আজঃ শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

অমর একুশে : সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার সুনিশ্চিত করা জরুরী 🇧🇩 ফজল আহমেদ

লেখক : প্রবন্ধকার ও মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, প্রাতিষ্ঠানিক কমান্ড, চট্টগ্রাম। সাবেক যুগ্ম পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।

অমর একুশের এই দিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


২১ শে ফেব্রুয়ারি যুগে যুগে বাঙালি জাতির জন্য প্রেরণার উৎস। ১৯৪৭ এ দেশ ভাগের পর পাকিস্তান সরকার ঊর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা করলে পূর্ব বাংলার জনগণের মনে গভীর ক্ষোভের দানা বাঁধতে শুরু করে এবং মাতৃভাষা বাংলাকে সম-মর্যাদার দাবিতে ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত হয়।

১৯৫২-এর ২১ ফেব্রুয়ারি। রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক ছাত্রসমাজ প্রতিবাদ মিছিল করে ১৪৪ ধারা ভাঙলো। এসময় পুলিশ মিছিলের উপর গুলি ছুড়লে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, জব্বারসহ নাম না জানা অনেকেই শহিদ হন। মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠায় বুকের রক্তে রঞ্জিত হয়েছে রাজপথ। শেখ মুজিবুর রহমান তখন কারারুদ্ধ।

তীব্র ভাষা আন্দোলনের মুখে পড়ে বাংলা ভাষাকে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়েছিল পাকিস্তানী সরকার এবং ২২ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও সকল রাজবন্দীকে মুক্তি দিলে ২৩ তারিখ রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এ বাঙালি জাতির পক্ষ থেকে লক্ষ জনতার উপস্থিতিতে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

বঙ্গবন্ধু বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা, সর্বস্তরে বাংলা ভাষা চালু, সংসদের দৈনন্দিন কার্যাবলী বাংলায় চালু প্রসঙ্গে আইন সভায় তুলে ধরেছিলেন এবং ১৯৫৩ সালে একুশের প্রথম বার্ষিকী পালনেও বলিষ্ঠ ভূমিকায় ছিলেন। ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৭১ সালে ৯ মাস রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে স্বাীধনতা লাভ করে বাঙালি জাতি। বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীনের পর মহান সংবিধানে বাংলাকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করেন। এটাই পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম বাংলা ভাষায় প্রণীত সংবিধান। ১৯৭৪ সালের জাতিসংঘে ভাষণটিও বঙ্গবন্ধু বাংলায় দিয়েছিলেন।

যেটি বিশ্ব দরবারে বাংলা ভাষাকে ও বাঙালি জাতিকে আত্মমর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সকল অফিসের কাজে বাংলা ভাষা প্রচলনের প্রথম সরকারী নির্দেশ জারি করেন। স্বাধীনতার পর থেকে ২১ শে ফেব্রুয়ারী এই দিনটি জাতীয় শহীদ দিবস হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে। ২০০০ সালে ইউনেস্কো বাংলা ভাষা আন্দোলন, মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে, যা এখন বিশ্বের বহু দেশে গভীর শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সাথে প্রতি বছর উদ্যাপিত হয়। মাতৃভাষার এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার অবদান বাংলা ভাষাবাসীদের কাছে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

বর্তমানে প্রযুক্তিনির্ভর তরুণ প্রজন্ম বাংলা ভাষার প্রতি চরম উদাসীন। তারা শুদ্ধরূপে বাংলা ভাষার চর্চাকে গুরুত্ব না দিয়ে ইংরেজি-হিন্দি ভাষা মিশিয়ে ফরমালিনের থেকে বেশি বিষাক্ত করে তুলছে আমাদের মাতৃ ভাষা বাংলাকে। যেখানে পুরো বিশ্বে একমাত্র জাতি হিসেবে বাঙালিই ভাষার জন্য প্রাণ দিয়েছে ও বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করেছে সেই বাঙালির মাতৃভাষা আজ বিলুপ্তি বা হুমকির মুখে। যত্রতত্র দেয়ালে, ফ্যাস্টুনে, ব্যানারে, আলাপচারিতার মধ্যে বাংলা ভাষাকে ছোট করে ভাষার অপব্যবহার বেড়ে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। তাছাড়া প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ডে বাংলা নামটি ছোট করে লিখে ইংরেজিতে নামটি বড় করে লিখা হচ্ছে। উচ্চ শিক্ষার জন্য ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা বিধায় সেটিকে আয়ত্ত করতে হবে ভালো কথা কিন্তু সেক্ষেত্রে বাংলাকে করতে হবে মূখ্য ভাষা এবং ইংরেজিকে করতে হবে গৌণ ভাষা এই বিষয়টিকে তরুণ প্রজন্মের খেয়াল রাখতে হবে।

পাশাপাশি শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে পারিবারিকভাবেও সন্তানদের বাংলা ভাষা ও ব্যাকরণ শিক্ষায় পারদর্শি করে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বাধীনতা-পরবর্তীতে বছর ঘুরে ফেব্রুয়ারীর একুশ দিনটি আসলে সর্বস্তরে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের রুল জারি সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হলেও দুঃখের বিষয় দিবস চলে গেলে সেই প্রক্রিয়াটি স্তবির হয়ে পড়ে। কিন্তু এত কিছুর পরও সব জায়গায় এখনো বাংলা ভাষা ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়নি।

আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে যেমন তথ্যপ্রযুক্তির ওপর জোর দিতে হবে তেমনি বাংলা ভাষার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। বিশ্বায়নের যুগে শিল্প-সাহিত্য, সংগীত, স্থাপত্য, ঐতিহ্য ও নিদর্শন সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের বাংলা ভাষার দুয়ার খুলতে হবে। স্মরণে রাখতে হবে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ, শরৎচন্দ্র, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর, মাইকেল মধুসূদন, দীনবন্ধু মিত্র, গিরিশ চন্দ্র সেন, বঙ্কিমচন্দ্র, মীর মোশাররফ হোসেন, কামিনী রায়, রজনীকান্ত সেন, প্রমথ চৌধুরী, আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, যতীন্দ্রমোহন বাগচী, সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত, ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ, সুকুমার রায়, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায় সহ অসংখ্য গুণ্য সাহিত্যিকরা বাংলা ভাষায় লিখনীর মাধ্যমে বিশ্ব সভায় সুখ্যাতি অর্জন করেছেন।

আমাদের ঔপনিবেশিক মনোভাব থেকে বের হয়ে আসতে হবে। ঔপনিবেশিক অসংস্কৃতি এখনো বাংলাদেশে বিরাজমান। এই অপসংস্কৃতিকে দূর করে শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পাওয়া আমাদের মাতৃভাষাকে পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠা করতে সরকারের যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করা জরুরী। বাংলাদেশে বসবাসরত প্রতিটি নৃ-গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা থাকলেও এদের মধ্যে বেশির ভাগের ভাষারই নেই নিজস্ব বর্ণমালা। লিখিত রূপ না থাকায় তাদের ভাষা হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেন শুধু আবেগতাড়িত না হয়ে অমর একুশের কথা না বলি। একুশ তখনই সার্থক হবে, যখন প্রতিটি জনগোষ্ঠী তার নিজের মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারবে। শিল্প-সাহিত্য সৃষ্টি করতে পারবে।

বাংলা ভাষার জন্য যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের এই আত্মত্যাগ তখনই স্বার্থক হবে যখন আমরা আমাদের মাতৃভাষা বাংলাকে পুরোপুরিভাবে সব জায়গায় প্রচলন করতে পারবো। অমর একুশের এই দিনে সকল ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।
f

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফ্যাসিবাদের দোসররা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা এবং ক্লাবের ঐতিহ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

আজ শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের, চট্টগ্রামে সম্পাদক পরিচয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির প্ররোচনায়, তার ফেসবুক পেজে একপেশে ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপকর্ম এবং দুর্নীতি নিয়ে সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিচিতি লাভ করেছেন, তা আমাদের নিকট প্রশংসিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ একপেশে, উসকানিমূলক এবং সত্যের অপলাপ মাত্র। আমরা মনেকরি চট্টগ্রামে ফ্যাসিবাদের দোসররা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্পর্কে উনাকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবরাহ করছে।
উক্ত বিভ্রান্তি নিরসনে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বক্তব্য হচ্ছে-

বিনোদনমূলক কর্মসূচি (হাউজি) সংক্রান্ত বিভ্রান্তি
“””””””””””””””””””””””””””””””””””
জুলকারনাইন সায়ের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি সামাজিক সমাবেশ (হাউজি) নিয়ে আপত্তি তুলে বর্তমান কমিটিকে দায়ী করছেন। অথচ তিনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ক্লাবের সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। পূর্ববর্তী সকল কমিটির আমলেও এটি সচল ছিল, অথচ বর্তমান কমিটিকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ফ্যাসিবাদের দোসরদের পৃষ্ঠপোষকতা
==========================
গত ১৭ বছর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ফ্যাসিবাদী সাংবাদিক গোষ্ঠী কুক্ষিগত করে রেখেছিল। সেখানে ফ্যাসিবাদের অনুগত সাংবাদিক ছাড়া অন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলকারনাইন সায়ের সম্ভবত জানেন না যে, এই ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকরাই জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে থাকা ছাত্র-জনতা এবং নারী শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিয়ে মুক্তিকামী মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে সহায়তা করেছে। আজ যখন সেই বঞ্চিত সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছেন, তখন সায়ের সাহেবের পোস্টগুলো কার্যত সেই পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদেরই সমর্থন যোগাচ্ছে।

প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করুন
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, আওয়ামী আমলের লুটপাটের টাকা এবং ইয়াবা ব্যবসার অবৈধ অর্থে যারা সংবাদপত্র খুলে বসেছেন এবং জুলাই আন্দোলনে খুনের সাথে যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তারাই এখন সংঘবদ্ধভাবে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি শহীদ আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামিদের পৃষ্ঠপোষকতায়ও এই গোষ্ঠীর নাম উঠে আসছে।

বর্তমান কমিটির মানবিক অবস্থান
++++++++++++++++++++++++
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকদের রক্ষা করেছিলেন বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরাই। অথচ সেই সাংবাদিক গোষ্ঠী এখন অনুশোচনার পরিবর্তে পুনরায় দখলদারিত্বের স্বপ্নে বিভোর হয়ে লবিং ও প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছে।

আমাদের আহ্বান: আমরা সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সাহেবকে অনুরোধ করব, আপনি প্রকৃত সত্য যাচাই না করে অগণতান্ত্রিক এবং লুটপাটকারী চক্রের ক্রীড়নক হবেন না। যারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ইয়াবা ব্যবসা, লুটপাট এবং ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনে লিপ্ত ছিল, তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই হবে আপনার মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিকের প্রকৃত কাজ। আমরা আপনাকে বর্তমান কমিটির সাথে সরাসরি কথা বলার এবং প্রকৃত চিত্র সরেজমিনে দেখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন।

কুমিরা আরাবিয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাথে আসলাম চৌধুরীর ইফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীতাকুণ্ডের কুমিরা মসজিদ্দাস্থ ইসলামীয়া আরাবিয়া মাদ্রাসার এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে ইফতার করেছেন চট্টগ্রাম ৪ সংসদীয় আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসিএ।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারী) দ্বিতীয় রমজানে আসলাম চৌধুরী এতিম শিক্ষার্থীদের সাথে ইফতারে অংশ নিয়ে বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের আরবী শিক্ষার পাশাপাশি সব ধরনের শিক্ষায় শিক্ষিত করে রাষ্ট্রীয় সকল কাজে উৎসাহিত করা হবে। তাছাড়া এতিম বলে কাউকে ছোট করাও সমীচিন নয়। আমরা তাদেরকে সমাজের কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করতে চাই। ভবিষ্যতে তাদের সামগ্রিক উন্নয়নের মধ্য দিয়ে দেশের সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

ইফতার মাহফিলে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির পরিচালক মাওলানা আলমগীর, শিক্ষক মাওলানা জসিম উদ্দিন, হাফেজ মোঃ কাশেম,মুফতি ফখরুল ইসলাম, হাফেজ মোশারফ হোসেন, বিএনপি নেতা ডাঃ কমল কদর, জয়নাল আবেদীন দুলাল, জহুরুল আলম জহুর,সালেহ আহমেদ সলু, শামশুল আলম আজাদ, আনোয়ারুল আজম মুকুল, শামসুদৌহা, বদিউল আলম বদরুল, ইদ্রিস মিয়া মনির, সালামত উল্লাহ, ইদ্রিছ মিয়া, জাফর ভুইয়া, ফজলুল করিম চৌধুরী, হারুনুর রশিদ ইব্রাহিম, হেলাল উদ্দিন, কামরুল হাসান, রবিউল হোসেন রবি প্রমূখ।

আলোচিত খবর

একুশের রক্তাক্ত পথ ধরে অর্জন হয়েছে স্বাধীনতা: তারেক রহমান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন- একুশের রক্তাক্ত পথ ধরে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা। মহান শহিদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে শুক্রবার ২০ ফেব্রুয়ারি দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন তারেক রহমান।

একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহিদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরও অনেকে। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় শত বছরের শাসন ও শোষণে জর্জরিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান।

তিনি বলেন-মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এআন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরো মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন- মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন- গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ