আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

দেশে পতিত স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে:এটিএম মাসুম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তবর্তী সরকারের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম। তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে। দেশে পতিত স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় করি না। বাংলাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও যত রক্ত দেয়া প্রয়োজন দিতে আমরা রাজি আছি। আগামী বিপ্লব চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।
শনিবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটের একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সংসদীয় দলের সাবেক হুইপ, নগর জামায়াতের আমির, সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। দারসুল কোরআন পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ।
এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজুর রহমান, আমির হোসাইন, হামেদ হাসান এলাহী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেন, অন্তবর্তী সরকারের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে আমাদের থাকতে হবে। এই ঐক্যকে অটুট রাখতে হবে। এই ঐক্যকে নস্যাৎ করতে পারে এই রকমের কোনো অপশক্তিকে আমরা কোনো অবস্থায়ই বরদাশত করবো না। এ অবস্থায় সচেতন রাজনৈতিক দল হিসেবে অন্যদের তুলনায় জামায়াত ইসলামীর দায় অনেক বেশি।
এটিএম মাসুম বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেনি। তারা ভিন্ন রাষ্ট্রের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। ইসলামের বিরুদ্ধে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আলেম-ওলামাদের জেল-জুলুম দিয়ে নির্যাতন করেছে। ইসলাম তাদের কাছে সহ্য হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। ইসলামের গন্ধ যেখানেই ছিল সেখানেই তারা পরিবর্তন করেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি খুনের বিচার করতে হবে। আসামির কাটগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবে বাংলাদেশকে হায়নার হাতে তুলে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি সেক্টরে যোগ্য, দক্ষ লোক তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রত্যেককে তৈরি হতে হবে। সেই প্রস্তুতি এখন থেকে শুরু করতে হবে। দাওয়াতের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রস্তাবকে ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। তাদের কাছে এই প্রস্তাব সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সকল ওলামায়ে কেরামগণসহ ইসলামিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকে বহু ঘাতপ্রতিঘাত মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব এবং রাসূলের আনুগত্যের ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করে আসছে। মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আহ্বান পৌঁছিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাংলাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য জনমত তৈরির কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম বলেন, যারা ঈমানদার তারা আল্লাহকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। দ্বীনের জন্য তারা ফাঁসিবরণ করতেও ভয় পায় না। আল্লাহকে ভালোবেসে তা মনে ধারণ করায় হলো তাকওয়া। তাকওয়ার চেতনায় আমাদেরকে কাজ করে দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কুরআন-সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে হকের ওপর অটল থেকে আল্লাহর ভয়ে জীবনের প্রত্যেকটি কাজ করতে হবে এবং যার যে দায়িত্ব আছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সৎ লোক তৈরি করে এটি বর্তমান প্রশাসন বিশ্বাস করে। তারা এটাও বিশ্বাস করে আমাদের সংগঠন নীতির কথা বলে ও নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল এখন তারা পালিয়েছে অথচ জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে সর্বত্র বিরাজমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা নবী-রাসূলদের মাধ্যমে আমাদের নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন এবং সত্যের সাক্ষ্যদাতা বানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী সেরকমই সত্যের সাক্ষ্য দেয়ার দল। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মাধ্যমে সোনালী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্বীনের প্রয়োজনে রাজনীতি, রাজনীতির প্রয়োজনে দ্বীনকে গ্রহণ করা যাবে না। আনুগত্য, পরামর্শ, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, এহতেসাব ও আনুগত্যের মাধ্যমে সংগঠনের মজবুতি ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নগর জামায়াতের আমির আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জামায়াতে ইসলামী অবরুদ্ধ ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে সাড়ে তিন বছর আগে শিশুকে কেটে ছয় টুকরো, যুবকের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত শিশু আলিনা ইসলাম আয়াত অপহরণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। একইসঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১টায় চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস এ রায় ঘোষণা করেন। চাঞ্চল্যকর এ মামলায় ৫০ জন সাক্ষীর মধ্যে মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্য নিয়ে আদালত এ রায় দিয়েছেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আবির আদালতে উপস্থিত ছিলেন।সাড়ে তিন বছর আগে এই শিশুকে কেটে ছয় টুকরো করে লাশ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে গুমের লোমহর্ষক ঘটনার মামলার রায় দেয়া হল। দণ্ডিত ২৩ বছর বয়সী আবির আলীর বাড়ি রংপুর জেলায়। ঘটনার সময় চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার দক্ষিণ হালিশহর ওয়ার্ডের নয়ারহাট এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
মহানগর দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর জালাল উদ্দিন বলেন, শিশুটিকে হত্যার অপরাধে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। লাশ টুকরো-টুকরো করে গুমের অপরাধে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার চার বছর ১১ মাস বয়সী মেয়ে আলীনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।

ঘটনা জেনেই ছায়া তদন্তে নামে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।২৪ নভেম্বর আয়াত হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী তরুণ আবির আলীকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। ২৫ নভেম্বর দায় স্বীকার করে তিনি আদালতে জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যে ৩০ নভেম্বর নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে নালাসংলগ্ন স্লুইচগেট এলাকা থেকে আয়াতের বিচ্ছিন্ন দুই পায়ের অংশ এবং পরদিন খণ্ডিত মাথা উদ্ধার হয়। ৬ ডিসেম্বর আবিরের সহযোগী এক কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়।

আবিরের বরাতে পিবিআই তখন জানিয়েছিল, আবির ১৫ নভেম্বর আয়াতকে তুলে নিয়ে শ্বাসরোধে খুন করেন। এরপর লাশ কেটে ছয় টুকরো করেন। ১৬ নভেম্বর সকালে লাশের তিনটি টুকরো নগরীর আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে বেড়িবাঁধের পর আউটার রিং রোডসংলগ্ন বে-টার্মিনাল এলাকায় সাগরে ভাসিয়ে দেন। ওইদিন রাতে বাকি তিন টুকরো আকমল আলী রোডের শেষপ্রান্তে একটি নালায় স্লুইচগেটের প্রবেশমুখে ফেলে দেন।

আয়াতের বাবার করা মামলা তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ১০ অক্টোবর পিবিআই চট্টগ্রাম মহানগর ইউনিটের তৎকালীন পরিদর্শক মনোজ কুমার দে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এতে আবির আলী এবং তার কিশোর বয়সী বন্ধুকে আসামি করা হয়।

অভিযোগপত্রে বলা হয়, নগরীর দক্ষিণ হালিশহরের নয়ারহাট এলাকায় আয়াতের দাদা মনজুর হোসেনের মালিকানাধীন ভবনে ভাড়া থাকত আবিরের পরিবার। আবিরের জন্ম ওই বাসায়। তবে ঘটনার সময় তার বাবা আজাহারুল ইসলাম ওই বাসায় থাকলেও দাম্পত্য কলহের জেরে মা আলো বেগম আকমল আলী রোডে আলাদা বাসায় থাকতেন। আবির ও তার বোন মায়ের সঙ্গে থাকতেন। তবে আবির তার বাবার বাসায়ও নিয়মিত আসা-যাওয়া করতেন।

বেকার জীবনের হতাশা থেকে আবির সম্পদশালী পরিবারের শিশু আয়াতকে অপহরণ করে বড় অংকের টাকা মুক্তিপণ আদায় করার কৌশল নিয়েছিলেন। সহযোগী কিশোরকে নিয়ে তিনি আয়াতকে তুলে নিয়েছিলেন। এরপর আবির তার বাবার বাসায় নিয়ে শিশুটিকে খুন করেন। লাশ বস্তায় ভরে মায়ের বাসায় নিয়ে কেটে ছয় টুকরো করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেন। ২০২৪ সালের ৩০ মে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

আদালতে উপস্থিত পিবিআই পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী জানালেন, মামলার দুজন আসামির মধ্যে আবির আলীর বিচার সম্পন্ন হয়েছে। অপর আসামি কিশোর বয়সী হওয়ায় তার বিচার শিশু আদালতে চলমান আছে।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন : বিভাগীয় কমিশনার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. জিয়াউদ্দীন বলছেন,তামাকজনিত রোগ, অকালমৃত্যু এবং অর্থনৈতিক ক্ষতি দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তামাক নিয়ন্ত্রণে আইন থাকলেও এর কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মঙ্গলবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজ সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রামের আয়োজনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক” বিভাগীয় তামাক বিরোধী সেমিনার-২০২৬ এ প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুখোশ ভাঙো, আসক্তি ছাড়ো, তামাক- নিকোটিনমুক্ত জীবন গড়ো এই প্রতিপাদ্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সামাজিক সচেতনতা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিকল্প অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তামাক ব্যবহারের বিস্তারকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির আহ্বান জানান।

বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন,সেমিনারে ইসিগারেট নিয়ন্ত্রণ, তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করা, তামাক বিক্রেতাদের বিকল্প জীবিকার ব্যবস্থা এবং তামাক কোম্পানির প্রভাব মোকাবিলার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারি ও বেসরকারি সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিভাগীয় কমিশনার বলেন,বর্তমান সরকার দেশের যুবসমাজকে তামাক ও মাদকাসক্তির ক্ষতিকর প্রভাব থেকে দূরে রাখতে ক্রীড়া কার্যক্রমের সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। সরকারের বিশ্বাস, খেলাধুলা শুধু শারীরিক সুস্থতাই নিশ্চিত করে না, বরং তরুণদের মধ্যে শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস এবং ইতিবাচক জীবনবোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি বলেন, খেলাধুলার সঙ্গে সম্পৃক্ত তরুণরা তামাক ও অন্যান্য ক্ষতিকর আসক্তি থেকে দূরে থাকে এবং একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। সরকার একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনের লক্ষ্যে যুবসমাজকে ক্রীড়ামুখী করতে এবং তাদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখতে বদ্ধপরিকর।

ড. মোঃ জিয়াউদ্দীন বলেন, তামাক চাষে ব্যবহৃত বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ও কীটনাশক নদীর পানি এবং আশপাশের পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত হালদা নদীর প্রতিবেশ সংরক্ষণে তামাক চাষ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছিল।সরকারি গেজেটের ফলে হালদা নদীর তীরবর্তী নির্ধারিত এলাকায় আর কোনো ধরনের তামাক চাষ করা যাবে না।

অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার উন্নয়ন মোঃ মোতাহার হোসেনের সভাপতিত্বে আয়েজিত সেমিনারে তামাকের ক্ষতিকর দিক ও আইন নিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) সেখ ফজলে রাব্বি মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন,চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ,চট্টগ্রামের সিভিল সার্জান ডা.জাহাঙ্গীর আলম বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন। আলোচনা সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার আইন বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক বিভাগীয় তামাক বিরোধী সেমিনারের পূর্বে সার্কিট হাউজ প্রাঙ্গন থেকে র‌্যলি শুরু করে কাজির দেউরী মোড় হয়ে আবার সার্কিট হাউজ এসে র‌্যলি শেষ হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ