আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল মধু জব্দ করে জন সন্মুখে ধব্বংস।

প্রভাষক গিয়াস উদ্দিন সরদার, বিশেষ প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় কেমিক্যাল মিশ্রিত ভেজাল মধু জব্দ করে তা জন সন্মুখে ধব্বংস করেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি)ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান। বিখ্যাত চলনবিল অঞ্চলের পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার প্রত্যান্ত এলাকা খানমরিচ ইউপি’র দুধবাড়িয়া গ্রামে ঘটনাটি ঘটেছে। ঘটনা সূত্রে জানা গেছে,চিনি, ফিটকিরি ও কেমিক্যাল মিশিয়ে নকল মধু তৈরি করে দীর্ঘদিন ধরে বাজারজাত করে আসছিলেন মোঃ রমজান আলী নামে এক অসাধু মধু ব্যবসায়ী।
মঙ্গলবার(১৩জানুয়ারী)ভোর ৫টার দিকে এলাকাবাসী সংবাদ পেয়ে ৪১ টি ঢোপে (৫০-৫৫কেজি ধারণ ক্ষমতা) প্রায় ৫১ মন নকল মধু সহ ওই ব্যবসায়ীর গাড়ি আটকিয়ে রাখে।

সংবাদ পেয়ে ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) মোঃ মিজানুর রহমান ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ওই মধু জব্দ করেন।এ সময় প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে চিহৃিত ভেজাল অসাধু মধু ব্যবসায়ী মোঃ রমজান আলী পালিয়ে যাওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি প্রশাসন, ইতি পূর্বেও মোঃ রমজান আলী নকল মধু সহ পুলিশের হাতে আটক হয়ে কারাভোগ করেন।

এলাকাবাসী আরো জানান, উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের বড়পুকুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ রমজান আলী মৌমাছি চাষের সঙ্গে জড়িত। মূলত তিনি মৌচাষকে কেন্দ্র করে নকল মধু তৈরি করে বাজারজাত করেন।চিনি ও ফিটকিরি সহ বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল মিশিয়ে তিনি নকল মধু তৈরি করেন।এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোর ৫টার দিকে খানমরিচ ইউনিয়নের দুধবাড়িয়া গ্রামে মৌচাষি খামারের পাশে ১ মেট্রিক টন মধু বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে নকল মধু তৈরি শুরু করে মোঃ রমজান আলী।

পরে স্থানীয় বাসিন্দারা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৫০ কেজি নকল মধু সহ মোঃ রমজান আলী কে আটক করে থানা পুলিশ কে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু পুলিশ ও প্রশাসন পৌঁছনোর আগেই মোঃ রমজান আলী পালিয়ে যান।
পরে প্রশাসন মোঃ রমজান আলী কে না পেয়ে নকল মধুগুলো একটি খালে ঢেলে দেন এবং খালি ড্রাম স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ার হোসেন কে স্থানীয় একটি এতিমখানার মাদরাসায় দিয়ে দেওয়ার জন্য নির্দেশ দেন।

ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘মোঃ রমজান আলী দীর্ঘদিন ধরে এই নকল মধুর ব্যবসা করছেন। এলাকাবাসীর সচেতনতায় তিনি ধরা পড়েছেন।ভবিষ্যতে তিনি যেন এ কাজ করতে না পারেন তার ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান বলেন,‘স্থানীয় বাসিন্দারা নকল মধু তৈরিকারী ব্যবসায়ী মোঃ রমজান আলীর নাম বললেও ঘটনাস্থলে তাকে পাওয়া যায়নি। তাই ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে শাস্তি দিতে পারেনি।তবে পুলিশ কে মোঃ রমজান আলীর ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে।’

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পূর্বধলায় বকেয়া বিলের কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দেওটুকোন বাজারে বকেয়া বিল আদায়ের লক্ষ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। সোমবার (৪ মে) সকাল সাড়ে ১১ টায় এ অভিযান পরিচালনা করেন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) তাসনীম জাহান।

পূর্বধলা জোনাল অফিসের ডিজিয়েম মোঃ শাহিনুর আলম জানান, মোট ১২ জনের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে চারজন তাৎক্ষণিকভাবে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ৩০ হাজার ২০ টাকা পরিশোধ করেন। বাকি আটজনের কাছে প্রায় এক লক্ষ ৪৩ হাজার ৮০২ টাকা বকেয়া ছিল।

তিনি আরও জানান, জারিয়া, ধলামুলগাঁ ও ঘাগড়া ইউনিয়নের আওতায় মোট ১৩৭টি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এতে প্রায় ৫ লাখ ৩৭ হাজার টাকার বেশি বকেয়া বিল আদায়ের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ