আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় দাবিদাওয়ার ঝড়, কিন্তু নীরব প্রবাসীরা

মোহাম্মদ আরমান চৌধুরী আরব আমিরাত প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দেশের রাজপথ দাবিদাওয়ার ঝড়ে সরব। সরকারি কর্মকর্তা থেকে শিক্ষক, চিকিৎসক থেকে শ্রমিক—সবাই নিজ নিজ দাবি তুলে ধরছেন সরকারের কাছে।

তবে এই আন্দোলনের স্রোতের বাইরে রয়েছেন দেশের এক বিশাল জনগোষ্ঠী—প্রবাসী বাংলাদেশিরা। দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হয়েও তারা এখন পর্যন্ত কোনো দাবি আদায়ে রাস্তায় নামেননি, কিংবা বিদেশে থেকেও কোনো সংগঠিত প্রতিবাদ জানাননি।

দেশে প্রতিদিনই নতুন নতুন দাবির ব্যানারে মিছিল-মিটিং দেখা যাচ্ছে। সরকারি চাকরিজীবীরা বেতন সমন্বয়ের দাবি তুলেছেন। শিক্ষার্থীরা নিয়োগ পরীক্ষার স্বচ্ছতা চাচ্ছেন। স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসার শিক্ষকরা বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান সহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ প্রতিনিয়ত দাবি জানাচ্ছেন। কিন্তু প্রবাসীদের মধ্যে তেমন কোনো সাড়া নেই। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, আমেরিকা, কিংবা পূর্ব এশিয়ার প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে দাবি আদায়ের আন্দোলন বা সংগঠিত বক্তব্য এখনও অনুপস্থিত।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই নীরবতার পেছনে রয়েছে একাধিক বাস্তব কারণ।

১. ভৌগোলিক দূরত্ব ও আইনি বাধা:
বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত শ্রমিক বা চাকরিজীবীরা স্থানীয় আইনের কারণে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হতে পারেন না।
২. অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা:

অনেকে আশঙ্কা করেন, কোনো প্রকার রাজনৈতিক বক্তব্য বা প্রতিবাদ তাদের চাকরি বা ভিসার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
৩. সংগঠনের সীমাবদ্ধতা: যেসব প্রবাসী সংগঠন আছে, তাদের বেশিরভাগই সামাজিক বা কল্যাণমূলক কাজে সীমাবদ্ধ—দাবি আদায়ে তাদের ভূমিকা দুর্বল।

৪. দেশীয় রাজনীতিতে আস্থাহীনতা: প্রবাসীদের একটি বড় অংশ মনে করেন, সরকার বদলায় কিন্তু নীতি বদলায় না—তাই আন্দোলনে অংশ নেওয়াকে তারা সময়ের অপচয় ভাবেন।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দীর্ঘদিন থেকে বাংলাদেশ সরকারের কাছে বিমান টিকিটের মূল্যহ্রাস, রেমিট্যান্স পাঠানোর পদ্ধতি নিরাপদ ও সহজিকরণ, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের সেবার মানোন্নয়ন, দেশে বিনিয়োগের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে কর-ছাড় ও প্রণোদনা, কর্মস্থলে দুর্ঘটনা বা মৃত্যুর পর ক্ষতিপূরণের কার্যকর ব্যবস্থা, বিদেশ ফেরত প্রবাসীদের কর্মসংস্থান ব্যবস্থা ও পেনশন সুবিধার আওতায় আনা, দেশে প্রবাসী ও তাদের পরিবারের নিরাপত্তায় বিশেষ আইনের ব্যবস্থা করা এবং এয়ারপোর্টে হয়রানি বন্ধ সহ বিভিন্ন দাবিদাওয়া জানিয়ে আসছেন। তবে এসব এখনো আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ; কোনো বাস্তব রূপ নেয়নি।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দ্বায়িত্ব নেয়ার পর একজন উপদেষ্টা বলেন, “প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতির প্রাণ। তাদের সমস্যা ও দাবি নিয়ে আলাদা একটি টাস্কফোর্স গঠনের চিন্তা চলছে। তবে প্রবাসী সমাজ মনে করে, আগেও অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তা ফলপ্রসূ হয়নি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার। এই বিপুল অঙ্কের রেমিট্যান্সই দেশের বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভকে টিকিয়ে রেখেছে।

বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রবাসীরা যদি সংগঠিতভাবে তাদের নীতিগত দাবি তুলে ধরতে পারতেন, তবে শুধু তাদের কল্যাণ নয়, দেশের অর্থনীতিও আরও সুসংহত হতে পারত। দেশের রাজনীতিতে যখন নতুন রূপান্তরের সময় চলছে, তখন প্রবাসী সমাজের এই নীরবতাই একদিন নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তারা হয়তো এখন আন্দোলনে নেই, কিন্তু তাদের রেমিট্যান্সই প্রতিদিন দেশের চাকা ঘোরাচ্ছে—নীরবে, নিয়মিতভাবে, অবিরাম। এটা ভূলে গেলে চলবেনা। প্রবাসীদের সমস্যা সম্ভাবনা নিয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকদের অবশ্যই ভেবে দেখা উচিৎ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফুটবল বিশ্বকাপ -২০২৬ শুভ সূচনায় মেক্সিকোর চমক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছে স্বাগতিক মেক্সিকো। তিনটি লাল কার্ডে উত্তপ্ত হয়ে ওঠা ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে কার্যত ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা আর কোনো প্রতিরোধ গড়তে পারেনি।ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। নবম মিনিটেই স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন হুলিয়ান কিনিয়োনেস। পঞ্চাশ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার সিথোলে পেনাল্টি বক্সের মাথায় ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন। এর ফলে ১০ জনের দলে নেমে যায় সফরকারীরা।এরপর ছেষট্টি মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন রাউল হিমিনেজ। এক গোল পেছনে পড়ে এবং একজন কম নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার লড়াই তখন আরও কঠিন হয়ে পড়ে।

চুরাশি মিনিটে আরও একবার লাল কার্ড দেখে বিপদ বাড়ায় দক্ষিণ আফ্রিকা। আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ফাউল করে মাঠ ছাড়েন থেম্বা জেওয়ানে। যোগ করা সময়ের দুই মিনিটে লাল কার্ড দেখেন মেক্সিকোর সেজার মন্তেস, ফলে ম্যাচে মোট তিনটি লাল কার্ড দেখা যায়।শেষ পর্যন্ত দুই গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিশ্চিত করে মেক্সিকো।

ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্ন অভিন্ন: ভারতীয় নতুন হাইকমিশনার ত্রিবেদী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও মজবুত হবে
বলেছেন-ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।দুই দেশের মানুষের গণতন্ত্রের স্বপ্ন অভিন্ন।বৃহস্পতিবার ১১ জুন কলকাতার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর স্মৃতিবিজড়িত নেতাজি ভবনে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত ও বাংলাদেশ কেবল ভৌগোলিক সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নয়, বরং দুই দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাও একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। ভারতের ১৪০ কোটি মানুষের যে স্বপ্ন,একই স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষেরও।

দুই দেশের ১৬০ কোটি মানুষের কল্যাণে যা প্রয়োজন, সেই লক্ষ্য অর্জনে একযোগে কাজ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর আদর্শ ও দুই দেশের জনগণের সমর্থন ও আশীর্বাদ তাঁদের পথচলায় শক্তি জোগাবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা শুধু সীমান্তের মাধ্যমে সংযুক্ত নই। বাংলাদেশের মানুষের স্বপ্নের সঙ্গেও আমরা যুক্ত। আমাদের স্বপ্ন অভিন্ন, গণতন্ত্রের অভিন্ন স্বপ্ন। তাই শুধু ভারতের ১৪০ কোটি মানুষই নয়, আমি এর সঙ্গে বাংলাদেশের আরও ২০ কোটি মানুষকে যোগ করি। ১৬০ কোটি মানুষের জন্য যা ভালো, আমি নিশ্চিত নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, এই দেশের মানুষ এবং বাংলাদেশের মানুষ আমাকে আশীর্বাদ করবেন, যাতে আমরা একসঙ্গে থাকতে পারি এবং যা অর্জন করতে যাচ্ছি, তাতে সফল হতে পারি।

শুক্রবার ঢাকায় আসার সময় ভার‌তের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর স‌ঙ্গে তার স্ত্রী মৃণাল ত্রিবেদীও ঢাকায় আস‌বেন। বাংলা‌দে‌শে ভার‌তের নতুন হাইক‌মিশনার হি‌সে‌বে গত এপ্রিলের শে‌ষ দি‌কে আনুষ্ঠা‌নিকভা‌বে দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেওয়া হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ