আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসতিদের উচ্ছেদে বড় অভিযান

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ রোববার থেকে পাহাড়ের পাদদেশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের রেলওয়ের মালিকানাধীন নগরীর পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরানো হচ্ছে। চলমান বর্ষায় ভারী বর্ষণে পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি উচ্ছেদে এ অভিযানে নামছে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। সপ্তাহব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযানে পাহাড়গুলোতে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরানোর পাশাপাশি রেলওয়ের ভূমিতে অবৈধভাবে তৈরি করা স্থাপনাও উচ্ছেদ করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করা ব্যক্তি কিংবা অবৈধ স্থাপনা নির্মাণকারীর কোন তালিকা রেলওয়ের কাছে নেই। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমেই এই তালিকা হওয়া উচিত বলে মনে করেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা। নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়ে সংস্থাটির একজন কর্মকর্তা বলেন, এই কাজে আমাদের কোন বাজেট নেই। পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির আছে। তারা চাইলে এই তালিকা করতে পারে। এতে কাজ করা সহজ হবে।
সূত্র জানায়, গত ২৪ জুন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় রেলওয়ের মালিকানাধীন পাহাড় বা ভূমিতে ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধভাবে বসবাসরত লোকজনকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সম্মিলিতভাবে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরুর নির্দেশনা দেয়া হয় ওই সভায়।এরই ধারাবাহিকতায় নিজেদের মালিকানাধীন পাহাড় থেকে ঝুঁকিপূর্ণদের সরাতে বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। আজ রোববার সকাল ১০টায় নগরীর পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর রেলওয়ে স্টেশন কলোনি সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশ থেকে এ উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে। এ এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলবে ওইদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। পরদিন সোমবার সকাল ১০টা থেকে নগরীর চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকার পাহাড় ও পরিবেশ অধিদপ্তর সংলগ্ন পাহাড়ের পাদদেশে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। এসব এলাকায় উচ্ছেদ চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এরপর মঙ্গলবার সকালে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে টাইগারপাস এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে। চলবে ওইদিন বিকেল পর্যন্ত।
এদিকে পবিত্র আশুরার বন্ধের কারণে বুধবার অভিযানে বিরতি দিয়ে পরদিন বৃহস্পতিবার ফের উচ্ছেদ অভিযান শুরু করবে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি বিভাগ। ওইদিন সকাল ১০টায় উচ্ছেদ অভিযান চলবে নগরীর মতিঝর্ণা বাটালি পাহাড়ের পাদদেশে। সবমিলিয়ে সপ্তাহব্যাপী এই উচ্ছেদ অভিযানে নগরীর ৬টি পাহাড়ের পাদদেশ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের সরিয়ে দেয়া হবে।
তবে শুধু উচ্ছেদ করেই পাহাড়ে অবৈধভাবে বসবাসকারীদের সরানো কঠিন বলে মনে করছেন বিশিষ্টজনেরা। তারা বলছেন, উচ্ছেদের সঙ্গে যারা এসব স্থাপনা তৈরি করছে, ভাড়া দিচ্ছে, সেখানে গ্যাস-বিদ্যুতের সংযোগ দিচ্ছে তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে হবে। নাহয় বছর বছর এই ‘উচ্ছেদ উচ্ছেদ খেলা’ চলতে থাকবে। স্থায়ী কোন সুফল আসবে না।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের প্রধান ভূ-সম্পত্তি কর্মকর্তা সুজন চৌধুরী বলেন, পাহাড় ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে একজন মানুষও যেন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাস করতে না পারে- অভিযানে সেটি নিশ্চিত করা হবে। রেলওয়ের পাহাড়ে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনতে চাই আমরা।
অবৈধ স্থাপনা তৈরিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ছাড়া কেবল উচ্ছেদ অভিযানের সমালোচনা করেছেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও টিআইবি চট্টগ্রামের সভাপতি এডভোকেট আখতার কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, রেলওয়ের পাহাড়ে অবৈধ স্থাপনা তৈরিতে সংস্থাটির কিছু কর্মীই জড়িত। উচ্ছেদ অভিযান শুরুর আগে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।তিনি বলেন, বর্ষা এলেই প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযান চালায়। এরপর সারাবছর ঘুমিয়ে থাকে। অবৈধ স্থাপনা তৈরি থামাতে না পারলে উচ্ছেদ করে লাভ হবে না। কেবল দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কষ্টই বাড়বে। তাই পাহাড়ে প্রাণহানি শূন্যে নামিয়ে আনতে যারা সেখানে অবৈধভাবে স্থাপনা করছে, তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। তালিকা ধরে ব্যবস্থা নিলে সুফল আসবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমী ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় ভেড়ামারা উদয়ন একাডেমীতে উৎসব মূখর পরিবেশে ৩১তম বার্ষিক ক্রীড়া, নবীন বরণ, কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা সাংস্কৃতিক ও পুরস্কার বিতরণ-২০২৬ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আতিকুজ্জামান।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং এমন আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে শিক্ষার্থীরা উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে এবং বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব আলহাজ্ব মোঃ হেদায়েতুল তিনি অতিথিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান।আরো উপস্থিত ছিলেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সকল ছাত্র-ছাত্রী,অভিভাবক এবং শিক্ষক-কর্মচারীবৃন্দ।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ