মোস্তফা – হাকিম গ্রুপের প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ব্রুনাই দারুস সালামের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন ওসমান

মোঃ আব্দুর রহিম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

.

বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রুনাই দারুস সালামের হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন ওসমান চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত এইচ.এম ষ্টীল, এইচ.এম. সেকশান স্টীল, এইচ.এম. অক্সিজেন ও মোস্তফা হাকিম ব্রিকস এবং আলহাজ¦ মোস্তফা হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। আনোয়ারা উপজেলাধীন ডাঙ্গারচরে অবস্থিত অত্র কারখানাগুলো ৩ মার্চ ২০২৪ দুপুরে পরিদর্শন করেন মান্যবর হাই কমিশনার। তিনি, তাঁর স্ত্রী ম্যাডাম সুরাইয়া হাজী সালেহ ও হাইকমিশনের প্রথম সচিব রোজাইমি আবদুল্লাহসহ অত্র ইন্ডাষ্ট্রীতে পৌঁছালে মোস্তফা হাকিম গ্রুপের চেয়ারম্যান/ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনজুর আলম, এইচ এম স্টিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ নিজামুল আলম, পরিচালক আলহাজ্ব মোহাম্মদ সরোয়ার আলম, আলহাজ্ব মোহাম্মদ ফারুক আজম, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাইফুল আলম, আলহাজ্ব মোহাম্মদ সাহিদুল আলম, নির্বাহী পরিচালক সামশুদোহা, জেনারেল ম্যানেজার বোরহান উদ্দিন আহমেদ ও প্রধান প্রকৌশলী এয়াকুব নবীসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তাঁদের স্বাগত জানান। পরে মান্যবর হাইকমিশনার এইচ. এম ষ্টীল, এইচ.এম. সেকশান স্টীল, এইচ.এম. অক্সিজেন ও মোস্তফা হাকিম ব্রিকস-এর বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং উৎপাদিত পণ্যের গুনগত মানের বিষয়ে সম্যক ধারণা নেন। সকালে মান্যবর হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন ওসমান, তাঁর স্ত্রী ম্যাডাম সুরাইয়া হাজী সালেহ ও হাইকমিশনের প্রথম সচিব রোজাইমি আবদুল্লাহকে মোস্তফা হাকিম বিশ্ববিদ্যালয় এর পক্ষ থেকে দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনা মিলনায়তনে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র, সমাজ সেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম। মানবর হাইকমিশনার, তাঁর স্ত্রী ও সচিব অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হলে তাদেরকে সাবেক মেয়র আলহাজ¦ মোহাম্মদ মনজুর আলম শিক্ষানুরাগী আলহাজ¦ মোহাম্মদ সরোয়ার আলমসহ কলেজ কর্তৃপক্ষ ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানে মান্যবর হাইকমিশনার, তাঁর স্ত্রী এবং প্রথম সচিব-কে ক্রেস্ট দিয়ে বরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অত্র কলেজের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী আলহাজ্ব মোহাম্মদ সরোয়ার আলম আলহাজ¦ মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন ও আলহাজ¦ হোছনে আরা মনজুর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট প্রতিষ্ঠিত ও পরিচালিত ১০৩টি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম মান্যবর হাইকমিশনারকে অবহিত করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলমগীর। অনুষ্ঠান উপস্থাপনায় ছিলেন প্রফেসর লায়লা নাজনিন রব। সংবর্ধিত অতিথি মান্যবর হাইকমিশনার হাজী হারিস বিন ওসমান সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম এর মানবকল্যান ও ধর্মীয় কার্যক্রমের ভুয়সি প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি তার শিল্পকারখানায় গুণগত মানসম্পন্ন নির্মাণ সামগ্রী উৎপাদন এবং বাজারজাতকরণের বিষয়টিকে কর্মসংস্থানের এক মহান উদ্যোগ বলে আখ্যায়িত করেন। তিনি আরো বলেন, এ ধরনের মানব সেবার দৃষ্টান্ত বিরল। মান্যবর হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের দ্রুত উন্নয়নেরও প্রশংসা করেন। তিনি দ্বিপাক্ষিক সুসম্পর্ক অটুট রাখতে সরকারকে এবং বেসরকারী উদ্যোক্তাদের সকল ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি এইচ.এম ষ্টীল এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিসহ শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে বেসরকারী শিল্প উদ্যোগের ব্যাপক প্রসারে সন্তোষ প্রকাশ করেন। সভাপতির বক্তব্যে সাবেক মেয়র আলহাজ্ব মোহাম্মদ মনজুর আলম মান্যবর রাষ্ট্রদুতের অবগতির জন্য বলেন যে, তাদের সকল কার্যক্রম আল্লাহ ও রাসুলের সন্তোষ্টি বিধানের জন্য পরিচালিত হচ্ছে। তাদের ১০৩ টি সেবা ধর্মী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার আলোতে আলোকিত মানুষ গড়া সহ ধর্মীয় কাজে সহযোগীতা দেয়া হচ্ছে। তিনি ব্রুনাই দারুস সালামের হাইকমিশনারের প্রশংসা করে তাঁর শিল্প কারখানা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করায় সাধুবাদ জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সবার সহযোগিতায় নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা সম্পন্ন হয়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীতে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমী উপলক্ষে নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত প্রতিমা নিরঞ্জন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিমা বিসর্জন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে নগরীর পূজা উদযাপন কমিটি, সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থা এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছিল। উৎসবের সার্বিক পরিবেশ সুন্দর রাখতে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে যোগাযোগ ও মতবিনিময় করা হয়েছে। সবার আন্তরিকতা ও সহযোগিতার কারণেই উৎসবটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এ জন্য তিনি পূজা উদযাপন কমিটি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, স্বেচ্ছাসেবক, গণমাধ্যমকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

তিনি বলেন, ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদযাপনের জন্য শুধু নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন নাগরিক সেবা, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, চলাচলের উপযোগী সড়ক এবং উৎসবস্থলে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত সুবিধা নিশ্চিত করা। দুর্গাপূজা উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান, বিদ্যুৎ ও আলোকসজ্জাসংক্রান্ত ব্যবস্থা সমন্বয়, সড়ক সংস্কার এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন। নাগরিকদের ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসবগুলো যাতে স্বস্তি ও আনন্দের সঙ্গে উদযাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন তার দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট রয়েছে।

মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রাম ঐতিহাসিকভাবেই বহুধর্মীয় সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের নগরী। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে পাশাপাশি বসবাস করছেন। একে অপরের ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং বিপদে-আপদে পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়েই এই সামাজিক বন্ধন আরও শক্তিশালী হয়। একটি ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উৎসবকে অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের আনন্দের অংশ করে নিতে পারলে পারস্পরিক আস্থা বাড়বে এবং সামাজিক বিভাজন কমবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্গোৎসবের সফল সমাপ্তি আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতা সারা বছর বজায় রাখতে হবে। ধর্মীয় উৎসবের বাইরেও নগরীর পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জননিরাপত্তা এবং নাগরিক দায়িত্ব পালনে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি কর্পোরেশন ও নগরবাসীর মধ্যে অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হলে চট্টগ্রামকে একটি শান্তি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিজয়া দশমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে মেয়র বলেন, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক পরিসমাপ্তি ঘটলেও সম্প্রীতি, সৌহার্দ্য ও মানবিকতার চর্চা অব্যাহত রাখতে হবে। সব ধর্মের মানুষের নিরাপদে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভবিষ্যতেও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবে।

এসময় অধ্যাপক অর্পন কান্তি ব্যানার্জীর সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অ্যাডভোকেট নিখিল নাথ। প্রোগ্রাম পরিচালনা করেন অঞ্জন দত্ত। বক্তব্য রাখেন:ক্যাপ্টেন শামীম, ডা:নুরুল আবসার, বিপ্লব দে পার্থ, সৌরভ প্রিয় পাল, আশুতোষ দে, বিপ্লব সেন, সূজন কুমার শীল। উপস্থিত ছিলেন রত্নাকর দাশ টুনু, শ্রী প্রকাশ দাশ অসিত, হিল্লোল সেন উজ্জ্বল, নটু চৌধুরী, সুকান্ত মহাজন টুটুল,, প্রিয়তোষ ঘোষ রতন,প্রিয়তোবল, রিপন রায় চৌধুরী, অধ্যাপক অসীম দে, শ্যামল চৌধুরী, রাজন দাশ, অসিক দত্ত, চন্দন পালিত, অয়ন ধর, রাসেল দত্ত, উত্তম কুমার শীল, লিটন চৌধুরী, সৈকত মহাজন সাজু, সুজন কুমার শীল, সুজন শীল প্রমুখ।

চট্টগ্রামের সেরা ৫ পূজামণ্ডপ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শারদ সম্মাননা পর্ষদের উদ্যোগে আয়োজিত প্রতিযোগিতায় নির্বাচিত সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।সেরা পূজামণ্ডপ হলো— গোসাইলডাঙ্গা সর্বজনীন শ্রীশ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির (থিম: ভাড়), বৈশাখী সংঘ, উত্তর কাট্টলী জ্বালাকুমারী বাড়ি (থিম: জল দুয়ার), খলিফাপট্টি সর্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: রক্তাঞ্জলি), পতেঙ্গা শ্যামা সংঘ, হিন্দুপাড়া শ্মশান শিব ও কালী মন্দির (থিম: যুগান্তরের বার্তাবহন) এবং দক্ষিণ নালাপাড়া পূজা উদযাপন পরিষদ (থিম: আত্মকথন)।সোমবার (১৯ অক্টোবর) নগরের টাইগারপাসের চসিক কার্যালয়ে সেরা পাঁচ পূজামণ্ডপের নাম ঘোষণা করেন মেয়র। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার ৪৬টি নিবন্ধিত পূজামণ্ডপের মধ্যে প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে সেরা পাঁচটি মণ্ডপ নির্বাচন করা হয়।

এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে গঠিত দুটি বিশেষ জুরি প্যানেল সরেজমিনে মণ্ডপগুলো পরিদর্শন করে নিরপেক্ষ মূল্যায়নের মাধ্যমে বিজয়ী চূড়ান্ত করেন।মেয়র বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতীক।
চট্টগ্রাম সবসময় ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের সহাবস্থান ও সম্প্রীতির নগরী। পূজামণ্ডপের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা ও ব্যতিক্রমী আয়োজনকে স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে আমরা আয়োজকদের আরও উৎসাহিত করতে চাই।

আমাদের লক্ষ্য, চট্টগ্রামকে এমন একটি নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন ও সম্প্রীতিময় নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।
এবারের সম্মাননায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ, চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত, খ্যাতিমান আলোকচিত্র শিল্পী শোয়েব ফারুকী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী বাপ্পা চোধুরী, নাট্যজন ও বাচিকশল্পী কংকন দাশ, সিনিয়র সাংবাদিক নাসির উদ্দিন হায়দার, সাংবাদিক ফারুক তাহের, সিনিয়র সাংবাদিক অনুপম পার্থ, চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমির নৃত্য প্রশিক্ষক প্রিয়াংকা বড়ুয়া। বিচারকমণ্ডলী নিবন্ধিত মণ্ডপগুলোর শিল্পমান, থিমের গভীরতা, আলোকসজ্জা, পরিবেশবান্ধব উপকরণের ব্যবহার, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা এবং সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে নিরপেক্ষ মূল্যায়ন করেন।

‘শারদ সম্মাননা ২০২৬’-এর আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রফেসর অনিমেশ কুমার চক্রবর্তী। সদস্য ছিলেন কবি ও সাহিত্যিক ডা. ভাগ্যধন বড়ুয়া, প্রফেসর ড. প্রকাশ দাশ গুপ্ত, কবি ও নজরুল গবেষক বাবলা চৌধুরী, মিডিয়াগ্রাফি অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী মিল্টন দাশ বিজয় এবং অভিজিৎ অভি। সমন্বয়ে ছিলেন শোভন রাজা, শ্রাবণ দাশ ও আদিত্য দাস।চিত্রশিল্পী আহমেদ নেওয়াজ বলেন, প্রতিটি মণ্ডপের থিম, নান্দনিকতা ও শিল্পভাবনা ছিল প্রশংসনীয়। সরেজমিনে পরিদর্শন করে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নে সেরা নির্বাচন করা ছিল আমাদের জন্য বেশ দায়িত্বপূর্ণ।
চিত্রশিল্পী দীপক দত্ত বলেন, নান্দনিক রূপায়ন, ঐতিহ্য রক্ষা ও সুশৃঙ্খল পরিবেশের সার্বিক সূচক বিবেচনায় নিয়ে আমরা নিরপেক্ষ মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছি।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, এটা অসাধারণ উদ্যোগ। যেসব পূজামণ্ডপ তাদের নান্দনিকতা, চমৎকার প্রতিমা শিল্প ও সুশৃঙ্খল আয়োজনের মাধ্যমে শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়ে বিজয়ী হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এবং আমার ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। আপনাদের এই সৃজনশীলতা ও চমৎকার মণ্ডপ সজ্জা উৎসবের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে শুধু বিজয়ী মণ্ডপগুলোই নয়, চট্টগ্রামের প্রতিটি মণ্ডপের আয়োজক ও স্বেচ্ছাসেবকরা যেভাবে সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রেখেছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আলো আর সুন্দরের এই ধারা আমাদের সামাজিক সৌহার্দ্যকে আরও সুদৃঢ় করুক।
বিচারকরা জানান, প্রতিটি মণ্ডপই তাদের নিজস্ব সৃজনশীলতায় অনন্য ছিল। নান্দনিকতা ও সামাজিক বার্তার মেলবন্ধন বিচার করেই সেরা ৫টি মণ্ডপ নির্বাচন করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ