আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

ডেঙ্গুতে চট্টগ্রামে মৃত্যুর হার কমেছে :চসিক মেয়র

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

: আপাতত বিদেশি একটি ‘রিসার্চ প্রোডাক্ট’ দিয়ে এডিস মশার লার্ভা নিধনের উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি বিশ্বের অন্যান্য উন্নত দেশ থেকেও ওষুধ সন্ধানের কথা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বিশেষ করে মশা মারতে গতানুগতিক ওষুধের বাইরে গিয়ে নতুন ওষুধ ব্যবহারের পথে হাঁটছেন তিনি।বৃহস্পতিবার নগরের চকবাজার সিটি করপোরেশনের কাঁচা বাজারে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চসিক মেয়র বলেন, একই স্প্রে মারতে থাকলে মশা সেটায় অভ্যস্ত হয়ে যাবে। তার স্থায়িত্বকাল বাড়বে। এই মশা আর মরবে না। কাজেই নতুন নতুন কিছু উদ্ভাবন আমাদের ৩-৪ বছর পরপর করতে হবে। এটাতে ফল পাওয়া যাবে।
নতুন একটি ওষুধের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা একটি নতুন ওষুধ বের করেছি রিসার্চ প্রোডাক্ট। সেটা হচ্ছে মসকিউটো এন্ড সলিউশান, এডিস মশার লার্ভাসহ অন্যান্য লার্ভা ধ্বংস করার জন্য। আমি আরও রিসার্চ প্রোডাক্ট বিশ্বের প্রতিটি দেশের উন্নত দেশে খোঁজ নিচ্ছি। আরেকটি রিসার্চ প্রোডাক্ট আমরা পেয়েছি। সেটিও আমরা আনবো এবং দুটোর গুণগত মান আমরা দেখবো কোনটায় মশা বেশি মারা যাচ্ছে।
ডেঙ্গুতে চট্টগ্রামে মৃত্যুর হার কমেছে উল্লেখ করে ডা. শাহাদাত বলেন,এখন ডেঙ্গুর মৌসুম চলছে। যা বাংলাদেশে মহামারি আকার ধারণ করেছে। চট্টগ্রামে আমরা দেখতে পাচ্ছি গত তিন চারদিনে মৃত্যুর হার শুন্যের কোটায় আছে। আমরা ডেঙ্গুর পাশাপাশি জনসচেতনার পাশাপাশি চিকুনগুনিয়াসহ অন্য মশাবাহিত যেসকল রোগ আছে সেগুলোর জন্য আমরা স্প্রে দিচ্ছি এবং সেই স্প্রে ঠিকমতো দিচ্ছে কিনা তা তদারকি করছি। এছাড়া জনগণের মাঝে লিফলেট বিতরণ করছি।
নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, একটা জিনিস মনে রাখবেন, আমি হাজার হাজার কোটি টাকা জলাবদ্ধতা এবং পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য এবং মশা মারার জন্য যদি খরচ করে যদি জনগণকে সচেতন করতে না পারি তখন এই নগরকে আপনি সুন্দর রাখতে পারবেন না। যার কারণে আমি বলেছি, আমি এসি রুমে বসে থাকার জন্য আসিনি। আমি রাস্তায় কাজ করার জন্য, জনগণের পাশে থাকার জন্য এসেছি।
পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মচারীদের তদারকি করা হচ্ছে জানিয়ে মেয়র বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে বলেছি আমি নগরপিতা নই, নগরসেবক হিসেবে কাজ করতে চাই। জনগণের দুর্ভোগ যাতে না হয়। পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর আমি বেশি জোর দিচ্ছি। ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি এবং হেলদি সিটি। যার প্রেক্ষিতে গত সরকারের আমলে প্রতিটি কাউন্সিলর প্রতিটি ওয়ার্ডে ৬০ থেকে ৭০ জন পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা রেখেছে। তারা ঠিকমতো জনগণের কাজ করছে কিনা সেটি তদারকির জন্য আমি তাদের নাম ধরে ডাকছি। আমি জনগণকে জিজ্ঞেস করছি তাদেরকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানে দেখা গিয়েছিল কিনা। কারণ তাদের কাজটাই সেটা। এর জন্য তারা একেকজন ১৪ থেকে ১৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে। এজন্য প্রতিটা ওয়ার্ডে আমি যাচ্ছি। পূর্ব বাকলিয়া গিয়েছি, পশ্চিম বাকলিয়া গিয়েছি এবং আজকে চকবাজার ওয়ার্ডে এসেছি। এভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে যাচ্ছি। আর জনগণ যাতে ময়লা-আবর্জনা রাস্তা-নালায় না ফেলে ডাস্টবিনে ফেলে সেই জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছি।
‘কাজেই আমি মনে করি যারা চট্টগ্রামের ৪১টি ওয়ার্ডে আছেন ৭০ লক্ষ লোক বাস করছেন, যে জায়গায় পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কর্মচারীরা আপনাদের সেবা দিচ্ছেন না আপনারা আমাদের জানাবেন। ইনশাআল্লাহ জনগণের যেকোনো সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি। ইতিমধ্যে আপনারা জানেন ডেঙ্গুর জন্য প্রথমদিন থেকে ম্যানেজমেন্ট সেন্টার এবং সেল সেন্টার খোলা হয়েছে। যেখানে ডেঙ্গুর যে টেস্ট সেটি বিনামূল্যে করে দিচ্ছি। আমরা ওইখানে ১০টি বেড রেখেছি। যেকোনো সময় মুমূর্ষু রোগী সেখানে চিকিৎসা নিতে পারবে।
প্রতিটি ওয়ার্ডে গত সরকারের আমলে মেয়র-কাউন্সিলররা দুর্নীতি করেছেন অভিযোগ করে মেয়র বলেন, ‘আমি প্রতিটি ওয়ার্ডে গিয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু দুর্নীতির চিত্র দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে আপনারা দেখেছেন শোলকবহর ওয়ার্ডের বিপ্লব উদ্যানে গিয়েছি সেখানে ২৫টি দোকান থেকে অলরেডি ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা লোপাট হয়ে গিয়েছে। অথচ সেখান থেকে পুরো এক বছরে করপোরেশন পেতো এক লাখ টাকা করে গত ১০ বছরে। অথচ ৫০ থেকে ৬০ লাখ টাকা প্রতিবছর আয় করার কথা ছিল। কাজেই এই যে দুর্নীতি মেয়র এবং কাউন্সিলররা করেছেন আমি একে একে সব দেখতে পাচ্ছি। শুধু একটি ওয়ার্ড নয়, প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর এবং মেয়ররা মিলে দুর্নীতি করেছে এটার শ্বেতপত্র বের হওয়া উচিৎ এবং জনগণ সেটা জানা উচিত।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কিউলেক্স মশার প্রকোপ বেড়েছে: মেয়র ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নালা-নর্দমা ও ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা এবং যত্রতত্র বর্জ্য ফেলার কারণে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে স্থির পানিতে মশার বংশবিস্তার ঘটছে। তাই নালা-নর্দমা পরিষ্কার রাখা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিক সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।’শনিবারের অঙ্গীকার, বাসাবাড়ি করি পরিষ্কার’—এই স্লোগান সামনে রেখে ডেঙ্গু ও মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানের উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও এর আশপাশের এলাকায় এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে পরিচালিত উদ্যোগের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামেও শুরু হয়েছে।মেয়র বলেন, নগরবাসীর সুস্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান, কারণ প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।তাই মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে ও ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধে এই এলাকাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করা হচ্ছে।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, বর্ষা মৌসুমে টব, ডাবের খোসা, নির্মাণাধীন ভবনের সামগ্রী বা প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়, যা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার জন্য দায়ী। তবে বর্তমানে কিউলেক্স মশার বিস্তার বেশি দেখা যাচ্ছে, যার প্রধান উৎস নোংরা ড্রেন ও জমে থাকা বর্জ্য। নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব।তিনি জানান, নগরের ৪১টি ওয়ার্ডে একযোগে এই পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রতিটি ওয়ার্ডে লার্ভিসাইড ও অ্যাডাল্টিসাইড ওষুধ সরবরাহ করা হয়েছে এবং ওয়ার্ডভিত্তিক তদারকির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা কাজ করছেন।

এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও অতিরিক্ত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রায় ১৬০ জনের একটি বিশেষ দল কাজ করছে।মেয়র বলেন, চকবাজার, বাকলিয়া, আগ্রাবাদ, ফিরিঙ্গিবাজার, হালিশহর, পাহাড়তলীসহ কয়েকটি এলাকাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় বিশেষভাবে মশক নিধন ও ড্রেন পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

কার্যকর ওষুধ ব্যবহারের কারণে বর্তমানে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ অনেকটাই কমেছে। আমেরিকা থেকে আনা কার্যকর লার্ভিসাইড ব্যবহার করায় ডেঙ্গুর লার্ভা ধ্বংসে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শহর শুধু সিটি করপোরেশনের নয়—এটি সবার শহর। তাই প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ বাসা-বাড়ির আঙিনা, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একদিন নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখলে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও স্বাস্থ্যকর নগর গড়ে তোলা সম্ভব।তিনি বলেন, চট্টগ্রাম সব সময় উন্নয়ন ও উদ্যোগে পথ দেখিয়েছে। পরিচ্ছন্ন নগর গড়ার ক্ষেত্রেও চট্টগ্রাম দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।

উদ্বোধনের পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের মেইন গেট, কেবি ফজলুল কাদের সড়ক এবং প্রবর্তক মোড় এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করা হয় এবং মশক নিধনে লার্ভিসাইড ওষুধ ছিটানো হয়। পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা বিভাগের কর্মীরা ফগার মেশিন ও স্প্রে মেশিন ব্যবহার করে মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন, চসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী, উপপ্রধান পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম প্রমুখ।

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যালী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চোখের নীরব ঘাতক রোগ গ্লুুকোমা : সিইআইটিসিতে র‌্যাল

ছবি-১
চট্টগ্রাম ব্যুরো: “একসাথে হাত ধরি, গ্লুকোমা মুক্ত বিশ্ব গড়ি” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ-২০২৬’ উদ্যাপন করছে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। এ উপলক্ষে মঙ্গলবার পাহাড়তলীস্থ হাসপাতাল প্রাঙ্গনে একটি সচেতনতামূলক র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় র‌্যালীর উদ্বোধন করেন হাসপাতালের ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম। তিনি বলেন, গ্লুুকোমা চোখের নীরব ঘাতক রোগ। বিরাট জনগোষ্ঠী গ্লুুকোমা রোগের নামই শোনেননি। গ্লুকোমা চোখের এমন একটি জটিল রোগ, ধীরে ধীরে দৃষ্টি কমে যায়। এমনকি এক সময় রোগী অন্ধত্ববরণ করতে বাধ্য হয়। সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি থাকে। তাই গ্লুকোমা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হাসপাতালের মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, প্রফেসর ডা. জেসমিন আহমেদ, কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন, ডা. কাজী তাহমিনা আক্তার. ডা. ফারজানা আক্তার চৌধুরী, ডা. এ এস এম মাহাবুবুল আলম, ডা. মেরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া,ডা. সুইটি বড়ুয়া, ডা. আমিনুর রহমান, ডা. শেলী বিশ্বাস, ডা. মো. ইফতেখার শামীম, ডা. মৌসুমী চৌধুরী প্রমূখ।

এর আগে সকাল ৮টায় ‘বিশ্ব গ্লুকোমা সপ্তাহ উপলক্ষে হাসপাতালের ইমরান সেমিনার হলে চোখের গ্লুকোমা নির্ণয় ও প্রতিরোধের বিষয়ক বৈজ্ঞানিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বক্তব্য রাখেন, ম্যানেজিং ট্রাস্টি ডা. কিউ এম অহিদুল আলম, মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. রাজিব হোসেন. আইসিও এর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. মনিরুজ্জামান ওসমানী, চিফ কনসালট্যান্ট ডা. নাসিমুল গনি চৌধুরী, এসোসিয়েট কনসালটেন্ট ডা. মো. দস্তগীর হোসেন প্রমূখ।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাসপাতালের ডিপার্টমেন্ট অব গ্লুকোমা বিভাগের প্রধান কনসালটেন্ট ডা. উম্মে সালমা আকবর। সেমিনারে বিশ্বব্যাপী অন্ধত্বের দ্বিতীয় কারণ মারাত্মক দৃষ্টিনাশী রোগ গ্লুকোমা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে বলা হয়। শতকরা ৫০ জন লোক জানেন না তার গ্লুকোমা রোগ আছে। বিশেষ করে উপসর্গ থাকে না বলে বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগীই বুঝতে পারেন না এর উপস্থিতি। তুষের আগুনের মতো ভেতরে ভেতরে নষ্ট করে দেয় স্নায়ুতন্ত্র। বেশিরভাগ গ্লুকোমা রোগী আসেন অন্ধত্বের কাছাকাছি সময়ে। তখন বেশি কিছু করার থাকে না। প্রাথমিক পর্যায়ে গ্লুকোমা শনাক্ত করা গেলে অন্ধত্বের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

নীরবে চোখকে অন্ধত্বের দিকে নিয়ে যায় বলে গ্লুকোমাকে নীরব ঘাতক বা ‘সাইলেন্ট কিলার’ উল্লেখ করে সেমিনারে আরো বলা হয়, গ্লুকোমা রোগকে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব; কিন্তু নিরাময় করা সম্ভব নয়। ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপ রোগীর মতো সুনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত চক্ষু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে গ্লুকোমা রোগ নিয়ন্ত্রণ করা যায়। গ্লুুুকোমা রোগ সম্পর্কে আমাদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদেরও ভূমিকা পালন করতে হবে। এছাড়া সাপ্তাহব্যাপী কর্মসূচীতে হাসপাতালের চিকিৎসকরা আগত রোগী ও তাদের স্বজনদের গ্লুুকোমা রোগ সম্পর্কে অবগত করছেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ