আজঃ রবিবার ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৫

রঙিন ফুলকপির চাহিদা ও দামে লাভবান কৃষক শহীদুল্লাহ

চাহিদা ও দামে লাভবান কৃষক শহীদুল্লাহ ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একই খেতে সবুজ পাতার ভেতর থেকে দেখা যাচ্ছে দুই ধরণের রঙিন ফুলকপি। একটির রং হলুদ, অপরটির রং গোলাপি। বাজারের চাহিদা ও দামে লাভবান কৃষক মোঃ শহীদুল্লাহ । ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এই প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষ করে তাক লাগিয়েছেন তিনি।
উপজেলার তাঁতকুড়া গ্রামে বাড়ি মোঃ শহীদুল্লাহর। তিনি তার বাড়ির পাশে ৬৫ শতক জমির ২০ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি আর ৫ শতক জমিতে রেড ক্যাবেজ (বাঁধাকপি) ও ৪০ শতক জমিতে সাদা ফুলকপির চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এ উপজেলায় এই প্রথম দুটি জাতের রঙিন ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। হলুদ রঙের ফুলকপির নাম ক্যারোটিনা আর গোলাপি রঙের ফুলকপির নাম ভ্যালেন্টিনা। এই উপজেলায় ২০ শতক জমিতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। এটি দেখতেও সুন্দর। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণও বেশি। গতানুগতিক সাদা রঙের চেয়ে রঙিন ফুলকপির বাজারমূল্য বেশি।
গত রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে তাঁতকুড়া গ্রামের মোঃ শহীদুল্লাহর খেতে দেখা গেছে, কিছুটা লম্বা সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে আছে হলুদ ও গোলাপি রঙের রঙিন ফুলকপি।
কৃষক মোঃ শহীদুল্লাহ জানান, তিনি উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের মাধ্যমে এই রঙিন জাতের ফুলকপির বীজ আনেন। রঙিন দুই জাতের ফুলকপি সাধারণ ফুলকপির মতোই পরিচর্যা করতে হয়। অল্প জমিতে এই ফুলকপি চাষ করে বেশি লাভ পাওয়া যায়। রঙিন ফুলকপি চাষে বাড়তি কোন শ্রম ও খরচ নেই। সাধারণ ফুলকপি চাষের মতো শ্রম ও টাকা খরচ হয়। রঙিন ফুলকপি প্রতিটি ৬০-৭০ টাকা বিক্রি করেছেন আর সাদা ফুলকপি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা বিক্রি করছেন বলেও তিনি জানান।
প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে রঙিন ফুলকপির ফলন দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন বলেও তিনি জানান।
মোঃ শহীদুল্লাহ আরও জানান, এবার তিনি ২০ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি, ৫ শতক জমিতে রঙিন বাঁধাকপি ও ৪০ শতক জমিতে সাদা ফুলকপি চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তিনি আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা বিক্রি করবেন এই ফুলকপি।
শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছে তাই দেখতে আসছি। দেখতেও সুন্দুর। বাজারে এই ফুলকপির চাহিদার পাশাপাশি সাদা ফুলকপির চেয়ে দামেও বেশি।
নন্দীগ্রামের কৃষক আঃ জলিল রিপন বলেন, আগে তো সাদা ফুলকপি দেখছি। এইবারই প্রথম শহীদুল্লাহ ভাই রঙিন ফুলকপি করছেন। তা দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, বৃহত্তম ময়মনসিংহ অঞ্চলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় মোঃ শহীদুল্লাহকে এই প্রদর্শনীটি দিয়েছি। এখানে বেগুনি ও হলুদ রঙের ফুলকপি ও রঙিন বাঁধাকপি (রেড ক্যাবেজ) দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন সবজি চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা ও অধিক লাভবান হতে পারে এটা নিশ্চিত করা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, মোঃ শহীদুল্লাহ একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সবসময় ব্যতিক্রমী কিছু করতে চায়। রঙিন ফুলকপি সাদা ফুলকপির তুলনায় অধিক পরিমাণে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। বাজারে এই ফুলকপির চাহিদা রয়েছে। এটি বাজারে ৬০-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে রয়েছে বিটা-কেরোটিন ও এন্থোসায়োনিন্স যা রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ইরান ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইরান ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজ জব্দ করেছে । তেলবাহী জাহাজটিতে বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কার ১৮ নাবিক রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স জানায়- ছয় মিলিয়ন লিটার চোরাচালানকৃত ডিজেল বহনকারী একটি তেলবাহী জাহাজ ওমান উপকূলে আটক করা হয়েছে।

চন্দ্রগঞ্জ থানা পরিদর্শন করেন নবাগত পুলিশ সুপার মো:আবু তারেক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লক্ষ্মীপুর জেলার সদ্য যোগদান করা পুলিশ সুপার জেলার বিভিন্ন থানা পরিদর্শন ও থানায় কর্মরত অফিসারদের সাথে সৌজন্যে সাক্ষাৎ করেন।
তারই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেন লক্ষ্মীপুর জেলার নবাগত পুলিশ সুপার মোঃ আবু তারেক। এসময় চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ও কর্মরত সবাই ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।

থানা পরিদর্শনকালে পুলিশ সুপার ফোর্সদের থাকার ব্যারাক ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন এবং সকল পুলিশ সদস্যদের সাথে কুশল বিনিময় করেন। এছাড়াও সকল পুলিশ সদস্যদের আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।

উল্লেখ্য চন্দ্রগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মোরশেদ আলম চলতি মাসের ৬ তারিখে এ থানায় যোগদান করেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ