আজঃ মঙ্গলবার ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ৫৬ কোটি টাকা আত্মসাৎ, সাবেক ভুমিমন্ত্রীর ভাই-বোনের বিরুদ্ধে আট মামলা।

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে আটটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ এসব মামলা করা হয়েছে বলে সংস্থাটির

উপ-পরিচালক সুবেল আহমেদ জানিয়েছেন। গ্রামের প্রান্তিক লোকজনকে ব্যবসায়ী সাজিয়ে নিজ মালিকানাধীন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবিএল) থেকে প্রায় ৫৬ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাৎ ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে মামলাগুলো করা হয়েছে। মামলায় জাবেদ পরিবারের মালিকানাধীন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মচারী এবং ইউসিবিএল ব্যাংকের একাধিক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ১৯৪৭ এর ৫(২) এবং মানিলান্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও (৩) ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।

আট মামলার প্রতিটিতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের ছোট ভাই ও ব্যাংকটির তৎকালীন পরিচালক আনিসুজ্জামান চৌধুরী রনি আসামি হিসেবে আছেন। সাতটি মামলায় ব্যাংকটির আরেক পরিচালক জাবেদের আরেক ভাই আসিফুজ্জামান চৌধুরী আসামি হিসেবে আছেন। তিনটি মামলায় জাবেদের বোন ব্যাংকটির সাবেক পরিচালক রোকসানা জামান চৌধুরীকে আসামি করা হয়েছে।এছাড়া ইউসিবিএল’র বিভিন্ন বিভিন্ন শাখার কর্মকর্তা, পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন সদস্য এবং জাবেদ পরিবারের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আরও কয়েকজন কর্মচারীকে প্রতিটি মামলায় আসামি করা হয়েছে।

যাদের ব্যবসায়ী সাজিয়ে ঋণ নেওয়া হয়েছে তারা হলেন- সেলুন কর্মচারী রাজধন সুশীল, কৃষক মো. মাঈন উদ্দিন, নাজিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ও নুরুল ইসলাম, প্রবাসী সাইফু উদ্দিন, ফুটবল খেলোয়াড় দিদারুল আলম এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক আমির হামজা।
আটটি মামলায় মোট ৫৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, গ্রামের সহজ-সরল লোকজনের কাছ থেকে কৌশলে বিভিন্ন তথ্য ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিয়ে তাদের নামে ইউসিবিএল-এ হিসেব খোলা হয়।

এরপর তাদের নামে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হয়। আর জাবেদ পরিবারের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের নামে খোলা একই ব্যাংকের হিসেব নম্বরে সেই টাকা স্থানান্তর করে পরবর্তীতে তা তুলে নিয়ে আত্মসাত করা হয়েছে।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালে এ অনিয়ম ও জালিয়াতি সংঘটিত হওয়ার সময় ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। তখন ব্যাংকে জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমিলা জামানের একচ্ছত্র প্রভাব ছিল। জাবেদের ভাই-বোন ও পরিচালনা পর্ষদের কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সদস্য প্রভাব সৃষ্টি করে ঋণ অনুমোদন করেন এবং সেগুলো মিলেমিশে আত্মসাত করেন।

একই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৩২ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে গত নভেম্বরে আরও চারটি মামলা করেছিল দুদক।
সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ প্রয়াত শিল্পপতি ও আওয়ামী লীগ নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর বড় ছেলে। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। সেখান থেকে বাবু একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাবেদ প্রথমে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন না। পুরোদস্তুর ব্যবসায়ী হিসেবে

পারিবারিক ব্যবসা আরামিট গ্রুপ, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেড দেখাশোনা করতেন। ব্যবসায়ী সংগঠন চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতিরও দায়িত্ব পালন করেন। তার বাবাও একই সংগঠনের সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন।
২০১২ সালে আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর মৃত্যুর পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজনীতিতে অভিষেক হয়। সরাসরি সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন পেয়ে ‘খালি মাঠে গোল দেন’। এরপর ২০১৪ সালে ও ২০১৮ সালে দু’বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। এরমধ্যে প্রথমবার প্রতিমন্ত্রী ও দ্বিতীয় দফায় পূর্ণমন্ত্রী ছিলেন। ২০২৪ সালে আবারও মনোনয়ন পেয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে মন্ত্রীসভায় আর জায়গা হয়নি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগেই সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান। পরে লন্ডনে তার অবস্থানের তথ্য প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে। এর আগে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে ১৪০ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং আইনে ছয়টি মামলা করেছিল দুদক। এসব মামলায় জাবেদের স্ত্রী রুকমিলা জামানসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য আসামি হিসেবে আছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভোট চুরি করতে আসলে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আসতে হবে সারজিস আলম।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এবার যে ভোট চুরি করতে আসবে, তাকে বাড়ি থেকে বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন বলে মন্তব্য করেছেন পঞ্চগড়-১ আসনের ১১ দলীয় জোটের এনসিপি দলের প্রার্থী সারজিস আলম। পঞ্চগড় উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী শেষ জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন-রক্ত দিয়ে দিবেন, জীবন দিয়ে দিবেন, একটা ভোট চুরি করতে দিবেন না। যে ভোট চুরি করার আশায় আসবে তার একমাত্র ঠিকানা হবে হাসপাতাল। তাকে বাড়ি থেকে শেষ বিদায় নিয়ে আসতে বলবেন। আমরা স্পষ্ট করে নির্বাচন কমিশনসহ সবাইকে বলতে চাই, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা বিন্দুমাত্র কোনো ধরনের নীল নকশা কেউ যদি বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করে, সর্বশেষ প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পরিণতি যেন তারা মনে রাখে। তার গলায় জুতার মালা ছিল, আপনার গলায় কোন মালা থাকবে আপনি কল্পনাও করতে পারবেন না। ১২ তারিখের লড়াই আমাদের মুক্তির লড়াই। ১২ তারিখের লড়াই ইনসাফ প্রতিষ্ঠার লড়াই। আমরা জীবন দিয়ে, রক্ত দিয়ে এ লড়াইয়ে বিজয়ী হবো।

দেশে এখন ভোট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে : আমির খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশে এখন ভোট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম-১১ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ৪২টি দল মিলে ঘোষিত ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে তাঁরা জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

তারেক রহমানের রাজনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে যারা সংহতি প্রকাশ করবে, তাদের সঙ্গে আলোচনা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দলীয়ভাবে নেওয়া হবে। সোমবার সকালে চট্টগ্রাম মহানগরের মেহেদিবাগের বাসভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় তিনি বিএনপি যদি প্রয়োজন মনে করে তাহলে ঐকমত্যের সরকার গঠনের কথা ভাববে বলে জানান। আমীর খসরু বলেন, দেশে এখন ভোট উৎসবের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর নতুন প্রজন্ম ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছে। তিনি নির্বাচিত হলে চট্টগ্রাম-১১ আসনে ১১টি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।

চট্টগ্রাম বন্দরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি দেশের উন্নয়নে বন্দরের কার্যকারিতা গুরুত্বপূর্ণ। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বন্দরের টার্ন অ্যারাউন্ড টাইম, ডেলিভারি টাইম ও পরিচালন দক্ষতা বিবেচনায় নেন। এসব সূচকে উন্নতি এনে চট্টগ্রামকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করা হবে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে চট্টগ্রামকে ‘লজিস্টিক্যাল হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ভোটের দিন শঙ্কা প্রসঙ্গে আমীর খসরু বলেন, সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়ানো হচ্ছে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানাই। নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ করার যেকোনো প্রচেষ্টা প্রতিহত করার আহ্বানও জানান তিনি।

ঐকমত্যের সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার গঠনের ক্ষেত্রে দর্শনগত মিল ও ভবিষ্যৎ কর্মসূচিতে একমত হওয়া প্রয়োজন। ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হতে পারে।হ্যাঁ-না ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার সুযোগ দেওয়া হবে না। দেশের মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।

শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গ নিয়ে নির্বাচনী সময়ে আলোচনা না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন মূলত ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপনের বিষয়। অতীতের মতো এবারও জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রাখবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসার চেষ্টা করলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ তাদের প্রত্যাখ্রান করবে এবং ব্যালটের মাধ্যমে জনগণ তাদের জবাব দেবে।

ভোট কারচুপির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পত্র পত্রিকা ও সামাজিক মাধ্যমে নানা বিষয় উঠে আসছে। তারা ব্যালট ছাপাচ্ছে, বোরকা বানাচ্ছে, এনআইডি কার্ড নিয়ে যাচ্ছে, বিকাশে টাকা পাঠানোর জন্য মোবাইল নাম্বার নিচ্ছে। এসব করে তারা যে কিছু করতে পারবে না, কারণ জনগণ এসবে বিভ্রান্ত হবে না।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর, বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইসরাফিল খসরু প্রমুখ।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থার অবসান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার চুক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে না হওয়ার ঘোষণা আসার পর চলমান লাগাতার ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন ধর্মঘট স্থগিতের সিদ্ধান্তের কথা জানান।বিদেশি কোম্পানির কাছে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট ডেকেছিল চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ