আজঃ রবিবার ২৮ জুন, ২০২৬

নবাবের পেছনে দৈনিক ৭শ’ টাকা ব্যয়, খায় ১৫ কেজি খাবার

বদিউজ্জামান রাজাবাবু  চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নে মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে একটি বিশালাকৃতির গরু।‘নবাব’ নামের এই গরুটি দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় নানা বয়সী মানুষ।

খামারি আক্তার হোসেনের খামারে বেড়ে ওঠা হলিস্ট্রিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি সম্পূর্ণ দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে লালন-পালন করা হয়েছে। প্রায় তিন বছর ধরে যত্নে বড় করা গরুটির আনুমানিক ওজন প্রায় ২৫ মণ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহানন্দা নদীর তীরবর্তী এলাকায় গড়ে ওঠা খামারটিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে গরুটির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও তার পরিবারের সদস্যরা। পরিবারের সদস্যের মতোই যত্নে রাখা হচ্ছে ‘নবাব’কে।

খামারি সূত্রে জানা যায়, গরুটির প্রধান খাদ্য মহানন্দা নদীর চরে উৎপাদিত টাটকা কাঁচা ঘাস। এছাড়াও প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ কেজি দানাদার খাবার হিসেবে গম, ভুট্টা, ছোলা ও ভুষি খাওয়ানো হয়। গরুটির পেছনে দৈনিক প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হোসেন বলেন, “নবাব ছোট থেকেই তাদের খামারে বড় হয়েছে। খুব যত্ন করে তাকে লালন-পালন করা হয়েছে। প্রতিদিন প্রচুর খাবার দিতে হয়।

আরেক বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, “তিন বছর ধরে গরুটিকে দেখছি। এটি খুব শান্ত স্বভাবের গরু। ছোট শিশুও সহজে ধরে নিয়ে যেতে পারবে।”

খামারি আক্তার হোসেন জানান, “গরুটির বয়স প্রায় তিন বছর। ছোট থেকেই নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছি। প্রতিদিন এর পেছনে যে খরচ হয়, তা দিয়ে একটি পরিবারের সংসার চলতে পারে। গরুটির দাম প্রায় ৮ লাখ টাকা আশা করছি।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শারমিন আক্তার বলেন, জেলার চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। তিনি জানান, উন্নত জাতের গরু পালনে খামারিরা এখন আরও আগ্রহী হচ্ছেন এবং ‘নবাব’ সেই আগ্রহেরই একটি উদাহরণ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত, এলাকায় উত্তেজনা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হাসপাতাল সড়কের আমবাজার এলাকায় পূর্ব বিরোধের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে মো. রজব (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রজব শহরের মসজিদপাড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে। একই এলাকার দুই বন্ধু মো. মেহেদী (২৪) ও মো. জিসান (২৭) দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব বিরোধে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে আমবাজার এলাকায় রজবের সঙ্গে জিসানের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে জিসান রজবের বুকের ডান পাশে ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় মেহেদী রজবকে ধরে রাখে বলেও স্থানীয়দের বরাতে জানায় পুলিশ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একরামুল হক জানান, ঘটনার সময় অভিযুক্ত দুই যুবকই মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে বিরোধের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা রজবকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একরামুল হোসাইন পিপিএম জানিয়েছে, অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ