আজঃ সোমবার ৬ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামের কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের দুর্ভোগ, রাতে চিকিৎসক নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রাতে চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ বন্দিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর থেকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্দিদের। চিকিৎসকরে বদলে রাতে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন এক কারারক্ষী ও দুই নার্স। এছাড়া ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৮টি। অপর তিন মেডিকেল কর্মকর্তা শুধুমাত্র আউটডোরে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। রাতে শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই তারা বন্দি রোগীদের দেখতে আসেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩ হাজার ৭০০ জন বন্দি রয়েছে কারাগারে। এদের জন্য সহকারী সার্জন পদমর্যাদার এক চিকিৎসকসহ চার ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু অক্টোবরে সহকারী সার্জন পদমর্যাদার আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রেজা মো. সরোয়ার আকবর বদলি হলে রাতে রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়তে থাকে। প্রেষণ আদেশ প্রত্যাহার করে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন হিসেবে তাকে পদায়ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পর থেকে অপর তিন মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তুষার কান্তি নাথ, ডা. একরাম হোসেন ও ডা. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী আউটডোরে সেবা দেন এবং জরুরি প্রয়োজন হলেই রাতে এসে রোগী দেখেন।
তাবে কারাগার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দায়িত্বরত তিন জন মেডিকেল কর্মকর্তারা ঠিকমতো রোস্টার ডিউটি পালন করেন না। বিকেলের পর সবাই ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্ট্রোক ও হৃদরোগীদের অবস্থা অনেক সময় খারাপ হয়ে যায়। কারা হাসপাতালে শুরুতেই জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই এমনটা হয়।
আরও জানা গেছে, রাতে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা না থাকায় বন্দি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন কারারক্ষী (প্যাথলজি) শহীদ সরোয়ার। তিনি ল্যাব টেকনিশিয়ান হওয়ায় হাসপাতালের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন। রাতে তার সঙ্গী হিসেবে থাকেন ডিপ্লোমা নার্স লিটন তালুকদারসহ অপর এক নার্স। সরোয়ার ২০১৮ সালের আগে কুমিল্লা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে প্যাথলজির ওপরে ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করতে পাঠানো হয়। এরপর তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে যোগ দেন। রাতে কেউ অসুস্থ হলে সরোয়ার নিজেই চিকিৎসা দেন। এমনকি রোগীর রুটিন টেস্ট রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর ছাড়া সরোয়ার নিজেই স্বাক্ষর দিয়ে থাকেন। রাতে ডিপ্লোমা নার্স লিটন তালুকদারের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত আসেন না। এছাড়া অপর এক নার্সও রাতে থাকেন কালে-ভদ্রে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সরোয়ার বলেন, রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে আমাকে খবর দেওয়া হয়। আমি এসে চিকিৎসা দিই। রুটিন টেস্টগুলোও করে থাকি। গুরুতর রোগী হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ফোনে তুষার স্যার, একরাম স্যারকেও ডেকে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন হাসপাতালে। আমি নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট, সিবিসি পরীক্ষা করে চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমানে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী আছে। তাদের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টের তদারিক আমি করছি।
কারাগারের চিকিৎসক ডা. তুষার বলেন, আমরা মূলত আউটডোর বেসিসে রোগীদের সেবা দিই। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে, চিকিৎসাধীন কোনো বন্দির পরামর্শের প্রয়োজন হলে আমরা অনকলে আসি। রাতে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেন শহীদ সরোয়ার নামে এক কারারক্ষী ও ডিপ্লোমা নার্সসহ দু’জন নার্স।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা পদটি শূন্য হওয়ায় তা পূরণে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আমরা বর্তমান লোকবল দিয়ে বন্দি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করার কথা জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল এলো চট্টগ্রাম বন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মালয়েশিয়া থেকে ৩৪ হাজার টনের বেশি ডিজেল নিয়ে ‘শান গ্যাং ফা জিয়ান’ নামের একটি ট্যাংকার জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়েছে। রোববার বেলা ১টার দিকে জাহাজটি পতেঙ্গার ৬ নম্বর ডলফিন জেটিতে ভেড়ানোর তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।

তিনি বলেন, ১৮৪ দশমিক ৯৫ মিটার দীর্ঘ চীনের পতাকাবাহী জাহাজটি গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাত ১০টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছে। তবে জাহাজটির ড্রাফট ১০ মিটারের বেশি হওয়ায় সরাসরি কর্ণফুলী নদীর বন্দর জেটিতে ভিড়ানো সম্ভব হয়নি।

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট নিরসনে তেল ও গ্যাসবাহী জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ড্রাফট কমাতে চারটি ছোট ট্যাংকারে লাইটারিং করে ৭ হাজার ৭২৭ টন ডিজেল খালাস করা হয়। পরে বন্দরের অভিজ্ঞ পাইলটের তত্ত্বাবধানে শক্তিশালী টাগবোটের সহায়তায় রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা ১টার দিকে জাহাজটি পতেঙ্গার ৬ নম্বর ডলফিন জেটিতে ভিড়ানো হয়।

জাহাজটির স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন্সের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, ড্রাফট কমানোর জন্য চার দফায় লাইটারিং সম্পন্ন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে জাহাজে থাকা বাকি ডিজেল খালাস সম্পন্ন হবে। ২৭ হাজার ৩০০ টন ডিজেল নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে আসা আরেকটি জাহাজ রোববার ডলফিন জেটি ত্যাগ করেছে।

নেত্রকোনায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে খালে নামলেন এমপি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনা পৌর শহরের খালে নেমে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেন এমপি ডা. আনোয়ারুল হক ও নেতাকর্মীরা।
ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক। জনসচেতনতা বাড়াতে তিনি নিজেই খালে নেমে ময়লা পরিষ্কার কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন।

শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে নেত্রকোনা পৌর শহরের জেলখানা রোড থেকে আবু আব্বাস কলেজ পর্যন্ত খালজুড়ে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে নিয়ে সরাসরি খালে নেমে ময়লা অপসারণে অংশ নেন এমপি।

অভিযান উদ্বোধনকালে ডা. আনোয়ারুল হক বলেন, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই। এসব রোগের প্রধান বাহক এডিস মশা, যা জমে থাকা নোংরা পানিতে জন্মায়। তাই প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আশপাশসহ খাল-বিল, ডোবা ও পানি জমে থাকা স্থান পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি উদ্যোগে নয়, জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব। আমরা যদি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, তাহলে অনেকাংশে ঝুঁকি কমে যাবে।এ সময় তিনি ‘নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি, দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ি’ এই স্লোগান সামনে রেখে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান, পৌর প্রশাসক মো. আরিফুল ইসলাম সরদার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু, বিএনপি নেতা ফরিদ আহমেদ ফকির, মো. কামরুল হক, যুবদল নেতা সৈয়দ আজহারুল ইসলাম কমল, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা সারোয়ার আলম এলিনসহ ছাত্রদল ও যুবদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে ছিল, যার ফলে মশার উপদ্রব বেড়ে যায়। এমপির এই উদ্যোগে খাল পরিষ্কার হলে পরিবেশ যেমন উন্নত হবে, তেমনি ডেঙ্গুর ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করছেন তারা।

মাসব্যাপী এ কার্যক্রমের মাধ্যমে পৌর এলাকার বিভিন্ন খাল ও নালা পরিষ্কার করা হবে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আলোচিত খবর

চট্টগ্রাম বন্দরে নিজস্ব ড্রেজারে এক বছরে ড্রেজিং খাতে ৫০ পঞ্চাশ কোটি টাকা সাশ্রয়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবধর্মী পরিকল্পনায় কর্ণফুলী চ্যানেল ও বন্দর সীমানায় ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনায় যুগোপযোগী পরিবর্তন এসেছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট সকলের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সরাসরি হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের তত্ত্বাবধানে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে বন্দর সীমানার অন্তর্গত প্রধান জেটি এবং কালুরঘাট পর্যন্ত নেভিগেশনাল চ্যানেলে ও বন্দর সীমার অন্যান্য চ্যানেলে নাব্যতা রক্ষায় এখন এক সাশ্রয়ী ও কার্যকর মডেল অনুসরণ করা হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পিত এবং বাস্তবধর্মী কার্যকর উদ্যোগের ফলে ড্রেজিং খাতের ব্যয় অতীতের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে, যা সংস্থার আর্থিক সাশ্রয়ে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। বাস্তবসম্মত ব্যয় নির্ধারণ এবং আধুনিক মনিটরিং ব্যবস্থার ফলে ড্রেজিং খাতের অতিরিক্ত ব্যয়ের প্রবণতা কমানো সম্ভব হয়েছে।

গত এক বছরে চবক এর নিজস্ব ড্রেজার এর মাধ্যমে ড্রেজিং ও পরিকল্পিতভাবে ড্রেজিং কার্য সম্পাদনের ফলে চবক এর ড্রেজিং খাতে কমপক্ষে ৫০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সহ সংশ্লিষ্ট সদস্য (হারবার ও মেরিন) এর তত্ত্বাবধানে হাইড্রোগ্রাফী বিভাগের মাধ্যমে পরিচালিত এই ড্রেজিং কার্যক্রমে বর্তমানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে দক্ষ ঠিকাদার নিয়োগ নিশ্চিত করে ড্রেজিংয়ের কাজগুলোকে ছোট ছোট পরিকল্পিত অংশে ভাগ করে নির্দিষ্ট সময়সীমা ও কাজের পরিমাণ নির্ধারণ করে দেওয়ায় ঠিকাদাররা অনেক বেশি দায়বদ্ধতার সাথে কাজ সম্পন্ন করতে পারছে।

মাঠ পর্যায়ে নিয়মিত মনিটরিং ও কঠোর প্রশাসনিক তদারকি এই সাফল্যের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। চবক-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে নিয়মিত তদারকির ফলে ড্রেজিংয়ের প্রকৃত পরিমাণ ও মান নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। এই কৌশলী উদ্যোগের ফলে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ নৌ-চ্যানেলগুলোতে প্রয়োজনীয় নাব্যতা সার্বক্ষণিক বজায় থাকছে, যার ফলে বড় আকৃতির বাণিজ্যিক জাহাজগুলো এখন অনেক বেশি নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে বন্দরে যাতায়াত করতে পারছে। এর ফলে বন্দরের পণ্য খালাস ও হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক নৌ-রুটে চট্টগ্রাম বন্দরের বিশ্বস্ততা আরও সুদৃঢ় হয়েছে।

এছাড়া কর্ণফুলী নদীর উপর সীমানায় বিশেষ করে সদরঘাট হতে ৩য় কর্ণফুলী সেতুর উজানে ১.৫ কিলোমিটার পর্যন্ত এলাকায় নেভিগেশনাল চ্যানেল ও সংযুক্ত খাল সমূহে পরিকল্পিতভাবে সংরক্ষণ ড্রেজিং কাজ সম্পাদনের ফলে উক্ত এলাকায় লাইটার জাহাজ সহ অন্যান্য নৌযান সমূহ সমন্বিতভাবে শৃংখলাবদ্ধ উপায়ে বার্থিং করা হচ্ছে বিধায় নৌ দূর্ঘটনা অনেকাংশে উল্লেখযোগ্য হারে কমে এসেছে। একইসাথে উক্ত এলাকায় শহরের সাথে সংযুক্ত ৮ টি গুরুত্বপূর্ণ খালের মূখে চবক সীমানায় ড্রেজিং পূর্বক নাব্যতা রক্ষা করার ফলে খাল দিয়ে চট্টগ্রাম শহর থেকে আগত পানি সমূহ নির্বিঘ্নে কর্ণফুলী নদীতে পতিত হচ্ছে। যার ফলশ্রুতিতে ইহা আগামী বর্ষায় চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে অনেকাংশে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

এরূপ পরিকল্পিত ড্রেজিংয়ের ফলে কর্ণফুলী নদীর নেভিগেশনাল চ্যানেল ও অন্যান্য অংশে দীর্ঘ মেয়াদী টেকসই হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল অবস্থার তেমন পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে না, যা নদীর স্বাভাবিক গতি প্রবাহে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সহ নদীতে পলি জমার হার অনেকাংশে কমে আসছে এবং চট্টগ্রাম বন্দর সহ অন্যান্য ব্যাক্তি মালিকানাধীন জেটি/ বার্থ সমূহ এর সুফল পাচ্ছে। উল্লেখ্য, উক্ত খাল সমূহের সম্মুখভাগে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক ড্রেজিং করা হলে উক্ত সংস্থার খাল ড্রেজিং খাতে অতিরিক্ত কমপক্ষে ৮৫ পঁচাশি কোটি টাকা খরচ হত, যা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক ড্রেজিং করার কারণে সাশ্রয় হয়েছে।


ড্রেজিং খাতে সাশ্রয় হওয়া এই বিপুল অর্থ এখন বন্দরের অন্যান্য অত্যাবশ্যকীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করা সম্ভব হচ্ছে। যথাযথ তদারকির ফলে ঠিকাদার-নির্ভর ড্রেজিং কার্যক্রমে এই ধরনের আর্থিক শৃঙ্খলা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শুধুমাত্র বন্দরের অভ্যন্তরীণ ভিত্তিকেই শক্তিশালী করেনি, বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। স্বচ্ছতা ও টেকসই উন্নয়নের এই ধারা বজায় রেখে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ দেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের এই প্রধান প্রবেশদ্বারকে বিশ্বমানের আধুনিক বন্দরে রূপান্তর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ