আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ ও অডিটর বাবর আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ।

প্রনব কুমার দেব গফরগাঁও:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার ও অডিটর বাবর আলী ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গফরগাঁও খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বাংলাদেশের মহাহিসাব নীরিক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, হিসাব মহানিয়ন্ত্রক এবং ডিভিশনাল হিসাব কর্মকর্তার বরাবরে বহুবার ঘুষ- দূর্নীতির অভিযোগ করেছেন । কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়া হচ্ছে না জানা গেছে।
সরাসরি ঘুষের অভিযোগ থাকায় উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও অডিটর বাবর আলী ভূইয়াকে বিধি মোতাবেক সাময়িক বরখাস্ত করা প্রয়োজন ছিল অথবা বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো দরকার ছিল কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা না করে তাদেরকে অবাধ ঘুষ-দূর্নীতি চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন।
ঘুষের বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বিষয় । কিন্তু কিছু অভিযোগ ডকুমেন্টারি সহজেই প্রমাণিত । যেমন – সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী একই কর্মস্থলে ৩ বছরের বেশী সময় কর্মরত থাকতে পারেন না।
কিন্তু বাবর আলী ভূঁইয়া একযুগের বেশী সময় ধরে কর্মরত রয়েছেন , মাঝখানে স্বল্প সময়ের জন্যে অন্যত্র বদলী হলেই উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে বশীভূত করে পুনরায় গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসেই বদলী নিয়ে চলে আসেন । একই কর্মস্থলে একযুগের বেশী সময় ধরে কর্মরত থাকা কিংবা একই কর্মস্থলে বার বার বদলী হয়ে আসা সরকারী চাকুরীবিধির পরিপন্থী । খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক অভিযোগ করার পর ঘুষখোর অডিটর বাবর আলী ভূইয়াকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে তড়ঘড়ি বদলী করে তাকে রক্ষা করা হয়েছে। আশরাফুল ইসলামকেও ঢাকায় বদলী করে রক্ষার চেষ্টা চলছে বলে জানা গিয়েছে ।
উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার জনাব মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম কর্মস্থলে অবস্থান করেন না । তিনি ঢাকার উত্তরা থেকে অগ্নিবীণা ট্রেনে এসে কয়েক ঘণ্টা পরেই আবার ঢাকার উত্তরায় চলে যান। সরকারী বিধি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠান প্রধানের কর্মস্থলে পরিবার সহ সার্বক্ষণিক অবস্থান করা বাধ্যতামূলক । এছাড়া একজন নিম্ন বেতন ভোগী কর্মকর্তা প্রতিদিন ঢাকার উত্তরা থেকে CNG ও ট্রেন যোগে হাজার টাকা খরচ করে অফিস করার অর্থ সংস্থানও তদন্তের বিষয় । বাবর আলী ভূঁইয়া কর্তৃক সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে” হিন্দুর বাচ্চা, মালোয়ানের বাচ্চা ” বলে গালি-গালাজ করার বিষয়টি সিসি ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজ দেখলেই বুঝা যাবে। আজকাল পানের দোকানেও সিসি ক্যামেরা লাগানো থাকে, যদি গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে সিসি ক্যামেরা লাগানো না থাকে তবে বুঝতে হবে বিষয়টি উদ্দেশ্য প্রণোদিত।
এবিষয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন।

বিগত ০৫/০৪/২০২৩ খ্রি: তারিখে গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও অডিটর বাবর আলী ভূইয়ার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক এবং হিসাব মহানিয়ন্ত্রক বরাবরে খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় একজন শিক্ষক কর্তৃক আনীত ঘুষ ও দূর্নীতির অভিযোগের তদন্ত করেন ডিসিএ ময়মনসিংহ কর্তৃপক্ষ । জানা গিয়েছে যে তদন্তকারী দল আগের দিন রাতে মোবাইলে অভিযোগকারী শিক্ষককে তদন্তে উপস্থিত থাকার জন্যে নির্দেশ করেন – যা বিধি বহির্ভূত । তদন্তের বিধি অনুযায়ী কমপক্ষে ৭ দিন আগে উভয়পক্ষকে লিখিত ভাবে তদন্তে উপস্থিত থাকার জন্যে নোটিশ প্রদান করতে হবে এবং নোটিশের সাথে অভিযোগের সত্যায়িত কপি, উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনামা, তদন্তকারী দলের নাম,পদবী সংযুক্ত করে দিতে হয় । কিন্তু এক্ষেত্রে তা না করার রহস্য কি ?
চণ্ডিপাশা সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী শাহেব আলী ভালুকা হিসাবরক্ষণ অফিসের ঘুষ-দূর্নীতি নিয়ে বাংলাদেশ মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক বরাবরে অভিযোগ করলে ডিসিএ, ময়মনসিংহকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়। সেখানেও তারা শাহেব আলীকে আগের দিন সন্ধ্যায় মোবাইলে পরদিন তদন্তে উপস্থিত থাকার জন্যে নির্দেশ প্রদান করেন ।

ডিসিএ কর্তৃক তদন্তের বিধিমালা লংঘন করার মানে কী ?
০৫ /০৪/২০২৩ তারিখের তদন্তে কি গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও অডিটর বাবর আলী ভূইয়ার ঘুষ-দুর্নীতি ও দূর্নীতি কি প্রমাণিত হয়েছে ? যদি প্রমাণিত হয়ে থাকে, তবে বিধি মোতাবেক উপজেলা হিসাব রক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও অডিটর বাবর আলী ভূইয়াকে চাকুরীচ্যূত করে তাঁদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা প্রয়োজন ছিল আর ঘুষ-দুর্নীতি প্রমাণিত না হলে খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন ছিল কিন্তু এ পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নেয়ার রহস্য কি ?
বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় যে, ঘুষ – দূর্নীতির অভিযোগে অডিটর বাবর আলী ভূইয়াকে ফুলবাড়িয়া উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসে বদলী করা হয়েছে – ঘুষখোরদেরকে বদলী করার কোন আইন আছে কি ?
উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলামকেও কি বদলী করে রক্ষা করা হবে ?
সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও অডিটর বাবর আলী ভূইয়ার বিরুদ্ধে ঘুষ – দূর্নীতির মামলা করার জন্যে হিসাব বিভাগের উর্ধতন কতৃপক্ষের নিকট বার বার গফরগাঁও উপজেলা হিসাবরক্ষণ অফিসার আশরাফুল ইসলাম ও অডিটর বাবর আলী ভূইয়ার তথ্য চেয়ে অদ্যাবধি তথ্য পাননি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

কলমাকান্দায় ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল পরিদর্শনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলায় ভারী বৃষ্টিপাতজনিত পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খাল এলাকা পরিদর্শন করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান।৫ মে (মঙ্গলবার) দুপুরে তিনি উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের চিকন মাটিয়া, তেলেঙ্গা ও মেদি বিলসহ দমদমা খাল এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখেন এবং ক্ষয়ক্ষতির চিত্র পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমীন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম, খারনৈ ইউপি চেয়ারম্যান ওবায়দুল হক, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম, উপ-সহকারী প্রকৌশলী মাহমুদুল হাসান, সমাজসেবক মজিবুর রহমান এবং প্রেসক্লাবের সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তা কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে তা আরও জোরদার করা হবে।

তিনি বলেন, “আমরা শুরু থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত জনগণের পাশে আছি। ভারী বৃষ্টিপাত শুরুর দিন থেকেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনাসহ ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জিআর ক্যাশ ও চাল বিতরণের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। আজ থেকেই এসব সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হাওর ও খালের পুনর্বাসন এবং কৃষকদের সহায়তায় সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ