আজঃ শুক্রবার ১০ জুলাই, ২০২৬

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ কোটি টাকা আত্মসাত, সাবেক সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেসরকারি আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১৩ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান সাবেক সংসদ সদস্য ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার সকালে দুদক-এর চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক কমল চক্রবর্তী এ মামলা দায়ের করেছেন।একই মামলায় নদভীর স্ত্রীসহ আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। দুদক-এর চট্টগ্রাম জেলার উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মামলার প্রধান আসামি আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দীন নদভী চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য। গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ২০০৫ সালে চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকায় প্রায় ২০ কাঠা জমি কিনে বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট ‘আইআইইউসি টাওয়ার’ নির্মাণ করে। ২০১১ সাল থেকে সেখানে কার্যক্রম শুরু হয়।পরবর্তীতে ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর অনুসন্ধানে নামে দুদক।

অভ্যন্তরীণ তদন্ত প্রতিবেদন ও নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ট্রাস্টের সদস্যরা সবাই স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করেন। ওই শ্রমের জন্য কোনো ধরণের সম্মানী, বোনাস, লভ্যাংশ, মোবাইল বিল, টিএ, ডিএ দেওয়ার নিয়ম ট্রাস্টের বিধিমালায় নেই।

কিন্তু আসামিরা আইআইইউসি টাওয়ার থেকে বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ট্রাস্ট আইন ও বিধিবহির্ভূতভাবে পরস্পর যোগসাজশে ২০২১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১২ কোটি ৭৯ লাখ ৪১ হাজার ৫৫৬ টাকা আত্মসাৎ করেন। এ অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়েছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক নদভী ২০১৪ সালের সংসদ নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন। এর আগে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আর বিশ্ববিদ্যালয়টিও ছিল জামায়াত নিয়ন্ত্রিত। নদভী সংসদ সদস্য হওয়ার পর পরিচালনা পরিষদ থেকে জামায়াত নেতাদের বের করে নিজের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। অবশ্য আওয়ামী লীগের পতনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টি আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে।

মামলায় বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ-কেও আসামি করা হয়েছে, যিনি একসময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েরও উপাচার্য ছিলেন।এছাড়া ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য হিসেবে আরও যারা আসামি হয়েছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন- অধ্যাপক ড.কাজী দ্বীন মোহাম্মদ, চবি শিক্ষক ড. মোহাম্মদ সালেহ জহর, ইঞ্জিনিয়ার রশিদ আহমেদ চৌধুরী, নদভীর স্ত্রী রিজিয়া সুলতানা, সাবেক মন্ত্রী হাছান মাহমুদের ভাই মোহাম্মদ খালেদ মাহমুদ, অধ্যাপক ফসিউল আলম, অধ্যাপক আবদুর রহিম, ড. মো. শামসুজ্জামান, মোহাম্মদ বদিউল আলম, ড. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, মুহাম্মদ শফীউর রহমান, অধ্যাপক ড. মাহি উদ্দিন, অধ্যাপক আফজল আহমদ এবং ড. মোজাফফর হোছাইন নদভী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের মূলহোতা বাদশাকে গ্রেপ্তার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্রের মূলহোতা মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশাকে (৩৬) গ্রেপ্তার
করেছে পুলিশ।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলোর মধ্যে মামলার বাদীর ছিনতাইকৃত মোবাইল ফোনও রয়েছে।

জানা যায়, ৬ জুলাই সকালে কোতোয়ালী থানা এলাকায় যাত্রীবেশে বাসে উঠে ছোরা দেখিয়ে এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় চক্রের সদস্যরা।
মামলার তদন্তে সিআরবি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করেন। পরে কোতোয়ালী থানার একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৯ জুলাই বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের মূলহোতা সাইফুল ইসলাম ওরফে বাদশাকে গ্রেপ্তার করে।এ সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি ছোরা এবং বিভিন্ন সময়ে ছিনতাই করা ১১টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়।

বাদশা ছিনতাইকারী দল নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর নিউ মার্কেট, স্টেশন রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় আগত ব্যবসায়ী, পথচারী ও বাসযাত্রীদের টার্গেট করে ছিনতাই চালাতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপি দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, চক্রের পলাতক অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢল চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি তলিয়ে গেছে ফসলি জমি ও বাড়ি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাহাড়ি ঢলের কারণে কয়েকটি উপজেলাও কমবেশি প্লাবিত হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে পানি ওঠার কারণে বৃহস্পতিবার সকালে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল বন্ধ ছিল।

জানা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে দুদিন ধরে সাতকানিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নে পানি উঠতে থাকে। ফসলি জমি ও বাড়ি তলিয়ে যায়। ডলু খালের বাঁধ ভেঙে বিস্তির্ণ এলাকায় বন্যা দেখা দিয়েছে। দুই লাখের বেশি মানুষ বর্তমানে পানিবন্দী অবস্থায় রয়েছে বলে জানা যায়।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মাহমুদুল হাসান জানান, পুরো উপজেলার সবগুলো অর্থাৎ ১৭ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভার ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গৃহবন্দী রয়েছে এসব এলাকার মানুষ। ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, সাতকানিয়ার কেরানিহাট এলাকার ব্যাপক এলাকায় পানি রয়েছে। এর ফলে সাতকানিয়া থেকে বান্দরবানের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বান্দরবান থেকে নেমে আসা পানির ঢল এবং বৃষ্টির পানি যোগ হয়ে দুই থেকে তিন ধরে এলাকাগুলো বন্যা কবলিত হয়ে পড়ে বলে জানা যায়।

এদিকে লোহাগাড়া উপজেলার ৫ টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত। এর মধ্যে আমিরাবাদ ইউনিয়ন সবচেয়ে বেশি ক্ষতগ্রিস্ত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ১২টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলেছে। তবে এগুলোতে লোকজন খুব একটা যাচ্ছে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজিদ বিন আখন্দ জানান, ৯ উপজেলার মধ্যে ৫টি কমবেশি আক্রান্ত হয়েছে। আমিরাবাদ ইউনিয়ন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। এখান থেকে ৯০ জনকে উদ্ধার করে আমরা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া পদুয়া ইউনিয়নে গৃহবন্দী লোকজনকে উদ্ধার করার জন্য পাঠানো হয়।

চন্দনাইশের পাঁচটি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা বন্যার কবলে পড়েছে। এরমধ্যে ধোপাছড়ি, বরকল, বৈলতলী ইউনিয়ন বেশি আক্রান্ত হয়েছে। উপজেলায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, ১৩ হাজার লোক গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। ধোপাছড়ি বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। ওখানে সাড়ে তিনশত লোক বর্তমানে আশ্রয়কেন্দ্রে গিয়ে উঠছেন। শুকনো খাবার এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দেওয়া হচ্ছে। দোহাজারী এলাকায় পানি ওঠার কারণে কক্সবাজারের সঙ্গে সকালে যান চলাচল বন্ধ ছিল বলে জানান। তবে বর্তমানে তা চালু রয়েছে বলে ইউএনও জানিয়েছেন।

এছাড়া বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া, গণ্ডামারা, শেখেরখিল, নাপোড়া, খানখানাবাদসহ বিভিন্ন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকেছে। চরম দুর্ভোগে দিন কাটছে লোকজনের। উপজেলা প্রশাসন থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে আশ্রয়কন্দ্র খোলা হয়েছে।

জেলা প্রশাসন জানায়, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ লোক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যায় সাতকানিয়া ও লোহাগাড়ার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। এ ছাড়া বাঁশখালীতেও গৃহবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শরীফ উদ্দিন জানান, জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ লাখ মানুষ বন্যায় এ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাহাড় ধস ও পানিতে ভেসে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন। ৬২৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

এইচএসসি-সমমান প্রথমদিন অনুপস্থিত ২৪ হাজার ৭৮৪ পরীক্ষার্থী, বহিষ্কার -৭

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা মোট ১০ লাখ ২৪ হাজার ৯০৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১০ লাখ ১২০ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ২৪ হাজার ৭৮৪ জন এবং অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জনকে।০২ জুলাই বৃহস্পতিবার বিকেলে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি এ তথ্য জানিয়েছে। দেশের ৯টি শিক্ষা বোর্ডে বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮ লাখ ৫৬ হাজার ৯৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে অংশ নেন ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৬৪ জন।

অনুপস্থিত ছিলেন ১৭ হাজার ২৩৩ জন। অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে বহিষ্কার করা হয়েছে ৫ জনকে। এর মধ্যে যশোর বোর্ডে ২ জন এবং কুমিল্লা, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ বোর্ডে একজন করে পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।বোর্ডভিত্তিক অনুপস্থিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা হলো—ঢাকা বোর্ডে ৩ হাজার ৯৭১, রাজশাহী বোর্ডে ২ হাজার ৪৯৭, কুমিল্লা বোর্ডে এক হাজার ৭৯৫, যশোর বোর্ডে দুই হাজার ৭৮, চট্টগ্রাম বোর্ডে এক হাজার ৩৪০, সিলেট বোর্ডে এক হাজার ১২৭, বরিশাল বোর্ডে এক হাজার ৩৪৬, দিনাজপুর বোর্ডে এক হাজার ৯৩৭ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে এক হাজার ১৪২ জন।

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের আলিম পরীক্ষায় কুরআন মাজিদ বিষয়ে নিবন্ধিত ৮৫ হাজার ১৩১ জনের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৮০ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৪৭৮ জন এবং একজন পরীক্ষার্থী বহিষ্কৃত হয়েছেন।কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা-২ পরীক্ষায় নিবন্ধিত ৮৩ হাজার ৬৭৬ জনের মধ্যে অংশ নেন ৮০ হাজার ৬০৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৭৩ জন এবং বহিষ্কার করা হয়েছে একজনকে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ