আজঃ মঙ্গলবার ১৭ মার্চ, ২০২৬

নেত্রকোনা:

নেত্রকোনায় পোশাকের দোকানে ভীড়- জমে উঠেছে ঈদের কেনাকাটা

রিপন গুন নেত্রকোনা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামীকাল ঈদ। ঈদ-উল-আযহাকে সামনে রেখে নেত্রকোনায় জমে উঠেছে ঈদের শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত জেলা-উপজেলার বিভিন্ন মার্কেট ও দোকানগুলোতে পছন্দের পণ্য কিনতে ভিড় করছেন সব শ্রেণি-পেশার মানুষরা। ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে মালিকরা নিজেদের দোকানগুলোকে সাজিয়েছেন বর্ণিল সাজে।

আজ (১৬ জুন) রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার পৌর শহর, বারহাট্টা বাজার, মোহনগঞ্জ পৌর শহর, কলমাকান্দা বজার এলাকায় ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। বিপনিবিতান গুলোতে বাহারি পোশাক ছাড়াও জুতা ও প্রসাধনীর দোকানে ভিড় বেড়েছে। অনেকে পোশাকের সঙ্গে ম্যাচিং জুয়েলারিও কিনে নিচ্ছেন। আবার ক্রেতাদের সামাল দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ভিড় চোখে পড়েছে দর্জির দোকানগুলোতেও।

নেত্রকোনা পৌর শহরের সোনালী বস্ত্র বিতানের মালিক রনু সাহা জানান, ‘এবার ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে নতুন নতুন শাড়ি ও থ্রিপিসের কালেকশন তুলেছি। গরমকে প্রাধান্য দিয়ে বাহারি ডিজাইনের পোশাকে নতুনত্ব আনা হয়েছে। বিক্রিও তুলনামূলক ভাল হচ্ছে।

বারহাট্টা উপজেলা সদরের বর্ষা বস্ত্র বিতানের মালিক লিটন দত্ত জানান, এবারের ঈদুল আযহায় শেষ মুহূর্তে এসে বেচাকেনা বেশ ভালোই হচ্ছে। ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাক কিনছেন। দামটাও অনেকটা সাধ্যের মধ্যে পাচ্ছে ক্রেতারা। সব কিছুর দাম অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এর প্রভাব কাপড়ের ওপরও পড়েছে।’

নেত্রকোনা পৌর শহরের সাতপাই এলাকা থেকে শপিং করতে আসা গৃহবধূ আছমা বেগম, মুন্নী  আক্তার ও কলেজ শিক্ষার্থী ফরিদা ইয়াসমিন জানান, ‘এবার মার্কেটে পছন্দের সবকিছুই পাওয়া যাচ্ছে। দাম অনেকটা বেশি হলেও পছন্দের শাড়ি ও জামাকাপড় কেনা যাচ্ছে। তবে বৃষ্টির কারণে দোকানগুলো ঘুড়ে ঘুড়ে দেখা সম্ভব হচ্ছে না। যে দোকানে ডুকছি পছন্দ না হলেও সেখান থেকে নিতে হচ্ছে।’

তারা আরও বলেন, ‘ঈদুল ফিতরের সময় আমরা কিনেছি অনেক কিছু তাই ঈদ-উল-আযহায় স্বল্প পরিসরে কিছু কিনে নিচ্ছি।’

কসমেটিক ব্যবসায়ী নূরুল হক জানান, দোকানে ক্রেতারা ভীড় করছেন। কিন্তু জিনিসপত্র দেখে পছন্দ হলেও দাম অতিরিক্ত হওয়ায় বেশিরভাগ ক্রেতারাই নিচ্ছেন না। এর কারণ হিসাবে তিনি বলেন, আগে যে জিনিসের দাম ১শত টাকা ছিল বর্তমান সেটার দাম ১৫০টাকা। ক্রেতারা আগের দামেই জিনিস নিতে চাচ্ছেন। কিন্তু আগের চেয়ে এখন দাম বাড়ার বিষয়টা তারা মানতে রাজি না। সেজন্য আমাদের অবস্থা খারাপ।’

বারহাট্টা গোপালপুর বাজারের মুন টেইলার্সের মালিক স্বদেশ সরকার জানান, আগামীকাল ঈদ তাই নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। এখন শুধু ডেলিভারি দিচ্ছি। সময় মতো ডেলিভারি দিতে আমরা সারারাত কাজ করছি।

আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ে নেত্রকোনা জেলা পুলিশ জানায়, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় দিনরাত কাজ করছে জেলা পুলিশ। পশুরহাট, মার্কেটগুলো ও রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল চলছে। যেকোনো পরিস্থিতিতে পুলিশ সবাইকে নিরাপদে কেনাকাটার নিরাপত্তার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। আশা করছি কোনও ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটবে না।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র : চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শুক্রবার বাদে জুমা জমিয়তুল ফালাহ মসজিদে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমানের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ কমপ্লেক্স উন্নয়ন ও মুসল্লি পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, চট্টগ্রামের উন্নয়নে সাবেক মন্ত্রী মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতির এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বিএনপির রাজনীতিতে তিনি ছিলেন একজন কিংবদন্তি রাজনীতিবিদ।

গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তিনি ছিলেন এক অবিচল যোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তার সাহসী ভূমিকা অবিস্মরণীয়। চট্টগ্রামের উন্নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান চিরস্মরণীয়। চট্টগ্রামের ব্যবসা বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর প্রচেষ্টা ছিল প্রশংসনীয়।তিনি চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড, ইস্ট ডেল্টা ইউনির্ভাসিটি, স্বৈরাচার বিরোধী ৯০ গণ আন্দোলনে শহীদের স্মৃতি রক্ষায় প্রতিষ্ঠা করেন এন এম জে মহাবিদ্যালয়। জনগণের কল্যাণে তাঁর নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগ আজও চট্টগ্রামের মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে।

দোয়া মাহফিলে মরহুম আবদুল্লাহ আল নোমানের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া শহীদ রাস্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ জিয়া পরিবারের সদস্যদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে মোনাজাত করা হয়।মোনাজাত পরিচালনা করেন মসজিদের খতিব মাওলানা আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্কর। মুসল্লি পরিষদের সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বৃহত্তর চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে মরহুম আব্দুল্লাহ আল নোমানের অবদান চট্টগ্রামবাসী আজীবন মনে রাখবে। তিনি এ অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিশেষ করে বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং উন্নয়নে তাঁর উদ্যোগ আজও স্মরণীয়।চট্টগ্রামসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থাপনায় তাঁর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে জমিয়তুল ফালাহ জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের আধুনিকায়ন ও উন্নয়নে আবদুল্লাহ আল নোমানের অবদান অনস্বীকার্য। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এই মসজিদটিকে ঘিরে যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান সেই স্বপ্নের সার্থক রূপ দিয়েছেন।

বিশেষ অতিথি আবু সুফিয়ান বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী অনন্য এক নেতা। তিনি কেবল চট্টগ্রাম নয়, বাংলাদেশের রাজনীতির অঙ্গনে এক কিংবদন্তি পুরুষ। তিনি শুধু নেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি ছিলেন নেতাদের নেতা, আমাদের সবার অভিভাবক। চট্টগ্রামে ৮০’র দশকে যখন শহীদ জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে বিএনপি অনেকটা দূর্বল হয়ে গিয়েছিল। তখন বিএনপিকে পুনর্জাগরণ করেছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আবুল হাশেম বক্কর বলেন, আবদুল্লাহ আল নোমান ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের একজন সম্মুখ সারির যোদ্ধা। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার আন্দোলনে তাঁর অবদান জাতি চিরদিন স্মরণ রাখবে। নোমান ভাই শুধু একজন রাজনীতিবিদ ছিলেন না, তিনি ছিলেন গণমানুষের নেতা। তাঁর সাহস, সততা এবং দেশপ্রেম আমাদের সবার জন্য অনুকরণীয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী বেলাল উদ্দিন, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম দুলাল, মো. মহসিন, মো. কামরুল ইসলাম, আনোয়ার হোসেন লিপু, মুসল্লি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক খোরশেদুর রহমান, বিএনপি নেতা মন্জুর রহমান চৌধুরী, জাকির হোসেন, নুর হোসাইন প্রমুখ।

কলমাকান্দা নির্বাচনী মঞ্চে ‘খুদে খালেদা জিয়া’: ভোট চাইলো ‘ধানের শিষে’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সেজে এক ছোট্ট শিশুকে একটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য দিতে দেখা যাচ্ছে। শিশুটি বেগম জিয়ার সিগনেচার লুকে- সাদা ও বেগুনি শাড়ি, বড় কালো চশমা এবং তার কথা বলার ঢং হুবহু নকল করে উপস্থিত জনতাকে মাতিয়েছেন।

নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনে ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের একটি নির্বাচনী সভায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

শিশুটি মাইক হাতে নিয়ে বলছে, “আমি বেগম খালেদা জিয়া। ধানের শীষে ভোট দিবেন। আমি আমার ছেলে কায়সার কামালকে আপনাদের হাতে দিয়ে গেলাম।”

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে দুর্গাপুরের বড়বাট্টা এলাকায় মহিলা সমাবেশে শিশুটির সাবলীল অভিনয় এবং উপস্থিত নেতাদের সাথে একই মঞ্চে দাঁড়িয়ে প্রচারণায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নেটিজেনদের বেশ আকৃষ্ট করেছে।

কেউ কেউ শিশুটির অভিনয় দক্ষতার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে শিশুদের এভাবে ব্যবহারের সমালোচনাও করছেন। তবে সাধারণ দর্শকদের অনেকেই শিশুটির দৃঢ় কণ্ঠের বক্তব্যকে বেশ ইতিবাচকভাবেই দেখছেন।

শিশুটির সাজসজ্জায় বেগম খালেদা জিয়ার চশমা এবং শাড়ি পরার স্টাইলটি বেশ নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর কথা বলার স্টাইল এবং ধীর স্থির ভঙ্গি শিশুটির মাঝে প্রতিফলিত

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ