আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব পেল তিনজন

চসিক সেবা নিশ্চিতে ৪১টি ওয়ার্ড ৬ অঞ্চলে বিভক্ত

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-২
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সেবা নিশ্চিত করতে কর্পোরেশনের ৪১ টি ওয়ার্ড কে ৬ (ছয়) অঞ্চলে বিভক্ত করে তিন জনকে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সচিবালয় বিভাগের সংস্থাপন শাখার এক অফিস আদেশে এ দায়িত্ব দেয়া হয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।আদেশে আরো বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিন কর্মকর্তাগণ তাঁদের নামের পার্শ্বে বর্ণিত অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রসঙ্গে সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। যা পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
জানা গেছে, তিন কর্মকর্তার প্রতি জনকে দুটি করে জোনের দায়িত্ব দেয়া হয়। অবশ্য দেড় বছর আগে আন্দরকিল্লাস্থ নগর ভবনে একটি জোনের কার্যক্রম শুরু করেছিল চসিক। ভবনটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জোনটির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। জোনটির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ছিলেন রেজাউল করিম। জোনের কার্যক্রম বন্ধ হলে তাকে স্টেট অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়।
নতুন জোন প্রসঙ্গে চসিকে প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সচল করতে পারলে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য নগরবাসীকে আর চসিকের প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত আসতে হবে না।
এর আগে ২০১২ সালে ২০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ওয়ার্ডগুলোকে ছয়টি অঞ্চল বা জোনে ভাগ করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে প্রেষণে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। বর্তমানেও তিনজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা আছেন সংস্থাটিতে। যদিও চসিক জোনগুলোকে কার্যকর করেনি। কার্যক্রম না থাকায় আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের একজন স্টেট অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাকি দুইজন বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় গত ১৯ আগস্ট চসিকে প্রশাসক পদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর জোনগুলোকে সচল করার উদ্যোগ নেন। যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল প্রকৌশলীদের মাঝে জোনভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। জোন সচল হলে নির্বাহী ও সহকারী প্রকৌশলীদের স্ব স্ব জোনে অফিস করতে হবে। বর্তমানে তারা প্রধান কার্যালয়ে অফিস করেন। এদিকে আঞ্চলিক নির্বাহীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের পর তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, জোন ভাগ করলেও অবকাঠামাগতভাবে জোন অফিসগুলো গড়ে ওঠেনি। ফলে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এক নম্বর অঞ্চলে রয়েছে চসিকের ১, ২, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে-দক্ষিণ পাহাড়তলী, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, কুলগাঁও, জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, পশ্চিম ষোলশহর, শোলকবহর, মুরাদপুর (অংশ), পূর্ব নাসিরাবাদ ও খুলশী। দুই নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৪, ৫, ৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে– চান্দগাঁও, চর রাঙামাটিয়া, মোহরা, চরমোহরা, পূর্ব ষোলশহর, বাকলিয়া, পাথরঘাটা (অংশ) ও আন্দরকিল্লা (অংশ)।তিন নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ১৪, ১৫, ১৬, ২০, ২১, ২২, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে-লালখানবাজার, দক্ষিণ পাহাড়তলী (অংশ), উত্তর পাহাড়তলী, খুলশী, জয়পাহাড়, আলম শাহ, কাঠগড়, ইমামগঞ্জ, চন্দনপুরা, নিজশহর, কাসিমবাজার, মুরাদপুর (অংশ), রুমঘাটা, আন্দরকিল্লা, রহমতগঞ্জ, দক্ষিণ পাহাড়তলী, এনায়েতবাজার, বটতলী, ফিরিঙ্গীবাজার, গুরিবাজার, মনোহরখালী, পাথরঘাটা (অংশ), সুজা কাঠগড়। চার নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে– পাঠানটুলী, আগ্রাবাদ আসকারবাদ, গোসাইলডাঙ্গা, মোগলটুলি, মাদারবাড়ি, মগবাজার ও নলসা। পাঁচ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে– উত্তর পাহাড়তলী, লট ৯ পাহাড়তলী, পূর্ব পাহাড়তলী, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলী, সরাইপাড়া, পশ্চিম নাসিরাবাদ, দক্ষিণ পাহাড়তলী (অংশ), রামপুর ও উত্তর হালিশহর। ছয় নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলটির আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, উত্তর পতেঙ্গা, দক্ষিণ পতেঙ্গা ও পূর্ব পতেঙ্গা।
জানা গেছে, মো. রেজাউল করিমকে ১ ও ৫ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া শাহরিন ফেরদৌসীকে ৪ ও ৬ নম্বর অঞ্চল এবং রক্তিম চৌধুরীকে ২ ও ৩ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১ ও ৫ নম্বর জোনের কার্যালয় হচ্ছে- ফইল্যাতলী বাজার কিচেন মার্কেট, ৪ ও ৬ অঞ্চলের কার্যালয় ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় ভবন এবং ২ ও ৩ অঞ্চলের কার্যালয় হচ্ছে- লালদীঘি পাড়স্থ চসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ফরিদা ইয়াসমিন চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম জেলার শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নির্বাচিত হয়েছেন মিরসরাই থানার ফরিদা ইয়াসমিন। এর আগেও তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হয়েছিলেন। অপরাধ দমন ও মাদক উদ্ধারে বিশেষ অবদানের জন্য মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত মাসিক কল্যাণ সভায় পুলিশ সুপার মাসুদ আলম তার হাতে শ্রেষ্ঠ ওসির পুরস্কার তুলে দেন।

পুলিশ জানায়, ৮টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মিরসরাই থানার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রথম নারী ওসি ফরিদা ইয়াসমিন অপরাধ দমন এবং মাদক উদ্ধার অভিযানে সাফল্য দেখিয়েছেন।এছাড়াও ডাকাতির মালামাল উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার, হত্যা মামলার আসামী গ্রেফতারসহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য তাকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ছাড়াও জেলার অন্যান্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ওসি ফরিদা ইয়াসমিন বলেন, এই সম্মাননা মিরসরাই থানার প্রতিটি পুলিশ সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আমরা সর্বদা কাজ করে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক, ফের উৎপাদনে ফিরল সিইউএফএল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অবশেষে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল)।দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস বন্ধ থাকার পর মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে গত ৪ মার্চ কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

দীর্ঘদিন পর কারখানাটি পুনরায় চালু হওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ ফিরে এসেছে।কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মিজানুর রহমান জানান, দীর্ঘ প্রায় ছয় মাস পর আমরা উৎপাদনে ফিরেছি। এই দীর্ঘ সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে, নিয়মিত উৎপাদনের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তা পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আমরা আশাবাদী।

সিইউএফএলের বিগত কয়েক বছরের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কারখানাটি মাত্র পাঁচ দিন চালু রাখতে পেরেছিল। ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বন্ধ হওয়ার দীর্ঘ সময় পর তা অক্টোবরে চালু হয়। এরপর ২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে যান্ত্রিক ত্রুটি ও গ্যাস সংকটের কারণে বারবার কারখানাটি বন্ধ ও চালুর প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে গেছে। সর্বশেষ গত ৪ মার্চ গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়, যা দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় পর ১৫ সেপ্টেম্বর পুনরায় চালু হলো।

সিইউএফএলের উৎপাদন বিভাগের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) উত্তম চৌধুরী মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আজ সকালে আমাদের উৎপাদন প্রাথমিকভাবে শুরু হয়েছে। গত মাসের শেষের দিকে আমরা গ্যাস পেলেও কারিগরি ত্রুটির কারণে তাৎক্ষণিকভাবে উৎপাদনে ফিরতে পারিনি। এরপর একে একে সব যন্ত্রপাতি সচল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি, আগামীকালের মধ্যে কারখানাটি পুরোপুরি ত্রুটিমুক্ত ও স্বাভাবিক অবস্থায় আসবে।

কারখানা সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। এর আগে গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথমে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। চালুর প্রাথমিক পর্যায়ে কিছু যান্ত্রিক জটিলতা দেখা দিলেও তা দ্রুত সমাধান করা হয়।

কাফকোর পাশেই অবস্থিত সিইউএফএলে দীর্ঘদিন ধরেই গ্যাস সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আসছে। কারখানাটির পূর্ণমাত্রায় উৎপাদনের জন্য দৈনিক প্রায় ৪৮ থেকে ৫২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রয়োজন হয়। একসময় দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও বিভিন্ন কারণে বর্তমানে এর কার্যকর সক্ষমতা অনেকটাই কমেছে।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ