‘এ্যাডভান্সড টেকনোলজী সলিউশন এক্সপো ২০২৩’

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শীর্ষ গ্লোবাল ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটন দেশে উৎপাদন করছে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও ফিচারের ব্যাপক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ফ্রিজ, টিভি, এসি, কম্প্রেসর, ওয়াশিং মেশিন, ওভেন, ফ্যান, রাইস কুকার, ব্লেন্ডার, এলইডি লাইট, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, মোবাইল ফোনসহ অসংখ্য ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্য। এসব পণ্যের আনুষঙ্গিক যন্ত্রাংশের পাশাপাশি পিসিবি, মাদারবোর্ড, মোল্ড অ্যান্ড ডাই, নাট-বোল্ট, স্ক্রুসহ ৫০ হাজারেরও বেশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস ও কম্পোনেন্টস উৎপাদন করছে ওয়ালটন। যার অধিকাংশই প্রায় সকল প্রকার শিল্প প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এসব পণ্য রপ্তানি করছে ওয়ালটন। তবে বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের ব্যাপক চাহিদা থাকায় রপ্তানি আরো বৃদ্ধির অপার সম্ভাবনা রয়েছে।

তাই বিশ্বের সকল শিল্পোদ্যাক্তা ও ক্রেতাদের নিকট ওয়ালটন উৎপাদিত ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, প্রযুক্তিপণ্য, ইন্ডাস্ট্রিয়াল সলিউশনস, ম্যাটেরিয়ালস ও কম্পোনেন্টসসমূহ তুলে ধরার মাধ্যমে আমদানি নির্ভরতা হ্রাস করে বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রপ্তানি আয় আরো বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইন্টারন্যাশনাল এ্যাডভান্সড কম্পোনেন্টস অ্যান্ড টেকনোলজি এক্সপো-২০২৩’ শীর্ষক তিন দিনব্যাপী এক বৃহৎ আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।

ওয়ালটনের এ্যাডভান্সড টেকনোলজি সলিউশনস বিভাগ আন্তর্জাতিক এই বৃহৎ শিল্প মেলা আয়োজন করছে। রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরা হল-১ এ আগামী ১০ আগস্ট, ২০২৩ তারিখে শুরু হয়ে ‘ইন্টারন্যাশনাল এ্যাডভান্সড কম্পোনেন্টস এন্ড টেকনোলজি এক্সপো-২০২৩’ চলবে ১২ আগস্ট পর্যন্ত। মেলায় অংশগ্রহণ করতে আগ্রহী শিল্পোদ্যাক্তা, ক্রেতা, দর্শণার্থীদের জন্য চলছে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম। আগ্রহীগণ যঃঃঢ়ং://ধঃং.ধিষঃড়হনফ.পড়স এই ওয়েব পেজে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

আন্তর্জাতিক এই মেগা শিল্প মেলা আয়োজন প্রসঙ্গে ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি.’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও গোলাম মুর্শেদ বলেন, এ্যাডভান্সড টেকনোলজি সলিউশন এক্সপো আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহকে আমদানি বিকল্প গুণগতমানের কম্পোনেন্টস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস ও টেস্টিং সলিউশনস প্রদানের মাধ্যমে দেশীয় শিল্পের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি, শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করা, দেশের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভকে আরো সুসংহত করা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের অগ্রগতিকে বেগবান করা।

তিনি আরো জানান, এটিএস এক্সপো হবে বাংলাদেশে একক কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রথম সর্ববৃহৎ আন্তর্জাতিক শিল্প মেলা। এতে একই ছাদের নিচে সমাহার ঘটবে পরিবেশবান্বব গ্রিন প্রযুক্তির এনার্জি সেভিং সকল ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স, হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্স পণ্যসামগ্রী, ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস, কম্পোনেন্টস, টেস্টিং ল্যাব, ফ্যাসিলিটি ও মেশিনারিজসহ এ্যাডভান্সড টেকনোলজি সলিউশন। দেশি-বিদেশি সম্মাণিত ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণে এই মেলা প্রতিবছর আয়োজন করা হবে। দেশের বাইরেও এই ধরণের প্রদর্শনী আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

জানা গেছে, গাজীপুরের চন্দ্রায় ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে ইলেকট্রিক্যাল, ইলেকট্রনিক্স ও প্রযুক্তিপণ্যের পাশাপাশি উৎপাদিত হচ্ছে মোল্ড অ্যান্ড ডাই, ফাসেনার, পিসিবি, মাদারবোর্ড, মাস্টারব্যাচ ইত্যাদি ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস ও কম্পোনেন্টস। এসব ম্যাটেরিয়ালস ও কম্পোনেন্টস প্রায় সকল প্রকার ছোট, মাঝারি ও ভারী শিল্পে প্রধান কাঁচামাল হিসেবে বিভিন্ন ধাপে ব্যবহৃত হয়। ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টসের পাশাপাশি ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে গড়ে তোলা হয়েছে দেশের সর্ববৃহৎ রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টার, নাসদাত-ইউটিএসসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিকমানের টেস্টিং ল্যাব। যা কিনা দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় শিল্প প্রতিষ্ঠানসমূহের উৎপাদিত পণ্যের টেস্টিং সলিউশনসকে আরো সহজতর করবে।

উল্লেখ্য দেশের বাজারে শীর্ষস্থান বজায় রাখার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ওয়ালটন একটি সুদূঢ় অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে ওয়ালটন পণ্যসামগ্রী এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার ৪০টিরও বেশি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।

ওয়ালটন হেডকোয়ার্টার্সে স্থাপিত আন্তর্জাতিকমানের টেস্টিং ল্যাব নাসদাত-ইউটিএস (ইউনিভার্সাল টেস্টিং ল্যাব) বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন বোর্ড (বিএবি) কর্তৃক সনদপ্রাপ্ত। বিএবি’র অ্যাক্রিডিটেশনপ্রাপ্ত টেস্টিং প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে পণ্যের গুণগতমান সম্পর্কে যে রিপোর্ট দেয়া হয় তা ইন্টারন্যাশনাল ল্যাবরেটরি অ্যাক্রিডিটেশন কোঅপারেশন (আইলাক) ও এশিয়া-প্যাসিফিক ল্যাবরেটরি অ্যাক্রিডিটেশন কোঅপারেশন (অ্যাপলাক) এর সদস্যভুক্ত দেশগুলোতে সরাসরি গ্রহণযোগ্য। তাই নাসদাত-ইউটিএস ল্যাবে পরীক্ষাকৃত পণ্যের টেস্টিং রিপোর্ট বিশ্বের বিভিন্ন দেশের টেস্টিং সরকারি মান যাচাই সংস্থা কর্তৃক সরাসরি গৃহীত হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নাসদাত-ইউটিএস থেকে তাদের পণ্যের মান যাচাই করতে পারছেন।

সূত্রমতে, এটিএস এক্সপোতে পণ্য প্রদর্শিত হবে ৪টি ক্যাটাগরিতে। টেস্টিং সলিউশনস, সার্ভিসেস, প্রোডাক্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল ম্যাটেরিয়ালস ও কম্পোনেন্টস। টেস্টিং সলিউশনস এ থাকবে আন্তুর্জাতিকমানের বেশকিছু টেস্টিং ল্যাব। যেমন: ক্যাবল ও ওয়্যার ল্যাব, নয়েজ টেস্টিং ল্যাব, এলইডি ল্যাব, নাসদাত-ইউটিএস, প্রেসিসং ইঞ্জিনিয়ারিং ল্যাবরেটরি, প্রোডাক্ট কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাব, ওয়ালটন সাইন্স রিসার্চ ল্যাব ও ওয়ালটন ম্যাটালারজিক্যাল এনালাইসিস ও রিসার্চ ল্যাব।

মেলায় সার্ভিসেস ক্যাটাগরিতে থাকবে কন্সট্র্যাকশন সার্ভিস, মোল্ড অ্যান্ড ডাই, পাওয়ার-প্রেস, রেফ্রিজারেটর ও এসএমটি (সারফেস মাউন্টিং টেকনোলজি)।

প্রোডাক্ট ক্যাটাগরিতে প্রদর্শিত হবে ফ্রিজ, টিভি, এয়ার কন্ডিশনার, ফাসেনার, পিসিবি, হোম ও কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সেস, কেমিক্যাল, মাস্টারব্যাচেস, মোল্ড অ্যান্ড ডাই, আইটি প্রোডাক্টসহ ইত্যাদি।

এটিএস মেলায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল ক্যাটাগরিতে থাকবে দেশের বিভিন্ন ফরওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পখাতে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রধান কম্পোনেন্টস। যা কিনা এ্যাগ্রো, অটোমোবাইলস, সিমেন্ট, সিরামিকস, কেমিক্যাল, কসমেটিকস, ডিজিটাল, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স, ফার্মাসিউটিক্যালস, গ্লাস, হেভি-ভেহিক্যালস অ্যান্ড এয়ার কন্ডিশনিং, আইওটি, আইটি, লেদার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, প্লাস্টিক, প্রিন্টিং অ্যান্ড পাবলিকেশনস, গার্মেন্টস, পাইকারি ও ট্রেডিং বিজনেস ইত্যাদি শিল্পখাতে ব্যবহৃত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভালো-মন্দ মিলিয়ে গন্ধ, ছড়াতে চেষ্টা।। কথায় আছে কোথায় শেখসাদী, আর কোথায় ছাগলের লাদী।


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


ঢাকার সাবেক মেয়র, সরকারের সাবেক মন্ত্রী, বীর মুক্তি যোদ্ধা জনাব সাদেক হোসেন খোকার ছেলে প্রকৌশলী ও সংসদ সদস্য ইসরাক হোসেন সমাজের শান্তি শৃঙ্খলা ফেরাতে ও তরুণ সমাজকে অপরিনাম ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদক বিরোধী অভিযান করতে গিয়ে বৈধ অস্র প্রদর্শন করেছেন। এটাকে অনেকে বড় অপরাধ হিসেবে দেখছেন। বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইসরাক হোসেনকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মেনে পদত্যাগ করেছেন। এজন্য তিনি জনমনে প্রসংশিত হয়েছেন।

অন্তবর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভাইয়া বিমানবন্দরে লাইসেন্সবিহীন ম্যাগজিনসহ ধরা পরার পর প্রধান উপদেষ্টাকে তো দেখিনি এই(মন্ত্রীর মর্যাদাপূর্ণ) উপদেষ্টাকে পদত্যাগের পরামর্শ দিতে কিংবা আইনগত ব্যবস্থা নিতে। ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির জন্য এরই মধ্যে দুদক আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত তথ্য প্রমান নিয়ে ফাইল তৈরি করেছেন। ঐদিকে খেয়াল নেই। এখন দেখছি আসিফ মাহমুদ ইশরাক হোসেনের বিরুদ্ধে কি কি বলছেন, কি কি বোঝানোর চেষ্টা করছেন। এযেন ঐউক্তিটিকে মনে করিয়ে দেয়।

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে খাদ্য অপচয় রোধ ও পুষ্টি বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সাউদার্ন ইউনিভার্সিটিতে বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬ উপলক্ষে “খাদ্য অপচয় রোধ ও পুষ্টি সচেতনতা” শীর্ষক সেমিনার গতকাল রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের আয়োজনে এবং হসপিটালিটি স্টুডেন্টস লিডারশিপ কাউন্সিল ( HSLC )—এর সহযোগিতায় আয়োজিত সেমিনারে এবারের প্রতিপাদ্য ছিল—“আজকের উদ্ভাবন, আগামীর পুষ্টি নিশ্চিতকরণ”

ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. শরীফ আশরাফউজ্জামান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. সালেহ জহুর, অধ্যাপক ড. শওকতুল মেহের এবং ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম। অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ ড. হাসিনা আখতার লিপি, রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউ এর ফুড অ্যান্ড বেভারেজ বিভাগের সহকারী পরিচালক গাজী মহিউদ্দিন এবং দ্য পেনিনসুলা চট্টগ্রামের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের প্রধান কামাল হোসেন।

সেমিনারের মূল লক্ষ্য ছিল খাদ্য অপচয়ের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাসে উৎসাহ প্রদান এবং খাদ্য ব্যবস্থাপনায় দায়িত্বশীল ও টেকসই চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা। পাশাপাশি, আতিথেয়তা ও খাদ্যসেবা খাতে খাদ্য অপচয় কমানো এবং পুষ্টিসচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

সেমিনারে সচেতনতামূলক আলোচনায় বিশিষ্ট পুষ্টিবিদ হাসিনা আক্তার লিপি তাঁর আলোচনায় দেশিয় ফলমূল ও খাদ্যসামগ্রীর পুষ্টিগুণ এবং সুস্বাস্থ্য রক্ষায় এগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরেন। পাশাপাশি গাজী মহিউদ্দিন তাঁর আলোচনায় হোটেলশিল্পে খাদ্যের গুণগত মান, পুষ্টিগুণ এবং তা নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। একইসঙ্গে, মোহাম্মদ কামাল হোসেন তাঁর আলোচনায় হোটেলশিল্পের কার্যকর পদ্ধতিগুলো দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে খাদ্য অপচয় রোধ করা সম্ভব, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন।

সমাপণী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ইসরাত জাহান আলোচকদের উপস্থাপিত বক্তব্যসমূহের ওপর বিশদ ও বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা প্রদান করেন এবং আলোচ্য বিষয়ের তাৎপর্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ