আজঃ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল, ২০২৬

সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের জ্বালানিবাহী ১৪ জাহাজ।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সমন্বয় সভা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সমন্বয় সভা
সাগরে ভাসছে চট্টগ্রাম বন্দরের
জ্বালানিবাহী ১৪ জাহা
ছবি-৭
চট্টগ্রাম ব্যুরো: বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের অস্থিরতার মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে এবং আগমনের পথে রয়েছে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ।

বিপুল পরিমাণ জ্বালানি নিয়ে জাহাজগুলোর ধারাবাহিক এই আগমনের ফলে বন্দরে কোনো জট নেই এবং দেশের সাপ্লাই চেইন সুশৃঙ্খল রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনফারেন্স রুমে চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এসএম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং বিষয়ক সমন্বয় সভায় এসব কথা বলা হয়।
সভায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা আরও গতিশীল করতে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের সব চাহিদা সমন্বিতভাবে নিরূপণ এবং জ্বালানিবাহী জাহাজকে চট্টগ্রাম বন্দরে বিশেষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং সুবিধা দেয়ায় সিদ্ধান্ত হয়।

সভায় বলা হয়, বন্দরের জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সাপ্লাই চেইন ও বাংকারিং সুনিশ্চিত করাসহ অপারেশনাল কার্যকারিতা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সজাগ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের অস্থিরতা সত্ত্বেও দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরে আসা জাহাজসমূহের মাধ্যমে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানানো হয়।

বন্দর চেয়ারম্যান বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে আসা জাহাজসমূহের অধিকাংশ বাংকারিং ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি সরবরাহের প্রধান উৎসগুলো সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া কেন্দ্রিক হওয়ায় বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব এখানে নগণ্য। তিনি জ্বালানি সরবরাহ আরও শক্তিশালী করতে এবং বিকল্প উৎস অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থাপিত চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে উপসাগরীয় (গালফ) অঞ্চলসহ বিভিন্ন দেশ থেকে জ্বালানিবাহী জাহাজের নিয়মিত ও উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি পরিলক্ষিত হচ্ছে বলে জানানো হয়। বিশেষ করে কাতার, ওমান এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসা ৫টি এলএনজ এবং ২টি এলপিজিবাহী বড় জাহাজসহ বর্তমানে মোট ১৪টি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থান করছে অথবা আসার পথে রয়েছে। সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়া থেকে আসা ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলবাহী জাহাজগুলোর পাশাপাশি এই জাহাজগুলো দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার এক শক্তিশালী ও নিরবচ্ছিন্ন চিত্র তুলে ধরে। বিপুল পরিমাণ জ্বালানি পণ্য নিয়ে এই জাহাজগুলোর ধারাবাহিক আগমন এবং দ্রুত বার্থিং ব্যবস্থা এটাই প্রমাণ করে যে, বর্তমানে বন্দরে কোনো ধরনের জট নেই এবং জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

রোববার অনুষ্ঠিত সভায় বন্দরের সদস্য, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিপিসি, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নৌবাহিনী, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, ওমেরা ফুয়েল লিমিটেড, পদ্মা অয়েল কোম্পানি, বাংলাদেশ ওশানগোয়িং শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিপ হ্যান্ডলিং অ্যান্ড বার্থ অপারেটর অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিসহ গুরুত্বপূর্ণ স্টেকহোল্ডাররা অংশ নেন। তাঁরা জানান যে, দেশের বর্তমান জ্বালানি মজুদ সন্তোষজনক এবং চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার মতো পূর্ণ সক্ষমতা রয়েছে। বিশেষ করে নৌ-বাণিজ্যিক ও শিল্প খাতের জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই এবং সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে কার্যকর ও সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে মুরগীর ফার্মে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ওই ফার্মে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঠাকুরগাঁও ফায়ার. সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম। এরআগে বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে সদর উপজেলার আকচা ইউনিয়নের ফাঁড়াবাড়ি সরদারপাড়া গ্রামে অবস্থিত নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। 


জানা যায়, বুধবার (১৫ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে হঠাৎ করে নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস  লিমিটেডের ৪ নম্বরjj শেডে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহুর্তেই আগুনের লেলিহান শিখা  চারদিকে ছড়িয়ে পরে। খবর পেয়ে ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। 

নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস লিমিটেডের ম্যানেজার সুজন অধিকারী বলেন, আমাদের ফার্মে ৭টি শেড রয়েছে। এরমধ্যে ৪ নম্বর শেডে হঠাৎ করে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই শেডে মুরগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৫৩০টি। এরমধ্যে অগ্নিকাণ্ডে শেডের ভেতরে থাকা ৪ হাজার ৫০০ পিচ মুরগী মারা যায়। এর পাশাপাশি শেডের ভেতরে থাকা সকল যন্ত্রাংশ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 

তিনি বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন। তাহলে পূণরায় শেডটি সচল করা সম্ভব হবে। আশা করি সরকার বিষয়টি নজরে নিয়ে সহযোগিতা করবেন। 

ঠাকুরগাঁও ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক শহিদুল ইসলাম বলেন, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে নিশ্চিতপুর পোল্ট্রি এন্ড ফিডস  লিমিটেডের ৪ নম্বর শেডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আমরা চেষ্টা করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। 

চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে ডিজেল-জেট ফুয়েল নিয়ে আসা ৩ জাহাজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে মালয়েশিয়া থেকে দুটি জাহাজে করে ডিজেল এবং সিঙ্গাপুর থেকে একটি জাহাজে জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) এসেছে। এর মধ্যে এমটি গ্রেট প্রিন্সেস নামে জাহাজটি গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ডলফিন জেটি-৬-এ জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি সিঙ্গাপুর থেকে প্রায় ১১ হাজার মেট্রিক টন জেট ফুয়েল নিয়ে এসেছে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার পতাকাবাহী এমটি লুসিয়া সোলিস জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে রওনা দিয়ে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে। জাহাজটিতে প্রায় ৩৪ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল রয়েছে।বর্তমানে লাইটারেজ প্রক্রিয়ায় জ্বালানি খালাস চলছে এবং বুধবার দুপুরে এটি ডলফিন জেটি-৫-এ ভিড়েছে।

বিপিসির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের গভীরতাজনিত সমস্যা থাকায় বড় জাহাজ প্রথমে বহির্নোঙরে পৌঁছে কিছু তেল খালাস করে৷ পরে বাকিগুলো জেটিতে ভেড়ানোর পর খালাস করা হয়।
বিপিসির সহকারী ব্যবস্থাপক ফারজিন হাসান মৌমিতা বলেন, ডেনমার্কের পতাকাবাহী এমটি টর্ম দামিনি জাহাজটি প্রায় ৩২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল নিয়ে মঙ্গলবার রাত থেকে বহির্নোঙরে জ্বালানি খালাস করছে। জাহাজটি বুধবার ডলফিন জেটি-৬-এ পৌঁছেছে। জাহাজটি ৯ এপ্রিল মালয়েশিয়া থেকে যাত্রা শুরু করেছিল বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ইস্টার্ন রিফাইনারির পরিশোধন কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) পরিশোধন কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল সকাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সবশেষ গত রোববার ১২ এপ্রিল বিকালে তেল পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এরপর ক্রুড তেলের সংকটের কারণে মজুত ক্রুড তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সংঘাতের প্রভাবে গত প্রায় দুই মাস ধরে ক্রুড তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এমনটাই জানা যায়।

পরিশোধনের পরিমাণ কমিয়ে আনা হয় সংকট মোকাবিলায় মার্চ মাস থেকেই। যেখানে দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন ক্রুড তেল পরিশোধন করা হতো, সেখানে তা কমিয়ে ৩ হাজার ৫০০ টনে নামিয়ে আনা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত মজুত শেষ হওয়ায় সম্পূর্ণভাবে কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে জ্বালানি বিভাগ জানিয়েছে, দেশে পরিশোধিত জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ