৮২ হাজার বেতনে ওয়েভ ফাউন্ডেশনে চাকরির সুযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেসরকারি সংস্থা ওয়েভ ফাউন্ডেশন সম্প্রতি জনবল নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটিতে ৮ পদে ২২২ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে। আগ্রহী প্রার্থীদের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখিত ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ঠিকানায় আবেদনপত্র পাঠাতে হবে।

এক নজরে ওয়েভ ফাউন্ডেশনে চাকরি

প্রতিষ্ঠানের নাম

ওয়েভ ফাউন্ডেশন

চাকরির ধরন

বেসরকারি চাকরি

প্রকাশের তারিখ

০৬ জুলাই ২০২৩

পদ ও লোক সংখ্যা

৮টি পদ ও ২২২ জন

চাকরির খবর

ঢাকা পোস্ট জবস

আবেদন করার মাধ্যম

অনলাইন

আবেদন শুরুর তারিখ

০৬ জুলাই ২০২৩

আবেদনের শেষ তারিখ

২০ জুলাই ২০২৩

অফিশিয়াল ওয়েবসাইট

https://wavefoundationbd.org/

আবেদন করার লিংক

অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

পদের নাম: উপ-পরিচালক। পদ সংখ্যা: ১টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে বাস্তবায়ন উপ-পরিচালক পদে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: ৪৮ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকুল্যে ৮২ হাজার। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ও ভাতা ১০৭,৫০৩ টাকা।

পদের নাম: উপ-পরিচালক (উদ্যোক্তা উন্নয়ন)। পদ সংখ্যা: ১টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন, পরিচালনা, বাস্তবায়ন ও মনিটরিং কাজে উপ-পরিচালক পদে কমপক্ষে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: ৪৮ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ৮২ হাজার। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ১০৭,৫০৩ টাকা।

পদের নাম: প্রোগ্রাম ম্যানেজার। পদ সংখ্যা: ৫টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কমপক্ষে ৪০/৪৫টি শাখা সমন্বয়ে ৪ বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১০ বছরের কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: ৪৫ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ৬৮ হাজার। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ৮৭,৬৭৩ টাকা।

পদের নাম: রিজিওনাল ম্যানেজার। পদ সংখ্যা: ৫টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কমপক্ষে ২০টি শাখা সমন্বয়ে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ১০ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: ৪৫ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ৬০ হাজার। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ৮০,২৭৭ টাকা।

পদের নাম: এরিয়া ম্যানেজার। পদ সংখ্যা: ১০টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কমপক্ষে ৫টি শাখা সমন্বয়ে ৩ বছরের অভিজ্ঞতাসহ মোট ৭ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কম্পিউটার চালনায় দক্ষতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: ৪০ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ৪৩,৮০০ টাকা। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ৫৯,২৭৭ টাকা।

পদের নাম: ইউনিট ম্যানেজার। পদ সংখ্যা: ২০টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: স্নাতকোত্তর। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির ইউনিট ম্যানেজার পদে এমআরএ সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ৩ বছর কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩৮ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ৩১,৫০০ টাকা। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ৩৯,৯৩৯ টাকা।

পদের নাম: কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার। পদ সংখ্যা: ৯০টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম স্নাতক। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে এমআরএ সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে কমপক্ষে ১ বছরের মাঠ পর্যায়ে কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ১৯,৫০০ টাকা। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ২৭,৭৯৯ টাকা।

পদের নাম: অ্যাসিসটেন্ট কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট অফিসার। পদ সংখ্যা: ৯০টি। শিক্ষাগত যোগ্যতা: ন্যূনতম স্নাতক। মোটরসাইকেল চালনায় দক্ষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

বয়সসীমা: সর্বোচ্চ ৩২ বছর।

বেতন-ভাতা: শিক্ষানবিসকালে সর্বসাকূল্যে ১৬,৮০০ টাকা। স্থায়ীকরণের পর মোট বেতন ২৩,২২১ টাকা।

অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা: সকল পদের জন্য উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আবাসন সুবিধা থাকবে। ৬ মাস পর কাজের ফলাফল মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্থায়ী নিয়োগের সুযোগ থাকবে। চাকরি স্থায়ীকরণের পর বর্ধিত বেতনসহ অন্যান্য সুবিধা প্রদান করা হবে।

আবেদন পদ্ধতি: আগ্রহী প্রার্থীদের পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত, শিক্ষার সনদ ও জাতীয় পরিচয় পত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্সের ফটোকপি, অভিজ্ঞতার সনদ, এক কপি ছবি এবং ওয়েভ ফাউন্ডেশন শিরোনামে ২০০ টাকার ডিডি/পে-অর্ডারে আবেদনপত্র পাঠাতে হবে। ঠিকানা: প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগ, ওয়েভ ফাউন্ডেশন, ২২/১৩বি, ব্লক-বি, খিলজী রোড, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭।

আবেদনে শেষ তারিখ: ২০ জুলাই, ২০২৩।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তিন সন্তান নিয়ে অটোরিকশার হ্যান্ডেলে ইয়াসমিন, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি জাহিদ


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


স্বামী মো. শাহিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে অসুস্থ। কাজ করার সামর্থ্য নেই। ঘরে তিন শিশু সন্তান। স্বামীর চিকিৎসা থেকে শুরু করে সন্তানদের ভরণপোষণ ও পড়াশোনা—সবকিছুর দায়িত্ব এসে পড়ে ইয়াসমিন আক্তারের কাঁধে।

কিন্তু অসহায় হয়ে বসে থাকেননি ইয়াসমিন। সংসারের হাল ধরতে ভাড়ায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে নিজেই নেমেছেন রাস্তায়। তিন সন্তানকে নিয়েই অটোরিকশা চালিয়ে কোনোরকমে সংসার চালাচ্ছেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে স্বামীর চিকিৎসা, সন্তানদের ভরণপোষণ ও সংসারের দৈনন্দিন ব্যয় একসঙ্গে মেটানো তাঁর পক্ষে ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় এক সাংবাদিকের মাধ্যমে ইয়াসমিনের জীবনসংগ্রামের খবর পৌঁছায় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার কাছে। বুধবার জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানিতে ইয়াসমিন নিজেই অটোরিকশা চালিয়ে হাজির হন। জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন নিজের লড়াইয়ের কথা।

ইয়াসমিনের কথা শুনে প্রতিকূলতার মধ্যেও নিজের শ্রমে সংসার চালানোর চেষ্টার প্রশংসা করেন জেলা প্রশাসক। সন্তানদের পড়াশোনা কোনোভাবেই বন্ধ না করার পরামর্শ দেন তিনি। ইয়াসমিনের সংগ্রামের প্রতি সম্মান জানাতে নিজের কার্যালয় থেকে নিচে নেমে তাঁর অটোরিকশার পাশে দাঁড়িয়ে ছবিও তোলেন জেলা প্রশাসক।

তিনি ইয়াসমিনকে বলেন, ‘এত চ্যালেঞ্জের মধ্যেও তুমি কারও কাছে হাত পাতোনি, কারও কাছে ছোট হওনি। তুমি নিজেই একটা অটো নিয়েছো, অটো নিয়ে পরিশ্রম করে চলছো—এটা খুবই ভালো।’

উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি ইয়াসমিনের স্বামীর চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন জেলা প্রশাসক। তাঁকে চাল, ডাল, তেলসহ খাদ্যসামগ্রী ও কিছু উপহারও দেওয়া হয়। সন্তানদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখতেও উৎসাহ দেন তিনি।

সহায়তা পেয়ে ইয়াসমিন বলেন, ‘আমার তিনটা ছেলে আছে। তিনটা ছেলেকে নিয়ে খাচ্ছি। উনি আমাকে চাল দিয়েছেন, কিছু টাকা-পয়সাও দিয়েছেন।’

ইয়াসমিন একা নন

এদিন জেলা প্রশাসকের গণশুনানির টেবিলে ইয়াসমিনের মতো আরও অনেক মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্প উঠে আসে। কেউ ক্যানসারের চিকিৎসার খরচ জোগাতে পারছেন না, কারও প্রয়োজন সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিস। কেউ প্যারালাইসিসে কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন, আবার কেউ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছেও অর্থাভাবে উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।

তাঁদের কথা শুনে প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তার ব্যবস্থা করেন জেলা প্রশাসক। এদিন অসুস্থ ও অসহায় ১০ জন এবং একজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। আর্থিকভাবে অসচ্ছল একজনকে দেওয়া হয় চাল, ডাল, তেল, চিনি, লবণ ও মসলাসহ খাদ্যসামগ্রী।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ওমর ফারুক দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তাঁর বাবা দিনমজুর। পাঁচ সদস্যের পরিবারের খরচের পাশাপাশি ওমরের পড়াশোনা, যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণের ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রতিকূলতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও অর্থাভাবে পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় সহায়তার আবেদন করেন তিনি। তাঁর উচ্চশিক্ষা চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।

ইফফাত জাহান ইশা দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। সপ্তাহে তিনবার তাঁকে ডায়ালাইসিস করাতে হয়। পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপেও ভুগছেন। তাঁর বাবা আবদুর রহিম দীর্ঘদিন ধরে কর্মহীন। মেয়ের নিয়মিত চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়ায় তিনি সহায়তা চান।

কোলন ক্যানসারে আক্রান্ত মো. নাজমুল হুদার অস্ত্রোপচারের পর বর্তমানে কেমোথেরাপি চলছে। পাশাপাশি মৃগীরোগের চিকিৎসাও নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসায় বিপুল অর্থ ব্যয় হওয়ায় কেমোথেরাপি চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

রাঙ্গুনিয়ার মোহাম্মদ আবদুল শুকুর দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা ও পঙ্গুত্বজনিত সমস্যায় ভুগছেন। নিয়মিত আয়ের উৎস না থাকায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

প্যারালাইসিসে থেমেছে উপার্জন

বাঁশখালীর মো. আবু তাহের প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হন। শরীরের বাঁ পাশ অবশ হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা বা কাজ করতে পারেন না। উপার্জনের পথ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অর্থাভাবে নিয়মিত চিকিৎসাও করাতে পারছেন না।

পটিয়ার আজিজুল হক পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হওয়ার পর কর্মক্ষমতা হারিয়েছেন। স্ত্রী, দুই মেয়ে ও তিন ছেলে নিয়ে তাঁর সংসার। উপার্জন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের ভরণপোষণ ও নিজের চিকিৎসা—দুটিই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

একই এলাকার আবুল কাসেম চোখের রোগে আক্রান্ত। তাঁর অস্ত্রোপচার ও পরবর্তী চিকিৎসা প্রয়োজন। অর্থের অভাবে চিকিৎসা করাতে না পেরে তিনিও সহায়তার আবেদন করেন।

পারুল বেগমের স্বামী বহু বছর ধরে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে শয্যাশায়ী। তাঁর এক সন্তান প্রতিবন্ধী। পারুল নিজেও কিডনি ও লিভারের সমস্যায় ভুগছেন। পরিবারের ভরণপোষণ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তি করতে হচ্ছে বলে আবেদনে উল্লেখ করেছেন।

মর্জিনা বেগমের স্বামীর হৃদ্‌যন্ত্রে অস্ত্রোপচার হয়েছে। চার মাস ধরে তিনি কাজ করতে পারছেন না। দুই মেয়ে ও এক ছেলের পরিবারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পরিবারের খাবার জোগাড় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হালিশহরের রোকছানা বেগমের স্বামী মারা গেছেন ১০ বছরেরও বেশি সময় আগে। এরপর থেকে ছয় সন্তানকে নিয়ে একাই সংসার চালিয়ে আসছেন। সন্তানদের ভরণপোষণ করতে না পেরে তিনিও আর্থিক সহায়তার আবেদন করেন।

শুনলেন ২১ জনের কথা

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বেলা ১১টায় শুরু হওয়া গণশুনানিতে সরাসরি ২১ জন সেবাপ্রত্যাশী অংশ নেন। চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি জমিজমা, সম্পত্তি জবরদখলসহ বিভিন্ন সমস্যার কথা তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে তুলে ধরেন। অনলাইনে একজন প্রবাসীও যুক্ত হয়ে তাঁর অভিযোগ জানান।

অভিযোগগুলো শুনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কোনো কোনো ক্ষেত্রে গৃহীত ব্যবস্থার ফলাফল সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে জানানোর নির্দেশও দেন তিনি।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘একটি আবেদন গ্রহণের পর সেটি কোথায় গেল, কী সিদ্ধান্ত হলো এবং তার ফলাফল কী—সেবাপ্রত্যাশী যেন সেটি জানতে পারেন, সেটিও আমাদের দায়িত্ব।’

সরকারি দপ্তরে জমা পড়া এসব আবেদন শেষ পর্যন্ত নথিতে পরিণত হয়। সেখানে থাকে আবেদনকারীর নাম, ঠিকানা আর সাহায্য চাওয়ার কারণ। কিন্তু বুধবারের গণশুনানিতে কাগজের আড়াল থেকে সামনে এসেছে একেকটি জীবনের গল্প—ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই, সপ্তাহে তিনবার ডায়ালাইসিসের ব্যয়, প্যারালাইসিসে থেমে যাওয়া উপার্জন কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধকতা জয় করে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকে থাকার চেষ্টা।

তবে তাঁদের মধ্যে ইয়াসমিনের গল্পটি কিছুটা আলাদা। স্বামী দুর্ঘটনায় অসুস্থ, ঘরে তিন শিশু সন্তান, সংসারে অভাব—তারপরও তিনি থেমে যাননি। অটোরিকশার হ্যান্ডেল ধরে নিজের শ্রমে পরিবারকে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সেই সংগ্রামের কথা শুনে তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন জেলা প্রশাসক—স্বামীর চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন, দিয়েছেন খাদ্যসামগ্রী ও উপহার। আর ইয়াসমিনকে সাহস জুগিয়েছেন, যেন জীবনের লড়াইয়ের মধ্যেও তাঁর তিন সন্তানের পড়াশোনা থেমে না যায়।

বুধবারের গণশুনানিতে তাই শুধু আবেদন ও অভিযোগের শুনানি হয়নি; কাগজের আড়ালে থাকা মানুষগুলোর সংকটের কথা শুনে তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টাও ছিল।

আজ বিশ্ব শরনার্থী দিবস। দেশে দেশে যু্ূদ্ধ, জাতি গত দাঙ্গায় অশান্ত বিশ্ব


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


আজ বিশ্ব শরনার্থী দিবস। দেশে দেশে যু্ূদ্ধ বিগ্রহের কারণে এবং জাতি গত দাঙ্গায় বিশ্ব আজ অশান্ত হয়ে উঠেছে। শান্তিপ্রিয় মানুষগুলো আজ শান্তির অন্বেশায় ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এপ্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। বিশ্বে শরনার্থীর সংখ্যা ১১ কোটি ছাড়িয়েছে। সারাবিশ্বে সবচেয়ে বেশি শরনার্থীর তুরস্কে। এখানে ৩৬ লক্ষ শরনার্থী রয়েছে। এরই মধ্যে ২ লক্ষ কমেছে তুরস্ক থেকে।

তুরস্ক সরকার এরই মধ্যে ইউএনএইচসিআরকে জানিয়েছে, শরনার্থীদের জন্য স্থায়ীভাবে কিছু করতে নাপারলে তারা যেন শরনার্থীদের নিয়ে যায়।এরপরই স্থান হলো ইরানের। আফগানিস্তান থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে ইরানে ৩৪ লাখ এবং পাকিস্তানে কয়েক লাখ আফগান শরনার্থী রয়েছে। ভেনেজুয়েলান প্রায় ২৫ লাখ শরনার্থী প্রতিবেশী দেশে রয়েছে। মায়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী প্রাণভয়ে আশ্রয় নিয়েছে। সরকারি পরিসংখ্যানে এর সংখ্যা কিছুটা কম হতে পারে।

এবছর বিশ্ব শরণার্থী দিবসের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হলো “শরণার্থীদের প্রতি সংহতি”।ইউএনএইচসিআর-এর বিশ্বব্যাপী সমন্বয়ে, এ বছরের মূল প্রতিপাদ্যটি শরণার্থীদের অধিকার রক্ষা করা। কুসংস্কারের বিরোধিতা এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী যাতে গ্রহণযোগ্যতা, সমর্থন ও সম্মানের সাথে আচরণ পায় তা নিশ্চিত করার জন্য সহানুভূতির ঊর্ধ্বে উঠে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেয়া।

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় শরনার্থী শিবিরে আশ্রিত ও স্থানীয়দের জন্য ইউএনএইচসিআর বরাদ্দ দিয়েছে ১৪ মিলিয়ন ডলার। এটা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।২০ জুন হলো জাতিসংঘ কর্তৃক বিশ্ব শরণার্থী দিবস। প্রতি বছর বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশ সরকার রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীদের সেদেশে ফিরিয়ে নিতে মায়ানমার সরকারের প্রতি বারবার আহ্বান জানিয়ে আসলেও সেদেশের সরককার কার্যত কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।আন্তর্জাতিক মহল বারবার মায়ানমারের সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সেদেশের সরকারি নাগরিকদের ফিরিয়ে নেয়ার জন্য ।
কার্য়ত কোন ফল আসনি।

বিশ্বজুড়ে শরণার্থীদের অমানবিক অবস্থানের প্রতি আন্তর্জাতিক নেতৃবৃন্দের সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পালন করা হয় এদিবসটি। ২০০১ সালের ২০ জুন প্রথম এই দিবসটি প্রতিষ্ঠিত হয় জাতিসংঘের ৫০ তম অধিবেশনে।
বিশ্ব শরণার্থী দিবসে বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার সময়ে পদক্ষেপ এবং সহানুভূতির এক শক্তিশালী মানবিক আহ্বান। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত এবং মানবিক সহায়তা হুমকির মুখে থাকায়, এই বছরের প্রতিপাদ্য বিষয় “শরণার্থীদের সাথে সংহতি” – জানানো। নিজ দেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের সমর্থন করার জন্য অর্থপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই।

বিশ্ব শরণার্থী দিবসে তাদের সাহস এবং স্থিতিস্থাপকতাকে সম্মান জানানোর, তাদের গল্প শোনার এবং বাস্তুচ্যুতির স্থায়ী সমাধানের পক্ষে কথা বলার একটি মুহূর্ত। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়যে শরণার্থীদের স্বাগত জানানো সমাজকে শক্তিশালী করে।উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করে এবং এমন সম্প্রদায় তৈরি করে যেখানে সকলেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। নীতি পরিবর্তন এবং সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা থেকে শুরু করে শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর ভাগ করে নেওয়ার মতো সম্মিলিত পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে শরণার্থীদের ভুলে যাওয়া হয় না।
শরণার্থীদের কণ্ঠস্বর কেন্দ্রীভূত করা শরণার্থীদের ব্যক্তিগত গল্প শুনুন এবং তাদের সাথে ভাগাভাগি করুন, তাদের শক্তি, সাহস এবং বাস্তুচ্যুতির বাইরেও বহুমুখী পরিচয়ের স্বীকৃতি দিন।অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্প্রদায় গড়ে তোলা স্বাগতপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করুন যেখানে শরণার্থীরা সংযোগ তৈরি করতে পারে।শান্তি ও সমাধানের জন্য একসাথে কাজ করা নিরাপত্তা চাওয়ার অধিকারকে সমর্থন করুন। সংঘাত নিরসনের পক্ষে কথা বলুন এবং বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী, টেকসই ভবিষ্যতের জন্য সমর্থন করুন।

যারা থাকেন এবং বিতরণ করেন তাদের পাশে দাঁড়ানো জাতিসংঘ এবং এর মানবিক কর্মীদের সমর্থন করুন যারা সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও সেবা প্রদান করে চলেছেন, নিশ্চিত করুন যে জীবন রক্ষাকারী সাহায্য অভাবীদের কাছে পৌঁছায়।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ