আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

রংপুর এসিআই মটরস লিমিটেড থেকে কিস্তিতে ট্রাক্টর কিনে প্রতারণায় পড়ে নিঃস্ব হয়েছেন কৃষক আনারুল ইসলাম আঙ্গুর

লালমনিরহাট প্রতিনিধি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

লালমনিরহাট সদরের রাজপুর ইউনিয়নের খলাইঘাট এলাকার বাসিন্দা মৃত ফরমান আলীর ছেলে মো: আনারুল ইসলাম আঙ্গুর এসিআই মটরস লিমিটেড রংপুর অফিস থেকে ২৮/০৫/২০১৬ ইং তারিখে সোনালীকা D145RX(A) মডেলের একটি ট্রাক্টর কিস্তিতে ক্রয় করেন। ট্রাক্টরটির নির্ধারিত মূল্যে ছিল ১১,৫০,০০০ টাকা। সে অনুযায়ী ননজুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তিবদ্ধ হয়ে রংপুর এসিআই মটরস হতে ট্রাক্টরটি কিনে নেন তিনি।এবং নিয়ম মেনে ১০,১০,৫০০ টা বিভিন্ন সময়ে কিস্তির টাকাও পরিশোধ করেন।

দীর্ঘ আশা ছিল ট্রাক্টরটি কিনে চাষাবাদ করে জীবনের ভাগ্য বদলের , কিন্তু তার সেই আশায় গুড়ে বালি হয়ে গেছে। আর্থিক অসুবিধার কারণে বাকী কিস্তির টাকা পরিশোধে বিলম্বিত হওয়ায় ১৬/১১/২০১৫ইং তারিখে রংপুর-কাউনিয়া মহাসড়ক হতে ট্রাক্টরটি আটকিয়ে রংপুর ধাপ অফিসে নিয়ে আসেন এসিআই মটরস লিমিটেড কর্তৃপক্ষ। সেই সচল ক্রয়কৃত ট্রাক্টরটি পরবর্তীতে শর্তমোতাবেক বিলম্ব ফি-সহ বাকী পাওনা টাকা প্রদানে মো: আনারুল ইসলাম আঙ্গুর ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে চাইলে এসিআই মটরস লিমিটেড ট্রাক্টরটি ফেরত দিতে অস্বীকার জানালে তিনি ১২/০৬/২০১৬, ২০/১২/২০১৬ ও ১৭/১০/২০১৭ইং তারিখে লিগ্যাল নোটিশ দিয়ে ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে চান কিন্তু এসিআই মটরস লিমিটেড ট্রাক্টরটি ফেরত না দেয়ায় পরবর্তীতে আনারুল ইসলাম আঙ্গুর নিজেই বাদী হয়ে এসিআই মটরস-এর রংপুর অফিসের কর্মকর্তা মোঃআতিয়ার রহমান, রিজিওনাল সেলস্ অফিসার, মো: বাবুল হোসেন, রফিকুল ইসলামকে আসামী করে ৪০৬, ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় রংপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে বিগত ০৫/০৭/২০১৮ইং তারিখে মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-২০৩/১৯। উক্ত মামলায় বিজ্ঞ আদালত আসামীগণের বিরুদ্ধে সমন ইস্যু করেন এবং আসামীগণ

জামিনপ্রাপ্ত হয়ে মামলা দীর্ঘায়িত করে দীর্ঘ বৎসর মামলা পরিচালনা করান। বিজ্ঞ আদালত গত ১৬/০৫/২০২৪ইং তারিখে মামলার বাদীকে ২,৭০,০০০ টাকা গ্রহণ সাপেক্ষে ট্রাক্টরটি ফেরত প্রদানের জন্য আদেশ প্রদান করেন। সে আদেশ অনুযায়ী আনারুল ইসলাম আংগুর বাকী টাকা প্রদান করতে ইচ্ছুক হন এবং এসিআই মটরস-এর রংপুর অফিস হতে ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে গিয়ে দেখতে পায় যে, এসিআই মটরস-এর লোকজন ইতিমধ্যে উক্ত ট্রাক্টরের মূল টায়ার বদল করে পুরাতন অচল টায়ার লাগিয়ে রেখেছে। ট্রাক্টরের হাল যন্ত্র, ব্যাটারী এবং মূল্যবান যন্ত্রাংশ গুলো খুলে নিয়েছে। অর্থাৎ ট্রাক্টর নামের খোলসটি শুধু পড়ে রয়েছে বর্তমানে যা পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে।

দোকানে ভাংড়ি হিসাবে বিক্রয় করা হলে আনুমানিক মূল্য সর্বোচ্চ ১ (এক) লক্ষ টাকা হতে পারে বলে জানান ভুক্তভোগী।

এক মাত্র সম্বল টুকু হারিয়ে অসহায় কৃষক আনারুল ইসলাম আঙ্গুর ট্রাক্টরটি সাবেক অবস্থায় উদ্ধারে বার বার ব্যর্থ হয়ে রংপুরের বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৯৮ অনুযায়ী গত ১৯/০৫/২০২৪ইং তারিখে

মামলা দায়ের করেন, মামলার নম্বর মিছ পিটিশন ৮৬/২৪ইং এবং বর্তমানে কোতয়ালী থানায় তদন্তাধীন অবস্থায় রয়েছে। কিস্তিতে ট্রাক্টর কিনে প্রতারণার স্বীকার হয়ে বছরের পর বছর হয়রানী ও আর্থিক ক্ষতির শিকার কৃষক পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছে। বারবার বিচার চেয়েও কোন সঠিক বিচার মিলেনি । পরিশ্রমের টাকায় ক্রয় কৃত ট্রাক্টরটি সচল অবস্থায় ফিরে পাবে বলে আশায় রয়েছে অসহায় কৃষক আনারুল ইসলাম আঙ্গুর।

এসিআই মটরস-এর রংপুর অফিসের কর্মকর্তগণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা অজুহাত দেখিয়ে বলেন, আদালতের সিদ্ধান্তে বিষয়টি সুরাহা হবে নতুবা বাকি ২,৭৫,০০০ টাকা দিয়ে বর্তমান যে অবস্থায় আছে সেই অবস্থায় ট্রাক্টরটি ফেরত নিতে বলেন বর্তমান যার বাজার মূল্য ১ লক্ষ টাকার নিচে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আনারুল ইসলাম আঙ্গুর ট্রাক্টরটি কিনে রংপুর এসিআই মোটরস এর ফাঁদে পড়ে এর পিছনে একেবারেই নিঃস্ব হয়ে গেছেন এবং তিনি কোন সুবিচার পাচ্ছেন না।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোনায় এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের মাঝে ধান চাষের উপকরণ বিতরন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

এলএসটিডি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)-এর বাস্তবায়নে নেত্রকোনার ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়ের আওতায় কৃষক পর্যায়ে ধান চাষের উপকরণ বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর( ৯ জানুয়ারী২০২৬) বাদেবিন্না গ্রামে স্হানীয় চল্লিশ জন কৃষকের মাঝে কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার বাদেবিন্না গ্রামে স্থানভিত্তিক ধানের জাত ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নতুন ছয়টি আঞ্চলিক কার্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে এলএসটিডি প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ে প্রায়োগিক পরীক্ষণ ও মূল্যায়নের জন্য নির্বাচিত কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের ধানের বীজসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এলএসটিডি প্রকল্পের পরিচালক ড. মোঃ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, নেত্রকোনার প্রধান ও সায়েন্টিফিক অফিসার মোঃ খালিদ হাসান তারেক।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিতরণকৃত এসব উপকরণ ব্যবহার করে কৃষকরা নিজ নিজ জমিতে নতুন জাতের ধান ও আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকারিতা পরীক্ষা করবেন। এর মাধ্যমে স্থানীয় পরিবেশ উপযোগী ধানের জাত নির্বাচন সহজ হবে এবং ধান উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

কৃষকরা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, গবেষণাভিত্তিক এই সহায়তা ধান চাষে তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষি গবেষণা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার মাঠপর্যায়ে আরও বিস্তৃত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বোয়ালখালীতে তীব্র শীতে ব্যস্ত কৃষক বোরো ধান রোপনে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পৌষ মাসের শেষের দিকে দেশজুড়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ চলছে। ঘন কুয়াশা ও কনকনে শীতে জনজীবন স্থবির হলে বোয়ালখালী উপজেলায় বোরো ধান চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষকরা।

উপজেলার অধিকাংশ ফসলের মাঠে দেখা গেছে, কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ চারা সংগ্রহ করে জমিতে লাগাচ্ছেন, আবার কেউ সেচ পাম্প ও পাওয়ারট্রলির মাধ্যমে জমি সেচ ও প্রস্তুত করছেন। বিশেষ করে আমুচিয়া ইউনিয়নের বগাচড়া বিল এলাকায় ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।

কৃষক মো. আবদুল জলিল জানান, তিনি ৫০ কানি জমিতে বোরো ধান আবাদ করবেন। ‘চারা প্রস্তুত হলে ও প্রচন্ড ঠান্ডা ও ঘন কুয়াশার কারণে ধানের চারা হলুদ হয়ে নষ্ট হতে পারে, তাই কিছুদিন পর ধান লাগানোর পরিকল্পনা করেছি,’ বলেন তিনি।

চলতি মৌসুমে ৩ কানি জমিতে বোরো চাষ করবেন একই এলাকার কৃষক রবিউল হোসাইন। তিনি জানান, এবার ব্রি ধান ৪৯, ৯২, ১০০ এবং স্থানীয় হাইব্রিড জাতের ধান বেশি হবে।

ধান রোপণের শ্রমিকরা জানান, ভোরে কুয়াশার মধ্যে চারা সংগ্রহ করে মাথায় করে জমিতে নিয়ে গিয়ে ধান লাগানো হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের দৈনিক আয় প্রায় ৮০০ টাকা। ‘শীতের মধ্যে এই কাজ করতে করতে অভ্যাস হয়ে গেছে বলেন তারা।

বোয়ালখালী কৃষি অফিস সুত্রে জানায় চলতি বোরো মৌসুমে বোয়ালখালীতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১,৮০০ হেক্টর জমিতে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের ২০০ জন কৃষককে উপসী বীজ, ১০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি এমওপি সার দেওয়া হয়েছে।

‘উপজেলায় ইতিমধ্যেই কিছু জায়গায় ধান রোপণ শুরু হয়েছে। অনেকেই ধান লাগানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শতভাগ পুরোন হবে বলে আশা করছি। শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে বীজতলা রক্ষার জন্য কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে,।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ