আজঃ বৃহস্পতিবার ২১ মে, ২০২৬

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছাতে একযোগে কাজ করার আহ্বান

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বাংলাদেশ গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্প’-এর অধীনে বুধবার সকাল ১০ টায় চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে ‘জেন্ডার সংবেদনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক গ্রাম আদালত বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউএনডিপি -এর সহযোগিতায় এই কর্মশালার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন, চট্টগ্রাম।

“অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে”এই মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় সহজে ও দ্রুত বিচারিক সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গ্রাম আদালত পরিচালনায় জেন্ডার সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।চট্টগ্রামের উপপরিচালক (উপসচিব) স্থানীয় সরকার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

তিনি বলেন, যুগের সাথে তাল মিলিয়ে গ্রাম আদালতকে আরও আধুনিক ও সক্রিয় করে তুলতে হবে। প্রযুক্তির সহায়তায় ডিজিটাল অ্যাপসের মাধ্যমে গ্রাম আদালতের তথ্য হালনাগাদ করা এবং মামলার অগ্রগতি জানার সুযোগ তৈরি করা এখন সময়ের দাবি। গ্রামীণ জনপদে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারীদের জন্য দ্রুত ও সহজ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাধারণ মানুষের মধ্যে এই আদালতের প্রতি আস্থা আরও দৃঢ় করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এর সুফল সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা বৃদ্ধি করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম রেঞ্জের অ্যাডিশনাল ডিআইজি (অপারেশনস্) সফিজুল ইসলাম উল্লেখ করেন, অনেক সময় সাধারণ মানুষ গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলাগুলো না বুঝে সরাসরি সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করেন, যা মূলত ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম আদালতেই নিষ্পত্তিযোগ্য। এই বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন, যাতে সবাই জানতে পারে ইউনিয়ন পরিষদেই এই আইনি সেবা পাওয়া যায়। গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও এর পরিধি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি অবহিত করার মাধ্যমে গ্রামীণ বিচার ব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

সভাপতির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (উপসচিব) গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান বলেন, গ্রাম আদালতকে আরও জেন্ডার সংবেদনশীল ও সাধারণ মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে কাজ করতে হবে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়ার এই লক্ষ্যকে সফল করতে সকল অংশীজনকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

বিভাগীয় কর্মশালায় চট্টগ্রাম, চাঁদপুর, নোয়াখালী ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব কাজী তারিক আজিজ, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ সুব্রত বিশ্বাস, ইউএনডিপি বাংলাদেশের জেন্ডার এনালিস্ট শামিমা আক্তার শাম্মি, ইপসার সহকারী পরিচালক ফারহানা ইদ্রিস প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় নিরাপদ দুধ উৎপাদনে পরিবহন ও সংরক্ষণ বিষয়ক খামারি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নিরাপদ দুধ উৎপাদন, পরিবহন ও সংরক্ষণ বিষয়ক খামারি প্রশিক্ষণ;ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের আয়োজনে ভাঙ্গুড়া উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে বক্তব্য রাখেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আরিফুজ্জামান, ভাঙ্গুড়া থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ আরিফুল ইসলাম, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ডাঃ রুমানা আক্তার রোমিও, ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের আরএম ডাঃ মোঃ রিয়াজুল ইসলাম,ডাঃ ইমরান হোসেন ও মনিটর মোঃ একরামুল হাবিব,মোঃ আসাদ আলী এরিয়া ম্যানেজার।

প্রশিক্ষণে ভাঙ্গুড়ার খামারিদের নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত দুধ উৎপাদনের বিভিন্ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। বক্তারা দুধ উৎপাদনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, গাভীর সঠিক পরিচর্যা, আরামদায়ক পরিবেশে লালন-পালন, পুষ্টিকর খাবার প্রদান এবং দুধের উৎপাদন বৃদ্ধি করার কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

এছাড়াও খামারিদের ভেজাল দুধের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন করা হয় এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

প্রশিক্ষণ শেষে ব্র্যাক ডেইরি এন্ড ফুড প্রজেক্টের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী খামারিদের গাভীর দুধ সংগ্রহের জন্য একটি করে পাত্র ও নগদ ভাতা এবং দুপুরের খাবারের ব্যবস্থাও করা হয়।

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে থাই নাবিকের মৃত্যু, অভিযুক্ত তুরাকর্ন গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপকূলের গভীর সমুদ্রে নোঙর করা একটি বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজে দুই ক্রুর মধ্যে সংঘর্ষে থাইল্যান্ডের নাগরিক নিহতের ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার সকালে ওই জাহাজ থেকে তুরাকর্ন বুরুসিক (৩৫) নামের অভিযুক্ত ক্রুকে গ্রেফতার করে আনোয়ারা থানার পুলিশ। এর পর চট্টগ্রাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে আসামি তুরাকর্ণ বুরুসিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুবায়ের চৌধুরী। নিহত থাইল্যান্ডের নাবিকের নাম রাফিফং ক্লাহান (৩০)।তিনি জাহাজটিতে অয়েলার পদে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারিতে স্ক্র্যাপিংয়ের জন্য আনা একটি জাহাজে দায়িত্ব পালনকে কেন্দ্র করে থাইল্যান্ডের দুই নাবিকের মধ্যে বাক্বিতণ্ডা হয়।একপর্যায়ে সেই বিরোধ সংঘর্ষে গড়ায়। এ সময় রান্নার কাজে ব্যবহৃত ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন রাফিফং ক্লাহান।পরে জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

ওসি জুবায়ের চৌধুরী বলেন, থাইল্যান্ডের এক নাবিকের নিহতের মামলায় মঙ্গলবার রাতে আরেক থাই নাবিক তুরাকর্ণ বুরুসিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। লাশ ময়নাতদন্ত শেষে ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম কাস্টমসে নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেয়া ২২০ কন্টেইনার পণ্য বিক্রি হবে নিলামে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া ২২০ টি কন্টেইনার নিলামে তোলার পদক্ষেপ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস। বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘদিনের জট নিরসনে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। সর্বমোট ১৩৭টি লটে ২২০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে। বিশেষ করে আমদানির পর নির্দিষ্ট সময়ে ডেলিভারি না নেওয়া এসব কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হচ্ছে।এই নিলাম প্রক্রিয়া অনলাইনে (ই-অকশন) সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, পুরো মে মাস জুড়ে দরদাতাদের জন্য সরেজমিনে পণ্য পরিদর্শনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে সর্বোচ্চ দরদাতাদের পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে আমদানি নীতি আদেশ ২০২১-২০২৪ এর শর্তাবলী মেনে চলতে হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউস কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্দরকে কন্টেইনার জটমুক্ত করতে এবং ভৌত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের নিলাম কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, আমদানিকৃত এসব পণ্য মাসের পর মাস বন্দরে পড়ে থাকায় একদিকে যেমন বন্দরের জায়গা দখল হয়ে আছে, অন্যদিকে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা আটকে রয়েছে। এতে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও সক্ষমতা কমছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় রোধে মে মাসে দুই ধাপে এই ই-অকশন অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিশেষ আদেশ অনুসারে ‘ই-অকশন-৪/২০২৬’-এর আওতায় ১২০টি লটে ১৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে তোলা হবে।
এই তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল, মেশিনারিজ, কাগজ, কাপড় (ফেব্রিক্স), গৃহস্থালির সামগ্রী এবং এসি পার্টস। বিশেষ বিষয় হলো, এই পণ্যগুলোর নিলামে কোনো সংরক্ষিত মূল্য থাকছে না। এই ধাপের দরপত্র আগামী ৯ জুন সকাল ১১টায় খোলা হবে। অন্যদিকে, স্থায়ী আদেশ অনুযায়ী ‘ই-অকশন-৫/২০২৬’-এর আওতায় ১৭টি লটে আরও ৬০ কন্টেইনার পণ্য নিলামে বিক্রি করা হবে।

এর মধ্যে রয়েছে ক্যাপিটাল মেশিনারিজ, প্যাসেঞ্জার এলিভেটর, স্টিল স্ক্র্যাপ, গাড়ি এবং লবণ। এই ধাপের দরপত্র আগামী ১৪ মে দুপুর ৩টায় উন্মুক্ত করা হবে। নিলাম প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্যক্রমটি পরিচালিত হচ্ছে। আগ্রহী ক্রেতারা ঘরে বসেই বাংলাদেশ কাস্টমসের অফিসিয়াল ই-অকশন পোর্টালে নিবন্ধন করে দরপত্র দাখিল করতে পারবে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ