আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ডে নিউমোনিয়া-ডায়রিয়া আক্রান্ত শিশুই বেশি।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শীতকালে সাধারণত যেসব অসুখ শরীরে দেখা দেয়, তার মধ্যে অন্যতম নিউমোনিয়া। সঠিক সুরক্ষার অভাবে শিশু থেকে বয়স্ক সকলে আক্রান্ত হতে পারে নিউমোনিয়ায়। মূলত ফুসফুসের সংক্রমণের কারণে এই রোগ হয়। ফুসফুসে পানি জমেও হতে পারে নিউমোনিয়া। অল্প থেকে ক্রমশ গুরুতর আকার ধারণ করে এই রোগ। ঠান্ডা লেগে বুকে ‘শ্লেষ্মা’ জমলে এই অসুখ ছড়ায়।

তবে ঠান্ডা লাগলেই যে সবার নিউমোনিয়া হবে, এমনও নয়। বরং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তারা বেশি আক্রান্ত হন। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আসাদের বর্তমানে নিউমোনিয়ার তুলনায় ডায়রিয়ার রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।
চমেক হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, সর্দি-কাশি এবং ডায়রিয়ার উপসর্গে ভুগছে অনেকে।

শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামের হাসপাতালগুলোতে এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের। শুধু হাসপাতাল নয়, চিকিৎসকদের ব্যক্তিগত চেম্বারেও ঠান্ডাজনিত রোগী বেড়েছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঢোকে দুই বছরের এক শিশু। শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, বার বার দিচ্ছে কাশি। কিছুক্ষণ পর দেখা যায়- একটি শয্যায় শিশুটিকে রেখে নেবুলাইজার দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। পাশের বেডগুলোতেও একই দৃশ্য। কেউ জ্বরে কাঁপছে, কেউ দুর্বল হয়ে পড়েছে ডায়রিয়ায়।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের বৃহৎ চমেক হাসপাতাল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শীতকালীন রোগে আক্রান্ত শিশু রোগীর চাপ অন্য সময়ের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে। চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের দুটি ইউনিটে ১৮১ জন শিশু ভর্তি ছিল। নতুন ভর্তি হয়েছে ৫২ জন। ভর্তি রোগীদের মধ্যে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাই বেশি।

চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মুসলিম উদ্দিন সবুজ বলেন, তীব্র শীতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ায় শিশু ও বয়স্করা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে বেশি আক্রান্ত হয় বলে তিনি জানান। চমেক হাসপাতালের শিশুস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা জানান, সাধারণত শীতের শুরু ও শীতের শেষের দিকে নিউমোনিয়ার প্রকোপ বেশি থাকে। বর্তমানে নিউমোনিয়ার তুলনায় ডায়রিয়ার রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।

চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি শীতে ঠান্ডাজনিত সর্দি, কাশি, জ্বর, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছে। বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে অধিকাংশই শিশু। বাচ্চারা শ্বাসতন্ত্রের নানা ধরনের সংক্রমণ, নিউমোনিয়া ও এজমায় বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।

চমেক হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর- অক্টোবর মাসে শূন্য থেকে পাঁচ বছর বয়সী দেড় হাজারের বেশি শিশু হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩ শতাংশ নিউমোনিয়া ও ৬ শতাংশ ডায়রিয়া রোগী ছিল। ডিসেম্বরে নিউমোনিয়ার রোগী কিছুটা কমলেও বর্তমানে শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ার রোগীর সংখ্যা বেশি।

চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের পেডিয়াট্রিক ক্রিটিক্যাল কেয়ারের সহকারী অধ্যাপক ডা. ফাহিম হাসান রেজা বলেন, বিগত কয়েক সপ্তাহ ধরে বহির্বিভাগে শিশু রোগীর সংখ্যা বেশি। বিশেষ করে সর্দি-কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত শিশুরা বেশি আসছে। ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি। তিনি বলেন, শীতে শিশুদের অসুখ হওয়া কমন হলেও তা কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।

চমেক হাসপাতালের রেসপিরেটরি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. মুহাম্মদ দিদারুল আলম বলেন, শীতকালে কমন কোল্ড, ব্রংকিওলাইটিস, ভাইরাল ফ্লু ও নিউমোনিয়ার রোগী বাড়ে। সম্প্রতি সময়ে বিশেষ করে এজমা ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ও চিকিৎসকের চেম্বারে রোগীর ভিড় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ডায়াবেটিস, কিডনি ও একাধিক রোগে আক্রান্ত প্রবীণদের জটিলতা বেশি দেখা যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায় এবং ধূলিকণার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ সহজে ছড়ায়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শীতকালীন রোগ প্রতিরোধে শিশুদের গরম কাপড় পরানো, মাথা ঢেকে রাখা, কুসুম গরম পানি পান করানো এবং অহেতুক বাইরে না নেওয়ার বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। ঠান্ডা লাগলে বা কাশি হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এন্টিবায়োটিক সেবন করানো উচিত নয়। পাশাপাশি যাদের শ্বাসকষ্ট বা এজমার সমস্যা রয়েছে, বিশেষ করে ২ বছরের বেশি বয়সী শিশু ও ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের ইনফ্লুয়েঞ্জা ও নিউমোনিয়া ভ্যাকসিন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যালী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যাল

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: “একসাথে হাত ধরি, গ্লুকোমা মুক্ত বিশ্ব গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন করছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার পাহাড়তলীস্থ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় র‌্যালীর উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম। তিনি বলেন, গ্লুুকোমা চোখের নীরব ঘাতক রোগ। বিরাট জনগোষ্ঠী গ্লুুকোমা রোগের নামই শোনেননি। গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল রোগ, ধীরে ধীরে দৃষ্টি কমে যায়। এমনকি এক সময় রোগী অন্ধত্ববরণ করতে বাধ্য হয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই গ্লুকোমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, প্রফেসর ডা. জেসমিন আহমেদ, কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন, ডা. কাজী তাহমিনা আক্তার. ডা. ফারজানা আক্তার চৌধুরী, ডা. এ এস এম মাহাবুবুল আলম, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া,ডা. সুইটি বড়ুয়া, ডা. আমিনুর রহমান, ডা. শেলী বিশ্বাস, ডা. মো. ইফতেখার শামীম, ডা. মৌসুমী চৌধুরী প্রমূখ।

এর আগে সকাল ৮টায় ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে চোখের গ্লুকোমা নির্ণয় ও প্রতিরোধের বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম, মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন প্রমূখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লুকোমা বিভাগের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর। সেমিনারে বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ মারাত্মক দৃষ্টিনাশী রোগ গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়। শতকরা ৫০ জন লোক জানেন না তার গ্লুকোমা রোগ আছে। বিশেষ করে উপসর্গ থাকে না বলে বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগীই বুঝতে পারেন না এর উপস্থিতি। তুষের আগুনের মতো ভেতরে ভেতরে নষ্ট করে দেয় স্নায়ুতন্ত্র। বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগী আসেন অন্ধত্বের কাছাকাছি সময়ে। তখন বেশি কিছু করার থাকে না। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্লুকোমা শনাক্ত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নীরবে চোখকে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায় বলে গ্লুকোমাকে নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ উল্লেখ করে সেমিনারে আরো বলা হয়, গ্লুকোমা রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মতো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে গ্লুকোমা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্লুুুকোমা রোগ সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া সাপ্তাহব্যাপী কর্মসূচীতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের গ্লুুকোমা রোগ সম্পর্কে অবগত করছেন।

ফেব্রুয়ারি ৪৪৮ দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত—যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আজ ০৬ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার :বিদায়ী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের গণমাধ্যমে ৪৪৮ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৪৭ জন নিহত, ১১৮১ জন আহতের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এই সময়ে রেলপথে ৩৪ টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত, ১১ জন আহত, নৌ পথে ০৬ টি দুর্ঘটনায় নিহত ০৪ জন ও আহত ০৫ জন হয়েছে। সড়ক, রেল ও নৌ-পথে সর্বমোট ৪৮৮ টি দুর্ঘটনায় ৪৭৭ জন নিহত এবং ১১৯৭ জন আহত হয়েছে। এই সময়ে ১৫১ টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৬৭ জন নিহত, ১৩৭ জন আহত হয়েছে। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৩.৭০ শতাংশ, নিহতের ৩৭.৩৬ শতাংশ ও আহতের ১১.৬০ শতাংশ। এই মাসে সবচেয়ে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে ঢাকা বিভাগে ১১৩ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১১৫ জন নিহত ও ৩৮৭ জন আহত হয়েছে, সবচেয়ে কম সড়ক দুর্ঘটনা সংগঠিত হয়েছে বরিশাল বিভাগে ২২ টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ৮৫ জন আহত হয়েছে। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল গণমাধ্যম পর্যবেক্ষণে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংগঠনের মহাসচিব মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই প্রতিবেদন তুলে ধরে সংগঠনটি। দেশের জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন সংবাদপত্রে প্রকাশিত সড়ক, রেল ও নৌ পথের দুর্ঘটনার সংবাদ মনিটরিং করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

সড়কে দুর্ঘটনায় আক্রান্ত ব্যক্তির মধ্যে ৫৬ জন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, ৯৩ জন চালক, ৭৬ জন পথচারী, ২০ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৮ জন শিক্ষার্থী, ০৪ জন শিক্ষক, ৬৩ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ০২ জন সাংবাদিক, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং ০৬ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। এদের মধ্যে নিহত হয়েছে- ০৩ জন পুলিশ সদস্য, ০৩ জন সেনা সদস্য, ০১ জন ফায়ার সার্ভিস সদস্য, ০২ জন আনসার সদস্য, ০২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা, ৮৫ জন বিভিন্ন পরিবহনের চালক, ৭২ জন পথচারী, ৪৩ জন নারী, ৪১ জন শিশু, ৪৭ জন শিক্ষার্থী, ১২ জন পরিবহন শ্রমিক, ০৪ জন শিক্ষক ও ০৫ জন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী।

এই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় সংগঠিত ৬৮৭ টি যানবাহনের পরিচয় মিলেছে। এতে দেখা যায়, ২৬.৩৪ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২৩.৭২ শতাংশ ট্রাক-পিকাপ-কাভার্ডভ্যান ও লরি, ১৫.২৮ শতাংশ বাস, ১৪.২৬ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিক্সা ও ইজিবাইক, ৪.৮০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিক্সা, ৮.৮৭ শতাংশ নছিমন-করিমন-মাহিন্দ্রা-ট্রাক্টর ও লেগুনা, ৬.৪৭ শতাংশ কার-জিপ-মাইক্রোবাস সড়কে দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে।

সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪১.৭৪ শতাংশ গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা, ৩৩.২৫ শতাংশ মুখোমুখি সংঘর্ষ, ১৭.১৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে, ৬.৪৭ শতাংশ বিবিধ কারনে, ০.২২ চাকায় ওড়না পেছিয়ে এবং ১.১১ শতাংশ ট্রেন-যানবাহনের সংঘর্ষে ঘটে।

দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই মাসে সংগঠিত মোট দুর্ঘটনার ৪২.৬৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ২৫.৪৪ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে, ২৭ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। এছাড়াও সারা দেশে সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩.৩৪ শতাংশ ঢাকা মহানগরীতে, ০.৪৪ শতাংশ চট্টগ্রাম মহানগরীতে ও ১.১১ শতাংশ রেলক্রসিংয়ে সংগঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পর্যবেক্ষণ মতে, ফেব্রুয়ারি মাসে সড়ক দুর্ঘটনার উল্লেখযোগ্য কারণসমূহ :
১. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় অনভিজ্ঞতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, নীতি ও কৌশলগত দুর্বলতা।
২. সারাদেশে নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিক্সা, মোটরসাইকেল, সিএনজি অটোরিক্সা ও নসিমন-করিমন সড়ক-মহাসড়কে অবাধে চলাচল।
৩. জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন বা রোড মার্কিং, সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা।
৪. সড়কে মিডিয়ান বা রোড ডিভাইডার না থাকা, সড়কে গাছপালায় অন্ধবাঁেকর সৃষ্টি।
৫. মহাসড়কের নির্মাণ ক্রটি, যানবাহনের ক্রটি, ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা।
৬. উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাদাঁবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন।
৭. অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন।
৮. বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিরামহীন ও বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো।

দুর্ঘটনার প্রতিরোধে সুপারিশসমূহ :
১. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় উন্নত বিশ্বের নীতি ও কৌশল অনুসরন করা।
২. দক্ষ চালক তৈরির জন্য চালকদের ইনক্লুসিভ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা।
৩. সিসি ক্যামরা পদ্ধতিতে ট্রাফিক আইনের প্রসিকিউশন পদ্ধতি চালু করা।
৪. গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা।
৫. সড়কে চাদাঁবাজি বন্ধ করা, চালকের বেতন ও কর্মঘন্টা সুনিশ্চিত করা।
৬. মহাসড়কে ফুটপাত ও পথচারী পারাপারের ব্যবস্থা রাখা, রোড সাইন, রোড মার্কিং স্থাপন করা।
৭. সড়ক পরিবহন আইন উন্নত বিশ্বের আদলে ডিজিটাল প্রযুক্তিতে প্রয়োগ করা।
৮. সারাদেশে উন্নতমানের আধুনিক বাস নেটওর্য়াক গড়ে তোলা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
৯. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।
১০. মেয়াদোর্ত্তীন গণপরিবহন ও দীর্ঘদিন যাবত ফিটনেসহীন যানবাহন স্ক্যাপ করার উদ্যোগ নেওয়া।
১১. মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত রিক্সা আমদানী ও নিবন্ধন নিয়ন্ত্রণ করা ।
১২. বিআরটিএ ও ট্রাফিক বিভাগের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা।
১৩. রাজধানীসহ দেশের সকল নগরীতে করিডোর ভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু করা।
১৪. সড়ক পরিবহন সেক্টর পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী দক্ষ ও অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ লোকজনদের সমন্ময়ে একটি বিশেষজ্ঞ টাস্কফোর্স গঠন করা।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ