আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

নেত্রকোণায় সাড়া জাগানো ব্রি ধান১০৩ এর শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত।

মোঃ নূর উদ্দিন মন্ডল দুলাল নেত্রকোণা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণায় জেলাসদরের ছোটগাড়া এলাকায় এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোণার বাস্তবায়নে ব্রি ধান১০৩ এর নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয়ভাবে আমন মৌসুমের উচ্চ ফলনশীল এ জাতটি জনপ্রিয়করণের উদ্দেশ্যে উক্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২৪ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে ব্রি, নেত্রকোণা কার্যালয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মো. খালিদ হাসান তারেক সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. সালমা লাইজু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোণা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ড. চন্দন কুমার মহাপাত্র, সদর উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা রাখি পোদ্দার এবং ব্রি, স্যাটেলাইট স্টেশন, ময়মনসিংহ এর বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হুর-ই-ফেরদৌসি তাজিন।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিএনপি নেতা শরীফুল আলম সবুজ, সন্তু মিয়া, ব্রি নেত্রকোণা’র বৈজ্ঞানিক সহকারী আনোয়ার হোসেন মণ্ডল, ব্রি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সাংবাদিকসহ স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথি ড. সালমা লাইজু তার বক্তব্যে বলেন, “ব্রি ধান১০৩ প্রায়শই এর গড় ফলনের চেয়ে বেশি ফলন দেয়। নেত্রকোণা অঞ্চলের জন্য এটি বিশেষ উপযোগী একটি উফশী জাত।” তিনি ধান চাষে বায়োপেস্টিসাইড ও তরল জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দেন এবং উক্ত অঞ্চলে শস্যের নিবিড়তা বাড়াতে রিলে পদ্ধতিতে সরিষা চাষের পরামর্শ প্রদান করেন।

মাঠ দিবসে কৃষকদের উপস্থিতিতে নমুনা শস্য কর্তন করা হয়। ১০ বর্গমিটার জমির নমুনায় হেক্টরপ্রতি ৬.৩ টন ফলন পাওয়া যায়। ফলনে সন্তুষ্ট পরীক্ষণ বাস্তবায়নকারী কৃষক ওয়াজেদ মিয়া এবং উপস্থিত স্থানীয় কৃষকরা জানান, ভবিষ্যতে এ জাতের চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে তারা বীজ সংগ্রহে আগ্রহী।

ব্রি নেত্রকোণার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান মো. খালিদ হাসান তারেক বলেন, “দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে ব্রি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল উফশী জাত সমূহ চাষের বিকল্প নেই। আধুনিক প্রযুক্তিতে ধান চাষ করলে কৃষক অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে এবং তাদের জীবনমান উন্নত হবে।” তিনি আরও বলেন, “অসাধু বীজ ব্যবসায়ীদের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে কৃষকদের স্থানীয়ভাবে বিশুদ্ধ বীজ সংগ্রহ করতে হবে।

অনুষ্ঠান শেষে কৃষকদের মধ্যে প্রযুক্তিগত নানা দিক নিয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। মাঠ দিবসে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা মত দেন—ব্রি ধান১০৩ স্থানীয়ভাবে সম্প্রসারিত হলে আমন মৌসুমে জেলাজুড়ে উচ্চ ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ