আজঃ মঙ্গলবার ১০ মার্চ, ২০২৬

সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের জ্বালানিবাহী ১৪ জাহাজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমন্বয় সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমন্বয় সভা
সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের
জ্বালানিবাহী ১৪ জাহা
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং আগমনের পথে রয়েছে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ।

বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে জাহাজগুলোর ধারাবাহিক এই আগমনের ফলে বন্দরে কোনো জট নেই এবং দেশের সাপ্লাই চেইন সুশৃঙ্খল রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেয়ায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বলা হয়, বন্দরের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং সুনিশ্চিত করাসহ অপারেশনাল কার্যকারিতা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে আসা জাহাজসমূহের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজসমূহের অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে নগণ্য। তিনি জ্বালানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উপসাগরীয় (গালফ) অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত ও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ৫টি এলএনজ এবং ২টি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে অথবা আসার পথে রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি এই জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এই জাহাজগুলোর ধারাবাহিক আগমন এবং দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

রোববার অনুষ্ঠিত সভায় বন্দরের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। তাঁরা জানান যে, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান – তাজকিয়ার সেমিনার ও কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিল  অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র মাহে রামাদানে যুবসমাজকে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তারুণ্য নির্ভর সংগঠন ‘তাজকিয়া’র উদ্যোগে “তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৬ মার্চ, ২০২৬) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-

লেখক ও গবেষক মাহাদী গালিব। তিনি তার সারগর্ভ আলোচনায় উল্লেখ করেন, “পবিত্র মাহে রামাদান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের এক অনন্য সুযোগ।” তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আধুনিক যুগের নানা বিভ্রান্তি, ইন্টারনেট নির্ভর জীবন ব্যবস্থা এবং  ব্যস্ততার মধ্যেও রামাদানের চেতনাকে ধারণ করে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়াই প্রকৃত সফলতা।”
আলোচনায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তরুণ সমাজ যদি রামাদানের শিক্ষা, সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধি যদি নিজেদের জীবনে বাস্তবভাবে ধারণ করতে পারে, তবে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার  শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।তাছাড়া, উক্ত সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সম্মানিত সচিব জনাব এ. ওয়াই. এমডি. জাফর, তাজকিয়ার প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী  সৈয়দ আবু নাসের নূর অন্তু,…….
তাজকিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শাখা প্রতিনিধিবৃন্দ,বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর বিভিন্ন শাখা পর্যায়ের শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ, বিভিন্ন তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা রামাদানে নিজেদের করণীয়, সময় ব্যবস্থাপনা, ইবাদতের ধারাবাহিকতা এবং নৈতিক জীবন গঠনের নানা দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

উক্ত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন তাজকিয়া কেন্দ্রীয় পর্ষদ এর সম্মানিত সভাপতি জনাব মোঃ রমিজ আলী।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, যুব সমাজের মাঝে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তুলে ‘ঐশী প্রেমের জাগরণ সৃষ্টি’ করতে ভবিষ্যতেও তাজকিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে মিলাদ-কিয়াম ও মুনাজাত পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে ইফতার গ্রহণ পরবর্তী উক্ত আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী।

আলোচিত খবর

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ