আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

মৌলভীবাজারে সরকারি খাল দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ।

তিমির বনিক মৌলভীবাজার:

মৌলভীবাজার:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আজমেরু এলাকায় কৃষিকাজে ব্যবহৃত সরকারি খাল দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাসরিন চৌধুরী তাৎক্ষণিক সেখানে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ, মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু এলাকায় রাস্তার পাশের সরকারি খাল বা গোপাট দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন ফখরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি।

খালটির অবস্থান মোকামবাজার অফিস বাজার সড়ক থেকে দক্ষিণ দিক হয়ে আজমেরু এলাকা হয়ে কোদালী ছড়া পর্যন্ত। প্রায় ৪০ বছর আগে গোপাট হিসেবে পরিচিত ছিল। পরে ওই গোপাটের পশ্চিম পাশে খাল খনন করে পূর্ব পাশ দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। ওই খালের বেশ কিছু অংশ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করছেন ফখরুল ইসলামসহ আরও এক ব্যক্তি।

এ বিষয়ে স্থানীয় উপকারভোগী কয়েকজন কৃষক খাল দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করায় আপত্তি করেন। ফখরুল ইসলাম গংরা কৃষকদের আপত্তি তোয়াক্কা না করে জোরপূর্বক দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজ শুরু করেন।

পরে এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর পক্ষে কৃষক রাজু মিয়া গত (৩১ জানুয়ারি) বুধবার দুপুরে মৌলভীবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগ পেয়ে ওই দিন বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে একটি টিম সরেজমিন পরিদর্শন করে অবৈধভাবে খাল বা গোপাট দখলের সত্যতা পান। পরে তারা খাল বা গোপাটের ভূমি বাদ দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দেন।

উল্লেখ্য, ওই খালের উত্তর পাশে রাজু মিয়ার বাড়ির সীমানা ও দক্ষিণ পাশে শাহীন মিয়ার কৃষি জমির সীমানা রয়েছে। তারা সহ অন্যান্য কৃষি জমির মালিকদের খালের বাইরে তাদের সীমানার অবস্থান। দীর্ঘ দিন থেকে ওই খাল থেকে পানি সেচ দিয়ে কৃষি কাজ করে আসছেন এলাকাবাসী। তবে খালটি ভরাট হওয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে খননের জন্য সম্প্রতি জেলা প্রশাসক বরাবর এলাকাবাসীর পক্ষে একটি আবেদন করা হয়েছে। খালটি খনন হলে কৃষি কাজসহ ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

এ বিষয়ে ইউএনও নাসরিন চৌধুরী জানান, আজমেরু মৌজার গোপাটের সরকারি খাস ভূমিতে অবৈধ সীমানা প্রাচীর নির্মাণ সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সরেজমিনে তদন্তক্রমে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, মোকামবাজার অফিসবাজার সড়কের প্রতিবন্ধী পুনর্বাসন কেন্দ্রের উত্তর পাশে সরকারি গাইড ওয়াল ও সড়ক দখল করে রিপন গাজী নামের জনৈক ব্যক্তি সুকৌশলে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন। রিপন গাজী প্রথমে কৃষি জমিতে মাটি ভরাট করার সময় গাইড ওয়ালটির ওপর মাটি ফেলে তার দখলে নেন। তার ওপর বাঁশ ও কঞ্চি দিয়ে কিছু সবজি গাছ ও কচু লাগিয়ে আড়াল করেন। এরপর বাঁশের বেড়া দেন। সর্বশেষ তিনি কাঠ ও টিন দিয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করে পুরো সরকারি গাইড ওয়াল ও রাস্তার ভূমি অবৈধভাবে নিজ দখলে নেন।
এ বিষয়ে গিয়াসনগর ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে মৌখিকভাবে এলাকাবাসী জানালে কোনও পদক্ষেপ এই পর্যন্ত নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি কথা বলতে নারাজ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ