আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের স্বীকৃতির আগেই সাইক্লিস্টদের অধিকার আন্দোলনে পথচলা:

আমিনুল ইসলাম টুববুস সভাপতি, বিডি ক্লিক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৃথিবীতে যখন বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না, তখনও নানা ধরনের দিবস পালিত হতো। বিশ্ব গাধা দিবস থেকে শুরু করে বিশ্ব ডিম দিবস, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস সহ অসংখ্য দিবস পালন করা হয়।কিন্তু দুঃখজনকভাবে ২০১০ সালের দিকে সাইক্লিস্টদের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত দিবস ছিল না।

এই বাস্তবতা থেকেই দেশের সাইক্লিস্টদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতিষ্ঠার দাবিকে সামনে রেখে এ.আই. টুববুসের নেতৃত্বে বিডি ক্লিক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।

সাইকেলবান্ধব নগরী গঠন এবং নিরাপদ সাইকেল অবকাঠামোর দাবিতে ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম শুক্রবার “সাইকেল লেন দিবস” পালন করা হয়। এর মাধ্যমে সাইক্লিস্টদের নিরাপদ চলাচল, পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ,ঢাকা সাইক্লিং ক্লাবের মরহুম মাসুম, বাংলাদেশ সাইকেল ফেডারেশনের সভাপতি মিজানুর রহমান মানু, গিনিস রেকর্ড প্রাপ্ত
জুবাইরা রহমান নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাব, লাল সবুজ সাইক্লিং ক্লাবের মাজহারুল ইসলাম তারেক, কেরানীগঞ্জ সাইক্লিস্টের ,সভাপতি ,শাকিলু রহমান শাকিল, কেরানীগঞ্জ সাইক্লিং ক্লাবের সভাপতি কালিম সান্টু, WBB ট্রাস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাব , সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাইকেলপ্রেমী মানুষ।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—সাইকেলকে শুধু বিনোদনের বাহন হিসেবে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত এবং টেকসই যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

এই দাবি সামনে এনে সচেতনতা গড়ে তুলতে গিয়ে নানা সময়ে কটাক্ষ, উপহাস ও অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানের অনেক প্রতিষ্ঠিত সাইক্লিস্ট সংগঠনও প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। কেউ কেউ উৎসাহ দিলেও পরে সরে গিয়েছেন। অনেকে এটিকে হাস্যরসের বিষয় হিসেবেও দেখেছেন। কিন্তু এ.আই. টুববুস থেমে যাননি। দৃঢ় বিশ্বাস, অধ্যবসায় ও ভালোবাসা নিয়ে তিনি সাইক্লিস্টদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে গেছেন অবিরাম।

এ.আই. টুববুস বলেন, “সাইক্লিং যাতায়াতের মাধ্যমে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্য টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বাইসাইকেল এমন একটি বাহন, যা দৈনন্দিন যাতায়াতকে সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলে। নাগরিক সুস্বাস্থ্য, জ্বালানি সাশ্রয় এবং যানজট নিরসনে নিরাপদ সাইকেল লেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

প্রতি বছর ৩ জুন বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির স্বীকৃতি প্রদান করে।
২০২৬ সালে “সাইকেল লেন দিবস” পালনের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ.আই. টুববুস বলেন, “বাইসাইকেল কেবল দুই চাকার একটি বাহন নয়; এটি একটি জীবনধারা, পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক। সাইক্লিংকে আরও জনপ্রিয় ও নিরাপদ করতে সারা দেশে সাইকেল লেন নির্মাণ এবং ‘সাইকেল লেন দিবস’-এর গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।”

আজ বিশ্বব্যাপী সাইকেল দিবস পালিত হচ্ছে। মানুষ নতুন করে উপলব্ধি করছে সাইকেলের গুরুত্ব। এই অর্জনের পেছনে যারা শুরু থেকেই নিরবে কাজ করেছেন, তাদের অবদান নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।সাইকেল শুধু একটি বাহন নয়—এটি সুস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবিক সচেতনতার প্রতীক। আর সেই সচেতনতার বীজ যারা বহু আগেই রোপণ করেছিলেন, তাদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য: • বিশ্ব ডিম দিবস: ১৯৯৬ সাল থেকে, অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার।
• বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস: ২০০৮ সাল থেকে পালিত হচ্ছে।• বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস: জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ২০১৮ সালে; পালিত হয় প্রতি বছর ৩ জুন।
• সাইকেল লেন দিবস: ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম শুক্রবার পালন শুরু হয় ।২০২৬ সালে ১৫ বছর পূর্তি।২০১৮ সালের ৮ মে ,প্রথমবারের মতো পালিত হয় বিশ্ব গাধা দিবস।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে পাবনার ভাঙ্গুড়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি’র আওতায় বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ ভাঙ্গুড়া পৌর এলাকায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা পৌর প্রশাসক, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ভাঙ্গুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাকিউল আজম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

বৃক্ষরোপণ শেষে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করতে বেশি বেশি করে গাছ লাগানোর কোন বিকল্প নেই। সরকারের এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাই কে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভিন্ন স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। এ উদ্যোগ ভাঙ্গুড়ার পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বোয়ালখালীতে ট্রেনে কাটা পড়া অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার পূর্ব কালুরঘাট ১২ নম্বর ব্রিজ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার পরনে লুঙ্গি ও নীল রঙের গেঞ্জি ছিল। বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খবর পেয়ে বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

বোয়ালখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ অলক চাকমা বলেন, “ট্রেনে কাটা পড়ে লোকটির দেহ কোমর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তার বয়স আনুমানিক ৪০ থেকে ৪৫ বছর হবে। ঘটনাটি রেলওয়ে থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

গোমদণ্ডী রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার কাঞ্চন ভট্টাচার্য বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা কক্সবাজারগামী প্রবাল এক্সপ্রেস ট্রেন কালুরঘাট সেতু পার হয়ে আসার পথে এক ব্যক্তি কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন। ট্রেনটি বিকেল ৪টা ৩৮ মিনিটে গোমদণ্ডী স্টেশন ত্যাগ করে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ