এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন



পৃথিবীতে যখন বিশ্ব বাইসাইকেল দিবসের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি ছিল না, তখনও নানা ধরনের দিবস পালিত হতো। বিশ্ব গাধা দিবস থেকে শুরু করে বিশ্ব ডিম দিবস, বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস সহ অসংখ্য দিবস পালন করা হয়।কিন্তু দুঃখজনকভাবে ২০১০ সালের দিকে সাইক্লিস্টদের জন্য কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃত দিবস ছিল না।

এই বাস্তবতা থেকেই দেশের সাইক্লিস্টদের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন কিছু স্বপ্নবাজ মানুষ। বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস প্রতিষ্ঠার দাবিকে সামনে রেখে এ.আই. টুববুসের নেতৃত্বে বিডি ক্লিক দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।
সাইকেলবান্ধব নগরী গঠন এবং নিরাপদ সাইকেল অবকাঠামোর দাবিতে ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম শুক্রবার “সাইকেল লেন দিবস” পালন করা হয়। এর মাধ্যমে সাইক্লিস্টদের নিরাপদ চলাচল, পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণ এবং পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে এই আন্দোলন আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করে।

এই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন ,ঢাকা সাইক্লিং ক্লাবের মরহুম মাসুম, বাংলাদেশ সাইকেল ফেডারেশনের সভাপতি মিজানুর রহমান মানু, গিনিস রেকর্ড প্রাপ্ত
জুবাইরা রহমান নিলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাব, লাল সবুজ সাইক্লিং ক্লাবের মাজহারুল ইসলাম তারেক, কেরানীগঞ্জ সাইক্লিস্টের ,সভাপতি ,শাকিলু রহমান শাকিল, কেরানীগঞ্জ সাইক্লিং ক্লাবের সভাপতি কালিম সান্টু, WBB ট্রাস্ট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাইক্লিং ক্লাব , সহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সাইকেলপ্রেমী মানুষ।
তাদের উদ্দেশ্য ছিল একটাই—সাইকেলকে শুধু বিনোদনের বাহন হিসেবে নয়, বরং পরিবেশবান্ধব, স্বাস্থ্যসম্মত এবং টেকসই যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।

এই দাবি সামনে এনে সচেতনতা গড়ে তুলতে গিয়ে নানা সময়ে কটাক্ষ, উপহাস ও অবহেলার শিকার হতে হয়েছে। বর্তমানের অনেক প্রতিষ্ঠিত সাইক্লিস্ট সংগঠনও প্রথমদিকে বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি। কেউ কেউ উৎসাহ দিলেও পরে সরে গিয়েছেন। অনেকে এটিকে হাস্যরসের বিষয় হিসেবেও দেখেছেন। কিন্তু এ.আই. টুববুস থেমে যাননি। দৃঢ় বিশ্বাস, অধ্যবসায় ও ভালোবাসা নিয়ে তিনি সাইক্লিস্টদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে গেছেন অবিরাম।

এ.আই. টুববুস বলেন, “সাইক্লিং যাতায়াতের মাধ্যমে ব্যক্তি ও রাষ্ট্র উভয়ের জন্য টেকসই উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। বাইসাইকেল এমন একটি বাহন, যা দৈনন্দিন যাতায়াতকে সহজ, সাশ্রয়ী ও স্বাস্থ্যসম্মত করে তোলে। নাগরিক সুস্বাস্থ্য, জ্বালানি সাশ্রয় এবং যানজট নিরসনে নিরাপদ সাইকেল লেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

প্রতি বছর ৩ জুন বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস পালিত হয়। ২০১৮ সালের ১২ এপ্রিল জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটির স্বীকৃতি প্রদান করে।
২০২৬ সালে “সাইকেল লেন দিবস” পালনের ১৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ.আই. টুববুস বলেন, “বাইসাইকেল কেবল দুই চাকার একটি বাহন নয়; এটি একটি জীবনধারা, পরিবেশ রক্ষার হাতিয়ার এবং টেকসই উন্নয়নের প্রতীক। সাইক্লিংকে আরও জনপ্রিয় ও নিরাপদ করতে সারা দেশে সাইকেল লেন নির্মাণ এবং ‘সাইকেল লেন দিবস’-এর গুরুত্ব নতুন করে উপলব্ধি করা প্রয়োজন।”

আজ বিশ্বব্যাপী সাইকেল দিবস পালিত হচ্ছে। মানুষ নতুন করে উপলব্ধি করছে সাইকেলের গুরুত্ব। এই অর্জনের পেছনে যারা শুরু থেকেই নিরবে কাজ করেছেন, তাদের অবদান নিঃসন্দেহে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।সাইকেল শুধু একটি বাহন নয়—এটি সুস্বাস্থ্য, পরিবেশ সুরক্ষা এবং মানবিক সচেতনতার প্রতীক। আর সেই সচেতনতার বীজ যারা বহু আগেই রোপণ করেছিলেন, তাদের প্রতি রইল গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।

তথ্যসূত্র হিসেবে উল্লেখযোগ্য: • বিশ্ব ডিম দিবস: ১৯৯৬ সাল থেকে, অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার।
• বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস: ২০০৮ সাল থেকে পালিত হচ্ছে।• বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস: জাতিসংঘ কর্তৃক স্বীকৃত ২০১৮ সালে; পালিত হয় প্রতি বছর ৩ জুন।
• সাইকেল লেন দিবস: ২০১১ সালের এপ্রিল মাসের প্রথম শুক্রবার পালন শুরু হয় ।২০২৬ সালে ১৫ বছর পূর্তি।২০১৮ সালের ৮ মে ,প্রথমবারের মতো পালিত হয় বিশ্ব গাধা দিবস।




নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী সাইপ্রাসের প্রার্থীকে হারিয়ে বিজয়ী হয়েছেন তিনি।





