
ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি সৌদি আরবে হামলাকে পাকিস্তানের ওপর হামলার সমতুল্য মনে করছে পাকিস্তান। এব্যাপারে ইরানকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে পাকিস্তান । শনিবার ১৮ জুলাই পাকিস্তানি কর্মকর্তার এমন বক্তব্য বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর সৌদি আরবের নিরাপত্তা নিয়ে পাকিস্তানের উদ্বেগ বেড়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই পাক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের শীর্ষ বেসামরিক ও সামরিক নেতৃত্ব ইরানের সর্বোচ্চ পর্যায়কে জানিয়েছে যে-সৌদি আরবের ওপর হামলা মানেই পাকিস্তানের ওপর হামলা। এটি আমাদের রেড লাইন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত নিরসনে গত মাসে সমঝোতা প্রতিষ্ঠায় মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করা পারমাণবিক শক্তিধর পাকিস্তান গত বছর সৌদি আরবের সঙ্গে একটি পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশের যেকোনো একটির ওপর আগ্রাসন হলে সেটিকে উভয়ের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।অভিযোগ উঠেছে হুতির নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি আরব হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগে দেশটির দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে হুতি। এতে চার বছরের অনানুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি ভেঙে যায়।
পাকিস্তানি কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেন সীমান্তসংলগ্ন সৌদি এলাকায় পাকিস্তানি সেনারা মোতায়েন রয়েছেন। ফলে হুতিদের সম্ভাব্য নতুন হামলার ঝুঁকির মুখে পড়তে পারেন তারাও।এদিকে, গোষ্ঠীটির হামলা যদি লোহিত সাগরে জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটায়, তাহলে পাকিস্তানের বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পাকিস্তানসহ অনেক দেশের জন্য লোহিত সাগর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে পাকিস্তান-সৌদি প্রতিরক্ষা চুক্তি ঘোষণার পর অনেক বিশ্লেষক মনে করেছিলেন, উপসাগরীয় আরব দেশগুলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পাকিস্তানসহ আঞ্চলিক অংশীদারদের দিকে ঝুঁকছে।পাকিস্তান মূলত মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনার কারণে পাকিস্তানের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় সরকার জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আগেভাগে বন্ধসহ জরুরি পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়েছে।
খবর – জিও নিউজ,এনএ