আজঃ মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল, ২০২৬

সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধে দ্রুত বিচার ও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি।

প্রেস রিলিজ

HRCBM’র অর্ধ বার্ষিক সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজধানীর ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে Human Rights Congress for Bangladesh Minorities (HRCBM) দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত, নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের কনভেনর অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড়। এসময় উপস্থিত ছিলেন কো-অর্ডিনেটর আশিষ কুমার অঞ্জন, ট্রেজারার বিদ্যুৎ কুমার রায়, রংপুর বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর দেবী চরণ রায়, আইটি সেক্রেটারি জীবন কুমার, মৌলভীবাজার জেলা কো-অর্ডিনেটর সৃজন দাস, হিউম্যান রাইটস অ্যাসিস্ট্যান্ট রাজ চাকমা, টুকু বাছাড়, সমীর চন্দ্র মিস্ত্রী, অবজারভার আনন্দ রায়সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


২০২৫-২৬ সালে ৭২৭টি নির্যাতনের অভিযোগ
লিখিত বক্তব্যে জানানো হয়, ২০২৫ সালের জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সংগঠনের প্রতিনিধিদের তথ্য ও গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মোট ৪৯৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আরও ২৩৩টি ঘটনা লিপিবদ্ধ হয়েছে।


সংগঠনের তথ্যমতে, চলতি সময়ে—৪৪ জন সংখ্যালঘু ব্যক্তি হত্যা বা রহস্যজনক মৃত্যুর শিকার হয়েছেন,৩০ জন অপহরণ বা নিখোঁজ হয়েছেন, যাদের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী,৮ জন সংখ্যালঘু নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন (নথিভুক্ত),এছাড়া জমি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল, মন্দিরের জমি দখল, প্রতিমা ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মব সৃষ্টিসহ বিভিন্ন সহিংসতার অভিযোগ রয়েছে।সংগঠনটি দাবি করে, প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে।

মানিকগঞ্জে নাবালিকা উদ্ধারে উদ্বেগ:
সংবাদ সম্মেলনে মানিকগঞ্জে অপহৃত এক ১৫ বছর বয়সী সংখ্যালঘু কিশোরীর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। HRCBM দাবি করে, আদালতের প্রয়োজনীয় নথিপত্র যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই নাবালিকাকে জিম্মায় পাঠানো হয়েছে, যা আইনগত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

ভোলায় বাকপ্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ
সংবাদ সম্মেলনে সর্বশেষ আলোচিত হয় তজুমদ্দিন উপজেলা-এ এক বাকপ্রতিবন্ধী হিন্দু নারীর গণধর্ষণের অভিযোগ। সংগঠনের ভাষ্য অনুযায়ী, ২২ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে কীর্তন শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে অচেতনকারী পদার্থ খাইয়ে নির্যাতন করে।ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগীর চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানায় HRCBM।

নির্বাচনের পর নির্যাতন বৃদ্ধির অভিযোগ:
সংগঠনটি দাবি করে, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের প্রবণতা বেড়েছে। এবারের জাতীয় নির্বাচনে চারজন সংখ্যালঘু প্রার্থী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও তা জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে খুবই নগণ্য বলে মন্তব্য করেন সংগঠনের নেতারা। তারা সংখ্যালঘুদের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের প্রতি নিজ নিজ এলাকায় হটলাইন চালু ও নির্যাতনের ঘটনায় সরাসরি হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
পাঁচ দফা দাবী:

সংবাদ সম্মেলন থেকে সংগঠনটি পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে—১. প্রতিটি ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করা।২. দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।৩. সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা জোরদার।৪. মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ও মব সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর আইন প্রয়োগ।৫. সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় বলেন, “আমরা একটি অসাম্প্রদায়িক, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ চাই—যেখানে ধর্ম, বর্ণ বা জাতিগত পরিচয়ের কারণে কেউ নির্যাতিত হবে না এবং আইনের শাসন নিশ্চিত থাকবে।”সংগঠনটি সরকারের প্রতি সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১০ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া, সিলেট, বরিশাল, জামালপুর, ময়মনসিংহ ও খাগড়াছড়ি— এই ৬ জেলায় পুলিশ সুপার হিসেবে নতুন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়েছে সরকার।বুধবার (৪ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপ-সচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ বদলির কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বগুড়ার পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেনকেপাশাপাশি ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানকে নোয়াখালীর পিটিসিতে, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

পহেলা বৈশাখের আগেই চালু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ 
সেইসঙ্গে সিলেটের পুলিশ সুপার কাজী আখতার উল আলমকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে, জামালপুরের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেককে সিলেট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মোছা. ফারহানা ইয়াসমিনকে জামালপুর জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বরিশালের পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলামকে নৌ পুলিশে বদলি করা হয়েছে, এবং পুলিশ সদর দপ্তরের এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমানকে বরিশালের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের চার পরিচালক পদে রদবদল।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনায় বড় পরিবর্তন করা হয়েছে। চারজন পরিচালক এবং একজন অতিরিক্ত পরিচালককে নতুন দায়িত্বে বদলি করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) জারি করা ব্যাংকের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশে বলা হয়েছে- পরিচালক মো. জয়নুল ইসলাম হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগে বদলি করা হয়েছে। তার বদলে পরিচালক মো. শহিদ রেজা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন বিভাগ থেকে বদলি হয়ে হিউম্যান রিসোর্সেস ডিপার্টমেন্ট-১-এ যোগ দেবেন। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে উভয় বিভাগের অভিজ্ঞতা এবং প্রশাসনিক দক্ষতা সমন্বিতভাবে ব্যবহার করা হবে বলে জানা গেছে।
পরিচালক মো. বায়েজিদ সরকার ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে বদলি হয়ে মতিঝিল অফিসে ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক (কারেন্সি হিসেবে) দায়িত্ব পালন করবেন। এ পদে তিনি ব্যাংকের অর্থ এবং নীতি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ড তদারকি করবেন।

এছাড়াও, পরিচালক গাজী মো. মাহবুবুল ইসলাম মতিঝিল অফিস থেকে বদলি হয়ে ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-এ যোগ দেবেন, যেখানে তিনি নীতি নির্ধারণ এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে সহায়তা করবেন।
অতিরিক্ত পরিচালক হিসেবে, মো. কামরুল ইসলাম গভর্নর অফিস থেকে বদলি হয়ে সদরঘাট অফিসে দায়িত্ব পালন করবেন। তার বদলির মাধ্যমে সদরঘাট অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও সুসংগঠিত ও দক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।অফিস আদেশে বলা হয়েছে যে এই বদল অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বর্তমান দফতরে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন করার পর নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত ৩১ জন নাবিকের হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি ‘বাংলার জয়যাত্রা’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের অনুমতি না পেয়ে আবারও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ফিরে যাওয়ার পথে রয়েছে।বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে।

তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

বিএসসি সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ জেবেল আলীতে পণ্য খালাস শেষ হওয়ার পর কুয়েতে নতুন পণ্য বোঝাইয়ের পরিকল্পনা থাকলেও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জাহাজটি নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় বিএসসি।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ