আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

দেশে পতিত স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে:এটিএম মাসুম

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অন্তবর্তী সরকারের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকার মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম। তিনি বলেন, অন্তবর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ছাত্র-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেবে। দেশে পতিত স্বৈরাচারের ষড়যন্ত্র এখনো অব্যাহত রয়েছে। তাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়া হবে। তিনি বলেন, কারো চোখ রাঙানিকে আমরা ভয় করি না। বাংলাদেশে ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও যত রক্ত দেয়া প্রয়োজন দিতে আমরা রাজি আছি। আগামী বিপ্লব চট্টগ্রাম থেকে শুরু হবে, ইনশাআল্লাহ।
শনিবার সকাল ৮টায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটের একটি কনভেনশন সেন্টারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত সদস্য (রুকন) শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সংসদীয় দলের সাবেক হুইপ, নগর জামায়াতের আমির, সাবেক এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য, চট্টগ্রাম মহানগরী সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সদস্য (রুকন) শিক্ষাশিবিরে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম ও মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান। দারসুল কোরআন পেশ করেন আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের সাবেক প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. আবু বকর রফিক আহমদ।
এতে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শূরা সদস্য ও নগর জামায়াতের নায়েবে আমির মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, নগর জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খায়রুল বাশার, মুহাম্মদ উল্লাহ, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস ও মোরশেদুল ইসলাম চৌধুরী, নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর অধ্যক্ষ শামসুজ্জামান হেলালী, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নগর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. ছিদ্দিকুর রহমান, আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজুর রহমান, আমির হোসাইন, হামেদ হাসান এলাহী প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাওলানা আবু তাহের মুহাম্মদ মাসুম বলেন, অন্তবর্তী সরকারের মাধ্যমে অবাধ ও সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পরিবেশ সৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে আমাদের থাকতে হবে। এই ঐক্যকে অটুট রাখতে হবে। এই ঐক্যকে নস্যাৎ করতে পারে এই রকমের কোনো অপশক্তিকে আমরা কোনো অবস্থায়ই বরদাশত করবো না। এ অবস্থায় সচেতন রাজনৈতিক দল হিসেবে অন্যদের তুলনায় জামায়াত ইসলামীর দায় অনেক বেশি।
এটিএম মাসুম বলেন, আওয়ামী লীগ দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করেনি। তারা ভিন্ন রাষ্ট্রের আদেশ বাস্তবায়নের জন্য ক্ষমতা দখল করে রেখেছিল। ইসলামের বিরুদ্ধে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করেনি। দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর আলেম-ওলামাদের জেল-জুলুম দিয়ে নির্যাতন করেছে। ইসলাম তাদের কাছে সহ্য হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে। ইসলামের গন্ধ যেখানেই ছিল সেখানেই তারা পরিবর্তন করেছে। আওয়ামী লীগের প্রতিটি খুনের বিচার করতে হবে। আসামির কাটগড়ায় তাদের দাঁড়াতে হবে। কোনোভাবে বাংলাদেশকে হায়নার হাতে তুলে দেয়া হবে না।
তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি সেক্টরে যোগ্য, দক্ষ লোক তৈরি করতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রত্যেককে তৈরি হতে হবে। সেই প্রস্তুতি এখন থেকে শুরু করতে হবে। দাওয়াতের পরিকল্পনা আরও বিস্তৃত করতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর সংস্কার প্রস্তাবকে ধন্যবাদ জানিয়েছে দেশের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। তাদের কাছে এই প্রস্তাব সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য হয়েছে। সকল ওলামায়ে কেরামগণসহ ইসলামিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী জন্মলগ্ন থেকে বহু ঘাতপ্রতিঘাত মাড়িয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে জামায়াতে ইসলামী আল্লাহ তায়ালার দাসত্ব এবং রাসূলের আনুগত্যের ভিত্তিতে সংগঠন পরিচালনা করে আসছে। মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আহ্বান পৌঁছিয়ে নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বাংলাদেশে দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য জনমত তৈরির কাজ করছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবুল হাসনাত মো. আব্দুল হালিম বলেন, যারা ঈমানদার তারা আল্লাহকে অত্যন্ত ভালোবাসেন। দ্বীনের জন্য তারা ফাঁসিবরণ করতেও ভয় পায় না। আল্লাহকে ভালোবেসে তা মনে ধারণ করায় হলো তাকওয়া। তাকওয়ার চেতনায় আমাদেরকে কাজ করে দুনিয়ার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। কুরআন-সুন্নাহকে আঁকড়ে ধরে হকের ওপর অটল থেকে আল্লাহর ভয়ে জীবনের প্রত্যেকটি কাজ করতে হবে এবং যার যে দায়িত্ব আছে তা যথাযথভাবে পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী সৎ লোক তৈরি করে এটি বর্তমান প্রশাসন বিশ্বাস করে। তারা এটাও বিশ্বাস করে আমাদের সংগঠন নীতির কথা বলে ও নীতির উপর প্রতিষ্ঠিত। ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের নিশ্চিহ্ন করতে চেয়েছিল এখন তারা পালিয়েছে অথচ জামায়াতে ইসলামী বর্তমানে সর্বত্র বিরাজমান।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, আল্লাহ সুবহানাহু তা’আলা নবী-রাসূলদের মাধ্যমে আমাদের নৈতিক শিক্ষা দিয়েছেন এবং সত্যের সাক্ষ্যদাতা বানিয়েছেন, জামায়াতে ইসলামী সেরকমই সত্যের সাক্ষ্য দেয়ার দল। সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মাধ্যমে সোনালী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দ্বীনের প্রয়োজনে রাজনীতি, রাজনীতির প্রয়োজনে দ্বীনকে গ্রহণ করা যাবে না। আনুগত্য, পরামর্শ, পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব, এহতেসাব ও আনুগত্যের মাধ্যমে সংগঠনের মজবুতি ভিত্তি তৈরি করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে নগর জামায়াতের আমির আলহাজ শাহজাহান চৌধুরী বলেন, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছর জামায়াতে ইসলামী অবরুদ্ধ ছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আমরা দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছি। এখনো ষড়যন্ত্র চলছে। সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বন্দরের বহির্নোঙরে জাহাজের সংঘর্ষে আটকা প্রায় ২ হাজার ৮০০ কনটেইনার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে দুটি জাহাজের সংঘর্ষে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উভয় জাহাজই। এতে আটকা পড়া প্রায় ২ হাজার ৮০০ একক কনটেইনার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে আমদানিকারক ও বন্দর সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত জাহাজ দুটির চলাচল স্থগিত থাকবে বলে জানা গেছে।

জানা গেছে, সিঙ্গাপুর থেকে আমদানি পণ্য নিয়ে বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল জাহাজ দুটি। এর মধ্যে একটি বিশ্বের শীর্ষ শিপিং কোম্পানি ‘মায়ারস্ক’-এর এবং অন্যটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালিত ‘এইচ আর তুরাগ’। শুক্রবার সকালে বহির্নোঙর থেকে জাহাজ দুটি বন্দরের জেটিতে আনার প্রস্তুতিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর জাহাজ দুটির মূল কাঠামোতে দৃশ্যমান ক্ষতি দেখা গেছে। তবে পানির নিচের অংশে কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে বিস্তারিত তদন্ত প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, জাহাজ দুটি জেটিতে নিয়ে আসতে গেলে প্রবেশমুখে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ কারণে আপাতত সেগুলো বহির্নোঙরেই রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বন্দরের পাইলট ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ শামসুদ্দীন জানান, জাহাজের কাছে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে জাহাজে উঠে ক্ষতির চিত্র দেখে নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় জেটিতে না এনে ফিরে আসেন তারা। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তর ও বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীর শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসায় বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবেশ, জলবায়ু, কৃষি ও সেবামূলক সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স ও মানবিক-সামাজিক- স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ২ মে, শনিবার, বিকালে বোয়ালখালী উপজেলাধীন শাকপুরা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাকপুরা দারুচ্ছুন্নাত কামিল মাদরাসা প্রাঙ্গণে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিযান, বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ করা হয়।

দেশব্যাপী সর্বস্তরের জনসাধারণকে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সচেতন করতে আসন্ন ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২৬-কে সামনে রেখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি’র ঘোষিত বছরে ৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির সমর্থন-সফল-বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে সংগঠনের সদস্য (এডমিন) ও দারিদ্রবিমোচন ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন নিজামীর সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ফারহানা আফরোজ।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশনের সহসভাপতি মোহাম্মদ মুছা আলম খান চৌধুরী, দারিদ্র বিমোচন ও মানবাধিকার ফাউন্ডেশন বোয়ালখালী উপজেলার সভাপতি মুহাম্মদ সোলায়মান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এমরান, সদস্য (মিডিয়া এন্ড কমিউনিকেশন) নজিব চৌধুরী, সদস্য মো. মুজিবুর রহমান, মোহাম্মদ আসিফ, মো. নজরুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বছরে পাঁচ কোটি চারা রোপণের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ও দেশের জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময়। সরকারের এ কর্মসূচি সফল ও সার্থক করতে গ্রীণ চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স ও সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশিপ ফাউন্ডেশন যৌথ উদ্যোগে চট্টগ্রামের সর্বস্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণে উৎসাহী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি সকলকে বাসাবাড়ির খালি জায়গায়, যেখানে চারা লাগানোর জায়গা রয়েছে, সেখানে সকলকে ফলজ, বনজ ও ঔষুধি চারা রোপণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শতাধিক মানুষের মাঝে প্রায় ২০০টি বিভিন্ন ধরনের ফলজ, বনজ ও ঔষধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করা হয়। চারা বিতরণ শেষে অনুষ্ঠানের সফলতা কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ আরিফ উল্লাহ।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ