আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

চবি সংবাদদাতা:

চবির দর্শন বিভাগের সুবর্ণজয়ন্তীতে আন্তর্জাতিক কনফারেন্স

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) দর্শন বিভাগ প্রতিষ্ঠার ৫০ বছরে সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন উপলক্ষে আন্তর্জাতিক কনফারেন্সের আয়োজন করে বিভাগটি। সোমবার দিনব্যাপী ‘ফিলোসফি : নাউ অ্যান্ড হিয়ার’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে এটি অনুষ্ঠিত হয়।এতে ৭টি অ্যাকাডেমিক সেশনে ৫টি বিষয়বস্তুর ওপর মোট ৩৫টি গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপিত হয়। বিষয়বস্তুগুলো হলো- ‘পলিটিক্স, পিস, অ্যান্ড জাস্টিস’, ‘এথিকস ইন দ্য মডার্ন ওয়ার্ল্ড’, ‘ফিলোসফি অ্যান্ড এডুকেশন’, ‘মেটাফিজিক্যাল ইনকুইরিজ ইন দ্য কনটেমপরারি ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘ফিলোসফি: ইন্টার ডিসিপ্লিনারি পারসপেকটিভ’।
অনুষ্ঠানে দর্শন বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহযোগী অধ্যাপক মাসুম আহমেদ, মূখ্য আলোচক ছিলেন ভারতের কেরিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জন ম্যাথিউ, অতিথি বক্তা ছিলেন ইউনাইটেড বোর্ড দক্ষিণ এশিয়ার প্রধান অধ্যাপক ড. মাহের স্পারজিয়ন, বিশেষ অতিথি ছিলেন কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল হক।এছাড়া ভারতের বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়, বানারসি হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশের ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর, রাজশাহী ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এতে অংশ নেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আঞ্জুমানে খুদ্দামুন নাস শারজাহ্ শাখার উদ্যােগে পবিত্র শোহাদায়ে বদর ও ইফতার মাহফিলের সমর্পণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে আঞ্জুমানে খুদ্দামুন নাস শারজাহ শাখার উদ্যােগে পবিত্র শোহাদায়ে বদর শীর্ষক আলোচনা সভা, ইফতার ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। গত (১৩ই মার্চ২৫ইং) শুক্রবার বাদে আসর ৪নং সানাইয়া পাকিস্তান সিগ্নেল পবিত্র শোহাদায়ে বদর দিবস শীর্ষক আলোচনা ও ইফতার মাহফিলে মুহাম্মদ একান্দর আলমের সঞ্চালনায়, অত্র শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল হক সাহেবের সভাপতিত্বে, প্রধান অতিথি হিসেবে নূরানী ত্বকরীর পেশ করেছেন চট্টগ্রাম থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আগত মেহমান, রাউজান উরকিরচর গাউছিয়া মোহাম্মদীয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও আল্লামা আব্দুল মালেক শাহ (রহঃ) কমপ্লেক্স ট্রাস্ট’র সম্মানিত চেয়ারম্যান আলা হযরত-এর রুহানি সন্তান, অধ্যক্ষ আল্লামা হাসান রেজা আল-কাদেরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন সফর সঙ্গী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা আব্দুল মালেক শাহ (রহঃ) কমপ্লেক্স ট্রাস্ট’র সেক্রেটারি শাহজাদা মহিউদ্দীন মোহাম্মদ তৌসিফ রেজা আল কাদেরী,এতে আরো বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিনিয়ার গোলামোর রহমান,মাওলানা আব্দুস ছামাদ,মুহাম্মদ ওসমান, মুহাম্মদ আব্দুস সবুর,,মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, মুহাম্মদ কাজী মাসুদ,মুহাম্মদ শফিউল ইসলাম,মুহাম্মদ নাঈম উদ্দীন,মুহাম্মদ আবু বক্কর,মুহাম্মদ ওমর ফারুক, প্রমুখ,এতে বক্তারা আঞ্জুমানে খুদ্দামুন নাস বাংলাদেশের উদ্যোগে দেশে এবং প্রবাসে সংগঠনিক ভিবিন্ন বৃহত্তর মানবিক কর্ম ও কাজের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় তুলে ধরেন,এবং রমদ্বানের গুরুত্ব ও শোহাদায়ে বদর দিবসের যে শিক্ষা তার উপর গুরুত্বপূর্ণ বক্তৃতার মাধ্যমে মুসলিম মিল্লাতের কি করনীয় শ্রোতাদের মাঝে আলোকপাত করেন, সর্বশেষ দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানে সমাপ্তি হয়।

স্মরণে বরণে  ভোলার বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

 

 

রিপন শান #

পলিমাটির জনপদ দ্বীপজেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ’র নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ ১২ মার্চ ২০২৬ । বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ ১৯৪৪ সালের ২৭ এপ্রিল ভোলার বোরহানউদ্দিনে নিজ গ্রামে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আব্দুল হাই, মাতা শামর্থ ভানু।

ভোলা জেলার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও পারিবারিক সুত্র থেকে জানা যায় : তারুণ্যে পদার্পণ করেই তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দেন। অকুতোভয় এ সাহসী সৈনিক তাঁর কর্মজীবনে নানা প্রতিকুলতার মাঝেও রেজিমেন্টের বিভিন্ন ইভেন্টে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখেন। এরমধ্যে, ২৯ বার হেলিকপ্টার হতে প্যারাসুট জাম্প ও দীর্ঘ দৌড়ে শীর্ষ স্থান অর্জন করেন । কর্মজীবনে তিনি পাকিস্তান, রাওয়ালপিন্ডি, পেশোয়ার, করাচি এবং দেশের বিভিন্নস্থানে দক্ষতা ও আনুগত্যের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনি যশোর সেনানিবাসে কর্মরত থাকা অবস্থায় বিদ্রোহ করেন এবং, মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে কে ফোর্সের অধীন যশোর অঞ্চলে তিনি যুদ্ধ করেন। যুদ্ধ বিজয়ের শেষদিকে সাথী যোদ্ধাদের বাঁচাতে গিয়ে ডান হাতে পাঁচটি গুলিবিদ্ধ হন। এসময় শত্রু পক্ষের অনেকেই ঘটনাস্থলে মারা যান। অতঃপর বহু প্রতিকুল পথ পেরিয়ে বীরমুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ চিকিৎসার জন্য ভারতে যান। তিনিই প্রথম ভোলা জেলার মুক্তিযোদ্ধা ভারতে প্রবেশ করেন। সেখানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সেনাপতি কর্ণেল এমএজি ওসমানীর সান্নিধ্য পান।

বীরযোদ্ধা আব্দুর রউফের নিজ এলাকা কাচিয়া ইউনিয়নে তিনি ছিলেন দলমতের উর্ধ্বে একজন সৎ ও ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিত্ব। এ প্রসংগে বীরমুক্তিযোদ্ধার সাথী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. নুরুল ইসলাম হাওলাদার জানান : “১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ সকাল ৮ টার সময় যশোর ক্যান্টম্যান্টের ১ম ইস্ট বেংগল রেজিমেন্টের ওপর তিনদিক থেকে পাকহানাদার বাহিনী (নাইন ভেলুস) হামলা চালায়। সেই যুদ্ধে নায়েক গাজী আব্দুর রউফ নিজের জীবনকে বিপন্ন জেনেও এমএমজি (মিডিয়াম মেশিন গান) দিয়ে হানাদার বাহিনীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।এসময় পাকবাহিনীর অনেকে হতাহত হন। সেদিন, রউফ সাহেব এগিয়ে এসে যে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমরা কোনোদিন ভুলবো না। ”

একজন রাষ্ট্রস্বীকৃত বীরমুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মু্ক্তিযুদ্ধের ওয়েবসাইটের লাল মুক্তিবার্তায় ক্রমিক নং ০৬০৪০৬০০০৩৮/২০০১, বেসামরিক গেজেট ৩৩৫/১৭এপ্রিল২০০৫, সামরিক গেজেট সেনা ৩২১২ নথিতে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বীরমুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ ২০১৭ সালের ১২ মার্চ সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁকে ভোলার নিজ বাড়ি০৪ নং কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া ০৫ নং ওয়ার্ডে সেনাবাহিনীর গার্ড অব রেজিমেন্টের ক্যাপ্টেন তৌহিদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়। মরহুমের প্রথম জানাজা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) মসজিদ মাঠে এবং দ্বিতীয় জানাজা নিজ এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়।

তাঁর জানাজায় যশোর ক্যান্টমেন্টের সেনাবাহিনীর একটি টিম, বীর মুক্তিযোদ্ধাগন, সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ, এবং স্থানীয় সকল শ্রেণিপেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী আছিয়া বেগম, ৫ ছেলে ও ১ মেয়ে রেখে যান। তাঁর বড় পুত্র সাংবাদিক ও লেখক ডা. গাজী মো. তাহেরুল আলম লিটন, ছোট সন্তান গাজী মো. হাসান ও কন্যা রূপজান বেগম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক, গাজী মো. হোসেন অব. সেনা সৈনিক, গাজী মোক্তাদির ও গাজী মো. রানা সম্মানজনক পেশায় কর্মরত ।

দেশ ও জাতির কৃতি সন্তান এ বীরসেনানীর মৃত্যুতে নিজ এলাকার সামাজিক ও আদর্শিক উন্নয়নকর্মে তাঁর শুন্যতা আজীবন থাকবে। যতোদিন রবে মেঘনা তেতুলিয়া ইলিশা বঙ্গোপসার বহমান থাকবে; যতোদিন স্বাধীনতার লালসবুজ পতাকা পতপত করেউড়বে বাংলার আকাশে, ততোদিন দ্বীপজেলা ভোলার বীরসন্তান বীরমুক্তিযোদ্ধা মরহুম গাজী আব্দুর রউফের নাম ও জীবনস্মৃতি অক্ষয় হয়ে থাকবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ