বার্জ বা বোট ভেড়ানো, গাড়ি চলাচলসহ নানা কাজে সৃষ্টি হবে প্রতিবন্ধকতা

চট্টগ্রাম বন্দরের ১৪ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি ইজারায় তোলপাড়।

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমি ইজারার ঘটনায় চলছে তোলপাড়। একজনের ইজারা করা জমি আরেকজনকে দেওয়ার এমন ৬চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ১৪ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি ৬ মাসের ইজারা নিয়ে এই তুঘলকি কাণ্ড করেছে বন্দরের এস্টেট বিভাগ। বন্দরের মাঝিরঘাট এলাকায় মেসার্স এসএস ট্রেডিং নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী পন্টুন ও জেটি নির্মাণের জন্য নদীর তীর থেকে নদীর দিকে ১৫০ ‘দৌড় ফুট’ জমির মধ্যে ১০০ ‘দৌড় ফুট’ জমি লিজ দেয়। এর মধ্যে ৬০ ফুটই মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়ার নামে অপর ইজারাদারের জমি। ৭ মে ইজারা সংক্রান্ত চিঠি ইস্যুর পর হতবাক হয়েছেন মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া।

তার অভিযোগ, বন্দরের এস্টেট বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিপক্ষের থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে এমন অন্যায় করেছেন। এক্ষেত্রে আমাকে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। আমার লিজও বাতিল করা হয়নি। এ অবস্থায় আমার নামে থাকা জমি অন্যজনকে লিজ দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি জানান, হালসনের ইজারার টাকা পর্যন্ত তিনি পরিশোধ করেছেন বন্দরের কোষাগারে।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী ব্যবস্থাপক রায়হান উদ্দিন ৭ মে এসএস ট্রেডিংয়ের অনুকূলে ১০০ ‘দৌড় ফুট’ নদীমুখের জমি ইজারার চিঠি ইস্যু করেন। নদীমুখের প্রতি ‘দৌড় ফুট’ জমির ভাড়া বছরে ৫ হাজার ২০০ টাকা হিসাবে নির্ধারণ করা হয়।
সূত্র জানায়, মাঝিরঘাট এলাকায় কর্ণফুলী নদীর ডান তীরে নদী তীরবর্তী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) ১২ হাজার বর্গফুট জমি ইজারা ছিল মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়ার নামে। ২০২২ সালের বন্দরের নিজস্ব প্রয়োজনের কথা বলে সেখান থেকে সাড়ে চার হাজার বর্গফুট জমি উচ্ছেদ করে নিজেদের আওতায় নেয়। ইউসুফের ঘাটের সঙ্গে লাগানো এই জমিসহ ১৪ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি ৭ জানুয়ারি এসএস ট্রেডিংকেই ইজারা দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ৬ মাসের জন্য ইজারা দেওয়া হয়। অথচ এ জমির জন্য ফেরদৌস ইউসুফসহ আরও তিনজন আবেদনকারী ছিলেন।

মোহাম্মদ ইউসুফ মিয়া বলেন, যেহেতু আমার নামে লিজ ছিল এবং বন্দরের নিজস্ব প্রয়োজনের কথা বলে আমাকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, সেখানে সেই জমি এসএস ট্রেডিং বা অন্য প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া অন্যায়। আমার লিজ করা জমির সামনের নদীমুখ এবং পাশের জমি অন্যজনকে দিয়ে দেওয়ার কারণে বার্জ বা বোট ভেড়ানো, গাড়ি চলাচলসহ নানা কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হবে। এতে আমি ব্যবসায়িকভাবে বিপদের সম্মুখীন হব।
এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের সহকারী ব্যবস্থাপক (ভূমি-২) রায়হান উদ্দিন বলেন, ফেরদৌস ইউসুফ এবং এসএস ট্রেডিং ব্যবসায়িক অংশীদার। তাদের সম্মতিতেই নদীমুখে ১০০ ফুট এসএস ট্রেডিং-এর নামে লিজ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে একই এলাকায় এসএস ট্রেডিংকে ১৪ হাজার ৯৪০ বর্গফুট জমি লিজ দেওয়া ক্ষেত্রে একটি যৌক্তিক কারণ ছিল। সেটি হচ্ছে-তারা ওপেন টেন্ডারে পতেঙ্গা বন্দরের একটি জায়গা পেয়েছিল। কিন্তু সংগতকারণে সেটি একটি বিদেশি কোম্পানিকে দিতে হয়েছে। এর পরিবর্তে মাঝির ঘাটের জমি ৬ মাসের জন্য এসএস ট্রেডিংকে দেওয়া হয়েছে।এদিকে মোহাম্মদ ইউছুপ মিয়া নিজের ইজারার জমি অন্যজনকে দেয়ায় গত ১৭ মে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানকে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

একরামুল হত্যা মামলায় হাসিনা-বেনজীরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টেকনাফের একরামুল হক হত্যা মামলায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আট আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামিকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

২৬ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মিরসরাইয়ে আধুনিক ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পের যাত্রা শুরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) প্রায় ২০০ কোটি টাকা দেশীয় বিনিয়োগে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের আধুনিক বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)-এ এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বেজা জানায়, এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১০ একর জমিতে শিল্প কারখানাটি স্থাপন করবে। প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগ করা হবে। এখানে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমইপি গ্রুপ বর্তমানে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, পলিমার, প্যাকেজিং, শিপিং ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। দেশজুড়ে তাদের এক হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং প্রায় দুই হাজার করপোরেট ক্লায়েন্ট রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার, পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার ও ফাহিম আলম চাকলাদার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এই প্রকল্প দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বৈদ্যুতিক পণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে বেজা ও এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের মধ্যে ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে বেজা। বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে এবং আরও প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলমান। দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত এই শিল্পাঞ্চলে শিল্প স্থাপনার পাশাপাশি আধুনিক নগর সুবিধাও গড়ে তোলা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ