আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

রঙিন ফুলকপির চাহিদা ও দামে লাভবান কৃষক শহীদুল্লাহ

চাহিদা ও দামে লাভবান কৃষক শহীদুল্লাহ ওবায়দুর রহমান, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

একই খেতে সবুজ পাতার ভেতর থেকে দেখা যাচ্ছে দুই ধরণের রঙিন ফুলকপি। একটির রং হলুদ, অপরটির রং গোলাপি। বাজারের চাহিদা ও দামে লাভবান কৃষক মোঃ শহীদুল্লাহ । ময়মনসিংহের গৌরীপুরে এই প্রথম রঙিন ফুলকপি চাষ করে তাক লাগিয়েছেন তিনি।
উপজেলার তাঁতকুড়া গ্রামে বাড়ি মোঃ শহীদুল্লাহর। তিনি তার বাড়ির পাশে ৬৫ শতক জমির ২০ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি আর ৫ শতক জমিতে রেড ক্যাবেজ (বাঁধাকপি) ও ৪০ শতক জমিতে সাদা ফুলকপির চাষ করেছেন।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্র জানায়, এ উপজেলায় এই প্রথম দুটি জাতের রঙিন ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। হলুদ রঙের ফুলকপির নাম ক্যারোটিনা আর গোলাপি রঙের ফুলকপির নাম ভ্যালেন্টিনা। এই উপজেলায় ২০ শতক জমিতে এই রঙিন ফুলকপির চাষ করা হয়েছে। এটি দেখতেও সুন্দর। সাদা ফুলকপির চেয়ে রঙিন ফুলকপিতে পুষ্টিগুণও বেশি। গতানুগতিক সাদা রঙের চেয়ে রঙিন ফুলকপির বাজারমূল্য বেশি।
গত রোববার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে তাঁতকুড়া গ্রামের মোঃ শহীদুল্লাহর খেতে দেখা গেছে, কিছুটা লম্বা সবুজ পাতার আড়ালে ফুটে আছে হলুদ ও গোলাপি রঙের রঙিন ফুলকপি।
কৃষক মোঃ শহীদুল্লাহ জানান, তিনি উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের মাধ্যমে এই রঙিন জাতের ফুলকপির বীজ আনেন। রঙিন দুই জাতের ফুলকপি সাধারণ ফুলকপির মতোই পরিচর্যা করতে হয়। অল্প জমিতে এই ফুলকপি চাষ করে বেশি লাভ পাওয়া যায়। রঙিন ফুলকপি চাষে বাড়তি কোন শ্রম ও খরচ নেই। সাধারণ ফুলকপি চাষের মতো শ্রম ও টাকা খরচ হয়। রঙিন ফুলকপি প্রতিটি ৬০-৭০ টাকা বিক্রি করেছেন আর সাদা ফুলকপি প্রতিটি ২৫-৩০ টাকা বিক্রি করছেন বলেও তিনি জানান।
প্রতিদিনই বিভিন্ন জায়গা থেকে রঙিন ফুলকপির ফলন দেখতে দর্শনার্থীরা ভিড় করেন বলেও তিনি জানান।
মোঃ শহীদুল্লাহ আরও জানান, এবার তিনি ২০ শতক জমিতে রঙিন ফুলকপি, ৫ শতক জমিতে রঙিন বাঁধাকপি ও ৪০ শতক জমিতে সাদা ফুলকপি চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। তিনি আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা বিক্রি করবেন এই ফুলকপি।
শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শহীদুল ইসলাম বলেন, রঙিন ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করছে তাই দেখতে আসছি। দেখতেও সুন্দুর। বাজারে এই ফুলকপির চাহিদার পাশাপাশি সাদা ফুলকপির চেয়ে দামেও বেশি।
নন্দীগ্রামের কৃষক আঃ জলিল রিপন বলেন, আগে তো সাদা ফুলকপি দেখছি। এইবারই প্রথম শহীদুল্লাহ ভাই রঙিন ফুলকপি করছেন। তা দেখে আমরা উৎসাহিত হয়েছি।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারি সুমন চন্দ্র সরকার বলেন, বৃহত্তম ময়মনসিংহ অঞ্চলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় মোঃ শহীদুল্লাহকে এই প্রদর্শনীটি দিয়েছি। এখানে বেগুনি ও হলুদ রঙের ফুলকপি ও রঙিন বাঁধাকপি (রেড ক্যাবেজ) দেয়া হয়েছে। এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে নতুন সবজি চাষে কৃষককে উদ্বুদ্ধ করা ও অধিক লাভবান হতে পারে এটা নিশ্চিত করা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন জলি বলেন, মোঃ শহীদুল্লাহ একজন আদর্শ কৃষক। তিনি সবসময় ব্যতিক্রমী কিছু করতে চায়। রঙিন ফুলকপি সাদা ফুলকপির তুলনায় অধিক পরিমাণে সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর। বাজারে এই ফুলকপির চাহিদা রয়েছে। এটি বাজারে ৬০-৭০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে রয়েছে বিটা-কেরোটিন ও এন্থোসায়োনিন্স যা রোগ প্রতিরোধ করে থাকে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে এক রাতে দুই কৃষকের সেচপাম্পের ৪ টি ট্রান্সফরমারের খোলস ফেলে ভেতরের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নির্মল দে’র ৩ টি ও শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক মাদল চৌধুরীর ১টি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ১টি বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পে মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী থাকলেও নেই ট্রান্সফরমার। আরেকটিতে ৩ টির মধ্যে ২টি ট্রান্সফরমার খুটিতে থাকলেও ১টি নাই। পৃথক দুটি স্থানে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস, নেই ভেতরের যন্ত্রাংশ।

ভুক্তভোগী ককৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ভারাম্বা খালের আমুচিয়া ও জৈষ্টপুরা অংশে দুটি মোটরচালিত বৈদ্যুতিক সেচপাম্প দিয়ে ওই এলাকার মনতলা কালি বিল, আন্ধার বিল ও জৈষ্টপুরা এলাকার কুমার গাতা বিলে অন্তত ২০০ কানি জমির চাষাবাদ করা হয়।

বোরো মৌসুম শেষ হলে প্রতি বছরের মতো গত এক মাস আগে ১৭/৫/২৬ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার নামিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এতোদিন ধরে না নামানোর কারণে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নির্মল দে ও মাদল চৌধুরী।

চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) স ম মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কাজের চাপে যথাসময়ে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামানো না হলেও চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কলকারখানার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহককে নিজ খরচে তা স্থাপন করার বিধান আছে। প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ধারণসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ