আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

বিএসসি আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুন ঃ ‘নাশকতা’র আশংকা এমডির

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাঁচদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) আরেকটি তেলবাহী জাহাজে আগুনের ঘটনাকে ‘নাশকতা’ বলে আশংকা করছেন প্রতিষ্ঠানটির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক। এর আগে শুক্রবার (৪ আগস্ট) রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে বঙ্গোপসাগরে পতেঙ্গা এলাকায় নোঙর করা বিএসসির মালিকানাধীন ‘এমটি বাংলার সৌরভ’ নামে তেলবাহী ওই জাহাজটিতে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জাহাজটির স্টুয়ার্ড সাদেক মিয়া (৫৯) মারা যান। নিহত সাদেকের বাড়ি নোয়াখালী জেলায়।
শনিবার সকালে বিএসসি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির এমডি কমডোর মাহমুদুল মালেক এ কথা জানান তিনি।এর আগে সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে কর্ণফুলী নদীর ডলফিন জেটিতে ‘বাংলার জ্যোতি’ নামে একটি তেলবাহী জাহাজে আগুনের ঘটনা ঘটে। এ জাহাজও বিএসসির মালিকানাধীন ছিল। এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়। তিনজনই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গিয়েছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, বাংলার সৌরভ জাহাজের সম্মুখ অংশ থেকে একইসঙ্গে চার জায়গায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। অথচ জাহাজে কোনো বিস্ফোরণ হয়নি। তাই আমাদের আশঙ্কা এটা নাশকতা। রাতের ১২টা ৩ মিনিটে বাংলার সৌরভ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এ সময় সমুদ্র খুব উত্তাল ছিল। বাতাসের গতিবেগ বেশি থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাতটি টাগবোট একযোগে অপারেশন পরিচালনা করে। প্রায় দেড় ঘন্টায় অগ্নি নির্বাপন করার পরে বাতাসের কারণে ভেতর থেকে আবার আগুন জ্বলে ওঠে। কমডোর মাহমুদুল মালেক বলেন, যখন জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে ঠিক একইসময়ে পাশ দিয়ে একটি স্পীডবোটও যায়। যেহেতু গ্যাস ফর্ম কিংবা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগার ঘটেনি। তাই আমরা ধারণা করছি, এটা নাশকতামূলক অগ্নিকাণ্ড হতে পারে। কিন্তু সবকিছু তদন্তের পরেই জানা যাবে। তিনি আরও বলেন, এটা লাস্ট সার্ভিস হওয়ার কথা ছিল বাংলার সৌরভের। এ জাহাজে তেল ছিল ১১ হাজার ৫৫ টন। জাহাজে সর্বমোট জনবল ছিল ৪৮ জন। আগুন লাগার পর কিছু ক্রু অন্য বোটে এবং কেউ পানিতে ঝাঁপ দেয়। সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। শুধু একজন স্টুয়ারড ছিলেন, বয়স্কয়। উনার নাম সাদেক মিয়া। তীরে পৌঁছানোর পরও উনার সেন্স ছিল। ট্রমাজনিত কারণে হাসপাতালে নেয়ার পথে বা হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান। যাদেরকে রেসকিউ করা হয়েছে, তাদের কেউ তেমন ইনজুরড হয়নি। এ ঘটনায় বিএসসির টেকনিক্যাল ডিরেক্টরকে প্রধান করে আট সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কমডোর মাহমুদুল মালেক।
বিএসসির পর পর দুইটি অয়েল ট্যাংকারে অগ্নিকাণ্ড জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অপচেষ্টা বলে আশঙ্কা করে নৌবাহিনীর এ কর্মকর্তা বলেন, জাতীয় জ্বালানির জন্য ব্যাক টু ব্যাক এ ধরনের দুটি ঘটনা হুমকি স্বরূপ। কয়েকদিন আগে বাংলার জ্যোতিতে আগুন লেগেছিল। এরপর আগুন লাগল বাংলার সৌরভে। তাই আমরা ধারণা করছি, এ ঘটনা জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলার অপচেষ্টা। এ ঘটনায় কারা জড়িত তা শনাক্ত করা উচিত।
বিএসসির মালিকানাধীন সচল সাতটি জাহাজের মধ্যে বাংলার সৌরভ ও বাংলার জ্যোতি বন্দরের বহির্নোঙ্গর থেকে তেল লাইটারের কাজ করত। অপর পাঁচটি জাহাজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পণ্য পরিবহনের কাজে নিয়োজিত আছে। ১৯৮৭ সালে নির্মিত জাহাজ দুটি ডেনমার্ক থেকে কেনার পর বিএসসির বহরে যুক্ত হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম
নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়ে শুক্রবার রাতে কার্যালয়ের একটি অংশে হঠাৎ করে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কন্ট্রোল রুম। এদিকে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়তলীতে অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের এই কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ