
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে (এনএসইজেড) প্রায় ২০০ কোটি টাকা দেশীয় বিনিয়োগে এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের আধুনিক বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পের যাত্রা শুরু হয়েছে। ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে গড়ে ওঠা এই প্রকল্পে প্রায় দুই হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)-এ এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন শিল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বেজা জানায়, এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেড জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায় ১০ একর জমিতে শিল্প কারখানাটি স্থাপন করবে। প্রকল্পে প্রায় ২০০ কোটি টাকা সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগ করা হবে। এখানে বৈদ্যুতিক তার, সুইচ-সকেট, ফ্যান, এলইডি লাইট, সার্কিট ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন করা হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৭৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এমইপি গ্রুপ বর্তমানে বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন, পলিমার, প্যাকেজিং, শিপিং ও কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে। দেশজুড়ে তাদের এক হাজারের বেশি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক এবং প্রায় দুই হাজার করপোরেট ক্লায়েন্ট রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বেজার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার, পরিচালক শকিল আলম চাকলাদার ও ফাহিম আলম চাকলাদার, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও শিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম চাকলাদার বলেন, বিশ্বমানের প্রযুক্তিনির্ভর ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলাই তাদের লক্ষ্য। এই প্রকল্প দেশীয় বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ বৈদ্যুতিক পণ্যের অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে বেজা ও এমইপি হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক লিমিটেডের মধ্যে ভূমি লিজ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রকল্পটির নির্মাণকাজ ২০২৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে ২০২৯ সালের জানুয়ারি থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন শুরু হলে প্রায় দুই হাজার মানুষের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে জানিয়েছে বেজা। বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১৭টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান উৎপাদনে রয়েছে এবং আরও প্রায় ২০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের নির্মাণকাজ চলমান। দেশের বৃহত্তম পরিকল্পিত এই শিল্পাঞ্চলে শিল্প স্থাপনার পাশাপাশি আধুনিক নগর সুবিধাও গড়ে তোলা হচ্ছে।