RDRC ও DNCC-র যৌথ উদ্যোগে ‘অভিজ্ঞতা বিনিময়’ অনুষ্ঠান

গুলশান-বনানী লেক পুনরুদ্ধারে প্রয়োজন সব অংশীজনের সম্মিলিত প্রচেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গুলশান-বনানী লেক পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবস্থাপনায় সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় কমিউনিটি ও অন্যান্য অংশীজনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (DNCC) ষষ্ঠ তলার মিনি অডিটোরিয়ামে রিভার অ্যান্ড ডেল্টা রিসার্চ কনসালটেন্টস লিমিটেড (RDRC) ও DNCC-এর যৌথ উদ্যোগে রি-ওয়েট (ReWET) প্রকল্পের ‘অভিজ্ঞতা বিনিময় (Knowledge Exchange)’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে গুলশান-বনানী লেকের পুনরুদ্ধার, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নগর কৃষি, নেচার-বেইজড সলিউশন এবং কমিউনিটি নেতৃত্বাধীন উদ্যোগের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন DNCC-এর প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, পিএসসি। প্রধান অতিথি ছিলেন DNCC-এর প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রি-ওয়েট প্রকল্পের কো-লিড ও যুক্তরাষ্ট্রের স্মিথ কলেজের সহকারী অধ্যাপক ইফাদুল হক। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুক্তরাজ্যের IIED-এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার বেথ ডাউনি।

মূল প্রবন্ধে ইফাদুল হক বলেন, রি-ওয়েট একটি এভিডেন্স-বেসড আরবান ওয়েটল্যান্ড রেস্টোরেশন মডেল। গবেষণা ও প্রমাণভিত্তিক তথ্যের আলোকে শহুরে জলাভূমির পরিবেশগত ও সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় এ প্রকল্প কাজ করছে। ডেমোনস্ট্রেশন গ্রাউন্ডে প্রায় ১৫০ ফুট দীর্ঘ সেমি-সার্কুলার বাঁশের কাঠামো তৈরি করে ২৩ ধরনের টুলকিট পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। মাছ চাষের পাশাপাশি ভেজিটেশন ও ফ্লোটিং গার্ডেন স্থাপনের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য ও খাদ্যনিরাপত্তা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

RDRC-এর ট্রেজারার মো. আমিনুর রসুল বলেন, রি-ওয়েট প্রকল্পের মাধ্যমে গুলশান-বনানী লেকে প্রাণ-প্রকৃতি ফিরে এসেছে এবং পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। DNCC প্রকল্পটির মালিকানা গ্রহণ করে কার্যকরভাবে গাইড করলে এ মডেল সারা দেশের অন্যান্য শহুরে জলাভূমিতেও ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব। এ জন্য ঢাকা ওয়াসা, রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রি-ওয়েট প্রকল্পের কনসোর্টিয়াম কো-অর্ডিনেটর শুভাশিস দাস শুভ জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ড্রাই ও ওয়েট সিজনে লেকের পানির গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। চলতি বছর পানি, মাটি, ফ্লোটিং গার্ডেন ও লেকপাড়ের সবজি এবং মাছের নমুনায় হেভি মেটালসহ বিভিন্ন উপাদান পরীক্ষা করা হচ্ছে। ফলাফল আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।

IIED-এর বেথ ডাউনি বলেন, বিভিন্ন অংশীজনের একসঙ্গে কাজ করার উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। অন্যদিকে UKFCDO-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি এএসএম মারজান নূর বলেন, জলবায়ু কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, স্থানীয় প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

DNCC প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন ও সম্প্রসারণ করা গেলে রি-ওয়েট সারা দেশের জন্য কার্যকর মডেল হতে পারে। তবে লেক ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। পানির গুণগত মান, দূষণ এবং ডেঙ্গু বা মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিসহ বিভিন্ন বিষয় গবেষণার মাধ্যমে নিশ্চিত করে সমন্বিত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। এ ধরনের উদ্যোগে DNCC-এর পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেন তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রাষ্ট্রপতি স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নেই : অলি আহমদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বঙ্গভবনে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ আছে। এসব মাজার জিয়ারত এবং মসজিদে নামাজ পড়া ছাড়া রাষ্ট্রপতির স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ নেই : অলি আহমদ

চট্টগ্রাম স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্টা বার্ষিকীতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড পরিচালক ইসরাফিল খসরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্টা বার্ষিকী উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছা সেবক দলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলী মর্তুজা খাঁনের সভাপতিত্বে এতিম ও অসহায় হতদরিদ্র দের মাঝে খাবার বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অথিতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসরাফিল খসরু মাহমুদ চৌধুরী
পরিচালক ও চেয়ারম্যান অর্থ কমিটি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও সদস্য আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ কমিটি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

চট্টগ্রাম স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইসরাফিল খসরু বলেন – জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল সব সময় মানুষের কল্যানে কাজ করে চলেছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও আপোষহীন সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বহু দলীয় গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কাজ করে গেছেন। তাহারা মানব ও মানবতার কল্যানে আমৃত্যু আপামর জনসাধারণের কল্যানে যে কাজ করে গেছেন, তাঁদের উত্তরসূরী তরুণ প্রজন্মের অহংকার রাষ্ট্রনায়ক তারেক রহমান আজ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদ মুক্ত হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের জঞ্জাল সরানোর জন্য দিনরাত কাজ করে চলেছেন।

প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের ১ নং যুগ্ন আহবায়ক মাইনুদ্দিন রাশেদ,মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ন আহবায়ক রিফাত হোসেন শাকিল,সাবেক সহ সভাপতি হারুন আল রশিদ,
সাবেক সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ তারেক আহমেদ,
মোঃ আলমগীর,নূহ গাজী সেলিম,মোঃ জাকির,
মোঃজহির আহাম্মেদ,মোঃ রিদওয়ান,মাহি রুবেল,
জাকির হোসেন মিশু,সদর ঘাট থানার আহবায়ক আরাফাত,মেহেরাজ উদ্দিন,আজিজুল হক আজাদ,
মোঃ কাওসার,মোঃ মোতালেব,মোঃ রাসেল প্রমুখ।

আলোচিত খবর

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বঙ্গভবন ছেড়েছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বঙ্গভবন ছেড়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে একটি ভিডিওতে তার গাড়িবহর বের হয়ে যেতে দেখা যায়। এর আগে বঙ্গভবনের কর্মকর্তারা ফুল দিয়ে তাকে বিদায় জানান।

বিদায়ের আগে সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল হাফিজ উদ্দিন আহমদকে গার্ড অব অনার দেয়। তিনি গার্ড পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। পরে উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে বিদায়ী শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় করেন।বিদায় অনুষ্ঠানে তিন বাহিনীর প্রধান, রাষ্ট্রপতির সামরিক ও বেসামরিক সচিব এবং ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার সময় হাফিজ উদ্দিন আহমদ দেশের শান্তি ও অগ্রগতি কামনা করেন। একই সঙ্গে সরকারের সাফল্য কামনা করে বঙ্গভবন এলাকা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য এর আগে গত ২৪ জুলাই স্বাস্থ্যগত কারণে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ