আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে ডিবির সোর্স পরিচয়ে হামলা-ভাঙচুর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের কর্ণফুলীতে একটি টেইলার্সে হামলা চালিয়ে মালিককে মারধর করে রক্তাক্ত করার অভিযোগে উঠেছে একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক মহিলা দর্জি ফারজানা ও ডিবি সোর্স পরিচয়ধারী সাইফুল নামে ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
‘এশিয়া বোরকা হাউস’ নামক ওই টেইলার্সে হামলার ঘটনা ঘটে। এতে টেইলার্স মালিক মোহাম্মদ তৈয়ব (৩৩) এর হাত-পা কেঁটে রক্তাক্ত হয়ে আহত হন। তৈয়ব চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর (৫ নং ওয়ার্ড) এলাকার ছাবের আহমদের ছেলে। গত বুধবার রাত ৮ টার দিকে উপজেলার চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর আয়ুব বিবি রোডের নুরুন্নবী চেয়ারম্যানের মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে থানা পুলিশের দ্বারস্ত হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ঘুরে দেখেন। পরে জিডি (নং-৭৭৬)। জিডিতে অভিযুক্তরা হলেন-চরপাথরঘাটা ইউনিয়নের খোয়াজনগর এলাকার সুমনের স্ত্রী আনু বেগম (৫০), তার মেয়ে রিনা আক্তার (৩০) ও ফারজানা (১৮) সহ কথিত ডিবি সোর্স সাইফুল।
জিডি সূত্রে জানা যায়, এশিয়া বোরকা হাউসের মালিক মোহাম্মদ তৈয়বের দোকানে দর্জি শ্রমিক হিসেবে এক বছর কাজ করেছেন। গত ১৫ রমজানের পরে আর দোকানে আসেনি। কাজও করেনি। কোন ধরনের যোগাযোগ না করায় দোকান মালিক অন্য দর্জি মেয়েকে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন।
এরমধ্যে ফারজানা গত ১৩ মে সকালে দোকানে এসে বলে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। তখন দোকান মালিক তৈয়ব তাকে জানান, দোকানে তো এখন কর্মচারীর প্রয়োজন নেই। অন্য একজন কে নেওয়া হয়েছে। পর দিন ১৪ মে রাত ৮ টার সময় আবারো দর্জি শ্রমিক ফারজানা ও তাঁর মা-সহ ডিবি সোর্স পরিচয়দানকারী সাইফুল দোকানে হাজির হন।
হঠাৎ তারা জানতে চান কেন ফারজানাকে দোকানে নেওয়া হবে না। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে তারা তৈয়ব কে মারধর করে শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম করেন। এতে তৈয়বের হাত পা কেটে দোকানের ফ্লোর রক্তাক্ত হয়ে যায়। দোকানের সামনের বড় কাঁচ ভেঙে যায়। এলোপাতাড়ি তাণ্ডবে ভাঙচুর চালিয়ে পালিয়ে যায়। যাবার সময় কিভাবে ব্যবসা করে দেখে নিবে বলে হুমকি দিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এশিয়া বোরকা হাউসের মালিক মোহাম্মদ তৈয়ব বলেন, হঠাৎ ডিবি সোর্স পরিচয়ে সাইফুলসহ ফারজানার মা ও ফারজানা আমার টেইলার্সে এসে ভাঙচুর করেন। আমাকেও মারধর করেন। সাথে সাথে আমি থানায় জানিয়েছি। এলাকার লোকজন সব দেখেছেন। পুলিশ এসে সব কিছু দেখে গেছেন। আমি এর বিচার চাই।
কর্ণফুলী থানার এসআই মো. বিল্লাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মার্কেট মালিক হিসেবে চেয়ারম্যান পুত্র এম গোলাম ঊন নবী রিশাদ বলেন, ডিবি সোর্স পরিচয়ে সাইফুল নামে লোকটি আমার ভাড়া দেওয়া দোকানে সন্ত্রাসী হামলা করেছে। ভাড়াটিয়ার উপর মহিলা সন্ত্রাসী দ্বারা হামলার ঘটনায় আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে থানা পুলিশকে জানিয়েছি। পুলিশ অবশ্যই ন্যায় বিচার পেতে সহযোগিতা করবে।
এ প্রসঙ্গে কর্ণফুলী থানার ওসি মো. জহির হোসেন জানান, এশিয়া বোরকা হাউসের মালিক মোহাম্মদ তৈয়ব তাঁকে হুমকির অভিযোগে একটি জিডি করেছেন। যা তদন্ত করা হচ্ছে। আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ