আজঃ সোমবার ৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

স্বাধীন দেশকে রক্ষায় ধৈর্য্যধারণের মাধ্যমে সচেতন থাকতে হবে : সৈয়দ মোস্তফা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল চট্টগ্রাম উত্তর জেলার নেতা ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক ফোরাম জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম বলেছেন-১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হলেও বাংলাদেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে নাই। ২০০৮ সালে ১/১১ সরকারের বদৌলতে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদী শক্তি ও ইসলামী চিন্তাশীল নেতৃবৃন্দকে নির্মূলের মিশনে নেমে স্বৈরাচারী কায়দায় স্বাধীনতার মূল চেতনা ও জনগণের মৌলিক অধিকারকে হরণ করে ২০২৪ এর ৫ আগস্ট পর্যন্ত ক্ষমতা আখঁড়ে ধরেছিল। বাংলাদেশের ছাত্র জনতাসহ গণতন্ত্রকামী জনগণের ঐক্যবদ্ধ সর্বাত্মক আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হয় এবং দেশ ছেড়ে পলায়ন করে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের পরবর্তীতে তারা যেভাবে জনগণের সম্পদ লুন্ঠন করেছে একই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট’র পরাজয়ের পরও তাদের লেলিয়ে দেওয়া পশুরা জনগণের ও রাষ্ট্রীয় সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। যার কারণেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশের জনগণসহ দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদেও স্বাধীন দেশকে রক্ষা করার জন্য সকলকে ধৈর্য্য ধারণের মাধ্যমে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বাংলাদেশের বর্তমানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় হাটহাজারী কৃতি সন্তান নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনুচ অন্তবর্তীকালীন সরকার প্রধান এবং তার সাথে হাটহাজারী অপর দুই কৃতিসন্তান খ্যাতনামা ব্যক্তিত্ব মুহাম্মদ ফারুক ই আযম বীর উত্তম ও নুরজাহান বেগম উপদেষ্টা হিসেবে আছেন। তাই আমাদের হাটহাজারী বাসিকে অধিকতর ধৈর্য্যরে সাথে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত সজাগ দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।
তিনি বালুখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিএনপির চেয়ারপার্সন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে এবং গুমানমর্দনের শান্তি সমাবেশে গুমানমর্দন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা ও সাবেক ছাত্রনেতা মুহাম্মদ মহিউদ্দিন মুন্নার সভাপতিত্বে ও গুমানমর্দন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মুহাম্মদ জামাল উদ্দিন খোকার পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব মুহাম্মদ ইয়াকুব মেম্বার, মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র নেতা বাবু উত্তম কুমার দাশ, গুমানমর্দন ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর মেম্বার, মির্জাপুর জামাতে ইসলামীর নেতা মোঃ আলম, মোঃ জাফর আলম, মোঃ আবু তাহের, মোঃ সিরাজুল হক, মির্জাপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মোঃ শাহেদ মেম্বার, হাটহাজারী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ মাসুদ পারভেজ, মোঃ পারভেজ, মোঃ আব্দুল করিম, মির্জাপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মোর্শেদুল আলম, যুবদল নেতা মোঃ কামাল, আরাফাত মামুন, মোঃ আনোয়ার, মোঃ সরওয়ার, ছাত্রনেতা মোঃ দৌলত হোসেন, মোঃ বাবু সালাম, মোঃ নোমান, মোঃ মিসকাতুল আলম, মোঃ লোকমান, এলাকাবাসীর পক্ষে বক্তব্য রাখেন মোঃ জাফর সওদাগর, মোহাম্মদ আলী সওদাগর, মোঃ বদিউল আলম সওদাগর প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাসুম বলেন, বুলেটের মাধ্যমে কোন রাজনৈতিক দল ঠিকে থাকতে পারে না। বাংলাদেশের আপমর জনগণ রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে স্বৈরাচার সরকারের যে পতন ঘটিয়েছে তার রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনকারী সকল দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আগামীতে যাতে কোন স্বৈরাচারী সরকারের উত্থান না হয় সে দিকে সর্তক দৃষ্টি রাখার আহ্বান জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাঘাটায় নবযোগদানকৃত ইউএনও আশরাফুল কবীরকে সাংবাদিকদের ফুলেল শুভেচ্ছা

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় নবযোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল কবীরকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়েছেন উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার সকালে ইউএনও কার্যালয়ে এ শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

সাংবাদিকরা ইউএনওকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানান এবং সাঘাটার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় তাঁর সাফল্য কামনা করেন। এসময় ইউএনও আশরাফুল কবীর সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করে বলেন,
“সাঘাটার উন্নয়ন ও জনসেবার মানোন্নয়নে প্রশাসন ও গণমাধ্যম পরস্পরের পরিপূরক। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সংবাদকর্মীদের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”তিনি আরও বলেন,সাঘাটা উপজেলার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে একটি জনবান্ধব প্রশাসন গড়ে তুলতে চাই। এ কাজে গণমাধ্যমের গঠনমূলক ভূমিকা অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকরা নতুন ইউএনওর সঙ্গে বিভিন্ন উন্নয়ন পরিকল্পনা, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং স্থানীয় সমস্যাবলি নিয়ে মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয় মহলে ধারণা করা হচ্ছে, ইউএনও আশরাফুল কবীরের যোগদানে সাঘাটা উপজেলায় প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে নতুন দিগন্ত যুক্ত হবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে হাল্ট প্রাইজ ২০২৫ রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম।

হাল্ট প্রাইজ ২০২৫/২৬ সনে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে।এ উদ্যোগের অংশ হিসেবে নিবন্ধন বুথ, অনলাইন রেজিস্ট্রেশন এবং ক্লাস প্রমোশন চালু করা হয়েছে। এ বছর প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত ও দলীয়—উভয়ভাবেই অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে। ব্যক্তিগত নিবন্ধন ১০ ডিসেম্বর (বুধবার) এবং দলীয় নিবন্ধন ১৫ ডিসেম্বর (সোমবার) তারিখে সমাপ্ত হবে।

এবারের প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জ থিম “আনলিমিটেড”-যা শিক্ষার্থীদের জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs)-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বৈশ্বিক সমস্যাগুলোর উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপন করার সুযোগ করে দিচ্ছে।এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের সৃজনশীলতা এবং উদ্যোক্তা দক্ষতার মাধ্যমে দারিদ্র্য, জলবায়ু পরিবর্তন, অসমতা এবং শিক্ষার মতো বৈশ্বিক সমস্যার উদ্ভাবনী সমাধান উপস্থাপন করতে পারবেন। এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্ল্যাটফর্ম যেখানে সীমাহীন চ্যালেঞ্জের ভিত্তিতে তাদের ধারণাগুলোকে বাস্তবায়নে রূপ দেওয়া যাবে।

এ বছরের ক্যাম্পাস ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ অনিক, চিফ অব স্টাফ কাজী মুহাইমিনুল ইসলাম মুনাজ এবং চিফ স্ট্র্যাটেজিস্ট কারিন সাফফানা—তাদের নেতৃত্বে প্রতিযোগিতাটি সফলভাবে আয়োজনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

প্রতিযোগিতায় ২–৪ সদস্যের দল অংশ নিতে পারবে এবং সকল অংশগ্রহণকারীর বয়স ন্যূনতম ১৮ বছর হতে হবে। প্রতিটি দলে অন্তত একজন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা বাধ্যতামূলক। দলের অন্যান্য সদস্য যে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে অংশগ্রহণ করতে পারবে।এছাড়া এ বছর দল না থাকলেও শিক্ষার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে নিবন্ধন করতে পারবেন; পরবর্তীতে তাদের নিয়ে দল গঠন করা হবে।

রেজিস্ট্রেশন বুথ অথবা অফিসিয়াল ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দলীয় অথবা ব্যক্তিগতভাবে নিবন্ধন করা যাবে। নিবন্ধনে কোনো ফি নেই।দলীয় সদস্যরা যে বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই আসুন না কেন, প্রতিযোগিতায় তারা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ