আজঃ মঙ্গলবার ২০ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামের কারাগারে অসুস্থ বন্দিদের দুর্ভোগ, রাতে চিকিৎসক নেই

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে রাতে চিকিৎসক না থাকায় অসুস্থ বন্দিদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েকদিন আগে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর থেকে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বন্দিদের। চিকিৎসকরে বদলে রাতে বন্দিদের চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন এক কারারক্ষী ও দুই নার্স। এছাড়া ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে বর্তমানে চালু আছে মাত্র ৮টি। অপর তিন মেডিকেল কর্মকর্তা শুধুমাত্র আউটডোরে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। রাতে শুধুমাত্র প্রয়োজন হলেই তারা বন্দি রোগীদের দেখতে আসেন।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ৩ হাজার ৭০০ জন বন্দি রয়েছে কারাগারে। এদের জন্য সহকারী সার্জন পদমর্যাদার এক চিকিৎসকসহ চার ডাক্তার থাকার কথা। কিন্তু অক্টোবরে সহকারী সার্জন পদমর্যাদার আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রেজা মো. সরোয়ার আকবর বদলি হলে রাতে রোগীদের চিকিৎসা নিয়ে বিড়ম্বনা বাড়তে থাকে। প্রেষণ আদেশ প্রত্যাহার করে কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন হিসেবে তাকে পদায়ন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এর পর থেকে অপর তিন মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. তুষার কান্তি নাথ, ডা. একরাম হোসেন ও ডা. জাহেদুল ইসলাম চৌধুরী আউটডোরে সেবা দেন এবং জরুরি প্রয়োজন হলেই রাতে এসে রোগী দেখেন।
তাবে কারাগার কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, দায়িত্বরত তিন জন মেডিকেল কর্মকর্তারা ঠিকমতো রোস্টার ডিউটি পালন করেন না। বিকেলের পর সবাই ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন। ফলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে স্ট্রোক ও হৃদরোগীদের অবস্থা অনেক সময় খারাপ হয়ে যায়। কারা হাসপাতালে শুরুতেই জরুরি চিকিৎসা না পাওয়ার কারণেই এমনটা হয়।
আরও জানা গেছে, রাতে আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা না থাকায় বন্দি রোগীদের চিকিৎসা দিচ্ছেন কারারক্ষী (প্যাথলজি) শহীদ সরোয়ার। তিনি ল্যাব টেকনিশিয়ান হওয়ায় হাসপাতালের ল্যাবের দায়িত্বে আছেন। রাতে তার সঙ্গী হিসেবে থাকেন ডিপ্লোমা নার্স লিটন তালুকদারসহ অপর এক নার্স। সরোয়ার ২০১৮ সালের আগে কুমিল্লা কারাগারে কারারক্ষী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এরপর ২০১৮ সালে তাকে ঢাকা সেনানিবাসে প্যাথলজির ওপরে ৪ বছরের ডিপ্লোমা কোর্স করতে পাঠানো হয়। এরপর তিনি চট্টগ্রাম কারাগারে যোগ দেন। রাতে কেউ অসুস্থ হলে সরোয়ার নিজেই চিকিৎসা দেন। এমনকি রোগীর রুটিন টেস্ট রিপোর্টে ডাক্তারের স্বাক্ষর ছাড়া সরোয়ার নিজেই স্বাক্ষর দিয়ে থাকেন। রাতে ডিপ্লোমা নার্স লিটন তালুকদারের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও তিনি নিয়মিত আসেন না। এছাড়া অপর এক নার্সও রাতে থাকেন কালে-ভদ্রে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে শহীদ সরোয়ার বলেন, রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে আমাকে খবর দেওয়া হয়। আমি এসে চিকিৎসা দিই। রুটিন টেস্টগুলোও করে থাকি। গুরুতর রোগী হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়। এছাড়া ফোনে তুষার স্যার, একরাম স্যারকেও ডেকে আনা হয়। তিনি আরও বলেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত ৪০ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন হাসপাতালে। আমি নিয়মিত ডেঙ্গু রোগীর প্লাটিলেট, সিবিসি পরীক্ষা করে চিকিৎসা দিয়েছি। বর্তমানে ৪ জন ডেঙ্গু রোগী আছে। তাদের চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ফ্লুইড ম্যানেজমেন্টের তদারিক আমি করছি।
কারাগারের চিকিৎসক ডা. তুষার বলেন, আমরা মূলত আউটডোর বেসিসে রোগীদের সেবা দিই। প্রতিদিন ১০০ থেকে ১৫০ জন রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। রাতে কোনো বন্দি অসুস্থ হলে, চিকিৎসাধীন কোনো বন্দির পরামর্শের প্রয়োজন হলে আমরা অনকলে আসি। রাতে ওয়ার্ডে চিকিৎসা দেন শহীদ সরোয়ার নামে এক কারারক্ষী ও ডিপ্লোমা নার্সসহ দু’জন নার্স।
চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. মাসুদুর রহমান বলেন, আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা পদটি শূন্য হওয়ায় তা পূরণে কারা অধিদপ্তরকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি। আমরা বর্তমান লোকবল দিয়ে বন্দি রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করার কথা জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

পাবনার সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ৮৯তম ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৮৯তম বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীরা মেতেছিল নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য দেখানোর উৎসবে। সেই সঙ্গে দিনটি ছিল শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসের উপলক্ষ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে এ ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ভিন্নধর্মী নানা আয়োজনে সাজানো হয়েছিল বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতাটি। এতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্যাটাগরির প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তাদের দক্ষতা প্রদর্শন করে। বিদ্যালয়ের বিশাল মাঠ সাজানো হয়েছিল সুন্দরভাবে। খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দর্শকদের আনন্দে ভিন্নমাত্রা যোগ করে।

এছাড়াও ৫৪তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা সমিতির শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ভাঙ্গুড়া উপজেলা ও পাবনা জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীরা।

সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে‌র সিনিয়র প্রভাষক মোঃ লোকমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ শওকত রেজা।
বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় খেলাধুলার পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান আনন্দে উপভোগ করেন দর্শকেরা। বিকেলে প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।

এসময় শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ বিপুলসংখ্যক দর্শক উপস্থিত ছিলেন। ক্রীড়া পরিচালনায় ছিলেন সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে‌র ক্রীড়া শিক্ষক মোঃ হেদায়েতুল্লাহ।

সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে‌র অধ্যক্ষ প্রফেসর সৈয়দ শওকত রেজা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যে বলেন, ‘ভবিষ্যৎ খেলোয়াড় তৈরি করতে দরকার ছোটবেলা থেকেই নিয়মিত চর্চা। এর ফলে শিশুরা মনের দিক থেকে চাঙা থাকার পাশাপাশি মাঠে এসে খেলার কারণে শারীরিকভাবেও ফিট থাকবে। সার্বিকভাবে, বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জন্য এক আনন্দময় ও স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।’

বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা: দ্বিবার্ষিক সভায় সহ-সভাপতি নির্বাচিত মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর ঐতিহ্যবাহী সামাজিক সংগঠন বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা এর দ্বিবার্ষিক সাধারণ সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। সভায় সকলের সিদ্ধান্তে ও মতামতের ভিত্তিতে সংগঠনের নেতৃত্বের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রেখে সহ-সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব, যাত্রী আন্দোলনের প্রবক্তা ও যাত্রী সাধারণের একমাত্র সাহসী কণ্ঠস্বর, বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব এবং দক্ষিণ চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী।

এটি শুধু একটি পদ নয়, বরং দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা বোয়ালখালীর মানুষের জন্য একটি গৌরবময় অর্জন। যাত্রী কল্যাণ আন্দোলনে তার সাহসিকতা, ন্যায্যতার প্রতিফলন ও মানবিক মূল্যবোধ সব সময়ই অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন । তার এই অর্জন বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকার সদস্যদের মধ্যে নতুন আশা ও অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরী সামাজিক সংগঠন, যাত্রী কল্যাণ ও গণমানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় দীর্ঘদিন ধরে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন। তার দৃঢ় নেতৃত্ব, আত্মবিশ্বাস, অটল সংকল্প এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা তাকে সবার কাছে এক বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছে। তিনি যাত্রীদের অধিকার আদায়ে যেসব পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা শুধু একটি সংগঠনের নয়, সমগ্র সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত।

এই নির্বাচনে তার নাম উঠেছে সদস্যদের উচ্চাভিলাষ ও আস্থা থেকেই। সদস্যদের বিশ্বাস, ভক্তি ও ভালোবাসার প্রতিফলন এই পদ অর্জনের মাধ্যমে স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়। বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকার দ্বিবার্ষিক সভায় সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সামাজিক উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড আরও শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নির্বাচিত হওয়ায় বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা আরও নতুন দিগন্তে প্রবেশ করবে এটাই সবাই আশা করছেন। তার নেতৃত্বে সংগঠনটি আরও বেশি জনসেবামূলক কাজ, সামাজিক সহায়তা ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে।

এই গৌরবময় মুহূর্তে আমরা সবাই তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আলহামদুলিল্লাহ একজন নিষ্ঠাবান সমাজসেবী, নির্ভীক কণ্ঠস্বর ও উদ্যমী নেতাকে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নির্বাচিত হতে দেখে আমরা গর্বিত।আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মোঃ মোজাম্মেল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে বোয়ালখালী সমিতি-ঢাকা আরও উজ্জ্বল ও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

আলোচিত খবর

সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে সোমবার ১৯ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় তার এই ভাষণ বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ