আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে এক বছরে প্রায় ৩৭০০ ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান : ৮০ শতাংশই বাসিন্দা নগরীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে চিকনগুনিয়া-ডেঙ্গু এবং জিকা- মশাবাহিত এই তিন রোগের মারাত্বক ঝুঁকিতে রয়েছে। চট্টগ্রামে এক বছরে প্রায় ৩৭০০ ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে যার ৮০ শতাংশই নগরীর বাসিন্দা। এদিকে চিকনগুনিয়ার সংক্রমণের প্রকোপ বেড়েছে একেবারে হঠাৎ করে এমনটি উঠে এসেছে এক গবেষণায়।

অন্যদিকে চট্টগ্রামে মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে তরুণদের আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক বছরে চট্টগ্রামে ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় অর্ধেকই তরুণ। আর চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীও পাওয়া গেছে চলতি বছর। বেসরকারি সংস্থা এসপেরিয়া হেলথ রিসার্চ এন্ড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গত জুন থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে চালানো এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের উপস্থিতিতে গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গবেষণার জন্য নির্ধারিত রোগীদের মধ্যে অনেকের চিকুনগুনিয়ার সঙ্গে ডেঙ্গু-জিকা ভাইরাসও শনাক্ত হয়েছে। প্রতি ১০০ জন চিকনগুনিয়া রোগে আক্রান্তের মধ্যে ১ দশমিক ১ শতাংশ ডেঙ্গু এবং শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ জিকা ভাইরাসে আক্রান্তও পাওয়া গেছে। এই সহ-সংক্রমণ এবারের পরিস্থিতিকে জটিল করেছে।

গবেষণাকর্মে যুক্ত চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নান বলেন, আমরা যেটা পেয়েছি, ২০২৫ সালে অর্থাৎ চলতি বছরে এসে চট্টগ্রামে চিকনগুনিয়ার প্রভাব হঠাৎ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে। ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এখানে চিকনগুনিয়ার এত প্রকোপ ছিল না। গত বছর সবমিলিয়ে চট্টগ্রামে মাত্র সাতশ-র মতো চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত রোগী পাওয়া গিয়েছিল। এবার আক্রান্তের সংখ্যা ৩ হাজার ৭০০ বা তারও কিছু বেশি। আর শহরে আক্রান্তের হারটা ছিল বেশি, প্রায় ৮০ শতাংশ। তাহলে দেখা যাচ্ছে, ডেঙ্গুর পাশাপাশি চিকনগুনিয়াও এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক এইচ এম হামিদুল্লাহ মেহেদী, রেলওয়ে হাসপাতালের চিকিৎসক আবুল ফয়সাল মোহাম্মদ নুরুদ্দিন ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আদনান মান্নানের নেতৃত্বে গবেষক দলে আরও ছিলেন- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ডা. এম এ সাত্তার, ডা. মারুফুল কাদের, ডা. নুর মোহাম্মদ, ডা. হিরন্ময় দত্ত, ডা. ইশতিয়াক আহমদ, চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডা. এ এস এম লুতফুল কবির শিমুল, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের ডা. রজত বিশ্বাস, ইউএসটিসির আইএএইচএস এর ডা. আয়েশা আহমেদ, এপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের ডা. মোহাম্মদ আকরাম হোসেন, নটিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. অরিন্দম সিং পুলক, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক ইঞ্জিয়ারিং বিভাগের ড. মো. মাহবুব হাসান ও মহব্বত হোসেন, চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. এএমএএম জুনায়েদ সিদ্দিকি।

চট্টগ্রামের ১১০০ রোগীর ওপর ভিত্তি করে চিকনগুনিয়া নিয়ে করা গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর ৭টি এলাকা এবং সংলগ্ন তিনটি উপজেলা চিকনগুনিয়া সংক্রমণের ‘হটস্পট’ হয়ে ওঠে। এগুলো হচ্ছে- নগরীর কোতোয়ালী, বাকলিয়া, ডবলমুরিং, আগ্রাবাদ, চকবাজার, হালিশহর ও পাঁচলাইশ এবং সীতাকুণ্ড, বোয়ালখালী ও আনোয়ারা উপজেলা। তবে আক্রান্তদের ৮০ শতাংশই নগরীর বাসিন্দা। চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত শতভাগ রোগী তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী অস্থিসন্ধির ব্যথায় ভুগেছেন। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ রোগী তিন মাসেরও বেশি সময় চিকনগুনিয়ার প্রভাব ভোগ করেছেন। এছাড়া ৪৫ শতাংশ রোগীর শরীর ফোলা ছিল।
একেকজন রোগীকে চিকিৎসায় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করতে হয়েছে। তবে সচেতনতার অভাবে পরীক্ষা না করা এবং কিটের স্বল্পতা ও ভুল রোগ নির্ণয়ের কারণে অনেকে চিকনগুনিয়ায় আক্রান্ত হলেও পরীক্ষায় শনাক্ত হননি।

আদনান মান্নান বলেন, চিকনগুনিয়া এখন শুধুমাত্র একটি সাধারণ ও সাময়িক জ্বরের রোগ নয়। এটার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তৈরি হচ্ছে। এটা মোকাবেলার জন্য আলাদা কৌশল নির্ধারণ করতে হবে। জনসাধারণকেও সচেতন করতে হবে। শুধুমাত্র ডেঙ্গু মোকাবেলার কৌশল দিয়ে চিকনগুনিয়া রোধ করা যাবে না।

অন্যদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট ১৭৯৭ জন রোগীর ক্লিনিকাল এবং বায়োলজিক্যাল ডেটা নিয়ে গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্যে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে তরুণ জনগোষ্ঠী, যাদের বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে এবং আক্রান্তের হার ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ। শিশু-কিশোর আক্রান্তের হার ২৪ দশমিক ৫ শতাংশ। মধ্যবয়সী ও প্রাপ্তবয়স্ক মিলিয়ে ২২ শতাংশ আক্রান্ত হয়েছেন।
ক্লিনিক্যাল উপসর্গ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত প্রায় সব রোগীরই জ্বর ছিল। বমিভাব ও বমি, মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও চোখের পেছনে ব্যথা, পেটব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো উপসর্গ উল্লেখযোগ্য হারে ছিল।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশের পর বক্তব্যে সিটি মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগর এলাকায় ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ শুধু স্বাস্থ্যঝুঁকিই নয়, এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য ও নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ। মশার প্রজননস্থল, মৌসুমি ও জলবায়ুগত প্রভাব, নগরের অবকাঠামো এবং মানুষের আচরণ—এসব বিষয় বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ না করলে মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে সফল হবে না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

চট্টগ্রামে ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতেই নিচু এলাকা প্লাবিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে মাত্র ৪০ মিনিটের বৃষ্টিতে অনেক নিচু এলাকায় পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। রাস্তা প্লাবিত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীর নিচু এলাকার বাসিন্দারা। বিশেষ করে চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকাতে সবচেয়ে বেশি জলাবদ্ধতা দেখা গেছে। এসব এলাকার রাস্তাগুলো নোংরা পানিতে ডুবে আছে। ফলে চলাচল করা কঠিন হয়ে উঠে। কোথাও হাঁটু, কোথাওবা কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে নগরীর প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি। ছুটির দিনেও জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া মানুষ এবং খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। শুক্রবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে চট্টগ্রামে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। প্রায় ৪০ মিনিট স্থায়ী এই বৃষ্টিতেই নগরীর চকবাজার, কাতালগঞ্জসহ আশপাশের নিচু এলাকাগুলো প্লাবিত হয়।

এসব এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সকালের মাত্র আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতেই চকবাজার ও কাতালগঞ্জ এলাকার সড়কগুলো দ্রুত পানিতে তলিয়ে যায়। কোথাও কোথাও হাঁটু সমান পানি জমে যাওয়ায় যানবাহনগুলো মাঝপথেই আটকে যাচ্ছে। ফলে জরুরি প্রয়োজনে বের হওয়া সাধারণ মানুষের গন্তব্যে পৌঁছাতে যেমন দীর্ঘ সময় ব্যয় হচ্ছে, তেমনি চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে রাস্তায় জমে থাকা হাঁটু সমান পানি মাড়িয়েই পথচারীদের কষ্ট করে নিজ নিজ গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে।

তবে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার জন্য চিরচেনা এলাকা প্রবর্তক মোড়ে অবশ্য এবার কিছুটা ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মেগা প্রকল্পের আওতায় সেখানকার হিজড়া খালের মুখে বাঁধ দিয়ে চলমান কাজের সুবাদে প্রবর্তক মোড়ে আগের মতো পানি জমেনি। তবে প্রবর্তক মোড় রক্ষা পেলেও এর আশপাশের নিচু এলাকা ও সংযোগ সড়কগুলো ঠিকই পানিতে ডুবে ছিল। ফলে সামগ্রিক ভোগান্তি খুব একটা কমেনি।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম আবহাওয়া অফিসের বিএফও মাহবুবুল আলম বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত চট্টগ্রামে মাত্র ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে মেঘের ঘনত্বের কারণে অল্প সময়ে তীব্র বৃষ্টি হওয়ায় নিচু এলাকায় পানি জমেছে। দিনভর আকাশ মেঘলা থাকবে এবং থেমে থেমে আরও বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
নগরবাসীর অভিযোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার সঠিক তদারকি ও খালগুলোর সংস্কার কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই চট্টগ্রামকে এখনো ডুবতে হচ্ছে।

কাতালগঞ্জের বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বহু বছর ধরে আমরা একটু বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছি। একের পর এক মেগা প্রকল্প আসে, কিন্তু আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই। আধা ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এই অবস্থা হয়, সামনের দিনগুলোতে কী হবে?
ভোগান্তিতে পড়া রিকশাচালক মো. জলিল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বহুদিন ধরে আমরা এ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। ছুটির দিন হলেও আমাদের তো আয়ের আশায় বের হতে হবে। কিন্তু রাস্তায় পানি উঠে যাওয়ায় রিকশা চালানো যাচ্ছে না। আমাদের এই কষ্ট দেখার কেউ নেই।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ