আজঃ শনিবার ২ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার ১১ রেল স্টেশন অচল 

এম মনির চৌধুরী রানা বোয়ালখালী 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে ১১টি স্টেশনে ট্রেন না থামার কারণে স্টেশনগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।  স্টেশনগুলো হচ্ছে ঝাউতলা, গোমদন্ডী, বেঙ্গুরা, ধলঘাট, খানমোহনা, চক্রশালা, খরনা, কাঞ্চননগর, খানহাট, হাশিমপুর, লোহাগাড়া। এর মধ্যে ঝাউতলা স্টেশনটি চট্টগ্রাম সিটির মধ্যে, গোমদন্ডী, বেঙ্গুরা বোয়ালখালী উপজেলার মধ্যে, ধলঘাট, খানমোহনা, চক্রশালা, খরনা এই চারটি পটিয়া উপজেলার মধ্যে, কাঞ্চননগর, খানহাট, হাশিমপুর, চন্দনাইশ উপজেলার মধ্যে স্টেশনগুলোর অবস্থান। লোহাগাড়া উপজেলার মধ্যে লোহাগাড়া স্টেশনটি রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে ঝাউতলা, ষোলশহর, জানআলীহাট, গোমদন্ডী, বেঙ্গুরা, ধলঘাট, খানমোহনা, পটিয়া, চক্রশালা, খরনা, কাঞ্চননগর, খাঁনহাট, হাশিমপুর, দোহাজারী পর্যন্ত ১২টি স্টেশনে ৩ জোড়া ট্রেন চলত। তখন চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে হাজার হাজার মানুষ ট্রেন দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে যাতায়াত করত। স্টেশনগুলো রাতদিন কোলাহল মুখর ছিল। যাত্রী ছাড়াও ট্রেনগুলো দিয়ে লেবু, পেয়ারা, শাকসব্জি ল্যাগেজ ভ্যানের মাধ্যমে পরিবহন করা হত।
চট্টগ্রাম-দোহাজারী সকালের ট্রেনে পরিবাহিত এসব পণ্য সকাল ১০টার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটির ঐতিহ্যবাহী রেয়াজউদ্দীন বাজারে পৌঁছে যেত। রেয়াজউদ্দীন বাজার থেকে খুচরা বিক্রেতারা নগরীর বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রয় করত। ১৯৯৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ট্রেনের ইঞ্জিন সংকট দেখিয়ে ৩ জোড়া ট্রেন থেকে কমিয়ে আপ-ডাউন একটি ট্রেন চালু রাখে। ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বেসরকারী কোম্পানীর কাছে ৪টি ট্রেন চালুর জন্য হস্তান্তর করেন। ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার পুনরায় ক্ষমতা আসলে বেসরকারী ঠিকাদার বাদ দিয়ে সরকারি ভাবে রেল কর্তৃপক্ষের অধীনে শুধু একটি ট্রেন চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে যাতায়াত করে আসছিল। এর মধ্যে ২০২১ সালে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ সম্প্রসারণের কাজ শুরু হলে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে প্রত্যেক টি স্টেশন নতুনভাবে ব্রডগেজ লাইন সিস্টেমে নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্টেশন গুলো সুন্দররূপে সাজানো হলেও ১১ টি স্টেশনে ট্রেন না থামার কারণে স্টেশন গুলো বর্তমানে পরিত্যক্ত হয়ে পড়েছে। এখানে কোন স্টেশন মাষ্টার নেই, নেই কোন কার্যক্রম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথ চালু হওয়ার পর ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এ রোড দিয়ে কক্সবাজার এক্সপ্রেস ও পর্যটন এক্সপ্রেস নামে ২টি ট্রেন বিরতিহীন চলাচল করে আসছে। এরমধ্যে দক্ষিণ চট্টগ্রামের যাত্রীদের অনুরোধে ও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির আবেদেনের প্রেক্ষিতে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ চলতি সনের বিগত ঈদের সময় ঈদ স্পেশার ট্রেন নামে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথে সকাল-সন্ধ্যা আপ-ডাউন একটি ট্রেন চালু করেছে। এই ট্রেনটি ষোলশহর, জানআলী হাট, পটিয়া, দোহাজারী, সাতকানিয়া, চকরিয়া, ডুলাহাজরা, রামু স্টেশনে থামে। তবে লোহাগাড়ায় আধুনিক মডেলে স্টেশন করা হলেও এখনও ষ্টেশনে কোন ট্রেন থামেনি। চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথে যাত্রীদের দাবি অন্তত: ২টি ট্রেন এ রেলপথে চালু রাখা হলে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোটি টাকা দিয়ে নির্মিত সৌন্দর্য্যমন্ডিত স্টেশন গুলো পুনঃরায় সচল হয়ে উঠবে। এতে বাসে যাত্রীর চাপ কমে যাবে। এব্যাপারে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল, চট্টগ্রাম পরিবহন কর্মকর্তা আকতার কামাল জানান, একদিকে শাখা লাইনের ট্রেন ইঞ্জিন সংকট রয়েছে অন্যদিকে কালুরঘাট সেতু অতিরিক্ত লোড নিতে পারছে না। তবুও ইঞ্জিন সংকট কাটলে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের ট্রেন চালানোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শিক্ষা বিভাগে আগুনের ঘটনার পেছনে কারা জড়িত? দেখা যাক তদন্তে কি বেড়িয়ে আসছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে মিতসুই অ্যান্ড কোং-এর প্রতিনিধি দলের বৈঠক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাপানের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান মিৎসুই অ্যান্ড কোম্পানির বাংলাদেশের কান্ট্রি চেয়ারম্যান কেনিচিরো কাওয়ামোটো’র নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল চবক চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান এর সাথে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন। পরবর্তীতে উক্ত প্রতিনিধিদল বিস্তারিত আলোচনার জন্য বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম বন্দর সফর করেন। এ সময় তারা চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পর্ষদ সদস্য (হারবার ও মেরিন) কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ এর সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। সাক্ষাতকালে সদস্য (হারবার ও মেরিন) চট্টগ্রাম বন্দরের সাম্প্রতিক উন্নয়ন কার্যক্রম যেমন: ডিজিটালাইজেশন, অটোমেশন, রেকর্ড কনটেইনার হ্যান্ডলিং, আইএসপিএস জিরো অবজারভেশন এবং জিরো ওয়েটিং টাইম অর্জনসহ প্রভৃতি উন্নয়ন প্রতিনিধিদলের সামনে তুলে ধরেন ।

বৈঠকে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর প্রকল্পের উন্নয়ন এবং এর বাণিজ্যিক ও পরিচালনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মিৎসুই-এর বিভিন্ন প্রস্তাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় । প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা ও সুনীল অর্থনীতির উন্নয়নে একসাথে দীর্ঘমেয়াদে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন মিৎসুই-এর ডেপুটি কান্ট্রি চেয়ারম্যান রেইজি নাকানিশি এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড এনার্জি ডিভিশনের ডেপুটি ম্যানেজার মো. মোহাইমিনুল ইসলাম।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ