আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

নগর উন্নয়নে দায়িত্ব পালনের তিন বছর ও আগামীর ভাবনা

ডেস্ক নিউজ:

মোহাম্মদ রেজাউল করিম চৌধুরী মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর চট্টগ্রাম। গোড়াপত্তন থেকে ক্রমবিকাশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম দেশের প্রধান অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও বাণিজ্যিক রাজধানী হয়ে ওঠার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। মূলত বঙ্গোপসাগর ও কর্ণফুলি নদীর সঙ্গমে প্রাকৃতিক পোতাশ্রয় ও বন্দরকে ঘিরে চট্টগ্রাম শহরের ক্রমবিকাশ। কাঁচা রাস্তাঘাট, খানাখন্দকে ভরা জঙ্গলাকীর্ণ চট্টগ্রামকে আধুনিক রূপদানের কাজ মূলত শুরু হয় ১৮৬৩ সালের ২২জুন পৌরসভা ঘোষনার মধ্য দিয়ে। আরো নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ১৮৬৪ সালে জুলাইয়ে মিউনিসিপ্যাল আইনের বিধানের আওতায় এনে চট্টগ্রামকে পরিকল্পিত শহরে রূপদানের কাজটি শুরু করেন ব্রিটিশরা। সেই থেকে তারা নতুন রাস্তা, লেন, গলি, আলো, পানি নিষ্কাশনের জন্য নালা তৈরী করার কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি ¯^াস্থ্য বিধানের জন্য নেয়া হয় নানা ব্যবস্থা। প্রথমত চারটি ওয়ার্ড নিয়ে পৌর কার্যক্রম শুরু হলেও বিংশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বৃদ্ধি করা হয় আরো একটি ওয়ার্ড। ১০.০৯ বর্গকিলোমিটার নিয়ে যে চট্টগ্রাম পৌর প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু হয় তা পর্যায়ক্রমে মিউনিসিপ্যাল ও সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়ে ৪১টি ওয়ার্ডের ১৬০.৯৯ বর্গকিলোমিটারের মেগা সিটি হয়েছে। এখানে আনুমানিক ৭০ল¶ মানুষের বসবাস এখন। এছাড়াও আরো ২০ল¶ ভাসমান মানুষ রয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরে। ১৯৯০ সালের ৩১জুলাই তারিখে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন নামের পরিবর্তন করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন করা হলেও প্রথম ১৯৯৪ সালে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে সিটি কর্পোরেশন এর মেয়রের দায়িত্ব পান চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামীলীগের তৎকালীন সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী। মিউনিসিপ্যাল থেকে সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত করার সময়ে মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে মেয়র হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয় এবং ১৯৯১ সাল হতে ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন নিয়োগ প্রাপ্ত মেয়রের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯৪ সালে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নির্বাচিত মেয়র এ.বি.এম. মহিউদ্দিন চৌধুরী পুনরায় নির্বাচিত হয়ে টানা ১৭ বছর মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৪র্থ পরিষদে মোহাম্মদ মনজুর আলম এবং ৫ম পরিষদে আ.জ.ম. নাছির উদ্দীন মেয়র হিসেবে দায়িত্বপালন করেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি তারিখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হয়ে আমি সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে ৬ষ্ঠ পরিষদের মেয়র হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হই এবং একই সনের ১৫ ফেব্রæয়ারী ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্সিটিউটে সুধী সমাজের সাথে মত বিনিময় করে আমি আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়র এর দায়িত্বভার গ্রহন করি। চসিকের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বকেয়া বেতন ভাতা, অন্যান্য সেবা সংস্থা সমূহের বকেয়া বিলসহ নানামূখী সমস্যা ও ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে এবং বিশ্ব মহামারী কোভিড-১৯ করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতিকে সাথে করে আমার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের তৃতীয় বর্ষ পূর্ণ হয়েছে স¤প্রতি। দায়িত্ব পালনে সফলতা কিংবা ব্যর্থতার বিবেচনা নগরের বাসিন্দা ও ভোটাররাই করবেন। আমার দিক থেকে কোন প্রকার গাফিলতি আমি করিনি এবং চ্যালেঞ্জিং ইস্যুগুলোতে কোন শক্তির কাছে নমনীয় হইনি এতটুকু আমি জোর দিয়ে বলতে পারি।
নগরে যে কোন ধরনের সমস্যার জন্য সর্বপ্রথম সিটি কর্পোরেশনের দিকেই আঙ্গুল তুলে জনগণ। এটাকে আমি ইতিবাচক হিসেবেই দেখি। কারণ মহানগরে যতগুলো সরকারী, আধা সরকারী, ¯^ায়ত্বশাসিত ও বেসরকারী সেবা সংস্থা রয়েছে তার মধ্যে একমাত্র সিটি কর্পোরেশনই জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে ও দায়িত্বে পরিচালিত হয়। তাই সিটি কর্পোরেশনের জনসম্পৃক্ততা অন্য সকল সেবা সংস্থার চাইতে বহুগুনে বেশী এবং জনগন সিটি কর্পোরেশন এর উপর প্রত্যাশী হয়ে থাকে বেশী।
তবুও জনগনের জানার জন্য উল্লেখ করতে চাই যে, আমাদের সিটি কর্পোরেশনের কাজের মধ্যেও অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সব ধরনের কাজে হাত দেয়ার এখতিয়ার সিটি কর্পোরেশনের নেই। সিটি কর্পোরেশন পরিচালিত হয় স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯ এর আলোকে। মোট ৮টি তফসিলে এই আইনের ১২৬টি ধারা আছে। আর এই ধারাগুলোতে একজন মেয়র, ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও সংর¶িত মহিলা কাউন্সিলরদের সহায়তা নিয়ে মূলত ২৮ ধরনের কাজের ¶মতা রাখেন। তাছাড়া ‘সিটি কর্পোরেশন পরিচালন ব্যবস্থা (গভর্ন্যান্স) উন্নয়ন কৌশলপত্র ২০২০-২০৩০’ শিরোনামে দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর জন্য ১০ বছর মেয়াদী একটি কৌশলপত্র আছে সরকারের। সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমে নাগরিকদের উন্নত সেবা প্রদান করা এ কৌশলপত্র প্রণয়নের অন্যতম উদ্দেশ্য। ওই কৌশলপত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) রূপকল্প (ভিশন) ধরা হয়, ‘পরিচ্ছন্ন ও সবুজ চট্টগ্রাম নগরী’। একইসঙ্গে মিশন (অভিল¶্য) এর প্রধান উপাদান হিসেবে উলে¬খ করা হয়, ‘পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থ–সামাজিক কার্যক্রম এর মাধ্যমে নাগরিকদের সেবা নিশ্চিতকরণ এবং নগরকে একটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন সবুজ নগরীতে পরিণত করে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন’। স্মার্ট বাংলাদেশের অভিযাত্রার সাথে সংগতি রেখে চট্টগ্রামকে বিশ্ব বাণিজ্যের হাব ও নান্দনিক নগরী হিসেবে দেখতে চান বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিষয়কে মাথায় রেখেই কাজ করছি আমরা। ভাঙ্গাচোড়া, এবড়ো থেবড়ো, ধূলাবালিময় ছিল নগরের অধিকাংশ রাস্তাঘাট ও অলি গলি। আজকে প্রতিটি ওয়ার্ডের গলি থেকে রাজপথের প্রায় সবগুলোতেই উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। মসৃণ করে তোলা হচ্ছে সবকিছুই। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমেও লেগেছে পরিবর্তনের ছোঁয়া, পেয়েছে গতি। আধুনিক ডিজাইনের সড়কবাতিতে মোহনীয় রূপ পেয়েছে নগরের বিশেষ বিশেষ এলাকা। তাছাড়া নগরের প্রায় সব এলাকাকেই আলো ঝলমলে সন্ধ্যা উপহার দিতে স¶ম হয়েছি আমরা।
নগরীর প্রাণকেন্দ্র থেকে প্রান্তিক এলাকা সব জায়গায় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন ও নিরাপদ করতে ব্রিজ, ফুটওভার ব্রিজ ও রাস্তা নির্মাণ করছি।
নগরের খাল, নালা, নর্দমা ও ফুটপাথ থেকে অবৈধ স্থাপনা অপসারনে কর্পোরেশনকে নানামূখী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। সকল প্রকার চাপ ও প্রতিবন্ধকতাকে গ্রাহ্য না করেই আমরা এ কাজ সম্পাদনে আমরা ঠিকই সফলকাম হতে পারছি। এ কাজের ধারা অব্যাহত রয়েছে অচিরেই প্রায় সবগুলো খাল, নালা ও ফুটপাথকে অবৈধ দখলদারমুক্ত করা হবে। এ ব্যাপারে ছাত্র, যুব ও সাধারন মানুষের সমর্থন পাচ্ছি। এ সমর্থনকে আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে সাধুবাদ জানাই। যোগাযোগ ব্যবস্থা ও যান চলাচল নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন রাখতে ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জিইসি মোড়ে চর্তুমুখী, ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে জালালাবাদ এলাকায় ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ সড়ক সংযোগস্থলে এবং ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে কাপ্তাই রাস্তার মোড়েও ওভারব্রিজ নির্মাণ করব আমরা। মোহরা এলাকায় ৬ কোটি ৭৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ওসমানিয়া পিসি গার্ডার সেতু তৈরি করতে যাচ্ছি আমরা।
শহরকে স্মার্ট সিটিতে রূপদান করতে নগরে পার্ক ও খেলার মাঠ উন্নয়ন, নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ম্যাকানিক্যাল পার্কিং স্থাপন, চসিকের ওয়ার্ড অফিসসমূহ সংস্কার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাসহ বিভিন্ন আয়বর্ধক প্রকল্প, নগরে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ, নগরে ¯^াধীনতা স্মৃতিবিজড়িত স্থানসমূহের সংর¶ণ প্রকল্প এবং আগ্রাবাদ ডেবা ও পাহাড়তলী জোড় দীঘির সংস্কার প্রকল্প নেয়ার পরিকল্পনা আছে আমাদের।
এছাড়া বিওটি (বিল্ড অপারেট অ্যান্ড ট্রান্সফার) এর আওতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, যানজট নিরসনে মেট্রোরেল নির্মাণ, ঠান্ডাছড়ি পার্ক নির্মাণ, আউটার রিং রোডের পাশে সী সাইটে ওশান পার্ক ও স্মৃতিসৌধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া আধুনিক নগর ভবন নির্মাণ, স্মার্ট সিটি প্রকল্প, চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসিক ভবন নির্মাণ, মাস্টার প্ল্যানের সুপারিশমতে প্রস্তাবিত নতুন সড়ক নির্মাণ, মুরাদপুর, ঝাউতলা, অ·িজেন ও আকবর শাহ রেলক্রসিংয়ের ওপর ওভারপাস নির্মাণ, ঢাকামুখী, ক·বাজারমুখী ও হাটহাজারীমুখী বাস টার্মিনাল নির্মাণ, ট্রাক টার্মিনাল নির্মাণ, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ফুট ওভার ব্রিজ ও ওভারপাস/আন্ডারপাস নির্মাণ, চসিকের নিজ¯^ জায়গায় স্পোর্টস কমপ্লে· নির্মাণ, কাঁচা বাজারের আধুনিকায়ন, বাকলিয়া স্টেডিয়ামে স্পোর্টস কমপ্লে· নির্মাণ, ওয়ার্ড ভিত্তিক খেলার মাঠ, শিশুপার্ক, কমিউনিটি সেন্টার, মিলনায়তন, ব্যায়ামাগার ও কারিগরি প্রশি¶ণ কেন্দ্র নির্মাণ, নগরের বিভিন্ন স্থানে আধুনিক কনভেনশন হল নির্মাণ, জোনভিত্তিক মুক্তমঞ্চ ও থিয়েটার ইনস্টিটিউট নির্মাণ, বিবিরহাট গরুর বাজার শহর হতে দূরে ফতেয়াবাদ স্থানান্তর করা, নগরের প্রধান সড়কসমূহের ফুটপাত, মিডিয়ান, রাউন্ড আধুনিকীকরণ এবং লেন পার্কিং ও জেব্রা ক্রসিংসহ উন্নয়ন, নগরের কাঁচা সড়কসমূহ পাকাকরণ এবং হকার পুনর্বাসনের চিন্তাও আমাদের রয়েছে। এছাড়া ভূগর্ভস্থ বর্জ্যাগার নির্মাণ, ২১টি খালের উন্নয়নে প্রকল্প নিতে যাচ্ছি আমরা। কালুরঘাটে হাইটেক পার্ক কর্তৃপ¶কে দেয়া চসিকের জায়গায় নির্মাণ করা হচ্ছে ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনিকিউবেশন সেন্টার।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনে ২,১৩৫ মেট্রিক টন বর্জ্য হয়। সত্যি কথা বলতে কি, বর্জ্য অপসারনে আমাদের কর্মীদের প্রায়শঃই হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখানে শৃক্সখলা আনতে নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা বিশেষ প্রয়োজন। নগরবাসীর কাছে আমাদের পরামর্শ হল, যত্রতত্র ময়লা ও পলিথিন ফেলবেন না। আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বেশ কিছু পদ¶েপ আমাদের রয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যু উৎপাদনের জন্য ১৩টি প্রস্তাব বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি কমিটি চারটি কোম্পানির প্রস্তাবনা নির্বাচন করেছে। প্রকল্পটি বাম্দবায়নের জন্য কাজ চলছে।” মেডিকেল বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি ইনসিনারেশন প্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়েছে।”
বন্দর নগরীর তারের জঞ্জাল অপসারণে তিনটি ওয়ার্ডে ১৬ ফেব্রæয়ারি থেকে পাইলট প্রকল্প শুরু করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। প্রাথমিকভাবে লালখান বাজার, বাগমনিরাম এবং জামালখান ওয়ার্ডে পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্প সফল হলে পরবর্তীতে অন্যান্য ওয়ার্ডসমূহে এই কার্যক্রম প্রসারিত করব আমরা। উদ্ধার হওয়া খালগুলোকেরক্ষার্থ প্রকল্প শেষ হলে সেখানে নৌকা চালুর পরিকল্পনা আছে আমাদের। কারণ প্রকল্প শেষ হলে খালগুলোর রক্ষা করা হবে বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য প্রকল্প শেষ হলে খালগুলোতে বিনোদনের ¶েত্র তৈরির জন্য বারইপাড়া খালসহ উদ্ধার হওয়া সবগুলো খালে নৌকা ও স্পিডবোট চালু করব। খালে যখন মানুষ ময়লা দেখবে না বরং ¯^চ্ছ জলপ্রবাহে বিনোদনের উৎস খুঁজে পাবে, তখন মানুষ আর খালে ময়লা ফেলবে না।’
চট্টগ্রাম নগরীতে তিন সংস্থার মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে মোট ১১ হাজার ৩৪৪ কোটি টাকার মোট চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পগুলোর সুফল পেতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাড়ানো হবে। আমরা প্রকল্প এলাকাগুলোতে ময়লার ভাগাড়ও নির্মাণ করবো। যাতে খালপাড়ের মানুষ বর্জ্য ফেলে খাল ময়লা দিয়ে ভরিয়ে না ফেলে। প্রকল্প এলাকায় উদ্ধার হওয়া খালসংলগ্ন ভূমি রক্ষা করা।

য় সীমানা নির্ধারণী খুঁটি বসাব। কারণ এ খালগুলোকে রুক্ষার সাথে কর্ণফুলী এবং চট্টগ্রামের অস্তিত্বের প্রশ্ন জড়িত।’
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জাপানের একটি ও দক্ষিণ কোরিয়ার একটি, মোট দুটি প্রতিষ্ঠান প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
তবে কোন কোম্পানিকে প্রকল্পটি দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নিইনি। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনার পর বিষয়টি নির্ধারণ করা হবে। লেখার কলেবর বৃদ্ধি না করে প্রিয় নগরবাসীর কাছে আবেদন রেখে উল্লেখ করতে চাই যে, বিশ্ব বাণিজ্যের হাব হিসেবে উপযুক্ত করে চট্টগ্রামকে গড়ে তোলার স্বপ্ন নিয়ে আমরা এগুতে চাচ্ছি তা বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা চাই। নগরবাসীর সচেতনতা, সহযোগিতা ও সমর্থন থাকলে চট্টগ্রাম হবে সবুজ, পরিচ্ছন্ন, স্মার্ট ও বিশ্বজনীন একটি নান্দনিক নগরী।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার ইফতার মাহফিল ও “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য এবং “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা শনিবার ১৪ মার্চ বিকেল ৪টায় নগরীর মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুর নাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পত্রিকার উপদেষ্টা ও টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্ধারিত প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

নগরীতে একাধিক ইফতার মাহফিল ও তীব্র যানজটের অনিবার্য কারণে নির্ধারিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব শাহসূফি শাহজাদা সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী গোলাপ রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উদ্যোক্তা, গবেষক ও সংগঠক সিআরবির সমন্বয়ক জিয়াউল হক খন্দকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা বলেন, মাহে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার মাস। এই মাস মানুষের ভেতরের নৈতিক শক্তিকে জাগ্রত করে এবং সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিটি অনেক সময় কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এখন সময় এসেছে বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে নগরীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অত্র সংগঠন ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি আলমগীর রানার সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবদুল্লাহ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ইমরান হোসেন। দৈনিক বর্তমান বাংলার প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল মনির। মানবাধিকারকর্মী শাহজালাল।
উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দেশবার্তার ব্যুরোচীফ মো: আনিসুর রহমান ফরহাদ, দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি এস এম সামজাত, সূফি কথার বার্তা সম্পাদক আল সিরাজ ভাণ্ডারী, হাফিজুল মোর্শেদ, মো: রাশেদ, আলমগীর, আবুল বাশার, আবদুল্লাহ আল হাবিব, মো: রানা, শাফায়েত উদ্দিন, মো: নাছির, নুরুল আবসার, আবদুল মাবুদ, সুমাইয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস, মো; সাঈদ, মো: ইভান প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন লেখক ও গবেষক এস এম ওসমান। নাতে রাসুল(দ:) পরিবেশন করেন এইচ এম নিজামুদ্দীন চৌধুরী আলিফ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আদনান লাভলু, আরফাত শাওন, আবিদুর মাহিন, নিজামুদ্দিন আলিফ, আতিকুর আবির প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশই এই নগরীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই “বাণিজ্যিক রাজধানী” শব্দটি যেন শুধু স্লোগান না হয়ে বাস্তবে রূপ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও ব্যবসায়ী সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলে সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সততা ও নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজে নৈতিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ