আজঃ মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

ফ্যাসিবাদের দোসররা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

গোলাম মাওলা মুরাদ, সাধারণ সম্পাদক, Strongest প্রেস ক্লাব।

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব ও বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটিকে বিভিন্নভাবে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা এবং ক্লাবের ঐতিহ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভ্রান্তিকর ও উস্কানিমূলক প্রচারণার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

আজ শুক্রবার এক যৌথ বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, লন্ডন প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের, চট্টগ্রামে সম্পাদক পরিচয়ে পরিচিত এক ব্যক্তির প্ররোচনায়, তার ফেসবুক পেজে একপেশে ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করেন, এটি বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বিভিন্ন মহলকে বিভ্রান্ত করার একটি অপচেষ্টা।

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের অপকর্ম এবং দুর্নীতি নিয়ে সাহসিকতাপূর্ণ প্রতিবেদনের মাধ্যমে সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে পরিচিতি লাভ করেছেন, তা আমাদের নিকট প্রশংসিত ছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় এই যে, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি বন্দরনগরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক পোস্ট দিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ একপেশে, উসকানিমূলক এবং সত্যের অপলাপ মাত্র। আমরা মনেকরি চট্টগ্রামে ফ্যাসিবাদের দোসররা চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সম্পর্কে উনাকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সরবরাহ করছে।
উক্ত বিভ্রান্তি নিরসনে এবং প্রকৃত সত্য তুলে ধরতে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বক্তব্য হচ্ছে-

বিনোদনমূলক কর্মসূচি (হাউজি) সংক্রান্ত বিভ্রান্তি
“””””””””””””””””””””””””””””””””””
জুলকারনাইন সায়ের চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের একটি সামাজিক সমাবেশ (হাউজি) নিয়ে আপত্তি তুলে বর্তমান কমিটিকে দায়ী করছেন। অথচ তিনি খোঁজ নিলে জানতে পারবেন, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ক্লাবগুলোতে দীর্ঘকাল ধরে নির্ধারিত নিয়ম মেনে এই ধরনের বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে আসছে। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ক্লাবের সদস্যদের কল্যাণে ব্যয় করা হয়। পূর্ববর্তী সকল কমিটির আমলেও এটি সচল ছিল, অথচ বর্তমান কমিটিকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান করা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ফ্যাসিবাদের দোসরদের পৃষ্ঠপোষকতা
==========================
গত ১৭ বছর চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবকে ফ্যাসিবাদী সাংবাদিক গোষ্ঠী কুক্ষিগত করে রেখেছিল। সেখানে ফ্যাসিবাদের অনুগত সাংবাদিক ছাড়া অন্য সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। জুলকারনাইন সায়ের সম্ভবত জানেন না যে, এই ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকরাই জুলাই বিপ্লবের সময় রাজপথে থাকা ছাত্র-জনতা এবং নারী শিক্ষার্থীদের পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে, এমনকি গোয়েন্দা সংস্থাকে তথ্য দিয়ে মুক্তিকামী মানুষের ওপর নির্যাতন চালাতে সহায়তা করেছে। আজ যখন সেই বঞ্চিত সাংবাদিকরা তাদের অধিকার ফিরে পেয়েছেন, তখন সায়ের সাহেবের পোস্টগুলো কার্যত সেই পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসরদেরই সমর্থন যোগাচ্ছে।

প্রকৃত অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করুন
,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,,
আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, আওয়ামী আমলের লুটপাটের টাকা এবং ইয়াবা ব্যবসার অবৈধ অর্থে যারা সংবাদপত্র খুলে বসেছেন এবং জুলাই আন্দোলনে খুনের সাথে যারা পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত, তারাই এখন সংঘবদ্ধভাবে বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি শহীদ আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার আসামিদের পৃষ্ঠপোষকতায়ও এই গোষ্ঠীর নাম উঠে আসছে।

বর্তমান কমিটির মানবিক অবস্থান
++++++++++++++++++++++++
জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে ছাত্র-জনতার পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকে এই ফ্যাসিবাদী সাংবাদিকদের রক্ষা করেছিলেন বর্তমান কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিকরাই। অথচ সেই সাংবাদিক গোষ্ঠী এখন অনুশোচনার পরিবর্তে পুনরায় দখলদারিত্বের স্বপ্নে বিভোর হয়ে লবিং ও প্রোপাগান্ডায় লিপ্ত হয়েছে।

আমাদের আহ্বান: আমরা সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের সাহেবকে অনুরোধ করব, আপনি প্রকৃত সত্য যাচাই না করে অগণতান্ত্রিক এবং লুটপাটকারী চক্রের ক্রীড়নক হবেন না। যারা সাংবাদিকতার নাম ভাঙিয়ে ইয়াবা ব্যবসা, লুটপাট এবং ছাত্র-জনতার ওপর নির্যাতনে লিপ্ত ছিল, তাদের মুখোশ উন্মোচন করাই হবে আপনার মতো একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাংবাদিকের প্রকৃত কাজ। আমরা আপনাকে বর্তমান কমিটির সাথে সরাসরি কথা বলার এবং প্রকৃত চিত্র সরেজমিনে দেখার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাব সবসময় স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় আপসহীন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কে আলপনা অঙ্কনের ব্যতিক্রমী আয়োজন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পয়লা বৈশাখ উপলক্ষ্যে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রায় দেড় কিলোমিটার জুড়ে সড়কে আলপনা অঙ্কনের ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়। চট্টগ্রাম নগরের সার্কিট হাউস থেকে শুরু হয়ে লাভলেইন ও কাজীর দেউড়ি হয়ে ঐতিহ্যবাহী ডিসি হিল পর্যন্ত বিস্তৃত এই আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে শেষ করেছে জেলা
প্রশাসন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১১টায় এই আলপনা অঙ্কনের উদ্বোধন করেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি এবং শিশু একাডেমির শিক্ষার্থী ও শিল্পীরা এতে অংশ নিয়েছেন। তারা বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে লতাপাতা, ফুল, পাখি ও লোকজ মোটিফের মাধ্যমে বাঙালির ঐতিহ্য তুলে ধরেছেন।

জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম গত রাতে বলেন, আমরা আসলে দেড় কিলোমিটার যে আলপনা করছি, সেখানে আপনারা দেখছেন বিভিন্ন রঙে আমাদের এই সড়ক রাঙানো হচ্ছে। আমরা আমাদের জীবনকেও এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকেও সেভাবে রাঙিয়ে তুলতে চাই।তিনি বলেন, আমাদের এই সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধসহ যারা বসবাস করে, তাদের প্রত্যেকের আলাদা রং থাকলেও উৎসব পালনের ক্ষেত্রে আমরা একতাবদ্ধ। আমরা একত্রে মিলিত হয়ে আমাদের উৎসব আয়োজন করি।

তিনি আরও বলেন, সমাজে হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে এবং উৎসবের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়-এই আয়োজন সেই সম্প্রীতির প্রতীক।
তিনি আরও যোগ করেন, এখানে মুসলিম, হিন্দু, খ্রিষ্টান সবাই মিলে এবং অন্যান্য যারা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী রয়েছে, বৌদ্ধসহ যারা আছে-আমরা সবাই মিলে একটি সুন্দর সমাজে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করি।

ডিসি বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে দেশের জন্য কাজ করি এবং আমাদের সংস্কৃতির যে মেলবন্ধন আছে, সেটি বিশ্বের কাছে তুলে ধরতে চাই। আমাদের সংস্কৃতির যে গৌরব এবং ঐতিহ্য, সেটি যেন আগামী প্রজন্ম ধরে রাখে—সেজন্য আমরা তাদের উৎসাহিত করছি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) হোসেন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. শরীফ উদ্দিন ও মো. সাইদুজ্জামান পাঠান। এ সময় জেলা প্রশাসকের একমাত্র সন্তানও উপস্থিত ছিলেন এবং আলপনা অঙ্কনে অংশগ্রহণ করেন।

পরলোকে সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাবেক আইনমন্ত্রী ও সুপ্রিম কোর্টের প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ মারা গেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর।

শফিক আহমেদ ১৯৬৭ সালে লন্ডনের কিংস কলেজ থেকে এলএলএম ও লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তিগত জীবনে শফিক আহমেদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ