আজঃ শনিবার ২৩ মে, ২০২৬

রমজান মাসে লক্ষাধিক মানুষকে ইফতার ও সেহরি করাবে বিদ্যানন্দ-চসিক

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন বিনামূল্যে আয়োজন করেছে মাসব্যাপী ইফতার ও সেহরি। পুরো রামজান মাসে
লক্ষাধিক মানুষকে ইফতার ও সেহরি করানো হবে বলে আয়োজক কমিটি জানায়। পবিত্র রমজানে অভাবী মানুষের পাঁশে দাঁড়াতে এবং সামাজিক বৈষম্য ভেঙে রমজানের পবিত্রতা ছড়িয়ে দিতে এই উদ্যাগ নেয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার এ মহতি আয়োজনের উদ্বোধন করেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ধাপে ধাপে সমাজের বিভিন্ন পেশার মানুষকে এ আয়োজনে সংযুক্ত করা হবে।

ফাউন্ডেশনের বোর্ড মেম্বার জামাল উদ্দিন বলেন, ইফতারে যাতে রোজা ভাঙ্গার পাশাপাশি সামাজিক বৈষম্যও ভাংতে পারি সেই উদ্দেশ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে এতো বড় আয়োজন আমরা করে থাকি। আমরা এখানে সমাজের বিত্তবান ও সাদা মনের মানুষদেরকেও আমন্ত্রন জানাই অংশগ্রহন করার জন্য। তিনি আরো বলেন, ফাউন্ডেশন সারাদেশব্যাপী ৩ লাখ মানুষের ইফতার ও সেহরির আয়োজন করছে এবার। ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও কুড়িগ্রামে এই আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে এ উপলক্ষে নগরীর বিপ্লব উদ্যান সেজেছে ইসলামিক আবহে। সেখানে সুবিশাল প্যান্ডেলে হাজার মানুষের বসিয়ে ইফতার করার জন্য সাজানো হয়েছে টেবিল চেয়ার! দেখে মনে হবে রাষ্ট্রীয় কোন ভিআইপি আয়োজন। গেট দেখলে মনে হবে জাতীয় ইদগাহে এসে পড়েছি। বাস্তবে এসকল এলাহি আয়োজন ছিন্নমূল রোজাদারদের জন্য। তাদেরকে প্রতিদিন আমন্ত্রণ জানানো হবে এখানকার ইফতার সেহরিতে। সেই সাথে সমাজের বিত্তবানদেরও সুযোগ থাকবে অভাবীদের সাথে এক টেবিলে একই মেন্যু শেয়ার করার।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আমাদের সমাজে বেশিরভাগ মানুষ অভাবী। তাদের নিত্যদিনের প্রয়োজন মেটাতেই হিমশিম অবস্থা। তিনবেলা পেট পুরে খাওয়াটাই চ্যালেঞ্জ। সেখানে যখন পবিত্র রমজান হাজির হয় তখন তাদের চিন্তা আরও বেড়ে যায়। অনেক মানুষ শুকনো মুড়ি আর পানি খেয়ে রোজা ভাঙেন। আবার নিম্ন মধ্যবিত্ত অনেকেই আছেন তারা ভাল একটু ইফতার সেহরি জোগার করতে হিমশিম খান। তাদের সবার জন্যই এই আয়োজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জনগনকে সচেতন হতে হবে: ভূমি প্রতিমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভূমি সংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়ে জনগণ সচেতন হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এমন আহবান করেন।

তিনি বলেছেন, আমরা অবাস্তব পন্থায় বা অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দিয়ে কাজ করতে চাই না। আমরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভেটে নির্বাচিত হয়েছি। আগামীবারও যেন জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পারি এবং জনগণের সামনে মাথা উঁচু করে দাড়াঁতে পারি, আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভোট চাইতে পারি সেই প্রচেষ্টা আমাদের অব্যাহত ছিল, আছে এবং ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতেও থাকবে।

তিনি আরও বলেন, জনগণকে সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন হলে তারা জানবে ভূমি সংক্রান্ত সবাই অনিয়মের সঙ্গে জড়িত নয়।জনগণের কাছে আমাদের অনুরোধ, জনগণ যেন আমাদের ভুল-ত্রুটি তুলে ধরেন। যেন আমরা সংশোধন হয়ে আরও ভালো কিছু করতে পারি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞার সভাপতিত্বে প্রধান আলোচক ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. জিয়াউদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান, পুলিশ সুপার মাসুদ আলম প্রমুখ।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে একটি আবেদন করেছেন, সেটি হলো- বাংলাদেশের প্রকৃত মালিক এ দেশের জনগণ। এ মালিকরা যখন আমাদের কাছে সেবা গ্রহণ করতে আসে তখন তারা যেন আমাদের সেবা গ্রহণ কার্যক্রম অনুভব করতে পারেন। ভালো সেবাটা যেন তারা পায়। আমরা যারা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হয়েছি এবং খণ্ডকালীন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছি, কাজ করেন, সেবা প্রদান করেন এবং আপনারা যারা সরকারের একটি বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এখানে আছেন; আপনারা নিজ যোগ্যতায় এখানে এসেছেন। আমাদের সবার লক্ষ্য হলো- মানুষের সেবা প্রদান করা অর্থাৎ এদেশের মালিক জনগণকে সঠিক সেবাটা সম্মানের সাথে আন্তরিকতার সাথে, সততা এবং নিষ্ঠার সাথে প্রদান করা।

তিনি বলেন, আমরা সকল কার্যক্রম যেন প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানকে মাথায় রেখে পরিচালনা করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সর্বোচ্চ চেষ্টা হচ্ছে- সমাজের প্রথম সুবিধা বঞ্চিতদের জীবনমান উন্নয়নের মাধ্যমে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আমরা সেই প্রচেষ্টায় আছি। আমরা চেষ্টা করছি একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে আমাদের দায়িত্বে যেগুলো আছে, বিশেষ করে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে যেসকল দপ্তর আছে সেখানে দুর্নীতিকে আস্তে আস্তে কিভাবে কমিয়ে আনা যায়। জনসেবা, দ্রুতসেবা এবং জমি সংক্রান্ত সকল সেবা কিভাবে নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছি।

সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রকট চিকিৎসা সংকট *ওষুধ কিনতেও অতিরিক্ত খরচের চাপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশজুড়ে বাড়তে থাকা হামের প্রকোপের মধ্যে চট্টগ্রামের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শয্যা, পিআইসিইউ ও হাই ফ্লো নজল ক্যানুলার ঘাটতির মধ্যেই চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ওষুধ কিনতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের চাপ পড়ছে রোগীর স্বজনদের ওপর। দুই দিন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে হাম চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় এমন ভোগান্তির চিত্র ফুটে উঠেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, শিশুদের জন্য বিভাগটিতে ২০টি পিআইসিইউ শয্যা রয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি শয্যা হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য নির্ধারিত রাখা হয়েছে। বাকি ৫টি শয্যায় অন্যান্য রোগীদের ভর্তি করা হচ্ছে। তবে, হাম সংক্রমণ বাড়ায় বর্তমানে শয্যার তুলনায় দ্বিগুণ সংকটাপন্ন শিশু পিআইসিইউ সেবার অপেক্ষায় রয়েছে। হাসপাতালের নিচতলার ১ নম্বর ক্যাজুয়ালটির ৫০ শয্যার পৃথক ব্লকে হাম আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা চলছে। কিন্তু সেখানে প্রতিনিয়তই ভর্তি থাকছে ৭০ থেকে ৮০ জন রোগী। ফলে একেকটি শয্যায় দুই থেকে তিনজন শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।
এ ছাড়া হাম পরবর্তী নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুদের সুস্থ হতে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ সময় লাগছে। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ৬০ লিটার পর্যন্ত হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা প্রয়োজন হচ্ছে। পিআইসিইউ শয্যা সংকটে অসহায় পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হাম ইউনিট ঘুরে দেখা যায়, ৫০ শয্যার ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে প্রায় ৮০ শিশু। অনেক শয্যাতেই তিন থেকে চারজন পর্যন্ত রোগীকে রাখা হয়েছে। শিশুদের সঙ্গে ওয়ার্ডে অবস্থান করছেন তাদের মায়েরাও। ফলে অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ওয়ার্ডজুড়ে গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে।
চমেক হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মুসা মিয়া বলেন, বর্তমানে পিআইসিইউ, হাই ফ্লো নজল ক্যানুলা ও শয্যার সংকট রয়েছে। সীমিত সক্ষমতা নিয়েই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তারপরও আমরা কাউকে ফেরত দিচ্ছি না। সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বলেন, হাসপাতালের ২০ শয্যার শিশু আইসিইউর মধ্যে মাত্র ১০টি সরকারি। বাকি শয্যাগুলো পরিচালিত হচ্ছে অনুদানের ভিত্তিতে। এছাড়া পুরো হাসপাতালে হাই-ফ্লো মেশিন রয়েছে ৪১টি। সীমিত সম্পদ নিয়েই চিকিৎসাসেবা চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল ছাড়া ছাড়া বাকি সরকারি হাসপাতালে পিআইসিইউ না থাকায় রোগীর চাপ বেশি বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের কোভিড ব্লকে ৮ শয্যার হাম কর্নার চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালেও ৬ শয্যার পৃথক ইউনিট তৈরি করা হয়েছে। তবে চট্টগ্রামে হাম শনাক্তের পরীক্ষাগার না থাকায় রোগীদের নমুনা ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। এতে রিপোর্ট পেতে এক সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে।

পেশায় রাজমিস্ত্রী হারুন বলেন, হামে আক্রান্ত অনেক শিশুর অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। এখানে অক্সিজেন পাওয়া যায় না। ওয়ার্ডের এক বেডে ৩ থেকে ৪ শিশুকে রাখা হয়েছে। এখান থেকেও রোগ ছড়াতে পারে। ওষুধও বাইরের থেকে কিনতে হচ্ছে। আমার ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার শুধু ওষুধ কিনতে হয়েছে। তবুও কিছু করার নেই। তার পাশেই ছিলেন নোয়াখালীর বাসিন্দা নয়ন। তার দুই শিশু হাম ওয়ার্ডে ভর্তি। তিনি বলেন, এখানে (হাম ওয়ার্ড) ঠিকমতো চিকিৎসাসেবা পাওয়া যাচ্ছে না। উপরে শিশু ওয়ার্ডে ডাক্তার-নার্সেরা আন্তরিকতা দিয়ে কাজ করে। এখানে তেমন সেবা পাওয়া যাচ্ছে না।

আলোচিত খবর

পবিত্র ঈদুল আজহায় ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা, ২৩ মে।শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিসে ৭ দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত এই ছুটি থাকছে। তবে ঈদের আগে সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যে আগামীকাল শনিবারের ২৩ মে ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ঈদের ছুটি সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে (সোমবার) থেকে ৩১ মে রোববার পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। এর আগে ২৩ মে শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও পরদিন ২৪ মে রোববার অফিসগুলো খোলা থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ