চট্টগ্রাম বন্দরে এক বছরে জাহাজ এসেছে ৪৩৯৬টি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা প্রতিকূলতার পরও বছর শেষ হওয়ার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছর বিভিন্ন সময়ে দাবি আদায়ের জন্য এনবিআর কর্মকর্তাদের আন্দোলন ও কর্মবিরতি, পরিবহন শ্রমিক ও মালিকদের কয়েক দফা ধর্মঘটে চট্টগ্রাম বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হলেও কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে। বিশেষ করে শুল্ক কর্মকর্তাদের কর্মবিরতি, পরিবহন ধর্মঘটসহ নানা প্রতিকূলতার পরও বছর শেষ হওয়ার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড গড়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বেড়েছে বন্দরে জাহাজ আসার সংখ্যাও।

বন্দরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত জাহাজ এসেছে ৪৩৯৬টি, ২০২৪ সালে বন্দরে মোট জাহাজ হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩৮৫৭টি।২০২৩ সালে এ সংখ্যা ছিল ৪১০৩; ২০২২ সালে ৪৩৬১টি, ২০২১ সালে ৪২০৯টি এবং ২০২০ সালে ৩৭২৮টি জাহাজ বন্দরে এসেছিল। অন্যদিকে ২০২৫ সালের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমদানি-রপ্তানি মিলিয়ে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৫৭৭ টিইইউএস (প্রতিটি ২০ ফুট দৈর্ঘ্যের), যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল ৩২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ টিইইউএস।তার মানে চলতি বছর শেষ হওয়ার চারদিন আগেই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আগের বছরের চেয়ে ৮৭ হাজার ৯৫০ টিইইএস কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডলিং করেছে।

বন্দরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩০ লাখ ৫০ হাজার ৭৯৩ টিইইউএস, ২০২২ সালে ৩১ লাখ ৪২ হাজার ৫০৪ টিইইউএস, ২০২১ সালে ৩২ লাখ ১৪ হাজার ৫৪৮ টিইইউএস এবং ২০২০ সালে ২৮ লাখ ৩৯ হাজার ৯৭৭ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছিল। অন্যদিকে চলতি বছরের ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্গো (খোলা পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে ১৩ কোটি ৬৩ লাখ ২৬ হাজার ৮৬ টন। আগের বছরে এই পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৩৯ লাখ ৮৩ হাজার ১৪ টন। অর্থ্যাৎ, চলতি পঞ্জিকাবর্ষে ১ কোটি ২৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭২ ক টন বেশি পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বন্দর সূত্র জানা গেছে, ২০২৩ সালে ১২ কোটি ২ লাখ ৩০ হাজার ২৯৩ টন, ২০২২ সালে ১১ কোটি ৯৬ লাখ ৬৫ হাজার ৬৮২ টন, ২০২১ সালে ১১ কোটি ৬৬ লাখ ১৯ হাজার ১৫৮ টন এবং ২০২০ সালে ১০ কোটি ৩২ লাখ ৯ হাজার ৭২৪ টন খোলা পণ্য হ্যান্ডলিং হয়েছে।

বন্দর কর্মকর্তারা বলছেন, বন্দরের ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, বন্দর ব্যবহারকারীদের সহযোগিতার কারণে এ অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছর শেষ হতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। তার আগেই কন্টেইনার ও কার্গো হ্যান্ডলিংয়ে এ অগ্রগতি বন্দরের সক্ষমতা বাড়ার দিকটাই নির্দেশ করে। আগামীতে আরও বেশি হ্যান্ডলিংয়ের জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ বলেন, এক পঞ্জিকাবর্ষে আমরা আগেরবারের চেয়ে বেশি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছি। বছর শেষ হতে বেশ কয়েকদিন বাকি রয়েছে। বছর শেষে এ পরিমাণ আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, চলতি বছরে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং বন্দরের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে রেকর্ড পরিমাণে কন্টেইনার এবং কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে।জাহাজের অপেক্ষমান সময় প্রায় শূন্যে নামিয়ে আনা গেছে। এর ফলে জাহাজ সাথে সাথে বার্থিং পাচ্ছে এবং দ্রুত পণ্য খালাস সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, “ই-গেট পাস, কন্টেইনার ট্র্যাকিং এবং স্বয়ংক্রিয় পেমেন্ট সিস্টেমের ফলে স্বচ্ছতা এসেছে এবং ভোগন্তিও কমেছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রথমবারের মতো মার্কি কোস্ট গার্ডের আইএসপিএস অডিটে প্রথমবারের মতো ‘জিরো অবজারভেশন’ পেয়ে নিরাপদ ও আর্ন্তজাতিক মানসম্পন্ন বন্দরে পরিণত হয়েছে।

আমিন আহমেদ আবদুল্লাহ আরো বলেন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সময়োপযোগী নীতিমালা বিশ্ব সামুদ্রিক বাণিজ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এ অর্জন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বন্দরের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কিশোর অপরাধের রাশ টানতে হবে ——-

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

‘কিশোর’ শব্দটি কানে আসলেই একটু আদর, ভালোবাসা-ভালো লাগা, কিছুটা আবেগ কিংবা হৃদ্যতা মনে ভেসে ওঠে। সন্দেহ নেই, বয়সটাও আদুরে। কোমলমতি চেহারাটাকে ভালোবাসতে সবারই মন চায়। কঠোর মানসিকতার মানুষও কিশোর-তরুণ বয়সীদের ভালোবাসে। বয়সটাই এমন।

কিন্তু এখন? কিছু কিছু কিশোরের অসংলগ্ন আচরণের কারণে মানুষের স্মৃতিপটে এখন সে ধরনের সহানুভূতি কমই জেগে উঠছে। এর সংগত কারণও আছে। এতসব কারণ এখন সময়, অবস্থা, প্রেক্ষাপট ও পরিস্থিতি—সামগ্রিক দৃশ্যপট বিবেচনায় কিশোর অপরাধের বিষয়টি এখন কঠিন বাস্তবতা। প্রতিনিয়ত এ বাস্তবতা কঠিন থেকে কঠিনতর হচ্ছে। আগামীতে এ পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে কিনা কিংবা আদৌ সম্ভব কিনা তাও বলা যাচ্ছে না।

দুই। নিকট অতীতেও সন্ধ্যার পর কিশোর বয়সী কেউ বাসার বাইরে থাকত না। বলা যায়, পরিবার থেকে এমন অনুমতি ছিল না। অনেকটা নিষিদ্ধই ছিল। সন্ধ্যার পর বাইরে থাকাটা কোনো মতেই অনুমতি ছিল না। কেউ কখনো কোনো কারণে যদি সন্ধ্যার পর বাইরে থেকে যেত, তখন তার ওপর অলিখিত ‘১৪৪ ধারা’ জারি হয়ে যেত। পুরো বুক ধুকধুক নিয়েই তাকে ঘরে ফিরতে হতো। প্রতিনিয়ত শঙ্কায়ই থাকতে হতো। মনে মনে ভাবত—‘জানি না আজ কী হবে। কোন ঝড়ো হাওয়া বইবে আমার ওপর।’ এমন কঠোর ও কঠিন মনোভাব নিয়ে বাসায় ফিরতে হতো। তদুপরি বাসায় ফিরেই কঠোর জবাবদিহিতার মুখোমুখি হতে হতো। রীতিমতো আদালতের জবানবন্দি দেওয়া বা জেরার মতোই অবস্থা। এমন পরিস্থিতিতে কখনো বেত্রাঘাত, কখনো হুমকি-ধামকিসহ নানা শাস্তির সম্মুখীন হতে হতো।

কিন্তু এখন? এখন তো প্রায়ই সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থা। আগের এসব দৃশ্য, পরিস্থিতি কিংবা শাস্তির মুখোমুখি হওয়ার মতো কোনো অবস্থাই এখন আর অবশিষ্ট আছে কিনা সন্দেহ। ফলে পরিবার ও সমাজে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, সন্ধ্যার পর একজন কিশোর বা শিক্ষার্থীর কাজ কী? সন্ধ্যার পর তো ক্লাস বা কোচিং থাকার কথা নয়। তাহলে কেন একজন কিশোর বা শিক্ষার্থী সন্ধ্যার পর বাসার বাইরে থাকবে? অভিভাবকই বা কেন তাদের সন্তানদের সন্ধ্যার পর বাইরে থাকার অনুমতি দেবেন? এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন এবং সতর্ক হওয়া জরুরি।

প্রতিদিন সন্ধ্যার পর চট্টগ্রাম শহরের জামাল খান মোড়, কাজীর দেউড়ি স্টেডিয়াম এলাকা, চেরাগি পাহাড় মোড়, জিইসি মোড়, বিবিরহাট
বশর মার্কেট,গ্রীন ভিউ, সুন্নিয়া মাদ্রাসার মাঠ সংলগ্ন” রেললাইনের উত্তর- দক্ষিণ, এশিয়া ফ্যান ফ্যাক্টরি পূর্ব পাশে, মুরাদ পুর, চিটাগাং শপিং কমপ্লেক্সের পূর্ব পাশের সড়ক এবং দক্ষিণ পাশের সড়ক, ষোল শহর,
দুই নাম্বার গেট বিপ্লব উদ্যান ও এর আশেপাশের এলাকা সহ- বিভিন্ন অভিজাত বিপণিবিতানের চত্বরে কিশোর-তরুণদের সরব উপস্থিতি অনেক প্রশ্নেরই উদ্রেক করে। হয়তো কোনো সচেতন অভিভাবক চোখ-কান খোলা রেখে এসব এলাকায় একটু সময় ব্যয় করলে বাস্তব ও কঠিন অবস্থা অবলোকন করার সুযোগ হবে। তবে এমনটি মোটেও নয় যে, এসব স্থানে সব কিশোর-তরুণের উপস্থিতি অপরাধের সঙ্গে জড়িত। অতএব এখনো সময় আছে সতর্ক, সচেতন, কঠোর ও সাবধান হওয়ার।

তিন। কিশোর-তরুণরা অপরাধে জড়াচ্ছে কেন? বিষয়টি আসলেই একটি গবেষণার। তবে এর অনেক কারণ থাকতে পারে। কিন্তু সর্বসাকুল্যে কিছু উল্লেখযোগ্য কারণ বলা যায়। এর মধ্যে আছে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তন, নৈতিক মূল্যবোধের অবক্ষয়, পারিবারিক বন্ধনের ঘাটতি, সমকালীন প্রেক্ষাপটে পারিবারিক অনুশাসন কমে যাওয়া, বন্ধু নির্বাচনে অপরিণামদর্শিতা, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মানবোধ কমে যাওয়া, উন্নত প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, প্রযুক্তির অপব্যবহার, বিদেশি সংস্কৃতির প্রতি আকৃষ্টতা ও অনুকরণ, সুষ্ঠু ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা না হওয়া, ক্রমাগত হারে খেলার মাঠ কমে যাওয়া, সামাজিকভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন না থাকা, প্রতিনিয়ত সাইবার জগতে ডুবে থাকা এবং সেখান থেকে যা শিখছে তা প্রয়োগ করতে গিয়ে বিপথগামী হওয়া।

তাছাড়া ভিন্ন একটি চিত্রও আছে। অনেক পরিবারে দেখা যায় বাবা-মা দুজনই চাকরিজীবী। ফলে সন্তানের প্রতি তাদের সচেতনতা থাকার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা হচ্ছে না। এতে করে সন্তানরা সহজেই বিপথগামী হয়ে উঠছে।

তবে একটি বিষয় খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ, সেটি হলো পুঁজিবাদী অর্থব্যবস্থার মাধ্যমে প্রচুর টাকার মালিক হচ্ছে অনেকে। ফলে এসব পরিবারের সন্তানরা ছোটবেলা থেকেই অর্থের প্রতি প্রলুব্ধ হচ্ছে। ছোটবেলা থেকেই সহজে তাদের হাতে চলে আসছে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি অর্থ। সেই অর্থ কেউ কেউ খরচ করছে নানা অপকর্মে। মিশছে অপরাধচক্রের সঙ্গে।

চার। কিশোর অপরাধ প্রবণতার নতুন সংস্করণ হলো ‘কিশোর গ্যাং’। সাধারণত কিশোর গ্যাং বলতে বোঝায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গড়ে ওঠা কয়েকজনের একটি গ্রুপ বা অভিন্ন কোনো স্বার্থকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা দল। মূলত স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়েই গড়ে উঠছে এ ধরনের গ্যাং বা গ্রুপ। স্কুল-কলেজের কিছু ছাত্র আড্ডা দিতে দিতে গড়ে ওঠে ছোট ছোট গ্রুপ। একসঙ্গে ঘোরাঘুরি, চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া, খেলাধুলার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় পরস্পর বন্ধুত্ব। পরে ক্ষমতা, সিনিয়র-জুনিয়র, আধিপত্য, নেতৃত্ব নিয়ে তৈরি হয় দ্বন্দ্ব। বন্ধুত্বের রূপ নেয় হিংস্র ও সহিংসতায়। ঘটায় ছোটখাটো সন্ত্রাস, ছিনতাইয়ের ঘটনা। এই কিশোররা ড্রাগ, খুন, ইভটিজিং, ছিনতাই, মাদকসেবন, চুরি এমনকি ধর্ষণের মতো ভয়ংকর অপরাধেও জড়িয়ে পড়ে। বলা যায় যে আমাদের দেশে প্রথম, ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানীর উত্তরায় কিশোর আদনান হত্যার ঘটনার মধ্য দিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিষয়টি প্রকাশ পায়। এরপর থেকে শুরু হয় কিশোর গ্যাংয়ের নানা অপকর্ম।

পাঁচ। কিশোর অপরাধের কারণে পরিবার ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হচ্ছে। মা-বাবা প্রতিনিয়তই চিন্তিত থাকেন সন্তানদের নিয়ে। কখন কোন দুঃসংবাদ কানে বাজে। একজন বিপথগামী কিশোরের জন্য একটি পরিবার যারপরনাই শঙ্কিত থাকে। অনেক ক্ষেত্রে এমন পরিস্থিতি একটি পরিবারের জন্য হয়ে ওঠে চরম অভিশাপ। কিন্তু এমন আতঙ্কিত সময় পার আর কত?

ঘটনা তো ঘটছে বা ঘটবে একদিন। সেই একটি ঘটনাই অনেক কিছু এলোমেলো করে দেওয়ার মতো। প্রশ্ন উঠতে পারে, আজকের সময় কাটানোর উপায় না থাকলে কিশোর-তরুণদের সময় কাটানোর দোষের কী আছে? এমন প্রশ্নও আসতে পারে। কিন্তু প্রশ্নটা সময় কাটানোর নয়, গুরুত্বপূর্ণ এবং মুখ্য বিষয় হলো, সময়টা কখন, কোথায়, কার সঙ্গে এবং কী করে কাটানো হচ্ছে, সেটাই বিবেচ্য।

আজকের একটি সময় কাটানোর বিষয়টাও একজন কিশোরের আগামী জীবনের অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িত। অতএব এখনো সময় আছে সতর্ক, সচেতন, কঠোর ও সাবধান হওয়ার।

এর জন্য প্রয়োজন পরিবারের কর্তব্যবোধ, অভিভাবক, সমাজ এবং দায়িত্বশীলদের সতর্ক ও সচেতনতা। কিশোর-তরুণদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ। কিশোরদের সামাজিক-পরিবারিক সহযোগিতা প্রদান। সুস্থ-সুন্দর সংস্কৃতিচর্চার সুযোগ দেওয়া। খেলাধুলা, মননশীল ও শৈল্পিক কর্মকাণ্ডে আগ্রহী করে তোলা। পাঠ্যবই ও বাহ্যিক জ্ঞান আহরণের সুযোগ করা। নৈতিকতা ও মানবিক জ্ঞান আহরণে তৎপর হওয়া। তবেই কিশোর-তরুণ হবে বিপদমুক্ত। সমাজ হবে জ্ঞাননির্ভর। দেশ পাবে মেধাবী সন্তান।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মাঠে থাকবে এসআরবি-১৩

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন ঘিরে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)।আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিতব্য উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বিশেষায়িত এ বাহিনী।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বেলা ১২টায় ঠাকুরগাঁও জেলা স্কুল বড় মাঠে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানানো হয়। ব্রিফিংয়ে এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম, পিএসসি নির্বাচনী নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।এসআরবি-১৩ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করবে তারা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্সের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও আশপাশের এলাকায় থাকবে বিশেষ নজরদারি।নির্বাচন ঘিরে নাশকতা, সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা কিংবা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা পরিস্থিতি চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর জন্য সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
উল্লেখ্য, আগামী ২৯ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও-১ (সদর) আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ