আজঃ সোমবার ৬ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৬ হত্যা মামলায় ২২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল।

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চব্বিশের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ছাত্রদল নেতা ওয়াসিমসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরীসহ ২২ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

রোববার সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর রেজিস্ট্রারের দফতরে অভিযোগপত্র জমা দেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ।এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন এবং তদন্ত কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ।

মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ চৌধুরী, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাসির উদ্দীনসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

এর আগে মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১২ এপ্রিল তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই তদন্ত সংস্থা তাদের প্রতিবেদন চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেয়। পরবর্তীতে তা যাচাই-বাছাই শেষে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ হিসেবে দাখিল করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বস্তাভর্তি টাকা লুট : ব্যাংক কর্মকর্তাসহ ৫ জনের কারাদণ্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ব্যাংকের বস্তাভর্তি অর্ধকোটি টাকা লুটের মামলায় সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তাসহ পাঁচজনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।রোববার (৫ এপ্রিল) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. মিজানুর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী রেজাউল করিম জানান, সাতজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় পূবালী ব্যাংকের চট্টগ্রামের সিডিএ করপোরেট শাখার সাবেক গাড়িচালক বিজয় কুমার দাশকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

একইসঙ্গে ওই শাখার সাবেক জুনিয়র অফিসার (ক্যাশ) রাজিবুর রহমান, নিরাপত্তারক্ষী মো. আশিকুর রহমান, তানজুর রহমান ও মাজহারুল ইসলামকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ১০ বছর করে কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১৬ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজিবুর রহমান চট্টগ্রাম নগরের শেখ মুজিব রোড শাখা থেকে ৫০ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ একটি গাড়িতে সীতাকুণ্ড শাখায় যান।

সেখানে আরও ৮১ লাখ টাকা সংগ্রহ করে সিডিএ করপোরেট শাখার উদ্দেশে রওনা দেন তিনি। পথে কিছুক্ষণ পর রাজিবুর রহমান ফোন করে জানান, গাড়িতে থাকা একটি বস্তা খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ওই বস্তায় প্রায় সাড়ে ৫০ লাখ টাকা ছিল।
ঘটনার পর সিডিএ করপোরেট শাখার তৎকালীন সহকারী মহাব্যবস্থাপক তৌফিকুর রহমান বাদী হয়ে সীতাকুণ্ড থানায় মামলা দায়ের করেন।

তদন্ত শেষে পুলিশ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২২ সালের ১৬ মে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু আদেশ দেন।

শিক্ষার্থীকে হত্যার দায়ে ৫ জনের মৃত্যুদণ্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কোতোয়ালীতে ফসিউর রহমান শাওন নামে এক শিক্ষার্থীকে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ‘গামছা পার্টি’র পাঁচ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড ও ১০ জন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেলে ষষ্ঠ অতিরিক্ত চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আককাস আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—বেল্লাল হোসেন, জাকির হোসেন, শহীদ রাজা, আল আমিন গাজী ও মো. সোহেল।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রাকিব উদ্দীন জানান, ফসিউর রহমান শাওন হত্যা মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানার আদেশ দেন।

এছাড়াও অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ১০ জন আসামিকে খালাস দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আল আমিন গাজী ও মো. সোহেল পলাতক রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা মূলে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। বাকি তিনজন রায় ঘোষণার সময় আদালতে উপস্থিত থাকায় তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালের ২৪ জুলাই নগরের কোতোয়ালী থানার বাদশা মিয়া সড়ক এলাকা থেকে শিক্ষার্থী ফসিউর রহমান শাওনের (২৭) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসা থেকে নগরের জিইসি মোড়ে কোচিংয়ে যাওয়ার পথে তিনি ‘গামছা পার্টি’র শিকার হন। পরে এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে পুলিশ অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০১১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে নগরে ‘গামছা পার্টি’ নামে একটি চক্র সক্রিয় ছিল। তারা সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক বা সহকারী সেজে যাত্রীদের কাছ থেকে মালামাল লুট করত এবং পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করে ফেলে যেত। পরবর্তীতে চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারের পর এসব হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটিত হয়।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব ড্রেজারে এক বছরে ড্রেজিং খাতে ৫০ পঞ্চাশ কোটি টাকা সাশ্রয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনায় কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দর সীমানায় ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় যুগোপযোগী পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত এবং বাস্তবধর্মী কার্যকর উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে ড্রেজিং খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

গত এক বছরে চবক এর নিজস্ব ড্রেজার এর মাধ্যমে ড্রেজিং ও পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্য সম্পাদনের ফলে চবক এর ড্রেজিং খাতে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সদস্য (হারবার ও মেরিন) এর তত্ত্বাবধানে হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। চবক-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে। এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্ততা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

এছাড়া কর্ণফুলী নদীর উপর সীমানায় বিশেষ করে সদরঘাট হতে ৩য় কর্ণফুলী সেতুর উজানে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নেভিগেশনাল চ্যানেল ও সংযুক্ত খাল সমূহে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজ সম্পাদনের ফলে উক্ত এলাকায় লাইটার জাহাজ সহ অন্যান্য নৌযান সমূহ সমন্বিতভাবে শৃংখলাবদ্ধ উপায়ে বার্থিং করা হচ্ছে বিধায় নৌ দূর্ঘটনা অনেকাংশে উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। একইসাথে উক্ত এলাকায় শহরের সাথে সংযুক্ত ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মূখে চবক সীমানায় ড্রেজিং পূর্বক নাব্যতা রক্ষা করার ফলে খাল দিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত পানি সমূহ নির্বিঘ্নে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ইহা আগামী বর্ষায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকাংশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এরূপ পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে কর্ণফুলী নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য অংশে দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না, যা নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সহ নদীতে পলি জমার হার অনেকাংশে কমে আসছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর সহ অন্যান্য ব্যাক্তি মালিকানাধীন জেটি/ বার্থ সমূহ এর সুফল পাচ্ছে। উল্লেখ্য, উক্ত খাল সমূহের সম্মুখভাগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ড্রেজিং করা হলে উক্ত সংস্থার খাল ড্রেজিং খাতে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৮৫ পঁচাশি কোটি টাকা খরচ হত, যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ড্রেজিং করার কারণে সাশ্রয় হয়েছে।


ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ