টায় অন্তত ৩০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে উপজেলা বিএনপি।শুক্রবার বিকেলে বাউফল উপজেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার।

আলোচিত খবর

নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারত, চীন, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। নবনির্বাচিত সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে চীনের প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও ভারত-পাকিস্তানসহ ১৩ দেশকে আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নিতে যাচ্ছে নতুন সরকার।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ