আজঃ শনিবার ১৪ মার্চ, ২০২৬

মাদকের বিরুদ্ধে সংবাদ করায় সাংবাদিক নুরুল আজম আটক।

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে মাদকের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক নুরুল আজমকে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট মামলায় ফাঁসিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এমন অভিযোগ উঠেছে খুলশী থানার পুলিশের বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দা, সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, মাদক কারবারিদের সঙ্গে আর্থিক ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট যোগসাজশের কারণেই একজন পরিচ্ছন্ন ইমেজের সংবাদকর্মীকে দমন করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, একটি পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি এবং একটি পুরোনো মামলায় সন্দিগ্ধ দেখিয়ে সাংবাদিক নুরুল আজমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের দাবি, ৫ আগস্টের পুলিশ লাইন ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; তবুও সেই মামলাকেই ভিত্তি করে তাকে আটক দেখানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ৯ তারিখ ভোর ছয়টার দিকে খুলশী থানার এসআই আনোয়ার পুলিশ সদস্যদের নিয়ে নুরুল আজমের বাসায় উপস্থিত হন। ভিডিওতে তাকে ফোনে বিএনপির একজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। এরপর ‘ওসি সাহেব কথা বলবেন’এই অজুহাতে নুরুল আজমকে ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে বলেন তিনি। প্রায় ১৭ মিনিটের ওই ভিডিওতে বারবার বিনা ওয়ারেন্টে বাসা থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা, বক্তব্যে অসংগতি এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি স্পষ্ট। একাধিকবার এসআই আনোয়ারকে নুরুল আজমের বেডরুমে ঢুকতে দেখা যায়। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন তার স্ত্রী, কোলে তিন বছরের শিশু কন্যা ও বৃদ্ধা মা। পরিবারের অনুরোধ উপেক্ষা করে তাকে থানায় নেওয়ার ঘটনায় শিশুটি আতঙ্কিত হয়ে পড়ার দৃশ্যও ভিডিওতে ধরা পড়ে। ‘ওসি ডাকছে’ উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন স্থানীয়দের প্রশ্ন—ভোরবেলায় এভাবে থানার ওসি কেন একজন সাংবাদিককে ডাকবেন? সচেতন নাগরিকদের মতে, আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এ ধরনের তৎপরতা সন্দেহজনক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা এসআই আনোয়ারের আচরণকে ‘অপেশাদার’ ও ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন’ বলে মন্তব্য করেন। পুরোনো স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রায় ১২ বছর আগে একটি মাদকবিরোধী মানববন্ধনে রাজনৈতিক ব্যানারে উপস্থিত থাকার ঘটনাকে পুঁজি করে নুরুল আজমকে আটক রাখা হয়। অথচ পরবর্তী সময়ে তিনিই নিয়মিতভাবে খুলশী এলাকায় মাদক কারবার, অবৈধ হোটেল ও রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করে আসছিলেন। এসব সংবাদে ক্ষুব্ধ মাদক কারবারিরা পুলিশের একটি অংশের সঙ্গে আঁতাত করে তাকে ‘টার্গেট’ করেছে বলে অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খুলশী থানায় প্রতি মাসে মাদক কারবারিদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়। নুরুল আজম এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ায় তাকে দমন করতেই এই মামলা। সূত্র মতে, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তনকারী একটি গোষ্ঠীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তির মাধ্যমে এসআই আনোয়ার গ্রেপ্তারের উদ্যোগ নেন। পরবর্তীতে খুলশী থানার ওসি জাহেদুল ইসলামও মামলার প্রক্রিয়ায় যুক্ত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওসির বিরুদ্ধে অবৈধ কার্যক্রমে জড়িত হোটেল-রেস্টুরেন্ট থেকে মাসোহারা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনৈতিক দলের নাম ব্যবহার করে একজন সাংবাদিককে হয়রানি করা এবং ভোরে তার বাসায় পুলিশ পাঠানো ভয়ভীতি প্রদর্শনের শামিল। তাদের মতে, “রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়।” সাংবাদিক নেতারা একে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত বলে উল্লেখ করে অবিলম্বে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাহার, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নুরুল আজমের বিরুদ্ধে আনা মামলাটি ‘হালকা মাত্রার’ এবং রাজনৈতিক একটি দলের চাপ থাকায় তাকে মামলার আওতায় আনা হয়েছে। তবে সাংবাদিক হিসেবে তার সম্মান বিবেচনায় গুরুতর ধারা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করা হয়।

এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সাংবাদিক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, রাজনৈতিক চাপের কথা স্বীকার করাই প্রমাণ করে মামলাটি স্বাভাবিক আইনগত প্রক্রিয়ায় হয়নি। রাজনৈতিক চাপের ভিত্তিতে মামলা হলে তা পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও পেশাদারত্ব নিয়েই গুরুতর প্রশ্ন তোলে। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, “আইনের রক্ষকরা যখন নিজেরাই আইন ভাঙেন, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। আজ একজন সাংবাদিক, কাল যে কেউ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চেক জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ
আত্মসাতের চেষ্টায় একজনের কারাদণ্ড
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রামে স্বাক্ষর নকল ও চেক জালিয়াতির মাধ্যমে ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের চেষ্টার দায়ে নজরুল ইসলাম একজনকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন একটি আদালত। বৃহস্পতিবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খানের আদালত এই রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত মো. নজরুল ইসলাম পটিয়া উপজেলার ভাটিখাইন ইউনিয়নের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে।রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের বিশেষ পিপি মোকাররম হোসাইন। তিনি বলেন, রায়ের সময় আসামি পলাতক ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, নজরুল ইসলাম ও মো. শাহাজাহান ডবলমুরিং এলাকার মেসার্স নবী এন্ড সন্সের কর্মচারী ছিলেন। নজরুল ইসলাম ছিলেন ওই প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার। ২০০৭ সালের ৩ জুন দুপুর ২টার দিকে নগরীর সদরঘাট এলাকার স্ট্যান্ড রোডের জনতা ব্যাংকের শাখা থেকে তারা দুই কর্মচারী মিলে প্রতিষ্ঠানের মালিকের বড় ভাই মো. সেলিমের স্বাক্ষর জাল করে ৬টি চেক জনতা ব্যাংকে জমা দেয় টাকা উত্তোলনের জন্য। পরে ব্যাংক থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে বিষয়টি বুঝতে পেরে তারা টাকা দিতে নিষেধ করেন। পরদিন অর্থাৎ ওই বছরের ৫ জুন চেকগুলোর মাধ্যমে টাকা প্রদান না করার জন্য ব্যাংক বরাবর লিখিত আবেদন করেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক আবু সাদাত মোহাম্মদ শামীম। পরে ওই বছরের ১৮ জুলাই তিনি এ ঘটনায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় পুলিশ ২ নম্বর আসামির সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় শাহাজাহানকে চার্জশিট থেকে বাদ দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন। ওই মামলায় আজ আসামি নজরুল ইসলামকে ৯ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

সৌদি আরবের উপহার চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরবের উপহার
চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ
ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: সৌদি আরব থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া খেজুর চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় ৫০০ কার্টন বরাদ্দ দয়ো হয়েছে। এদিকে খেজুর বরাদ্দ নিয়ে সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সারাদেশে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার বক্তব্যের পর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার খেজুর বরাদ্দের তালিকা সামনে আসতে শুরু করে এবং কোথায় কত কার্টন খেজুর গেছে তা নিয়ে জনমনে কৌতূহল তৈরি হয়। একই সঙ্গে বরাদ্দের পরিমাণ, বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এসব খেজুর পৌঁছাচ্ছে কি না, এসব বিষয় নিয়েও আলোচনা চলছে।
চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন মো. ছাইফুল্লাহ মজুমদার জানান, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলায় মোট ৫০০ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ফটিকছড়িতে ৩৯ কার্টন, আনোয়ারায় ২৫ কার্টন, হাটহাজারীতে ৩৫ কার্টন, পটিয়ায় ৩৭ কার্টন এবং সীতাকুণ্ডে ২৫ কার্টন খেজুর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সন্দ্বীপে ৩৭ কার্টন, মিরসরাইয়ে ৩৭ কার্টন, রাঙ্গুনিয়ায় ৩৫ কার্টন, বোয়ালখালীতে ২৫ কার্টন, রাউজানে ৩৫ কার্টন এবং চন্দনাইশে ২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ী বাঁশখালীতে ৩৭ কার্টন, লোহাগাড়ায় ২৫ কার্টন, সাতকানিয়ায় ৩৭ কার্টন, কর্ণফুলীতে ১৫ কার্টন এবং চট্টগ্রাম মহানগরে ২৫ কার্টন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, সৌদি আরবের বাদশাহ প্রতিষ্ঠিত ‘কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টার’ থেকে উপহার হিসেবে পাওয়া ১২ হাজার ২৫০ কার্টন খেজুর দেশের বিভিন্ন জেলায় বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর গত ৫ মার্চ সংশোধিত এক আদেশের মাধ্যমে এই বরাদ্দ চূড়ান্ত করে জেলা প্রশাসকদের অনুকূলে পাঠিয়েছে। জনসংখ্যার অনুপাত ও ইউনিয়নের সংখ্যা বিবেচনা করে এই খেজুর বণ্টন করা হয়েছে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ